শহীদ জিয়া’র ৮৮তম জন্মদিনে খুলনা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা

8

খবর বিজ্ঞপ্তি।।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শীক জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। তিনি কখনো কোন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হবেন, এমন স্বপ্ন দেখেন নাই। এমন প্রস্তুতিও কখনো তিনি নেন নাই। অথচ জন্মভূমির প্রতি তাঁর কমিটমেন্ট, দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠা-ন্যয়পরায়নতা এবং সর্বোপরি নিজ দেশের জনগনকে রক্ষার জন্য নিযেকে উজাড় করে উপস্থাপন করা তথা মৃত্যুভয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সামনে এগিয়ে চলা ইত্যাদি গুনাবলীর উপস্থিতির কারণেই দেশের মানুষ অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে শহীদ জিয়াকে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে বংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এই কারণে তাঁর মৃত্যুর চার দশক পরেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল “ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন।

শহীদ জিয়া’র ৮৮তম জন্মদিন উপলক্ষে অদ্য সকাল ১১-৩০টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তাগন উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেণ। তাঁরা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে অপারেশন “সার্চ লাইট”-এর নামে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আচমকা বাংঙ্গালী নিধনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানায় তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ঢাকার পিচঢালা রাজপথ নিরস্ত্র বাঙ্গালীর রক্তে রঞ্জিত করেছিল, যখন সারা বাংলাদেশের মানুষ এই নৃশংসতায় হতবাক, এমনকি স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রস্টাদের কোথায়ও যখন খবর ছিল না, তখন জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহের ঘোষণা দেন এবং পাক মেজর জানজুয়াকে হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। এরপরই তিনি কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। শহীদ জিয়ার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিযুদ্ধের তূর্যধ্বনি। এরপর জেড ফোর্স গঠন করে নয় মাস বীরত্বের সাথে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে শহীদ জিয়া বীরউত্তম খেতাব অর্জন করেণ।
আবার ৭৫-এর ১৫ই আগস্ট স্বপরিবার সহ শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পর দেশে যখন চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তখন এদেশের সিপাহী-জনতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৭ই নভেম্বর বন্দীদশা থেকে নিযেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহন করে রাষ্ট্রের সকল বিশৃঙ্খলা দূরীভূত করেণ শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি বাকশাল বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগ সহ সকল রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেণ। তিনি সকল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে সাংবাদিকের কলমকে শৃঙ্খল মুক্ত করেণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি “সবুজ বিপ্লব”-এর ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশকে তলা বিহীন ঝুড়ি থেকে প্রথমবারের মত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জনের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনিই তো শিল্প বিপ্লব ঘটিয়ে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন। শহরের সাথে গ্রামের দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য এবং গ্রামের কৃষকের উৎপাদিত পন্য যাহাতে শহর-গঞ্জে অবাধে পৌছাতে পারে সেই জন্য সড়ক তৈরীর কাজ শহীদ জিয়াই শুরু করেছিলেন।
এদেশের অনগ্রসর মহিলাদের যুগপোযোগী করে গড়ে তোলার জন্য মহিলা ও শিশু মন্ত্রনালয় সৃষ্টি করেণ। দেশের যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য দেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় গঠন করেণ। শহীদ জিয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় উপস্থাপন করেণ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে ইতিহাসের এই মহানয়ককে চরম অবজ্ঞা ভরে উপস্থাপন করে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। ইতিহাস বিকৃত করে শহীদ জিয়াকে কখনো খুনী, কখনো রাজাকার হিসাবেও জাতির সম্মূখে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে ক্ষমতাসীনরা।শহীদ জিয়ার সহধর্মিনী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা অপরাধে প্রহসনের বিচারে সাজা দিয়ে দীর্ঘদিন কারান্তরীণ রেখেছে অবৈধ ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। মিথ্যা মামলায় সরকার প্রধানের অঙ্গুলীহেননের মাধ্যমে সাজা দিয়ে শহীদ জিয়ার জেষ্ঠ্য সন্তান তারেক রহমানকে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করেছে।

রাতের ভোটের জুলুমবাজ, ষড়যন্ত্রকারী, মিথ্যাচারী এই ফ্যাসিস্ট-স্বৈরচার সরকারকে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটিয়ে জনগনের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ জিয়ার ১৯ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে বক্তাগন আশাবাদ ব্যক্ত করেণ।

খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ তৈয়বুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র বিপ্লবী আহবায়ক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য জননেতা এ্যাডঃ শফিকুল আলম মনা। বিশেষ অতিথি হিসাবে আলোচনা করেণ খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু হোসেন বাবু, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলাল। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রুনুর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা উল বারী লাভলু, শেখ শাদী, কৃষকনেতা কবির হোসেন, ছাত্রনেতা ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তি, গোলাম মোস্তফা তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কেএম মাহবুবুল আলম, আনোয়ার হোসেন আনো, সাইফুল ইসলাম মলি¬ক, ইউসুফ মোল্লা, কাজী মাহবুবুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু, কামরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন তালুকদার, আলামিন সরদার রতন, বিল্লাল হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মঞ্জুর শাহীন রুবেল, পিন্টু জমাদ্দার, এফ এম রফিকুল , মোঃ মোশারফ শিকদার, টিটু জমাদ্দার, সোহাগ মুন্সি, নজরুল ইসলাম বাবু, ব্রজেন ঢালী, এমদাদ মোড়ল, নাইম হাসিব, মিজান সরদার, আব্দুল কাদের জনি, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, মীর মোঃ আলামিন, মাহমুদুল হাসান শিমুল, বাবু কাজী, মাহমুদ হোসেন পলাশ, টুটুল শেখ, সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, হুমায়ুন মোল্লা, মাসুদ খান, আকরাম হোসেন, মোঃ রফিকুল, সেখর দে, আশরাফুল ইসলাম, তুহিন শেখ, বিল্পাপ দে, রুবেল হোসেন, নবাব হোসেন, আলাউদ্দিন জমাদ্দার, নোমান মাহবুব, জাফর, কবির, রাজু হাওলাদার, আলমগীর, নাহিদ হোসেন, লিটন শিকদার, মোঃ রিপন, স্বপন আহমেদ, আম্মার মোড়ল, শাকিল আহমেদ, হুমায়ুন হোসেন, মাসুদ খান, মাসুদ আহমেদ, হাবিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, ফরিয়াদ হোসেন, ফারুক মোল্লা, রাজু মল্লিক, লিটন শিকদার, মোঃ মাসুম, মোঃ শাহীন, মোঃ মোস্তাকিম, মোঃ জিয়া প্রমূখ।