Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

102

কপিলমুনিতে আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি
উন্নয়নের কারিগর শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেছেন, উন্নয়নের সরকার আওয়ামী লীগ সরকার তথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আমাদের ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সরকার পাইকগাছা-কয়রায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। দেশ ও গণমানুষের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। কপিলমুনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বিজয়ের মাস উপলক্ষে শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে বিজয় র‌্যালি শেষে কপিলমুনির বিনোদ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা গুলো বলেন। কয়েক হাজার লোকের অংশ গ্রহণে মিছিলটি কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে কপিলমুনি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কপিলমুনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইকবাল হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবল মন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা আনিচুর রহমান মুক্ত, সমিরণ সাধু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিহাবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কওছার আলী জোয়ার্দার, কাজল কান্তি বিশ্বাস, আব্দুস সালাম কেরু, আঃ মান্নান গাজী, জিয়াদুল ইসলাম জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, শাহাজাদা আবু ইলিয়াস, জিয়াউর রহমান জুয়েল, এস এম বাহারুল ইসলাম, শাহনেওয়াজ শিকারী, আছের আলী মোড়ল, প্যানেল মেয়র মাহাবুবুর রহমান রঞ্জু, কপিলমুনি প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক গাজী আঃ রাজ্জাক রাজু, আওয়ামী লীগ নেতা জাফরুল ইসলাম পাড়. মোশারফ হোসেন, প্রভাষক মইনুল ইসলাম, আরশাদ আলী বিশ্বাস, শংকর দেবনাথ, গাজী মিজানুর রহমান, আঃ সাত্তার, নির্মল বৈদ্য, মঙ্গল কুমার মন্ডল, এম এম আজিজুল হাকিম, আঃ হালিম খাঁ, মানবেন্দ্র মন্ডল, সাইদুর রহমান কালাই, সাহীন সানা, বিদ্যুৎ কুমার মন্ডল, শওকত হাওলাদার, আল আমীন মোড়ল, মৃগাঙ্গ মন্ডল, নূরুল ইসলাম, ফেরদৌস ঢালী, পলাশ বাছাড়, আব্দুল গফ্ফার মোড়ল, আনারুল ইসলাম, মনি গাজী, মাহফুজ মিথুন, নাজমা কামাল, রাবেয়া বেগম, রায়হান পারভেজ রনি, আমিনুল ইসলাম বাদল, সাব্বির হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ইমরান মোল্ল্যা, আজমল হোসেন বাবু প্রমূখ।

আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে । গতকাল সকাল ১০ টায় আইডিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা সরকারী মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক সমীর কুমার ব্রহ্ম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আই পি,এস সি এর প্রাক্তন ছাত্র ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাগর কুমার দত্ত,সহকারি অধ্যাপক সুতপা দে, ফুলতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির,বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ রওশন আলী, অধ্যাপক অমল কুমার দাস, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সালমা খাতুন,উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা, প্রধান শিক্ষক ও সাংবাদিক তাপস কুমার,উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম শামসুল আলম খোকন, ডাক্তার অমিতাব দাস,সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক জনাব শফিকুল ইসলাম, আই পি,এস সি এর প্রাক্তন ছাত্র অ্যাডভোকেট কাইয়ুম হোসেন নয়ন, শিক্ষক নেতা সানোয়ার হোসেন মোড়ল,এলিজা খাতুন, মোঃ ফয়জুল কবীর, মোঃ মহিউল ইসলাম, শফিউল আযম বাবু,জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।পুরষ্কার বিতরণী শেষে ছাত্র ছাত্রীদের পরিবেশনা ছাড়াও আনন্দধারা সংস্কৃতিক একাডেমী ও অগ্নিশিখা শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালনায় মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আর আর এফ সেকেন্ডারী স্কুলে বার্ষিক পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ফুলবাড়ীগেট গিলাতলা প্রতিনিধি
খুলনা রেজ্ঞ রিজার্ভ ফোর্স সেকেন্ডারী স্কুলের বার্ষিক পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান গতকাল সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয় । খুলনা রেজ্ঞ রিজার্ভ ফোর্স (আর আর এফ) কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) নওরোজ আহম্মেদ তালুকদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন অভিভাবক প্রতিনিধি বেগ খালিদ হোসেন বাবু, শিউলী বেগম , বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাষ্টার শাহাজান হাওলাদার প্রমুখ।

আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর উদ্যোগে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন
খবর বিজ্ঞপ্তি
শনিবার সকালে আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর উদ্যোগে খুলনা প্রেসক্লাব চত্তরে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়। কম্বল বিতরন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম।

কম্বল বিতরন কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ, সহ-সভাপতি সৈয়দ আলী হাকিম, শেখ ওমর ফারুক কচি, মো: আতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, শেখ আছাদুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান, অর্থসম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সহ-সম্পাদক রুহুল আমিন মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর কাওসার মিজু, প্রকাশনা সম্পাদক মাসুদুল হক, পরিবেশ সম্পাদক মোঃ সাকিব খান,ক্রীড়া সম্পাদক: আরিব আল আহমেদ, নির্বাহী সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম মল্লিক, কামরুল ইসলাম কচি, স ম হাফিজুল ইসলাম, এম এম হাসান, জি এম ওমর ফারুক, এডভোকেট জেনারুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

এছাড়াও সন্ধার পর সংগঠনের ১ টি ভ্রাম্যমান টীম এর মাধ্যমে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও রূপসা বাসস্ট্যান্ডের ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৯ টায় নগরীর একটি মিলনাতয়নে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা জেলার শাখার সভাপতি গোলাম মোস্তফা মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মোড়লের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ -সভাপতি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মাস্টার শফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা জননেতা মাওলানা ইমরান হোসাইন, জেলা শাখার অন্যতম উপদেষ্টা মুন্সী মিজানুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকারী পরিষদ সদস্য খান গোলাম রসুল। এছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ২০২৩-২৪ সেশনের জন্য গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদকে সভাপতি এবং আলী আকবর মোড়লকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩২ সদস্যের জেলা কমিটি গঠিত হয়।

গিলাতলায় ৩ দিনব্যাপী রাসেল স্মৃতি নৌকা বাইচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপণী আজ
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
গিলাতলা নজরুল থিয়েটার ক্লাবের উদ্যোগে শেখ রাসেল স্মৃতি নৌকা বাইচ , ভেলা বাইচ, সাঁতার প্রতিযোগিতা , ক্রীড়া প্রতিযোগিতা , প্রতিবন্দী ও মুমুর্ষু রোগীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর ২য় দিনে গতকাল শনিবার ভেলা বাইচ, ডিঙ্গি বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২য় দিনে উক্ত প্রতিযোগিতা দেখতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে গিলাতলা বাজার সংলগ্ন ভৈরব নদের ঘাটে । আজ রবিবার সাতার প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা , প্রতিবন্দী ও মুমুর্ষু রোগীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্লাব কমিটির পরিচিতি সভার মাধ্যমে শেষ হবে ৩ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্ভর শুক্রবার অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন কেসিসি মেয়র ও খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ তালুকদার আঃ খালেক। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি । সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য বাবু নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি।

সাংবাদিক গাজী মাকুলের ভাই সুজা গুরুতর অসুস্থ সুস্থতা কামনা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফুলতলা প্রতিনিধি খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটি”র কোষাধক্ষ গাজী মাকুল উদ্দীন এর ছোট ভাই গাজী সাজ্জাদ হোসেন সুজা (৩৫), ২৮ ডিসেম্বর বুধবার ৪টার দিকে হঠাৎ করে নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে শিরোমনি দি গ্রেট হসপিটালে ভর্তি করে, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন যে হার্টে একটি ব্লক হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছে । পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের নিকট ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন সুজার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন সাংবাদিক গাজী মাকুল উদ্দীন।

ডুমুরিয়ার টিপনা ফজলুল উলুম মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ার টিপনা ফজলুল উলুম মাদ্রাসা বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল,পুরষ্কার বিতরণী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসা মাঠে মুহতামিম মাওলানা মুফতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ।
বক্তৃতা করেন আলহাজ্ব শেখ আমজাদ হোসেন, চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহাতাব হোসেন, মুফতি সাইফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য শেখ মহাসিন হোসেন, শেখ আবুল হোসেন, সাজ্জাত হোসেন ফকির প্রমুখ।

কালিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চাঁচাই বড়দিন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও পুরস্কার বিতরণ
কালিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা নানা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’ উদযাপন করেছেন। কালিগঞ্জ উপজেলার ২নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চাঁচাই ক্যাথলিক খ্রীষ্টান মিশনের আয়োজনে মা মরিয়ম গির্জয় খ্রিস্ট ধর্মলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার রাত ১২ টায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুভ বড়দিনের শুভ উদ্বোধন করেন, খ্রীষ্টযাগ পৌরোহিত্য মাস্টার জেভিয়ার মন্ডল তিনি বলেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিশ্বাস করেন সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচারের মাধ্যমে মানবজাতিকে সত্য ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যীশুর পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিলো।

মা মরিয়ম গির্জার সভাপতি নন্দলাল মন্ডল সভাপতিত্বে, সংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মাসুদা খানম মেধা।

তিনি বলেন বড়দিন উদযাপনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নতুন বর্ষ বরণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বীরা। নতুন বছর সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। ঈশ্বরের মহিমা প্রচার এবং মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আনতে যিশুর এ ধরায় আজকের দিনে তার আগমন ঘটেছিল এমনই বিশ্বাস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের।

খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক মহামতি যিশুখ্রিস্ট ছিলেন মুক্তির দূত, আলোর দিশারী। পৃথিবীতে শান্তির আবাস ভূমিতে পরিণত করতে তিনি খ্রিস্ট ধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘রঙিন বাতি দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো, বিশেষ প্রার্থনা, শিশুদের মাঝে উপহার বিতরণ এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এ উৎসবের মূল অনুষঙ্গ। গির্জায় প্রার্থনা ও পর গাওয়া হয় বড়দিনের বিশেষ গান ও বন্দনা সংগীত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এর ভাই চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ নাজমুল আহসান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দিন, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ২ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শাহ্ আলম ঢালী, সাধারণ সম্পাদক আশিক ইকবাল পাপ্পি, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন আর রশিদ মিন্টু, রতনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক রাজু আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ সরদার,

ইউপি সদস্য পীযূষ কান্তি রায়, শেখ সিরাজুল ইসলাম, ইউপি সদস্যা লাইলী পারভীন,রোজিনা খাতুন,পূর্ণিমা রানী,বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক হাশেম আলী,সাতক্ষীরা জেলার উপজেলা বারবার পুরস্কার প্রাপ্ত ও ২০২২ সালের খুলনা বিভাগের এশিয়ান টিভির (ইয়েস কার্ড প্রাপ্ত) জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী অভিজিৎ সরদার।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চাচাই মা মরিয়ম গির্জার সভাপতি নন্দলাল মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তপন মন্ডল,কোষাধ্যক্ষ ভবেন্দ্র মন্ডল, সদস্য শিবচরন মন্ডল,তারক মন্ডল প্রমুখ।সহ সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা প্রেসক্লাব আয়োজিত পিঠা ও বস্ত্র মেলার উদ্বোধন ৫ জানুয়ারি সীমিত সংখ্যক স্টল বুকিং চলছে
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ৩ দিনব্যাপী পিঠা ও বস্ত্র মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি বিকাল ৫টায় ক্লাব চত্বরে প্রধান আতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন এ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার অব ইন্ডিয়া ইন্দ্রজিত সাগর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করবেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে পিঠা-পুলির স্বাদ ছড়িয়ে দিতে খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজন ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ৭ জানুয়ারি রাত ৯ টা পর্যন্ত এই মেলা খুলনা প্রেসক্লাব চত্বর এবং লিয়াকত আলী মিলনায়তনে চলবে। পিঠা ও বস্ত্র মেলায় স্টল নিতে আগ্রহী স্টল মালিকদের খুলনা প্রেসক্লাবের টেলিফোন নম্বরে (০২-৪৭৭৭২৩০২০) অথবা সরাসরি রিসিপশনে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন
মাসুম সভাপতি, পূর্বাঞ্চলের নজরুল সম্পাদক নির্বাচিত
মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের বার্ষিক নির্বাচন শনিবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাসুম সভাপতি, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি ফজলুল হক খোকন সহ-সভাপতি, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের মোরেলগঞ্জ অফিস প্রধান নজরুল ইসলাম শরীফ সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক পিরোজপুরের কথা’র প্রতিনিধি মল্লিক আবুল কালাম খোকন সহ-সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক অবজারভার প্রতিনিধি এস.এম সাইফুল ইসলাম কবির (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি মেহেদী হাসান লিপন (পদাধিকার বলে) নির্বাহী সদস্য ও একুশে টেলিভিশন জেলা প্রতিনিধি এইচ.এম মইনুল ইসলাম নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের ১৭ জন সদস্যের মধ্যে ১৭ জনই ভোট প্রদান করেন। ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান সভাপতি মেহেদী হাসান লিপন। এ নবনির্বাচিত কমিটিকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ডুমুরিয়ায় একই রাতে পাঁচ পরিবারে দূর্ধর্ষ সিরিজ চুরি !
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় একই রাতে পাঁচ বাড়িতে দুর্ধর্ষ সিরিজ চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোরেরা নগদ ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা,১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার,৮ ভরি রোপ্য ও একটি মটরসাইকেল চুরি করেছে।গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত সুমন পাল, আবুল বাশার সহ অন্যান্যদের সাথে কথা বলে জানা, ঘটনার রাতে একই প্রক্রীয়ায় ঘুমন্ত অব¯’ায় ঘরের দরজার ছিটকিনি ও তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চোরচক্র। এরপর আলমারি ড্রয়ারে থাকা উত্তম পালের ঘর থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণ, সুমনের ঘর থেকে ৪ ভরি স্বর্ণ ও ৫৫ হাজার টাকা, আবুল বাশারের ঘর থেকে একটা ডিসকভার ১১০সিসি মটরসাইকেল, সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণ, ৩ ভরি রোপ্য,২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল, হাফিজুর রহমানের ঘর থেকে দেড় লাখ টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ, ৫ ভরি রোপ্য ও একটি মোবাইল সেট চুরি করে এবং দেবপ্রসাদ পালের ঘরের দরজা ভাংচুর করে। এতে ২০ লক্ষ টাকার নগদার্থসহ ও মালামাল চুরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি তদন্ত মুক্ত রায় চৌধুরী বলেন,খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনা¯’ল পরিদর্শন করা হয়েছে। ধারণা করা হ”েছ অচেতন করে এ চুরি সংঘটিত হয়েছে তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাগুরখালিতে ৮দলীয় মিনি আ্যমেচার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শিবনগর ক্রিকেট একাডেমি ২০ রানে বিজয়ী
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় স্বে”ছাসেবী সংগঠন সূর্য্য সমাজের আয়োজনে ১১তম ৮দলীয় মিনি আ্যমেচার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার মাগুরখালি চন্ডিপুর বাসন্তী মন্দির মাঠে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপ¯ি’ত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ। দিনব্যাপী নির্ধারিত ৮ ওভারের নক আউট খেলায় অংশ গ্রহণ শিবনগর ক্রিকেট একাডেমি, , জয়খালি,বাওনারাবাদ, উত্তর শৈলমারি, বলাবুনিয়া, চিনামালা, খুলনা ও আখড়া ক্রিকেট একাডেমি। খেলায় শিবনগর ক্রিকেট একাডেমি ২০ রানে পাইকগাছা চিনামালা ক্রিকেট একাডেমি কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন।
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী সভায় সংগঠনের সভাপতি ডাঃ শোভন মল্লিক রাহুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল। অর্ণব মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক অসিত বরণ মন্ডল, প্রধান শিক্ষক গৌতম মন্ডল, রবেন মল্লিক, প্রনব মন্ডল, ইউপি সদস্য ধর্মদাস রায়, ইমরান হোসেন, অর্গ মন্ডল, সুজয় রায়, নেপাল রায়, সৌমিত্র রায়, প্রবীর রায়, পিয়াল মন্ডল, চন্দন মন্ডল, নিত্যানন্দ মন্ডল, শুভঙ্কর রায়, নয়ন প্রমূখ।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ছিলেন মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত
খবর বিজ্ঞপ্তি
হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ছিলেন মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খানবাহাদুর আহ্ছানউ্ল্লা (র.) এঁর অবদান ও সম্পৃক্ততা ছিল অনস্বীকার্য। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ছিলেন শুদ্ধাচারী মানুষ। বাংলা সাহিত্যে তাঁর যে শতাধিক মূল্যবান গ্রন্থ সেখানে তার শুদ্ধাচারের প্রমাণ পাওয়া যায়। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর মতে রুচি মার্জিত করাই সাহিত্যের কাজ।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এঁর ১৪৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের আয়োজনে শ্যমলীস্থ স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ঢাকা সভাপতি কাজী রফিকুল আলম, সহ-সভাপতি প্রফেসর কাজী শরিফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ. এফ.এম গোলাম শরফুদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক মোঃ সাজেদুল কাইয়ুম দুলাল, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরোও বলেন, শিক্ষায়-দীক্ষায়, সাহিত্যে-সাধনায় হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) যদি উদ্যোগ না নিতেন তবে বাংলার মুসলমানরা আজকের অবস্থায় পৌঁছাতে পারতো না। তিনি একাধারে ছিলেন পূর্ণ ধার্মিক আবার পূর্ণ আধুনিক। আধুনিকতা আর ধার্মিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে তিন যে দর্শনের কথা বলে গেছেন তা কল্যাণের দর্শন।
উক্ত অুনষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেসুর রহমান, সহকারী পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডাঃ নায়লা পারভিন, প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহফিদা দিনা রুবাইয়া, একাউন্ট কো-অর্ডিনেটর মোঃ আতিকুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রজেক্টের সমন্বয়কারী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বাগেরহাটে বছরের প্রথম দিনে ১৮ লক্ষ বই পাবে শিক্ষার্থীরা
স্টাফ রিপোটার, বাগেরহাট
ইংরেজী বছরের প্রথম দিনে বাগেরহাটের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার বই বিতরণ করা হবে। আজ রবিবার (১লা জানুয়ারি) সকালে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সরকারি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে এই নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে এসব বই পৌছে গেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এখন শ্রেণি অনুযায়ী বই বাছাই করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, বাগেরহাটের মাদরাসা, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৩ লক্ষ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লক্ষ বই ইতোমধ্যে বাগেরহাটে পৌছেছে। বছরের প্রথম দিনে এসব বই বিতরণ করা হবে।
এছাড়া জেলার সরকারি ও বেসরকারি এক হাজার ২‘শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৭ লক্ষ ২০ হাজার বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে বিতরণের জন্য সাড়ে তিন লক্ষ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পৌছেছে। এসব বই বছরের প্রথম দিনে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট ৩ লক্ষ ৭০ হাজার বই আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুঃ শাহ আলম বলেন, প্রাক, প্রথম ও দ্বীতিয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সকল বই পাবেন। এছাড়া তৃতীয়, ৪র্থ ও পঞ্চম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের তিনটি করে নতুন বই দেওয়া হবে। অবশিষ্ট বই আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হবে।
বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, মাদরাসা, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে আমরা ১৫ লক্ষ বই পেয়েছি। শিক্ষার্থী অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বই পৌছে গেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সকাল থেকে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া অবশিষ্ট যেসব বই রয়েছে, সেসব বই ৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌছে যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

রামপালে উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এর কম্বল বিতরণ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের রামপালে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার দুস্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার শনিবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কম্বল বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোল্লা আ. রউফ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মনির আহমেদ প্রিন্স, বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাওলাদার আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার অরুণ মন্ডল, ফকির দেলোয়ার হোসেন, যুবলীগ নেতা কুদরতি ফোরকান, ইউপি সদস্য শেখ আনোয়ার হোসেন, হাওলাদার বাকী বিল্লাহ, শেখ মুহিদুল ইসলাম, মুজিবর রহমান, ইউপি সদস্য তাহেরা খাতুন, সঞ্জয় কুমার পাল, মল্লিক আলী আশরাফ, রেজাউল বয়াতি, মল্লিক আল মামুন অভি প্রমুখ। উল্লেখ্য এর পূর্বে মন্ত্রী হাবিবুন নাহার রামপাল উপজেলার ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দুস্তদের মাঝে সরকারি কম্বল বিতরণ করেন। এ সময় দুই উপজেলার কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চুলকাটির দুইটি কিন্ডার গার্টেনে বার্ষিক পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার সিএন্ডবি বাজারে অবস্থিত এস,আর,এম কিন্ডার গার্টেন ও চুলকাটি বাজারে অবস্থিত শিশুকানন আদর্শ বিদ্যাপীঠ মিলনায়তনে বার্ষিক পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পুরস্কার বিতরন ও ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শনিবার (৩১শে ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এস,আর,এম কিন্ডার গার্টেন এর পরিচালক দুলালী কর্মকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক কাজী জাহিদ সরোয়ার টিটু, বিশেষ অতিথি ছিলেন, চুলকাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক পি কে অলোক। অধ্যক্ষ কাজল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, অভিভাবক সদস্য মোঃ জাহিদ হোসেন, যুবলীগ নেতা মোঃ মুরাদ হোসেন ও ছাত্রলীগ নেতা আলিফ হোসেন।
অপর দিকে চুলকাটি বাজারে অবস্থিত শিশুকানন আদর্শ বিদ্যাপীঠ মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হরিপদ দাশ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হৃষিকেশ কুমার দাশ, বিশেষ অতিথি ছিলেন, চুলকাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি মোহম্মদ হানিফ। প্রধান শিক্ষক মিহির কুমার দেবনাথ এর সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শক্তি নারায়ন দাশ, চুলকাটি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শেখ আনিছুর রহমান ও অভিভাবক সদস্য তাপস কুমার দেবনাথ প্রমুখ।

নওয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে আলহাজ আব্দুল কাদের বৃত্তি প্রদান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। নওয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. ওহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, সরকারি ব্রজলাল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ জোবায়ের হোসেন, স্কুলের প্রান্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের মোল্যা, ২নংওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা কামাল, স্কুল পরিচালনা পরিষদের সদস্য নূর আলম পাটোয়ারী, হাসান আলী গাজী, ইকবাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আমির হোসেন, শাহ্ আলম, নওয়াপাড়া সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল বাসার। আলোচনা শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অভয়নগরে পশ্চিমপাড়া হযরত হুসাইন রাঃ মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট পশ্চিমপাড়া হযরত হুসাইন রাঃএতিমখানা মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মোঃ মাসুদুর রহমান টিটো ফারাজীর সভাপতিত্বে ও অভয়নগর উপজেলার কৃষক লীগের সভাপতি মুন্সী আব্দুল মাজেদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-মোঃ জালাল উদ্দিন জালু- বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-মোঃ আনিসুর রহমান -বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, মোঃ আবুবক্কার সিদ্দিক বাবু -বিশিষ্ট সমাজ ও শিক্ষানুরাগী, সাংবাদিক মোঃ কামাল হোসেন, গাজীপুর ক্যাম্পের এ,এস,আই মোঃ মিরাজ হোসেন, মোঃ মিজানুর রহমান, আকুঞ্ছি, মোঃ হাদিউজ্জামান প্রমুখ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে -কাজীও গ্ৰাম ডাক্তার হুসাইন আহমাদ ।অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-মোঃ টিপু সুলতান, এমএ কাদের, মাওঃ আব্দুর রহমানসহ মাদ্রাসার ছাত্র -ছাত্রীদের সন্মানিত অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠান শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন- হাফেজ আম্মার ইবনে হুসাইন , কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ায় মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কাজী হুসাইন আহমাদ।

দস্যুতা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে সরকারী-বেসরকারী চাকুরী দেয়া হবে: জেলা পুলিশ সুপার
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
যেসব বন ও জলদস্যু নতুন করে ভুল পথে পা বাড়িয়েছেন তারা যদি আত্মসমর্পণ করতে চান তাহলে তাদেরকে আবারো সুযোগ দেয়া হবে। এবং তাদেরকে বেসরকারী ও তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সরকারী (পুলিশ কনস্টেবল) চাকুরী দিয়ে দেয়া হবে। কারণ কেউকে (দস্যু) ধরে জেলে দেয়ার চাইতে তার ভুল সংশোধনের জন্য সুযোগ দিই আর তাতে সে যদি ভাল হয় সেটাই মুলত স্বার্থকতা।
শনিবার দুপুর সোয়া ১টায় মোংলার দিগরাজ বাজারে সুন্দরবনের মৎস্য, কাঁকড়া শিকারী, জেলে ও আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের সাথে আইনশৃঙ্খলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কে,এম আরিফুল হক এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আত্মসমর্পণকৃত সাবেক দস্যুদের মধ্যে কেউ কেউ আবার সেই সাথে নতুন কেউ কেউ পুনরায় সুন্দরবনে দস্যুরা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের জন্য পরিস্কার ম্যাসেজ হলো অপরাধী যেই হোক না কেন কেউকে কোন ছাড় দেয়া হবেনা, যে কোন মূল্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আর যার পরিণতিও হবে ভয়াবহ। সুতরাং নতুন করে অপরাধে না জড়িয়ে আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ গ্রহণের আহবাণ জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, দাদন ও মহাজন ব্যবসা আইননত বেআইনি, এটা যারা করেন তারাও সর্তক ও ভাল পথে চলে আসেন। যারা দাদন দেন এবং মহাজনী করেন তারাই দস্যুদের লালনপালন ও আশ্রয়প্রশয় দিয়ে থাকেন। এনিয়েও কাজ করছেন পুলিশ। যারা এসব করছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার হুশিয়ারী দিয়েছেন পুলিশ সুপার কে, এম আরিফুল হক।
মতবিনিময় সভায় বন নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী তাদের বক্তৃতায় বনবিভাগের হয়রানী, চাঁদাবাজী ও নৈরাজ্যের কথা তুলে ধরলে তা বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে নিরসনের আশ্বাস দেন জেলা পুলিশ সুপার কে, এম আরিফুল হক। মতবিনিময় সভায় মোংলা ও রামপাল উপজেলার জেলে সম্প্রদায় এবং আত্মসমর্পণকৃত সাবেক দস্যু পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আসাদুজ্জামান, মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান, মোংলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবাল, রাপমাল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান উদয় শংকর বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা।
মতবিনিময় সভা শেষে সুন্দরবন নির্ভরশীল জেলে ও আত্মসমর্পণকৃত দস্যু পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য অতিথিরা।

মহেশপুরে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
মহেশপুর(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুরে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তবিব স্মৃতি সংঘের আয়োজনে এ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
তবিব স্মৃতি সংঘের সভাপতি এমদাদ জাহিদ মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হায়দার লান্টু, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ,মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমান,তবিব স্মৃতি সংঘের সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রমুখ। এ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট খেলায় ৮টি দল অংশগ্রহণ করেন।
ফাইনাল খেলায় মহেশপুর আলফা ওয়ারিয়র চ্যাম্পিয়ন এবং খালিশপুর রাফি ট্রেডার্স রানার্স আপ বিজয়ী হয়। খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

ইন্দুরকানীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুই শতাধিক শিশুদের নিয়ে বই উৎসব, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মধ্যহ্নভোজ
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা ঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর প্রত্যান্ত অঞ্চলে বুবিধাভোগী শিশুদের নিয়ে বই উৎসব, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মধ্যহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চরসাউদখালী (মাঝের চর) আশ্রায়ন এলাকার দুই শতাধিক শিশুদের নিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন বাবুই। প্রত্যন্ত চরাঞ্চল হওয়ায় এখানকার শিশুরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে না। শিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেকটাই পিছিয়ে এখানকার শিশুরা। ২০১৭ থেকে বাতিঘর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচীতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে হেবিট্যাট ডেভলপমেন্ট ট্রাষ্ট (এইচডিটি)। এরই ধারাবাহিকতায় শিশুদের নিয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আজাদ হোসেন (বাচ্চু), এইচডিটি পরিচালক মেহেদী হাসান, বাবুই সভাপতি অমিত বিশ্বাস, উন্নয়ন কর্মী হাসিবুর রহমান, মশিউর রহমান, আমার সংবাদ প্রতিনিধি কেএম শামীম রেজা, জেটিভি প্রতিনিধি আরিফুর রহমান, কর্মসূচী সমন্বয়কারী মোঃ আলতাফ হোসেন প্রমুখ।

খুলনার দাকোপে জমিজমা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে তন্ময় বাছাড় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে
মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা
খুলনার দাকোপের কামিনিবাসিয়া গ্রামে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়ে চার জন হাসপাতালে ভর্তি এর মধ্যে তন্ময় বাছাড়ের অবস্থা ভয়াবহ সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এলাকাবাসী জানায় আবারও জমিজমা সংক্রান্ত বিরুদ্ধের জের ধরে আমন মৌসুমে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মারামারি। তারা বলেন দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর এক পর্যয়ে তুমুল সংঘর্ষ হয়ে চার জন হাসপাতালে।
২৭ডিসেম্বর রোজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনিবাসিয়া গ্রামে বিতর্কিত জমিতে দু’পক্ষ ধান কাটার জন্য তিলডাঙ্গা গ্রামের অর্ধেন্দু বাছাড় ও কামিনিবাসিয়া গ্রামের প্রীতিশ হালদার উভয় তাদের লোক জন নিয়ে জমিতে অবস্থান করে। উভয় পক্ষের মধ্যে দু’ঘন্টা ধরে তুমুল তর্কবিতর্ক হয়। এবং কথা-কাটাকাটির কোন এক পর্যায়ে দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ আর মারামারি শুরু হয়। মারামারি সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে চার জন মারাত্মক জখম হয়। তৎক্ষনিক ভাবে এলাকাবাসির সহযোগিতায় দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী অবস্থায় চার জনকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় ১) অর্ধেন্দু বাছাড় পিং মৃত অজ্ঞত, ২)তন্ময় বাছাড়, পিং অর্ধেন্দু বাছাড় উভয় সাং তিলডাঙ্গা, দাকোপ খুলনা। এর ভিতর তন্ময় বাছাড়ের অবস্থা আশংকা জনক। তার মাথায় পাঁচটি শেলাই সহ প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। অপর দিকে ১) ক্ষিতিশ হালদার, মৃত সতীষ হালদার, ২)সুলতা হালদার, স্বামী প্রীতিশ হালদার উভয় সাং কামিনিবাসিয়া, দাকোপ খুলনা। ক্ষীতিশ হালদারের মাথায় মারাত্মক আঘাত ও জখম হয়। তারও অবস্থা আশংকা জনক বলে চিকিৎসক জানান। দু’পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে মামলার জন্য।
দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ উজ্জ্বল কুমার দত্ত বলেন ধান কাটাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে থানায় অভিযোগ দিয়েছে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এদিকে তন্ময় বাছাড়, গুরুতর আহত হয়ে দাকোপ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হযেছিলো সেখানে অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে কর্মরত ডাক্তার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় সেখানে তন্ময় বাছাড় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বলে তার পরিবার জানান। বিষয়টা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

দাকোপের বাজুয়া চড়ার ধার বায়তুল ফালা জামে মসজিদের কমিটি গঠন
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপের বাজুয়া চড়ার ধার বায়তুল ফালা জামে মসজিদের কমিটি গঠন। ৩০ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে সকল মুসল্লিদের স্বাধীন মতামতের বিত্তিতে আগামী তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মোঃ শামীম হোসেন। সহ-সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক (মানিক) চৌধুরী, মোঃ সোহেল খা। সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মুকুল। সহ-সন্পাদক মোঃ রিয়াজ শেখ, মোঃ শাহীন গাইন। কোষাধক্ষ্য মোঃ সোহাগ হাওলাদার। সহ- কোষাধক্ষ্য মোঃ নাদিম আকঞ্জি, মোঃ রাসেল শেখ, কার্য্য নির্বাহী সদস্য মোঃ জহির আহমেদ, হায়দার খা, আজমল শেখসহ ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। যা আগামী ২০২৫ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করবে।

খুলনার দাকোপের বাজুয়া আর্য্য হরি সভায় মিহির মন্ডল ও মন্দাকান্তা দাসের রোগমুক্তি কামনায় প্রার্থনা
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপের বাজুয়া -লাউডোবে ঐতিহ্যবাহী আর্য্য হরি সভায় সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিহির কুমার মন্ডল ও দাকোপ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক ও বাজুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানস কুমার রায়ের সহ-ধর্মিনী ও খুটাখালি সরকারি নতুন বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মন্দাকান্তা দাসের আশুরোগ মুক্তি কামনায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরনে প্রর্থনা জানানো হয়। সন্ধ্যার দিকে প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন হরিসভার সভাপতি সরোজিত কুমার রায়, সাধারন সম্পাদক বিজন কুমার রায়সহ হরি সভার কার্য্য নির্বাহী সদস্যবৃন্দ, ধর্মপ্রাণ গৌরভক্ত বৃন্দের সমন্বয়ে প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।

দাকোপের বুড়িরডাবুর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপের লাউডোব বুড়িরডাবুর এসইএসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১ টায় অত্র বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বুড়িরডাবুর এসইএসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকল্যান রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য এবং বুড়িরডাবুর এসইএসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন এসএমসি সদস্য ও ইউপি সদস্য রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, প্রাপ্তন ইউপি সদস্য সুনিত সরকার, এসএমসি সদস্য শেখর রায়, দেবাশীষ রায়, বুড়িরডাবুর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কবিরাজ। অন্যানের মধ্য বক্তৃতা করেন ইউপি সদস্য বিভাস, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা বিপ্লব মন্ডল, শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন, রাখি সরকার প্রমুখ। সভাশেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অত্র বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

চুলকাটি প্রেসক্লাবের উন্নয়নে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাটি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাসিক সভা শনিবার (৩১শে ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসক্লাব সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক পি কে অলোক এর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক শেখ আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, কোষাধ্যক্ষ অমিত কর বিলাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য শিশির শিকদার, শেখ মিজানুর রহমান মিঠু, বিপুল চন্দ্র পাল, সাধারন সদস্য শেখ মাহাফুজুর রহমান, শক্তি নারায়ন দাস ও সুমন কুমার পাল প্রমুখ। সভায় প্রেসক্লাব’র উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করে সিধান্ত গ্রহন ও তা খসড়া আকারে একটি রেজুলেশন করা হয়। ##

এবার বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করলেন আবদুস সাত্তার
ঢাকা অফিস
সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগের পর এবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করলেন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর আব্দুস সাত্তার জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এই শূন্য আসনে উপনির্বাচন হবে। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে দল থেকে তার পদত্যাগ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে মাঈনুল হাসান ভূঁইয়া শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছেন। তার বয়স হয়েছে। তাছাড়া আমার বাবা টানা ২৭ বছর জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তিনি দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। দলের সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন; কিন্তু গত নির্বাচনের পর থেকে কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির কোনো ব্যাপারেই তাকে কোনোকিছু জিজ্ঞেস করা হয় না। তাই সম্মান থাকতে আমার বাবা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একবার টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালে প্রথম তৎকালীন কুমিল্লা-১ (নাসিরনগর ও সরাইলের একাংশ) ও বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। ওই সময়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।

এরপর ১৯৯১ সালে এবং ১৯৯৬ সালের দুটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন মহাসচিব মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে আসনটি ছেড়ে দেন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। ওই সময়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে তাকে টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবারো ফরিদা ইয়াসমিন, সম্পাদক শ্যামল দত্ত
ঢাকা অফিস
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন। ক্লাবের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামল দত্ত। শনিবার রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা-ই-জামিল।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে কামাল উদ্দিন সবুজ পেয়েছেন ৪০১ ভোট।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী শ্যামল দত্ত পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট, যিনি আগের কমিটির একই পদে ছিলেন।

নতুন বছরে মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক: প্রধানমন্ত্রী
বাসস
খ্রিস্টীয় নতুন বছর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক, সব সংকট দূরীভূত হোক, সব সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সবার জীবনে আসুক অনাবিল সুখ-শান্তি— এই প্রার্থনা করি।’ শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খ্রিস্টীয় নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রকৃতির নিয়মেই নতুন বছর মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে এবং নবউদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগায়।’

তিনি বলেন, ‘২০২২ বাঙালি জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করি। ১৯৭২ সালে এশিয়ার প্রায় সব দেশ, রাশিয়া, তৎকালীন সোভিয়েত ব্লকের অন্যান্য দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ, ফ্রান্স, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্বাধীন রাষ্ট্র নবীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।’

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয় এবং জনগণের কল্যাণ হয়। কারণ একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার সুমহান আদর্শকে ধারণ করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে। আসুন আমরা দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি এবং ধর্মীয় উগ্রবাদসহ সন্ত্রাসবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলো ২০২২ সালে বছরব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শূন্যহাতে সদ্য স্বাধীন দেশকে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে টেনে তুলেছিলেন। তখন ব্যাংকে কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না, কোনো কারেন্সি নোট ছিল না। অবজ্ঞা করে কেউ কেউ বলতো তলাবিহীনঝুড়ি। সেই অবস্থা থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন এবং জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেন।’

২০২২ সাল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এক স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গত বছর ২৬ জুন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু চালু করেছি। ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল যোগাযোগ চালু করেছি। ২১ ডিসেম্বর দেশের ৫০টি জেলায় উন্নয়ন করা ১০০টি মহাসড়ক উদ্বোধন করেছি।’

তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’-এর দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজ সম্পন্ন করেছি। ৭ নভেম্বর দেশের ২৫টি জেলায় ১০০টি সেতু নির্মাণ করে উদ্বোধন করেছি। ১৯ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২ এর রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন করেছি। ২১ মার্চ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১ম পর্যায়) উদ্বোধন করেছি। আমাদের অন্যান্য মেগা ও মাঝারিসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে পরপর তিন দফা জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে গত ১৪ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও কিছুটা মন্থর হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ সারা পৃথিবীতে নিরীহ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। এই দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা দেশের প্রায় সব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, করোনা ভ্যাকসিন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্যও সরবরাহ করেছি। আমরা ১ কোটি পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি ক্রয়ের সুবিধা দিয়েছি। ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল এবং আরো ৫০ লাখ অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে ভিজিডি ও ভিজিএফের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৩৫ লাখ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দিচ্ছি। আমাদের ১ কোটি কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সরাসরি সরকারি ভর্তুকির টাকা নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি/উপবৃত্তি দিচ্ছি। ইংরেজি বছরের প্রথম দিন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার কারণে বই উৎসবের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন আজ শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অন্যতম সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামাঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করেছি। ফলে আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে, দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, মাথাপিছু আয়সহ অন্যান্য সামাজিক সূচকেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছি। ২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট’ বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

এসআই স্ত্রীকে পেটানোর অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
যশোর অফিস
যশোরে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় এসআই শাহাজাদী আক্তারকে (৪০) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে স্বামী পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার রাতে যশোর শহরের খড়কি এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার এসআই শাহাজাদী আক্তার যশোর সদর কোর্ট জিআরওতে এবং স্বামী পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান ঝিনাইদহ পিবিআইয়ে কর্মরত।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি এসআই শাহাজাদী আক্তার অভিযোগ করেন, কামরুজ্জামানের সঙ্গে ২০০০ সালে বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করে। যৌতুকের দাবিতে স্বামী কামরুজ্জামান মাঝে মধ্যেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এ কারণে তিনি যৌতুক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। ছুটিতে বাড়ি এসে কামরুজ্জামান ওই মামলা তুলে নিতে চাপ দেন।

এছাড়া কামরুজ্জামান পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে তিন বছর আগে দ্বিতীয় বিয়েও করেছেন দাবি করে শাহজাদী আক্তার জানান, ওই ঘটনার পর তার ওপর নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। শাহজাদী আক্তার দাবি করেন, যৌতুকের মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার রাতে কামরুজ্জামান ছুরি দিয়ে তাকে একের পর এক আঘাত করতে থাকেন। ঠেকাতে গেলে মাথায়, হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং মেঝেতে ফেলে ব্যাপক নির্যাতন চালান। পরে ছেলেরা তাকে রক্ষা করেন। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আব্দুস সামাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এসআই শাহাজাদীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন স্বামী পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান। তিনি দাবি করেছেন, যে সময় এ ঘটনা দাবি করা হচ্ছে, তখন তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় প্রতিশোধ নিতে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে।

যৌতুকের মামলা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো মামলার খবর তার কাছে ছিল না। এ ঘটনার পর তিনি জানতে পেরেছেন। আর নিজের দ্বিতীয় বিয়ের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এসআই শাহাজাদীকে নির্যাতনের বিষয়ে তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি ‘ডিপার্টমেন্টাল’। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন।

বিশ্বসেরার তালিকায় যে ৩২ গ্রাম
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
করোনা মহামারির পর থেকে শহুরে ক্লান্ত ও অসুস্থ জীবন থেকে মুক্তির আশায় গ্রামে ঝুঁকছেন মানুষ। গ্রামেই যেনো মেলে দু-দণ্ড স্বস্তি। ভ্রমণপিপাসু সেসব মানুষের জন্য এবার প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বসেরা গ্রামের দ্বিতীয় বার্ষিক তালিকা। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (ইউএনটিও) কর্তৃক প্রকাশ করা হয় বিশ্বসেরা ৩২ গ্রামের নাম। সিএনএন।
তালিকা তৈরির আগে প্রতিটি দেশকে তিনটি করে গ্রামের নাম জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যেখানে আসা ১৩২টি গ্রামের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় ৩২টি গ্রামকে। সুন্দর গ্রামের এই তালিকায় স্পেনেরই রয়েছে তিনটি গ্রাম- রুপিত, এলকুইজার ও গুয়াদালুপে। প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালের একটি গ্রাম তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে-‘ক্যাস্টেলো নভো’। গ্রামটি ‘সেরা দা গার্দুনহা’ পর্বতশ্রেণি দ্বারা বেষ্টিত পর্তুগালের ১২টি ঐতিহাসিক গ্রামের মধ্যে একটি।

তালিকাটি শুরু হয় অস্ট্রিয়ার শান্তিপূর্ণ গ্রাম ‘জেল এম সি’র নাম দিয়ে। গ্রাম থেকেও বেশি নৈসর্গিক এ অঞ্চলকে ছোট শহরই বলা চলে। কিটজবুহেল আল্পস পর্বতের ছায়ায় জেল লেকের তীরে। তার পরেই আসে চিলি। যার প্রবেশদ্বারেই অবস্থিত ‘পুকিউএলডন’ গ্রাম। চিলো দ্বীপপুঞ্জের লেমুয় দ্বীপের নয়টি গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রাম এটি। এছাড়া চীনের দুটি গ্রামও রয়েছে তালিকায়। উত্তর গুয়াংসি প্রদেশের দাঝাই এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিংয়ের জিংঝু।

তালিকায় একটি বিশেষ আকর্ষণীয় সংযোজন হলো ‘চোক মাউন্টেন’ গ্রাম। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২০০ মাইল দূরে চোক পর্বতের একটি ইকোট্যুরিজম গ্রাম। যেখানের কৃষক সম্প্রদায় সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস এবং পরিবেশগত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে, টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে আসছে। চালু করেছে ন্যায্য বাণিজ্য পর্যটন। দর্শনার্থীরা এখানে তাদের স্মৃতি হিসাবে স্থানীয় মধু, কফি, ঔষধি ভেষজ এবং বিয়ার কিনতে পারেন।

‘সেরা পর্যটন গ্রাম’ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয় মূলত গ্রামীণ জনসংখ্যার অগ্রগতি, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ, আঞ্চলিক আয় ও উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস করার জন্য। এছাড়া নির্গমন ও বর্জ্য হ্রাস করাসহ টেকসই পর্যটন কার্যক্রম নিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের পর্যটনকেন্দ্রিক সংস্থা ইউএনটিও এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গ্রামগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তারা পর্যটনকে আলিঙ্গন করলে এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক মূল্যবোধ এবং পণ্যগুলোর সংরক্ষণ এবং প্রচারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি চাকরি এবং আয়ের নতুন সুযোগগুলোকে গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া গ্রামগুলো অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।’

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন কমানোর উপায়
মিলি রহমান
ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে ওজন ঠিক থাকে। যারা জাঙ্কফুডে অভ্যস্ত তাদের ওজন বেশি হয়ে থাকে।
ক্যালরি হচ্ছে ওজন পরিমাপের উপায়। যদি ওজন কমাতে হয় তবে প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয় তার থেকে কম পরিমাণ ক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খেতে হবে অর্থাৎ কম ক্যালরি খেতে হবে বা কম ক্যালরিযুক্ত খাবার পরিমাণমতো খাওয়া যাবে।

সে ক্ষেত্রে কোন কোন খাবারে ক্যালরি কম থাকে তা জানতে হবে ও সে অনুযায়ী কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে। না খেয়ে বা খুব কম খেয়ে ওজন কমাতে গেলে দেখা যায় কিছু দিন বা কয়েকদিন পরই প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে এই পদ্ধতি বাদ দেয় ও আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তাই ওজন কমাতে কিছু টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যা নিম্নরূপ-

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মেডিনোভা মেডিকেলের অধ্যাপক মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তৌফিকুর রহমান ফারুক।

প্রোটিন জাতীয় খাবারে ক্যালরি কম:

খাবারে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খেয়ে ওজন কমানোর পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ, কার্যকরী, মুখরোচক, বৈজ্ঞানিক ও কম কষ্টের। প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে অল্প খাবারে তাড়াতাড়ি তৃপ্তি আসে অর্থাৎ ক্ষুধার অনুভূতি তাড়াতাড়ি কমে এবং আমাদের শরীরের মেটাবলিক রেট বা শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ার হার বাড়ে, কারণ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার হজম করতে ও মেটাবলিজম হতে বা খাবার ভেঙে শক্তি উৎপাদনে বা অন্যান্য কাজে অনেক বেশি শক্তি ব্যয় হয়।

প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার হজম বা মেটাবলিজমে বেশি শক্তি অর্থাৎ ৮০-১২০ ক্যালরি শক্তি বেশি ব্যয় হয়। একজন ব্যক্তি যদি খাবারের ৩০ ভাগ প্রোটিন জাতীয় খাবার খায় তবে সে প্রতিদিন ৪৪১ ক্যালরি সমপরিমাণ খাবার কম গ্রহণ করল।

তাই খাবারে পরিমিত পরিমাণ প্রোটিন যোগ করে একদিকে যেমন শরীরে ক্যালরি কম প্রবেশ করে তেমনি ক্যালরি খরচও বেশি হয়। প্রোটিন জাতীয় খাবার আমাদের ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

যারা ডায়েট করেন ও না খেয়ে ওজন কমাতে চান তাদের মাঝেমাঝে তীব্র ক্ষুধার অনুভূতি হয়, ফলে তারা আর না খেয়ে থাকতে পারেন না, ফলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে ও আবার ওজন আগের মতোই বাড়তে থাকে। প্রোটিন জাতীয় খাবার এ ধরনের হঠাৎ ক্ষুধার তীব্র অনুভূতি কমিয়ে দেয়।

এক গবেষণায় দেখা যায়, খাবারে যদি ২৫ ভাগ প্রোটিন বা আমিষ থাকে তবে এই প্রোটিন বা আমিষ মস্তিষ্কে খাবারের চিন্তা ৬০ ভাগ কমিয়ে দেয় ও রাতের গভীরে বা ভোর রাতে ø্যাক্স বা নাস্তা খাবার ইচ্ছা বা প্রবণতা ৫০ ভাগ কমিয়ে দেয়।

তাই যদি কেউ ওজন কমোনোর কর্মসূচি কার্যকরী ও টেকসই বা স্থায়ী করতে হয় ও কম কষ্টে ওজন কমাতে চায় তবে খাবারে কমপক্ষে ৩০ ভাগ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার রাখতে হবে, এটা ওজন কমানোর পাশাপাশি ওজন যাতে আবার না বাড়ে তা নিশ্চিত করবে।

সুগারযুক্ত কোমল পানীয় ও ফলের রস বর্জন করতে হবে:

সোডা, ফলের রস, চকোলেট দুধ ও অন্যান্য কোমল পানীয় যেমন কোকাকোলা, ফান্টা, মিরিন্ডা, পেপসি যেখানে অতিরিক্ত চিনি বা সুগার যোগ করা হয় তা ক্ষতিকর ও বর্জনীয়, কারণ সুগার বা চিনির মাধ্যমে আমাদের শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি ঢোকে ও তা আমাদের ওজন বাড়ায়।

বাচ্চাদের ওজন বাড়াতে বা মোটা হওয়ার রিস্ক ৬০ ভাগ বেড়ে যায় যদি প্রতিদিন সুগারযুক্ত কোমল পানীয় পান করে। ওজন বাড়ার পাশাপাশি এ সুগারযুক্ত কোমল পানীয় নানাবিধ রোগ তৈরি করে।

প্রাকৃতিক জুস বা ফলের রস স্বাস্থ্যকর কিন্তু জুসের সঙ্গে যদি অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয় তবে তা ক্ষতিকর। এসব সুগারযুক্ত পানীয়ের আসলে কোনো লাভজনক দিক তো নেয়ই বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর।

বেশি করে পানি পান করলে ওজন কমে:

ওজন কমানোর জন্য অন্যতম ট্রিক হচ্ছে প্রতিদিন বেশি পরিমাণ পানি পান করা। বেশি পরিমাণ পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয়। প্রতিদিন ৪ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পান করলে ৯৬ ক্যালরি শক্তি অতিরিক্ত খরচ হয় কোনো কায়িক পরিশ্রম ছাড়াই।

তাছাড়া খাবার আগে খালি পেটে পানি পান করলে তাতে পেট আংশিক ভর্তি হবে এবং ক্ষুধা কমবে ও কম পরিমাণ খাবারে পেট ভরে যাবে, তাতে অটোমেটিক্যালি কম ক্যালরি শরীরে ঢুকবে।

১২ সপ্তাহব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে খাবার ১-২ ঘণ্টা আগে ১-২ লিটার পানি খেলে ৪৪ ভাগ বেশি ওজন কমে, তাই ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর ও কম ক্যালরিযুক্ত খাবারের পাশাপশি বেশি পরিমাণে পানি পান করা কার্যকরী। যেসব পানীয় ক্যাফেইনযুক্ত যেমন গ্রিন টি, কফি স্বাস্থ্যক ও ওজন কমাতে সহায়ক কারণ এ পানীয়গুলো শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করতে সাহায্যকারী।

নিয়মিত ব্যায়াম করা:

আমরা যখন কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খাই, তখন আমাদের শরীর শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, শক্তি কম খরচ করে শক্তি জমা রাখতে চায়। তাই দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমান কর্মসূচি বা ডায়েটিং করলে বা কম খেলে আমাদের শরীরে মেটাবলিকজনিত বা শারীরবৃত্তীয়জনিত ক্যালরি খরচ কমে যায়।

তাছাড়া এতে আমাদের শরীরের মাংসপেশীগুলো শুকিয়ে যায়, তাই ওজন কমানোর জন্য বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার পাশাপাশি মাংসপেশী ঠিকভাবে রাখার জন্য ভারোত্তোলন বা ওজন লিফটিংও করতে হবে, এতে মাংসপেশী শুকিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ হবে ও মেটাবলিক কার্যক্রম ঠিক থাকবে।

তাই ওজন কমানোর জন্য আমরা শুধু শরীরের চর্বিই কমাতে চাইব না, আমাদের শারীরিক গঠনও যাতে ঠিক থাকে, আমাদের যাতে দেখতে অসুন্দর না লাগে, শুকনা শুকনা না লাগে, বরং দেখতে ভালো যাতে লাগে। ওয়েট লিফটিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত এরোবিক ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাঁতার কাটা ও জগিং করতে হবে।

রিফাইন্ড সুগার ও কার্বোহাইড্রেট কম খেতে হবে:

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে, তাই খাবারে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, আলু, চিনি, মিষ্টি, মধু, কোমল পানীয় কম খেতে হবে।

গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার অর্থাৎ কম কার্বোহাইড্রেট ও কম চর্বিযুক্ত খাবার ওজন কমাতে ২-৩ গুণ অধিক কার্যকর। তাছাড়া কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার অন্যান্য রোগ যেমন ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম রোগ প্রতিরোধ করে, তবে ফাইবারযুক্ত কমপ্লেক্সে বা জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন ঢেঁকিছাঁটা লাল চাল শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং উপকারী।

যে কারণে ভাঙছে রাজ-পরীমনির সংসার
বিনোদন ডেস্ক
বিয়ের এক বছর না যেতেই বিচ্ছেদের সুর পরীমনির কণ্ঠে। রাজের সঙ্গে আর সংসার করা হবে না—সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই ঢালিউড নায়িকা।
দুজনের মধ্যে এখনও আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ না হলেও শিগগিরই ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন পরীমনি। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ সম্পর্কেও ইঙ্গিত দিয়েছেন নায়িকা।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পরীমনি লেখেন, ‘হ্যাপি থার্টি ফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে।’
আরেক অংশে এই নায়িকা লিখেছেন, ‘জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নাই।’

পরীমনি এই স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। লাইক কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। অনেকেই তাদের সম্ভাব্য বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

স্ট্যাটাসের বিষয়ে পরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা স্বীকার করেন পরীমনি। তবে এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে মিডিয়ায় বেশি কথা বলতে চাননি অভিনেত্রী।

পরীমনি বলেন, ‘এখনো বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আজ থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। শিগগির বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে দেব।’

আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পরীমনির ভাষ্য, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা হচ্ছিল। সমস্যা কাটিয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারলাম না। তার (রাজ) যে আচার-আচরণ তাতে একসঙ্গে থাকার পরিস্থিতি নাই। তাই বাধ্য হয়ে বাসা ছেড়ে আলাদা হয়ে গেলাম। আমার মানসিক অবস্থা এখন ভালো নাই, এর বেশি আর কিছু বলতে পারছি না।’

পরীমনির বক্তব্যের বিষয়ে রাজের ফোন নম্বরও বারবার কল করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি প্রকাশ্যে আসে রাজ-পরীর সম্পর্কের খবর। গত ২২ জানুয়ারি দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ১০১ টাকার দেনমোহরে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। গত চার মাসে তাদের ঘর আলো করে আসে ছেলে সন্তান রাজ্য।

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এক নায়িকাকে ঘিরে সংসারে অশান্তি— এমন ইঙ্গিত দিয়ে কিছুদিন আগে একটি পোস্ট করেন পরীমনি। সেটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পরীমনি ও রাজের মধ্যে বেশ কয়েকদিন থেকেই সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। কিছুদিন আগে এ চিত্রনায়িকাই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তা সামনে এনেছিলেন।

তিনি অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে রাজকে জড়িয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তাদের দুজনের দীর্ঘ ফোনালাপ নিয়ে অনেক কথা বলেন।

পরীমনি সেসময় রাজ-মিমের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এসব বন্ধ করো’।

তখন থেকে রাজ-মিমের প্রেম ও পরীর সংসারে ভাঙনের গুজব ছড়াতে থাকে।

পরাণ ও দামাল সিনেমায় রাজের নায়িকা ছিলেন মিম। দামাল সিনেমা মুক্তির সময় রাজ ও মিমকে মেনশন করে পোস্ট দেন পরী। তখন বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়।

তবে মিম বরাবরই রাজের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।

রাজের সঙ্গে পরীমনির এবারের অভিমান মিমকে ঘিরে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাঠ্যপুস্তকের ঘাটতি নিয়েই বই উৎসব আজ
ঢাকা অফিস
নয় কোটি পাঠ্যবইয়ের ঘাটতি নিয়ে এবার পালিত হবে নতুন বছরের বই উৎসব। রোববার (১ জানুয়ারি) গাজীপুরে মাধ্যমিকের ও ঢাকায় প্রাথমিকের কেন্দ্রীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনসহ বিশেষ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮০ শতাংশ ও প্রাথমিকের ৬৫ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। যদিও মুদ্রণ শিল্প সমিতির দাবি, ঘাটতির পরিমাণ এনসিটিবির হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। কাগজ সংকটে প্রাথমিকের বই ছাপানো দেরিতে শুরু হওয়ায় সংকট বেশি ঘনীভূত হয়েছে। নিম্নমানের বইয়ের পাশাপাশি এবার প্রচুরসংখ্যক শিক্ষার্থীর নতুন বই নির্ধারিত সময় না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের বই তুলে দেওয়া উপলক্ষে কেন্দ্রীয় বই বিতরণ উৎসব পালিত হবে। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন প্রধান অতিথি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায়ের কেন্দ্রীয় বই উৎসব গাজীপুরের কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার প্রায় নয় কোটি পাঠ্যবই বাকি রেখেই পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা হচ্ছে। ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকে আছে বই। সবচেয়ে বেশি আটকে আছে বারোতোপা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। এ প্রতিষ্ঠানটি এবার এক কোটি ৯০ লাখ বইয়ের কাজ পায়। এর মধ্যে এক কোটি বই তারা দিতে পারেনি। এ প্রতিষ্ঠানের মূল প্রতিষ্ঠান দেশের একটি বিখ্যাত নোট-গাইড প্রকাশন সংস্থা। সরকারি ছাপার কাজ বন্ধ রেখে তারা নোট গাইড ছাপছিল। এ খবর পেয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবিতে ছুটে যান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি সংস্থাটির উদ্দেশে সতর্কতামূলক কথাবার্তা বলেন। এরপর অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বই ছাপার কাজ হাত দেয়। কিন্তু দুদিনের মাথায় শনিবার এ সচিবকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরও জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশ আছে। এছাড়া লেটার অ্যান্ড কালার বই দেয়নি। প্রমা ও ব্রাইট নামে প্রতিষ্ঠানটির কাছে আটকে আছে অর্ধ কোটির বেশি বই। অগ্রণী, আনন্দ, দশদিশা, জাহানারা, সরকার গ্রুপ এবং বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রেসের কাছেও কয়েক কোটি বই আটকে আছে। প্রিন্ট মাস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছেও কিছু বই আটকে আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সপ্তম সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে। খালি কাজ নেওয়ার ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি ৭০ লাখ টাকা লাভ করেছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগের অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ, আগামী জুনে ট্রায়াল রান
ঢাকা অফিস
আগামী বছরের জুনে উদ্বোধন করা হবে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে রেলপথ যাচ্ছে যশোরে। এ রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ১৭২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৩ কিলোমিটার হবে পুরোপুরি এলিভেটেড (উড়াল)। যশোর পর্যন্ত রেলপথের কোথাও থাকবে না কোনো লেভেল ক্রসিং। এতে সময় বাঁচবে, ঘটবে না দুর্ঘটনা। দেশে উড়াল ও লেভেল ক্রসিংবিহীন প্রথম রেলপথ হতে চলেছে এটি। পুরোদমে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ। আগামী বছরের জুনে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ অংশের মোট কাজের অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬৭ শতাংশ। তবে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা অংশের অগ্রগতি ৮৮। এ পথের দূরত্ব ৮২ কিলোমিটার। এরই মধ্যে ৩৫ কিলোমিটার পথে রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। হাতে এখনো ছয় মাস। এ মেয়াদেই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে। তবে, আগামী জুনে কোনো যাত্রী চড়তে পারবে না। ট্রায়ালরান হিসেবে পদ্মা সেতু হয়ে যাত্রী ছাড়াই চলাচল করলে রেল। বাংলাদেশ রেলওয়ে এ কাজের জন্য অনেক দক্ষ। ফলে কয়েক মাস ট্রায়াল রানের জন্য চলবে। এর পরেই যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু হবে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ওয়ে অ্যান্ড ওয়ার্ক) আবু ইউসুফ মোহাম্মদ শামীম বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার মেইন লাইন নির্মাণ করা হবে। আমরা দুটি ভাগে বিভক্ত করে প্রকল্পটি উদ্বোধন করবো। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথে ২০২৩ সালের জুনে ট্রায়াল রান শুরু হবে। এ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আশাকরি, এ অংশটুকু চালু করতে পারবো কাজের অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। যাত্রী নিয়ে রেলপথে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেই জন্যই কিছু সময় ট্রায়াল রানের জন্য চলবে।’

প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে চায়না ঋণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ এবং সরকারি অর্থায়ন ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। ২০২৪ সালের জুন মাসে সব কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওতায় চীন থেকে ১০০টি নতুন ব্রডগেজ কোচ আনা হবে। এসব কোচ দিয়ে পদ্মা সেতুর রেললাইনের ওপর ট্রেন চলবে। প্রথম ধাপে ১৫টি কোচ এসেছে। বাকি কোচগুলো ধাপে ধাপে আসবে।

নড়াইলে নৌকাডুবি: ২৪ ঘণ্টায় সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ চারজনের
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় মা ও ছেলে নিহত হন। নিহতরা হলেন- নাজমা বেগম (৩০) ও তার ছেলে তাছিম শেখ (৪)।

এছাড়া এ ঘটনায় আরো ৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন- কালিয়ার মাহমুদ শেখ (৪৫), বাহিরডাঙ্গা গ্রামের রয়েল মন্ডল (৩০), গ্রাম পুলিশ লাবু শেখ (২৮) ও জোকার চরের মো. খানজাহান আলী (৫০)।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছোট আকৃতির খেয়া নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে সেটি ডুবে যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী সাঁতার কেটে ডাঙায় উঠতে পারলেও নাজমা তার ৪ বছরের সন্তানকে নিয়ে উঠতে পারেননি। পরে থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল এবং স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালান।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ তাসমীম আলম বলেন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি।

কালিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল হান্নান বলেন, খুলনা থেকে ডুবুরি দল ও আমাদের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ কোনো ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীতে স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে।

নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে মিললো মাদরাসাছাত্রের মরদেহ
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংক থেকে আবদুল্লাহ গাজী (১০) নামের এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোরে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আবদুল্লাহ উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম সরকেলডাঙ্গা হাসানিয়া কওমী মাদরাসার কেরাত বিভাগের ছাত্র ছিল। সে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়নের চাঁচুড়ী গ্রামের ইনছান গাজীর ছেলে।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, আবদুল্লাহ এশার নামাজ জামাতে শেষ করে প্রতিবেশী এক বাড়িতে রাতের খাবার খেতে যায়। কিন্তু রাত ১০টায়ও ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এতিমখানার নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে মাদরাসার নূরানি শিক্ষক মাওলানা মহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররা আমার কাছে এসে জানায় রাতের খাবার খেয়ে আবদুল্লাহ আসেনি। তারপর তাকে খুঁজতে মাদরাসা থেকে
পশ্চিমে নির্মাণাধীন একটি ট্যাংকের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। শনিবার ভোরে ওই ছাত্রের মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তার শরীরে সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তা কাউকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট নয়। তার ময়নাতদন্ত হয়েছে। রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বছরের শেষ দিনে খুলনায় আরও কমলো সবজির দাম
স্টাফ রিপোর্টার
বছরের শেষ দিনে খুলনার বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যেরই দাম বাড়েনি। তবে একাধিক পণ্যের দাম কমেছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজার, টুটপাড়া জোড়াকল বাজার, রূপসা বাজার, চানমারী বাজার ঘুরে এমনটা জানা যায়। বাজারে শীতকালীন সবজির দাম আরও একদফা কমেছে। একই সঙ্গে মুরগির দামও আছে ক্রেতা নাগালের মধ্যে। গরু আর ছাগলের মাংসের দামে কোনো হেরফের নেই।
নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল, মনির, মাসুম জানান, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শিম, বিটকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি দরে। বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০-৮০ টাকা, লালশাক আঁটি ২০ টাকা, লাউশাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জোড়াকল বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী লিপু, মনির, বাদল জানান, বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫০ টাকা, সোনালী ২৫০ টাকা, রাজহাঁস ৪০০ টাকা, চীনা হাস ৪০০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৩০ টাকা। গত চার-পাঁচ দিন ধরে একই দাম বিরাজমান।

নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারে মুরগি কিনতে আসা গৃহিণী নাফিসা বেগম বলেন, ‘এখন বাজারে সবজি আর মুরগি কিনে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে পারছি। ১২০ টাকার সবজি এখন মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বছরের শেষ দিনে মুরগির দাম বাড়ে। এবার দাম কম পেলাম। তবে মাছের দাম আগের মতোই।’

বেসরকারি চাকরিজীবী নবীন বিশ্বাস বলেন, ‘আর কয়দিন পর শীতের সবজি বাজারে ৫-১০ টাকায় পাওয়া যাবে। সবজির মত চিনি, তেল ডালের দাম কমলে মানুষ একটু ভালোভাবে চলতে পারবে।

নগরীর ময়লাপোতার গরুর মাংস বিক্রেতা জাহিদ হোসেন, আরমান শেখ বলেন, দাম কমা কিংবা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নাই। বাজারে এখন গরুর মাংস ৬৫০ টাকা আর ছাগলের মাংস ৮৫০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দর্শনা মাতালেন সাবিনা ইয়াসমিন
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ঐতিহ্যবাহী কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তিতে প্লাটিনাম জুবিলি উৎসব উদযাপন হয়েছে।

এ প্লাটিনাম জুবিলি উৎসব আরও আনন্দঘন করে তোলেন বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাঁপা ও ঐশী। এছাড়া শিরোনামহীন ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন করে এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) ৮টায় কেরু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এ কনসার্ট চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এছাড়া দর্শনার কৃতিসন্তান জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত গীতিকার ও সুরকার কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন, জাহাঙ্গীর আলম অনুষ্ঠানে গান পরিবশেন করেন। পরে সাবিনা ইয়াসমিন ও কনকচাঁপাকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এসময় সাবিনা ইয়াসমিন ও কনকচাঁপা বলেন, আজ দর্শনা এসে সত্যিই আমাদের খুব ভালো লাগছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা তথা দর্শনাবাসী খুব অতিথি পরায়ণ। আর ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে এতেই আমরা খুশি। এছাড়া হাজার হাজার দর্শকের সামনে সঙ্গীত পরিবেশন করতে পেরে আরও ভালো লাগছে। কারণ উপস্থিত অতিথি দর্শক সবাই এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। সময় ও সুযোগ পেলে আমরা আবার দর্শনা আসবো।

এর আগে সকাল থেকে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেন এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) প্রেসিডেন্ট ও ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন, কেরুজ চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত এডিএম, প্লাটিনাম জয়ন্তী বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শেখ শাহাব উদ্দিন, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুন্না বিশ্বাস, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর, দামুড়হুদা থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ, কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্লাটিনাম জয়ন্তী বাস্তবায়ন কমিটির আব্দুর রহীম।

যশোরে ঐতিহ্যের গরুর গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা
যশোর প্রতিনিধি
যশোরে ঐতিহ্যের গরুর গাড়ি দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া মাঠে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় ৪৮টি গরুর গাড়ি আট দলে প্রতিযোগিতা করে। গাড়িপ্রতি টোকেন মূল্য ধরা হয় ৫০০ টাকা। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন জলকর গ্রামের বিল্লাল হোসেন, দ্বিতীয় শুকদেবনগরের নজরুল মুন্সি ও তৃতীয় চৌগাছার আবির।
এছাড়া এনায়েতপুরের ইমান আলী, বারোবাজারের সফিয়ার রহমান, কাঠামারা গ্রামের মিজানুর রহমানকে সান্ত্বনা পুরষ্কার দেওয়া হয়।

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য// প্লাস্টিক বোতলে তৈরি প্রতিকৃতির প্রদর্শনীতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
ঢাকা অফিস
রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘সেভ আর্থ সেভ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলছে। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’। শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।
প্রদর্শনীতে সচেতনতা বাড়াতে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মানুষের মগজ। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে, তা বোঝাতে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গাছ, যাতে কোনো পাতা নেই। একইভাবে বড় আকৃতির মাছ, কচ্ছপ, প্রদর্শনীর ফটক ও মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে। প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই টিঅ্যান্ডটি মাঠে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রতিকৃতি দেখছেন এবং ছবি তুলছেন।

আয়োজক সংগঠন বিডি ক্লিন জানায়, দূষণরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিত্যক্ত অর্ধকোটি প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি করা নানা প্রতিকৃতি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠানকে শুক্রবার ১০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক বোতল প্রতিনিয়ত পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। বিশেষ করে বেভারেজ কোম্পানিগুলো প্লাস্টিকের বোতলে কোমল পানীয় বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করছে। তারা ব্যবসা করে পরিবেশের দূষণ করবে, তা হতে পারে না। প্লাস্টিক দূষণরোধ করতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকেও যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল ফেলা বন্ধ করতে হবে।

ব্যতিক্রমী এ প্রদর্শনীর প্রশংসা করে মেয়র আতিক বলেন, সৃষ্টিকর্তা মানুষের প্রয়োজনেই জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, মাছ, বৃক্ষ সবই সৃষ্টি করেছেন। এগুলো পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অথচ আমরা নির্দয় হয়ে এসব সৃষ্টিকে ধ্বংস করছি। যারা ধ্বংস করছে, তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তা করে না।
দেশপ্রেম থাকলে কেউ দেশের ক্ষতি করতে পারে না বলেওি মন্তব্য করেন আতিকুল ইসলাম।

বিডি ক্লিনের প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ উদ্দিন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল, সুস্থ ও উন্নত মানসিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। মানসিক পরিবর্তন নিশ্চিত হলেই দেশ পরিচ্ছন্ন হবে, উন্নত হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে বিডি ক্লিনের প্রায় ৪০ হাজার সদস্য কাজ করছেন বলেও জানান সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা।

সালতামামি-২০২২
শেষ হয়েছে যেসব আলোচিত মামলার বিচার
ঢাকা অফিস
আদালত মানেই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ। দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বাদী-বিবাদীর অভিযোগ আর বিচারকের সঠিক রায়। এর মাঝেই থাকে বিচারক, আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মতৎপরতা। এদের সমন্বয়েই আলোচিত মামলার সুরাহা হয়। এতে কেউ হন খুশি, কেউবা ক্ষুব্ধ।

২০২২ সালে বেশকিছু আলোচিত মামলার রায় এসেছে ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে। এসবের মধ্যে ডিআইজি মিজান, ডিআইজি-প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক, বজলুর রশীদ, ডেসটিনির রফিকুল আমিনের মামলার রায় উল্লেখ্যযোগ্য। আরও ছিল—সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলা, হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলাসহ আলোচিত বেশকিছু মামলার রায়।
প্রশাসনের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাজা:
ঘুষ লেনদেনের মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে তিন বছর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন।

এর মাস দেড়েক আগে বরখাস্ত হওয়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি—প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিককে দুদকের করা মামলায় ৮ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন একই আদালত। ৯ জানুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কারা অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজনস) বজলুর রশীদকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। ২৩ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় দেন।

ডেসটিনির মামলার রায়:
ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাচারের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদসহ ৪৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং আসামিদের ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম। গত ১২ মে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

তিন মামলায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ঊর্ধ্বতনদের সাজা:
ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ২৫ মে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) নয়জনকে পৃথক দুই ধারায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন। দণ্ডিত আসামিরা হলেন—ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মাইনুল হক, জিএম ননী গোপাল নাথ, ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন ও সফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজিএম কামরুল হোসেন খান ও সাইফুল হাসান এবং প্যারাগন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা ও পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এর মাস দুয়েক পর ২৪ জুলাই ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) নয়জনকে সাজা দেন একই আদালত।

বছরের শেষের দিকে এসে একই আদালত সোনালী ব্যাংকের ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকের এমডি হুমায়ুন কবিরসহ নয়জনকে পৃথক দুই ধারায় ১৭ বছর কারাদণ্ড দেন।

সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিনের কারাদণ্ড:
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় ঢাকার ধামরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র দেওয়ান নাজিম উদ্দিনকে ৫ জুন চার বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

গণপূর্তের মালি থেকে কোটিপতি সেলিমের দুই স্ত্রীর কারাদণ্ড:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রাক্তন মালি সেলিম মোল্যার দ্বিতীয় স্ত্রী হাফিজা খানকে ২৪ মে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি একই আদালত সেলিম মোল্লার প্রথম স্ত্রী পারভীন আক্তারকে দুদকের মামলায় পৃথক দুই ধারায় তিন বছর করে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেন। তারা কারাগারে আছেন।

আলোচিত বেশকিছু হত্যা মামলার বিচার শেষে রায় হয়েছে বিদায়ী বছরে। এতে বেশ কয়েকজন আসামির ফাঁসির রায় এসেছে।

হুমায়ুন আজাদ হত্যা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায় এসেছে ১৮ বছর পর। রায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম।

জাকিয়া হত্যা:
গোপালগঞ্জে জাকিয়া বেগম নামের এক গৃহবধূকে খুনের মামলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি তার স্বামীসহ চারজনকে ফাঁসির আদেশ দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জাকির হোসেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জাকিয়ার স্বামী মোর্শেদায়ান নিশান, নিশানের ভাই এহসান সুশান, ভগ্নিপতি হাসান শেখ ও ম্যানেজার আনিছুর রহমান।

ব্যবসায়ী উজ্জল হত্যা:
৯ বছরের বেশি সময় আগে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার বতিহালা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. উজ্জল মিয়া হত্যা মামলায় ১৪ জুন তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মনির কামাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নওশাদ, শাহাবুদ্দিন ও সবুজ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মরম, মহিম, কারিম, জসিম, মিয়া হোসেন ও জালাল উদ্দিন। প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর ফাঁসি:
১৭ বছর আগে রাজধানীর ডেমরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় তার স্বামী মো. আমিন ওরফে ফকির আমিনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ৩১ জুলাই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক এএম জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত এ আসামি ডেমরার বাগানবাড়ির গোপীবাগের ৮৩/১ এর মৃত ফকির চানের ছেলে।

যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড:
রাজধানীর হাজারীবাগে যৌতুকের দাবিতে মারুফা বেগমকে হত্যা মামলায় স্বামী সুজন মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ৩১ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক বেগম সামছুন্নাহার এ আদেশ দেন।

গার্মেন্টস কর্মী হত্যায় চারজনের ফাঁসি:
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে খুন হন আশুলিয়ার গার্মেন্ট অপারেটর মো. তানিম। এ মামলায় ১৬ ফেব্রুয়ারি চারজনকে ফাঁসির আদেশ দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত আরা। দণ্ডিতরা হলেন— গামেন্ট কর্মী সোহেল রানা, ফরহাদ হোসেন, মো. আশিকুর রহমান ও মো. নজরুল ইসলাম।

ওয়াসিম হত্যায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড:
সাত বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর বাঁশপট্টি এলাকায় ওয়াসিম নামের এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যার দায়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ম আদালতের বিচারক ফাইজুন্নেছা চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আব্দুল বাতেন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম, পলক রহমান ওরফে ডেঞ্জার সাগর ও পাপ্পু।

সাবরিনাদের করোনার রিপোর্ট জালিয়াতির মামলা:
দেশজুড়ে আলোচিত ছিল ডা. সাবরিনা চৌধুরীদের করোনা রিপোর্ট জালিয়াতির মামলার রায়। তাদের সাজাও দিয়েছেন আদালত। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট আসামিকে পৃথক তিন ধারায় ১১ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। ১৯ জুলাই আলোচিত এ মামলার রায় দেন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন।

এনু-রুপনের মামলা:

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হলেও অর্থপাচারের একটি মামলার বিচার শেষে রায় হয়েছে। রায়ে এনু-রুপনসহ ১১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাজধানীর ওয়ারী থানার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু, রুপন ভূঁইয়াসহ ১১ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। ২৫ এপ্রিল ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন আলোচিত এ দুই ভাইসহ ১১ জনের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

হোসেনি দালানে বোমা হামলা:
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুরনো ঢাকার হোসনি দালানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৮ আসামির মধ্যে দুজনের সাজার রায় আসে। অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পান। ১৫ মার্চ ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন—আরমান ওরফে মনির ও কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আসিফ। খালাস পাওয়া ছয় আসামি হলেন—আবু সাঈদ ওরফে সালমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সুমন ওরফে সজীব, চান মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ ও শাহজালাল।

বিমানের দুই কর্মচারীসহ চারজনের কারাদণ্ড:
প্রায় চার বছর আগে হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোয়া ৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের মামলায় বিমানের দুই কর্মচারীসহ চারজনকে ১২ বছর করে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ১২ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক বিলকিছ আক্তার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) পেন্ট্রি ম্যান খন্দকার রুহুল আমিন ও শাহিনুর ইসলাম এবং স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য ইফতারুল আলম সরকার ও রিয়াজ ওরফে আমজাদ। বেশ কয়েকজন আলোচিত বক্তি এবার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিচার শুরু:
দুদকের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। গত ১২ জুন ঢাকার বিশেষ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। বিচার শুরু হওয়া অপর ৫ আসামি হলেন—রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিচার শুরু:
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। গত ৬ এপ্রিল নাজমুল হুদার অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।

স্ত্রীসহ স্বাস্থ্যের মালেকের বিচার শুরু:
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। আব্দুল মালেকের অবৈধ সম্পদের আরও একটি মামলায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ১১ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। মামলা দুটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আছে।

বিদায় ২০২২: দেশজুড়ে আলোচনায় ছিলো মরিয়ম-মান্নানকাণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার
গেলো বছর দেশজুড়ে আলোচনায় ছিলো একটি অপহরণ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনা। মাকে ফিরে পেতে মেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্না অশ্রুশিক্ত করেছিল সব শ্রেণির মানুষকে।

পরে জানা গেলো প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে এটি ছিলো পারিবারিক নাটক। পুলিশ ও পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে আসল ঘটনা। সমালোচনার ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। তবে রহিমা বেগমের অপহরণের বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম নিলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে।

বিদায়ী বছরের ২৭ আগস্ট রাত ১০টায় নগরীর দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়ার বাসার উঠানের নলকূপ থেকে পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন মরিয়ম-মান্নানের মা রহিমা বেগম। এ ঘটনায় রহিমা বেগমের ছেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে তারা মায়ের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, পোস্টারিং, লিফলেট, মাইকিং ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। মায়ের সন্ধান দাবিতে এক কর্মসূচিতে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরালও হয়।

অপহরণের দুই দিন পর কয়েকজন আসামির নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় রহিমা খাতুনের ছোট মেয়ে আদুরী বেগম মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন রহিমা বেগমের বর্তমান স্বামী বেলাল ঘটক, প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম পলাশ, মো. মহিউদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, জুয়েলসহ আরও কয়েকজন।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাওলা ইউনিয়নের বাওলা পূর্বপাড়ার একটি কবরস্থানে বস্তাবন্দি লাশের সন্ধান মেলে। লাশের খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান মরিয়ম মান্নান। উদ্ধার হওয়া ওই লাশ তার মায়ের বলে দাবি করেন। সেখানেও আলোচনার জন্ম দেন মরিয়ম মান্নান। তার দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ আদালতে ডিএনএ টেষ্টের জন্য আবেদন করে থানা পুলিশ। কিন্তু ওই দিন শুক্রবার থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

এর আগে অপহরণ মামলাটি দৌলতপুর থানা থেকে তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয় আদালতের মাধ্যমে। অবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় দৌলতপুর থানা পুলিশ। পুলিশ রহিমা বেগমকে ওইদিন রাতে ফরিদপুর জেলার সৈয়দপুর গ্রামের জনৈক কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়ার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে জিম্মায় নেয়। রাতে উপস্থিত সাংবাদিকদের থানার ওসি বলেন, রহিমা বেগম স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।

উদ্ধার হওয়ার পরদিন দৌলতপুর থানা তাকে খুলনা পিবিআইতে হস্তান্তর করে। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে ছোট মেয়ে আদুরীর জিম্মায় দেন আদালত।

মরিয়ম মান্নানের অপহরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি মহিউদ্দিন বলেন, জমির সীমানা নিয়ে এলাকার পলাশ, জুয়েল ও হেলাল শরীফের সাথে রহিমা বেগমদের বিরোধ ছিল। এছাড়া আমার ছোট ভাই কিবরিয়ার জমি তাদের সীমানা লাগোয়া তাই আমাদের এ মামলায় ফাঁসিয়েছে তারা। তাছাড়া তিনি এলাকার বহু মানুষকে এর আগে এমনভাবে ফাঁসিয়েছেন। সম্মানের দিকে তাকিয়ে সবাই তাদের সাথে আপস করে নেয়। এর আগেও আমাদের নামে দ্রুত বিচার আইনে মিথ্যা মামলা করেছিল তারা। কিন্তু পিবিআইয়ের সঠিক তদন্তে সে যাত্রায় আমরা রক্ষা পেয়েছিলাম। এবারও পিবিআই তদন্ত করে সঠিক রিপোর্ট দিবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে একমাস একদিন জেল খেটেছি। আমার সন্তানেরা রাস্তায় বের হতে পারেনি। মরিয়ম মান্নান ও তার পরিবার দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করেছে। পিবিআই ফাইনাল রিপোর্ট দিলে তারা আদালতে মানহানি মামলা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক পিবিআই মো. আ. মান্নান বলেন, মামলায় বর্ণনায় তারা যা লিখেছিলেন সেটি সত্য নয়। অপহরণের বিষয়ে রহিমা বেগম তাদের জানিয়েছেন, সংসার, ছেলে মেয়ে ও জমিজমা তার ভালো লাগত না। তাই তিনি আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। খুব শিগগিরি এ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রহিমা খাতুন এর আগে একাধিকবার বাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে গিয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এটি ছিল তাদের সাজানো নাটক।

সরিষা চাষে সফলতা দেখছেন বাগেরহাটের চাষিরা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে প্রথমবারের মতো স্বল্প ব্যয়ে কম সময়ে সরিষার চাষে সফলতা দেখছেন চাষিরা। ঘেরের পাড়, পতিত জমি ও রাস্তার পাশে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

এদিকে, উপকূলীয় এই জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ সরিষা উৎপাদন হলে ভোজ্য তেল আমদানি কমবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

সরকারি প্রনোদনা ও কৃষি বিভাগের চেষ্টায় বাগেরহাটের ১২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অল্প সময়ে স্বল্প খরচে বিঘা প্রতি ২৫ হাজার টাকা লাভ হবে তাদের।

বাগেরহাট সদরের রণভূমি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর সরদার বলেন, ‘প্রথম বার ঘেরের পাড়ে এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। মাত্র ছয় হাজার টাকা খরচে আশাকরি ৩০ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করতে পারবো। আগামীতে আরো বেশি জমিতে এই ফসলটির চাষ করবো।’

 

একই গ্রামের শেখ ইব্রাহিম নামের অপর এক কৃষক বলেন, ‘সবজি চাষ শেষে জমি ফেলানো থাকে। তাই এবার কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরিষার চাষ করেছি। যেভাবে গাছে ফুল ধরেছে তাতে আশা করছি ভালো ফলন পাবো। সরিষা থেকে যা আয় হবে সেটা হবে আমার জন্য বাড়তি আয়।’

বাগেরহাট সদরের ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গংগা মনি পাল বলেন, ‘আমরা কৃষকদের ডোর টু ডোর গিয়ে পতিত জমিতে চাষিদের সরিষা চাষে উদ্ধুদ্ব করেছি। প্রথম বারের মত ফলনও ভালো হয়েছে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘সরিষা তেলের আবাদ বাড়াতে ঘেরের পাড়, পতিত জমি ও রাস্তার পাশে তিনশো কৃষকদের মধ্যে বারি-১৪ জাতের এক কেজি করে সরিষার বীজ, এক কেজি ইউরিয়া ও ১০ কেজি ডিএপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১০০ কৃষক সরিষা চাষ করছেন। আশাকরি বাগেরহাট সদরের চার শতাধিক সরিষার চাষি ভালো ফলন পেয়ে সফলতার মুখ দেখবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আবাদের পরিমান বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তেল ফসলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। বাগেরহাটে এবছর ২৯০০ জন কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। ১৪৪০ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে প্রতিমণ সরিষা বিক্রি করতে পারবেন।’

ফিরে দেখা ২০২২: শুরুতে করোনা, শেষভাগে মশার কামড়ে ব্যতিব্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা
ঢাকা অফিস
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও তার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব নিয়েই আলোচনা ছিল তুঙ্গে। সময় গড়ানোর সঙ্গে বাড়তে থাকে শনাক্তের হার। নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বছরের প্রথম দিকে তাই ব্যস্ত ছিল কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। তবে তখন মোটাদাগে আলোচনার বাইরে ছিল অন্যান্য সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি।
কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশে মার্চ-এপ্রিলের দিকে বাড়তে থাকে ডায়রিয়ার প্রকোপ। সেটি সামাল দিয়ে সবাই যখন একটু স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দেশের হাসপাতালগুলোতে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে এডিস মশার কামড়ে সৃষ্ট ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতেই হিমশিম খেতে হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করার ফলে একধরণের আত্মতুষ্টি চলে আসে প্রায় সব ক্ষেত্রে। আর তখন সাময়িক অর্জনে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার ফলে মশার কামড়েও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় দেশের নাগরিকদের। অথচ রোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী ও স্থিতিশীল কাঠামো গড়ে তোলা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। সেক্ষেত্রে হয়তো সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া গেলে মশার কামড়ে এতো মানুষের মৃত্যু দেখতে হতো না।
বছরের প্রথম ভাগ:
বছরের প্রথম সাতদিন দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল এক হাজারের নিচে। তবে ৬ জানুয়ারি থেকে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে বাড়তে থাকে দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হারও। জানুয়ারির শেষভাগে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজারের বেশি হয়ে যায়। দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে আবার কমে আসতে শুরু করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ও দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার। এই ধারা অব্যাহত থাকে জুন মাসের আগ পর্যন্ত। জুন ও জুলাই মাসের দিকে সংখ্যাগত পরিসংখ্যানে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বছরের শেষভাগেও তাই কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার খুব একটা বেশি উদ্বিগ্ন করতে পারেনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে।
আলোচনায় ডায়রিয়া:
মার্চ মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার কমে আসতে শুরু করলেও এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়তে থাকে ডায়রিয়ার প্রকোপ। ফলে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্রেও (আইসিডিডিআর,বি) ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সার্বিক অবস্থা মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

আইসিডিডিআর,বি’র কর্মকর্তারা জানান, মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। যেখানে হাসপাতালটিতে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতেন, সেখানে এপ্রিল মাসে প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছিলেন। ছয় মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ডায়রিয়ায় কাবু হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছিলেন। স্মরণকালের রেকর্ড গড়ে দিনে এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছিল হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের স্থায়ী ক্যাম্পের বাইরে অস্থায়ী দুটো তাঁবু প্রস্তুত করা হয়েছিল।
শেষ ভাগে মশার কামড়ে ব্যতিব্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা:
২০০০ সালে প্রথম ঢাকাতে ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়। তারপর কেটে গেছে ২২ বছর। ২০২২ সালের আগ পর্যন্ত দেখা গেছে আগস্ট -সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমা-বাড়ার ভেতর দিয়ে গেলেও অক্টোবর এলেই কমতে শুরু করত। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসত। ২০১৯ সালে দেশে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। এক লাখ এক হাজার ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও ২০১৯ সালে ১৮৯ জন মৃত্যুবরণ করে। এই বছরের আগস্টে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও পরে তা কমতে থাকে।

তবে ২০২২ সালে দেখা গেল প্রায় ভিন্ন চিত্র। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬২ হাজার ৩৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে অক্টোবর, নভেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ হাজার ২৪৩ জন। শুধুমাত্র এই তিন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২৬ জন। এর আগে দেশে কখনো বছরের শেষ ভাগে এতো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মাঝে ১৭৩ জন মারা গেছেন ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতালগুলোতে। এর বাইরে কক্সবাজারে মারা গেছেন ২৬ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীর বাইরে বিভাগের অন্যান্য এলাকায় দুই জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ছয় জন, খুলনা বিভাগে ১২ জন, রাজশাহী বিভাগে সাত জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রংপুর ও সিলেট বিভাগে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

মূলত সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ থেকেই এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে তা মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হিমশিম খাওয়ার কথা জানান খোদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করে।

রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর থেকে ওই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চারটি ইউনিট চালু করা হয়। একই সঙ্গে ১২ জন চিকিৎসককে তিন শিফটে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে গত এক বছরে সফলতা বিবেচনার চাইতেও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৮১ জনের মারা যাওয়া। এর মাঝে শিশুদেরও আমরা দেখেছি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম দেশে কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্য খাতে পলিসি সংক্রান্ত যে পরিবর্তন আসবে এবং সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন করা হবে— এমন কিছুই আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি। আর এর একটা কারণ হয়ে থাকতে পারে অল্পতেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা।

তিনি আরও বলেন, দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে এতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা এর আগে কখনও হয়নি। ডেঙ্গু তো গত ২০১৯, ২০২০ সালেও ছিল। সেই বছরগুলোতে এতজনের মৃত্যুর ঘটনা কিন্তু দেখা যায়নি। তাহলে কেন এ বছর এত মৃত্যু হলো? আমরা কি পূর্ববর্তী ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে কোনো শিক্ষা নিয়েছিলাম? শিক্ষা নেইনি, কারণ আমরা এমন একটা জাতি, যারা খুব বেশি আত্মতুষ্টিতে ভুগি।

অধ্যাপক হামিদ বলেন, কোভিডের সময় স্বাস্থ্যখাতে অনেক দুর্বলতা থাকার বিষয়টি সামনে আসে প্রবলভাবে। জরুরি ব্যবস্থা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়লেও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণে আমরা বেশিদূর এগুতে পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটিকে এনগেজ করতে পারিনি। সবমিলিয়ে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে না পারায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুসংখ্যা বেড়েছে।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের উল্লেখযোগ্য সফলতার কথা বলতে হলে সবার আগে সামনে আসবে ভ্যাক্সিনেশনের বিষয়টি। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন আগে যেসব জায়গায় ছিল না, সেসব জায়গায় আমরা নতুন করে স্থাপন করেছি। তবে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে যে জনবল প্রয়োজন তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি জানা প্রয়োজন। নতুবা দেখা যাবে ২০২২ সালের সফলতা অতি অল্প সময়েই ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।

‘করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনে সফলতা’ :
২০২২ সালের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ভ্যাকসিন কার্যক্রমে গতি আনার মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এই সময়ে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থায় একটা অর্জন যোগ করতে পেরেছি। সারাদেশে প্রায় ২০ হাজারের মতো বেড বাড়িয়েছি। ১৭০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে আমরা অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে সক্ষম হয়েছি। নতুন করে ৪৩টি হাসপাতালে জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ২০০ আইসিইউ বেড ছিল সেখানে বাড়িয়ে এখন প্রায় দুই হাজারের মতো করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার আমাদের দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি খানিকটা দায়ী। কারণ এবার থেমে থেমে অনেক দিন বৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের তরফ থেকে কোনো ব্যত্যয় হয়নি। আমাদের জনবল, হাসপাতাল, শয্যা— সবই প্রস্তুত ছিল।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরপরই ডেঙ্গুটা হওয়ার কারণে মানুষ প্রথমদিকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি। আমরা হাসপাতালে মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছি, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ৭২ থেকে ৮০ শতাংশ ঘটেছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সময় থাকতে হাসপাতালে আসলে বাঁচানো যেত।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিষয় হলো, যখন রোগীর জ্বর কমে যায় তখনই এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে থাকে। ওই সময় রোগীর প্ল্যাটিলেট কমে যায়, ব্লিডিং হয়, হেমোরেজ হয় ইত্যাদি। জ্বর কমে যাওয়ার পর মানুষ ভাবে যে রোগী সুস্থ হয়ে গেছেন। যেমন- কোভিডের বেলায় জ্বর কমে গেলেই আমরা ধরে নিয়েছি যে রোগী মোটামুটি সুস্থতার দিকে। এসব কারণে মানুষের মধ্যে অনেক কনফিউশন তৈরি হয়।

‘নার্স-চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছি, ভ্যাকসিনে রোল মডেল বাংলাদেশ’:
২০২২ সালের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ চললেও আমরা এরই মাঝে স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রেখেছি। এই সময়ে আমরা নতুন নতুন হাসপাতাল তৈরি করেছি ও পুরনো হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়িয়েছি। একইসঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতেও সেবার পরিধি বাড়িয়েছি।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরুর দিকে আমাদের মাত্র একটি ল্যাব ছিল নমুনা পরীক্ষার জন্য। তবে পরবর্তীতে আমরা সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়িয়েছি। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আট শতাধিক আরটি-পিসিআর ল্যাব আছে। জিন এক্সপার্ট মেশিন ছিল হাতেগোনা কয়েকটি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এখন হাসপাতাল আছে। বিশ্ব ব্যাংকের টাকায় আমাদের তিনটি অক্সিজেন প্লান্ট হচ্ছে। এগুলো হলে আমাদের আর বাইরে থেকে লিকুইড অক্সিজেন আনতে হবে না, বরং সারাদেশে অক্সিজেন সাপ্লাই দিয়ে আরও উদ্বৃত্ত থাকবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ভ্যাকসিনেশন। দেশের একটা বিশাল অংশকে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পেরেছি। ভ্যাকসিন প্রয়োগে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। আর এ সবই আমাদের অর্জন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর বেশি মানুষ মারা গেছে, এটা সত্যি। তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের লোকজন তো আর মশা মারতে পারবে না। সেটা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাজ। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে আমরা সবসময় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।

বিদায়ী বছরটাও ছিল বাংলাদেশের
ঢাকা অফিস
করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই পরাশক্তি রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ‘অসম যুদ্ধ’ এবং এ যুদ্ধের ফলে যে বৈশ্বিক মন্দা, তাতে বিদায়ী বছরটাতে গোটা বিশ্ব শুনতে পেয়েছে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি। কোনো কোনো দেশের অর্থনীতি চলে গেছে খাদের কিনারে, কোনো কোনো দেশ হয়েছে দেউলিয়া। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য গতিতে ধাবমান বাংলাদেশের গল্পটা সম্পূর্ণ আলাদা। বিগত বছরগুলোর মতো ‘২০২২ সালটাও’ ছিল বাংলাদেশের। বিদায়ী এ বছরটাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির গল্পে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন অনুচ্ছেদ। সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পালক। বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে বেশিরভাগ দেশ পোশাক কেনা-কাটা কমাতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যারা তৈরি পোশাক কেনে, তারা সবাই পোশাকের ব্যয় কমিয়েছে। কেউ কেউ পোশাকের জন্য বাজেট-ই রাখতে পারেনি। তারপরও ২০২২ সাল ছিল রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি ভালো বছর। বিদায়ী বছরটাতে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপরে। পণ্য ও সেবা খাত মিলিয়ে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশের রফতানি আয়ে নতুন রেকর্ড। বাংলাদেশ এর আগে কখনও পণ্য রফতানি থেকে এক বছরে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারেনি।

এই আয়ের খবরটা আমাদের কাছে আর নতুন নয়। বিগত দেড় দশক ধরে পণ্য রফতানি থেকে বাংলাদেশের আয় ধারবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৭ সালে এ খাত থেকে বাংলাদেশ আয় করেছিল ৩৫ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৮ সালে ৩৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৯ সালে ৩৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার, ২০২০ সালে (গোটা বিশ্ব করোনায় আক্রান্ত ছিল) পণ্য রফতানিতে আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করে ৪৪ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে পণ্য রফতানি থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের চূড়া স্পর্শের বছরটাতে অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ রচনা করেছে ‘রূপকথার গল্প’। বিদায়ী বছরটাতে খুলে দেওয়া হয়েছে বহুল প্রতিক্ষিত, স্বপ্নে লালিত, আবেগমথিত, চেতনায় প্রজ্জ্বলিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু, ঢাকার মেট্টোরেল, চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ টিউব, সারাদেশে একদিনে ১০০ সেতু এবং ৫০ জেলায় ১০০ মহাসড়ক।

১. পদ্মা সেতু উদ্বোধন
২৫ জুন, ২০২২। দুপুর ১২ টা। স্বাধীনতার পর এমন মাহেন্দ্রক্ষণ বাঙালি জাতির জীবনে এসেছে হাতেগোনা কয়েকবার। এদিন খুলে দেওয়া হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতু। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও দেশের সর্ববৃহৎ এই অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখে পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যেই উদ্বোধন ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জে জিতেছে বাংলাদেশ, জিতেছে বাংলাদেশের জনগণ, জিতেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে পদ্মার দুইপার সেজেছিল বর্ণিল রূপে। নানা রঙ-বেরঙের ফেস্টুনে ছেয়ে গিয়েছিল পদ্মাপার। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রমত্তা পদ্মায় লাল-সবুজের ৮০টি নৌকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। পুরো আয়োজনে শুধু বাংলাদেশ নয়, অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে পদ্ম সেতু উদ্বোধন ছিল রীতিমতো সারাজাগানো খবর। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় স্থান করে নিয়েছিল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ছবি এবং নিউজ।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সারাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে চলে আনন্দোৎসব। জেলায় জেলায় জাকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে নানা আয়োজনে নিজেদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
পদ্মা সেতু নির্মাণের সুফল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা জুড়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যোগাযোগের মাইলফল হিসেবে মোংলা ও পায়রা বন্দরের মধ্যে সড়ক পথের সংযোগে উৎপাদন ও পরিবহনে গতি বেড়েছে। পদ্মা-পায়রা ও সুন্দরবনের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে কৃষি ও শিল্পকে ঘিরে। দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রসম্পদ আহরণে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

২. মেট্টোরেল উদ্বোধন
২৮ ডিসেম্বর, ২০২২। দুপুর ১টা ৩৯ মিনিট। উত্তরা উত্তর স্টেশনের কনকোর্স লেভেলের টিকিট অফিস মেশিন (টিওএম) থেকে নিজ হাতে এমআরটি পাস কেনার পর পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাওয়া মেট্রোরেল উদ্বোধনের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বাংলাদেশ।
ট্রেনের সামনে বসা চালকসহ বেশ কয়েকজন। কিছু সময় পর ট্রেনের গার্ড যেমন পতাকা নেড়ে ট্রেন চলার সবুজ সংকেত দেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও সবুজ পতাকা দুলিয়ে দেশের প্রথম মেট্রোরেলকে চলার সংকেত দিলেন। এরপরই দ্রুত বেগে ছুটে চলল ট্রেন। এর মধ্যে দিয়ে দেশে নতুন এক যুগের সুচনা হলো।

ঐতিহাসিক এই ঘটনার সাক্ষী হলো দেশের জগনগণ। প্রথম ট্রেনটি ছুটে গেলেও প্রধানমন্ত্রী সেটির যাত্রী ছিলেন না। কয়েক মিনিট পর আরেকটি ট্রেন এলে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সেটিতে চড়েন। এ সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্যরা তার সঙ্গে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও যারা মেট্রোরেলের প্রথম যাত্রী হন তারা হলেন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মাদরাসা শিক্ষক, ইমাম, অন্যান্য ধর্মযাজক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক, শ্রমিক, দোকানি/বাদাম বিক্রেতা/সবজি বিক্রেতা, মেট্রোরেলের শ্রমিক, প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, একজন দৃষ্টি/বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

৩. বঙ্গবন্ধু টানেলের পূর্তকাজ সমাপ্তি উদযাপন
বিদায়ী বছরের ২৬ নভেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলর দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজের সমাপ্তি উদযাপন করে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন এই টানেলের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর কিছুদিন পরে দ্বিতীয় টিউবের কাজ যখন সম্পন্ন হবে, পুরো টানেলটা আমরা উদ্বোধন করব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল, সেটাও আমরা মাথায় রেখেছি। তাছাড়া আমাদের যে ২০১০ থেকে ২০২০ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ছিল, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করেছি। ২০২১ থেকে ২০৪১ এর মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ।’

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথভাবে কর্ণফুলী টানেলের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা প্রথম টানেল টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন।

টানেলটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি প্রান্ত থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং আনোয়ারায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মধ্যে নদীর তলদেশে সংযোগ স্থাপন করছে।

মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিমি এবং এতে দুটি টিউব রয়েছে। প্রতিটিতে দুটি লেন রয়েছে। এই দুটি টিউব তিনটি জংশনের (ক্রস প্যাসেজ) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে। এই ক্রস প্যাসেজগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে অন্য টিউবে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। টানেল টিউবের দৈর্ঘ্য ২.৪৫ কিমি এবং ভেতরের ব্যাস ১০.৮০ মিটার। মূল টানেলের পশ্চিম এবং পূর্ব দিকে একটি ৫.৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে টানেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ১০,৫৩৭ কোটি টাকা। চীনের এক্সিম ব্যাংক ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এবং বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। উত্তর টিউবের কাজ শেষ হলে ২০২৩ সালে যানবাহন চলাচলের খুলে দেওয়া হবে বঙ্গবন্ধু টানেল।

৪. একযোগে ১০০ সেতু উদ্বোধন
বিদায়ী বছরের ৭ নভেম্বর একযোগে ১০০ সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা একসঙ্গে ১০০ সেতুর উদ্বোধন করছি।

সেতুগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭, বরিশাল বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহে ছয়, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দুটি এবং কুমিল্লায় একটি রয়েছে।

এসব সেতু উদ্বোধন ঘিরে বিদায়ী বছরটা সংশ্লিষ্ট জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় সেতু এলাকা। স্থানীয়ভাবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। আয়োজনগুলোতে যোগ দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি আমলা এবং সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এসব অনুষ্ঠানে।

৫. একযোগে ১০০ সড়ক উদ্বোধন
বিদায়ী বছরের ২১ ডিসেম্বর সারা দেশের ৫০টি জেলায় ২০২১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের ১০০টি সড়ক ও মহাসড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১০০টি মহাসড়কের মধ্যে ৯৯টি সরকারি তহবিল থেকে সম্পন্ন হয়েছে, বাকি একটি এবং ৭০ কিলোমিটার গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা মহাসড়ক পর্যন্ত ৬ হাজার ১৬৮ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এডিবি, ওপেক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (আবুধাবি) তহবিলের আওতায়।

উদ্বোধন করা রাস্তাগুলোর মধ্যে শুধু বিদেশি ঋণে ৭০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দুই পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে সড়কটি চার লেন করা হয়েছে। সড়ক ও মহাসড়কের একটি ২২ হাজার ৭৭৪ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ফিরে দেখা -২০২২
দ্বাদশ টার্গেটে বছরজুড়ে সংগঠনমুখী আওয়ামী লীগ, রাজপথে শক্তির মহড়া
ঢাকা অফিস
করোনা মহামারির সংশয় পেরিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ২০২২ সালে স্যাংশন-পাল্টা স্যাংশনে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কায় সরকারবিরোধী প্রচার-অপ্রচারের মুখে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের সরকার উৎখাতের হুমকি-ধামকির প্রেক্ষিতে রাজপথে সভা-সমাবেশের বিশেষ কর্মসূচিতে পাল্টা সাংগঠনিক শক্তির মহড়া প্রদর্শন দলটি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে সুসংহত করতে ব্যস্ত সময় পার করে আওয়ামী লীগ। ‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ২২তম জাতীয় সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বছর শেষ করেছে দলটি।
বছরের শুরু থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করে আওয়ামী লীগ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে কেন্দ্র থেকে জেলা/মহানগর, উপজেলা /থানা-পর্যায়ের সম্মেলনের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের দিকেও নজর দেয় আওয়ামী লীগ। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বার্তা নিয়ে গণভবন থেকে জনতার দ্বারে— দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে লক্ষ্য করে কয়েকটি সমাবেশে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশবাসীকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনেও নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তৃণমূলকে উজ্জীবিত করার কৌশল ছিল আওয়ামী লীগের।

১০ ডিসেম্বর ঢাকা সমাবেশ করে সরকার উৎখাতের হুমকি-ধামকি দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী শক্তি শোরগোল ফেলে দেয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও রাজপথে পাল্টা সভা-সমাবেশ করে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে। রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তেজনা কৌশলে প্রশমিত করতে সক্ষম হয় ক্ষমতাসীন দল।
রাজপথ থেকে সংগঠন, রাজপথ থেকে বিরোধী দল মোকাবেলা তথা সবক্ষেত্রেই বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মোটাদাগে বছরব্যাপী দলটির কর্মসূচি তুলে ধরা হলো।

উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আগামীতেও নৌকার পাশে থাকার আহ্বান:
২৪ নভেম্বর যশোর, ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ও ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে মহাসমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। তিন মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি মহাসমাবেশে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে যশোরে জনসভার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ঢাকার বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর দলের নেত্রীকে সশরীরে পেয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়। এসব সমাবেশ থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ১১ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সুবর্ণজয়ন্তীর যুব সমাবেশে যুব শক্তির মহড়া প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বছরজুড়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন, চট্টগ্রামে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলে’র দক্ষিণ টিউবের পূর্ত কাজের সমাপ্তি শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে, ১০০টি ব্রিজ ও সড়ক-মহাসড়কের একই দিনে একইসঙ্গে উদ্বোধন, জাপানি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ছাড়াও মেট্রোরেল উদ্বোধনের সাফল্য ক্ষমতাসীন দল হিসেবে স্বস্তি দিয়েছে আওয়ামী লীগকে।
তৃণমূল চাঙ্গায় মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ:
২০২০ ও ২০২১ সাল করোনা মহামারির কারণে কোনো ধরনের সম্মেলন, সভা-সমাবেশ করতে পারেনি আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব হ্রাস পেলে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর থেকে দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দেয় ক্ষমতাসীন দল। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সফর করে বেশ কিছু সম্মেলন, বর্ধিত সভা ও কমিটি ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তৃণমূলের কোন্দল নিরসনে ভূমিকা পালন করেন তারা। ঢাকা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, ভোলা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, বরগুনা, কুমিল্লা মহানগর, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, কুমিল্লা দক্ষিণ, জামালপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, মাগুরা, নওগাঁ, নাটোর, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শতাধিক উপজেলা ও বেশ কয়েকটি মহানগরের সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূলের এসব সম্মেলন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্রোহী দাপট, অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ:
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছর। এ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় আওয়ামী লীগকে। বিদ্রোহীদের দাপটে নৌকার ভরাডুবি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু তাই নয়, জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ক্ষমতাসীনদের। ২৬ জেলায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদে ১৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন অনেক বিশ্লেষক। যার কারণে ক্ষমতাসীনদেরও অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

এই প্রেক্ষিতে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টিকারী, হাইকমান্ডের নির্দেশনা না মানা এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। শৃঙ্খলা ফেরাতে দল থেকে অনেককেই বহিষ্কার করা হয়। বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো দিন পদ-পদবি দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তবে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার সুর নরম করতে শুরু করে আওয়ামী লীগ। দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শতাধিক নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে। বাকিরাও যদি কৃতকর্ম স্বীকার করে আবেদন করেন, তাহলে তারা ক্ষমা পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থীরাসহ অধিকাংশ কাউন্সিলররাই জয়লাভ করে।

সহযোগীদের দিকে নজর ছিল আওয়ামী লীগের:
গত ২৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে পুরনোদের বাদ দিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় মেহের আফরোজ চুমকি এবং সাধারণ সম্পাদক হন শবনম জাহান শিলা। গত ১৫ ডিসেম্বর যুব মহিলা লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলন মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির পরামর্শক্রমে পরে যুব মহিলা লীগের সভাপতি হিসেবে আলেয়া সারোয়ার ডেইজি এবং সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলির নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা না করে ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে জানানো হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। অবশেষে ২০ ডিসেম্বর রাতে সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নাম ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। একই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক হেসেবে তানভীর হাসান সৈকতের নাম ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাগর আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজীবুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সজল কুন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

রাজপথে সতর্ক, শক্তিতে কৌশলী ছিল আওয়ামী লীগ:
১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ চলবে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে; বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের এমন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসবের মধ্যেই ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের ভেন্যু নিয়ে সরকার ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চাইলেও সরকারের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা যেকোনো মাঠে করার কথা বলা হয়। তবে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে অনড় অবস্থানে থাকে বিএনপি। এ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যেই গত ৭ ডিসেম্বর বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু এবং অনেকেই আহত হন। এরপর বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতাসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। পরদিন বিকেলে সমাবেশের স্থান নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ফের বৈঠকে হয়। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের করতে চাইলে অনুমতি পায় বিএনপি।

তার আগে বিএনপির সমাবেশ থেকে যেন কোনো ধারণের সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আওয়ামী লীগ তার দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিল। বিএনপির সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভায় কঠোর হুশিয়ারি বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে রাজধানীসহ সারাদেশের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে পরের দিন গোটা রাজধানীজুড়ে মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থান নেয়।

আগামীর চ্যালেঞ্জ জয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলন:
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাদামাটা আয়োজনে বড় ধরনের রদবদল ছাড়াই সাদামাটা চমক দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগ। ‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে দলটির ২২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে টানা দশমবারের মতো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। হ্যাটট্রিক করে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। নেতৃত্ব নির্বাচনের এখতিয়ারে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘোষিত কমিটিতে পুরনোদের প্রতিই আস্থা রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বিদায়ী বছর সম্পর্কে বলেন, ‘সংগঠন গোছানোর জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের। কারণ করোনার সংকট পেরিয়ে, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, স্যাংশন পাল্টা স্যাংশনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাবের পদধ্বনি শুরু হয়। তারমধ্যে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেদিক থেকে বছরটি ছিল সাফল্যের বছর। ২০২২ সালটি ছিল আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্যের মুকুটে একটি অনবদ্য বছর। এই বছর দেশের ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, বিদায়ী বছরে আমাদের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়েছে, কর্ণফুলী টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মাণ পূর্ত কাজের উদ্বোধন হয়েছে, একই দিনে একসঙ্গে ১০০টি ব্রিজ ও সড়ক-মহাসড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন চালু করা হয়েছে, মেট্রোরেলের উদ্বোধন হয়েছে। এগুলো তো আমাদের সরকারের অর্জন, যা জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজে লাগবে। আর রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। গঠনতন্ত্র মেনে নির্ধারিত সময়েই আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃণমূল সুসংগঠিত করার কাজ করেছি।

সরকারবিরোধী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপি একটি ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা সফল হতে দেয়নি।

ফিরে দেখা-২০২২: জঙ্গিদের ‘পরিকল্পনা-প্রশিক্ষণস্থল’ কাশিমপুর কারাগার
ঢাকা অফিস
প্রতি বছরই বিভিন্ন কারণে গণমাধ্যমগুলোর খবরে জায়গা করে নেয় দেশের কারাগারগুলো। এর মধ্যে রয়েছে অনেক ইতিবাচক ও নেতিবাচক খবরও। বিদায়ী ২০২২ সালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। কারাগারে বসে জঙ্গিদের ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া থেকে শুরু করে, চোখ ওঠা বন্দিদের সু-চিকিৎসা করানোসহ নানা খবর ছিল বছরজুড়ে।

তবে, বছরের শেষভাগে এসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় কাশিমপুর কারাগার-২। ঢাকার আদালত চত্বর থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে নাম আসে কাশিমপুর কারাগারের। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে বসেই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়।
এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চলতি বছরে আত্মপ্রকাশ হওয়া নতুন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার গঠনের পরিকল্পনাও কারাগারে বসে হয়েছে।

মূলত জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট ওই দুই বড় ঘটনার পর থেকে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এমনকি প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে কারাগারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবিও তোলা হয়। যদিও বরাবরের মতো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কারাগার কর্তৃপক্ষ।

তাদের দাবি, এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না মিললেও তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় যেভাবে জড়িয়েছে কারাগার:

গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে দুই জঙ্গিকে একটি মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের চোখে-মুখে স্প্রে করে জঙ্গি সদস্য মইনুল হাসান শামীম ও আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তারা দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাদের ছিনতাইয়ের ঘটনার পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে। এরপর সংশ্লিষ্ট ১০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পলাতক জঙ্গিদের এখনও ধরতে পারেনি পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জঙ্গিরা সিটিটিসিকে জানায়, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জঙ্গি আসামি ছিনতাইয়ের মাস্টারমাইন্ড হলেন নিষিদ্ধ-ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের প্রধান সমন্বয়ক মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া। তার অনুমতিতে ওই ছিনতাই অপারেশন পরিচালনা করেন সংগঠনের সামরিক শাখার প্রধান মশিউর রহমান ওরফে আইমান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। সহযোগীদের সঙ্গে জঙ্গিরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখত। কাশিমপুর কারাগার থেকে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল তারা। মোবাইল ফোন নিয়ে একবার কারারক্ষীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে জঙ্গিরা। সেটি জব্দ করা হয়। পরে আবারও তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করে।

গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বিভিন্নজনকে টাকা দিয়ে জঙ্গিরা কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। এছাড়া জঙ্গিদের সেলে দীর্ঘদিন টেলিভিশনও ছিল। তারা নিয়মিত টেলিভিশন দেখত, সংবাদ দেখত। টাকার বিনিময়ে কারাগারে বসে জঙ্গিরা নিয়মিত এসব সুবিধা নিত।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ (সিটিটিসি) কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কারাগারে জঙ্গিরা কীভাবে ছিল তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটিগুলো। বিস্তারিত তদন্ত কমিটি বলতে পারবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তারা সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছেন। এর মধ্যে বেশকিছু তথ্যও তারা পেয়েছেন, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সভাপতি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমরা সব বিষয় সামনে রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদনে সব বিষয় উঠে আসবে। তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে।’

এদিকে, আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার পরিকল্পনা কারাগারে হয়েছে— এমন তথ্য সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। এসব আলোচনার মধ্যে নভেম্বর মাসে কারা অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বদলি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক বদলির আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক এ কে এম ফজলুল হককে ঢাকা বিভাগে, রংপুর কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. আলতাব হোসেনকে চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর হককে রংপুর বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হলো।

আদেশে আরও বলা হয়, হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিলকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালাকে হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে বদলি করা হলো।

অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, জঙ্গিদের কারাগারে হাই সিকিউরিটি সেলে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় রাখা হয়। তারপরও যদি কারাগারে বসে পরিকল্পনা করা এবং জঙ্গিদের হাতে ফোন তুলে দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হয় বা কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান বলেন, ‘কারাগারে জঙ্গিরা বসে আদালত থেকে পালানোর পরিকল্পনা করেছে, এটা যদি প্রমাণিত হয় বা এই পরিকল্পনা করতে কারাগারের কেউ সহযোগিতা করেছে বা তাদের ফ্যাসিলিটেট করেছে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

নতুন জঙ্গি সংগঠনের পরিকল্পনাও হয় কারাগারে:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, নতুন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া গঠনের পরিকল্পনা হয় কারাগারে। বিগত ২০১৭ সাল থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠনটি গঠনের কাজ শুর করে সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণও শুরু হয় সংগঠনটির। সম্প্রতি সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অক্টোবর মাসে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন সংগঠনটির প্রথম আমির মাইনুল ইসলাম ওরফে রক্সি। বিগত ২০২১ সালের পূর্ব পর্যন্ত রক্সি ছিল এই সংগঠনের আমির। ওই বছরই রক্সিকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। অক্টোবর মাসে আমরা রক্সিকে আবার রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। রক্সি আমাদের জানায়, এই সংগঠনের মূল মাস্টারমাইন্ড শামিন মাহফুজ ওরফে স্যার। বিগত ২০১৪ সালে শামিন মাহফুজ ওরফে স্যারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এর আগে রক্সিও ২০১৫ সালে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। রক্সি ও শামিন যখন একসঙ্গে জেলখানায় ছিল তখন তারা সেখানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু সাঈদের সংস্পর্শে আসে। এরপর তারা বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে। এমনকি ওই তিনজন জেলখানায় বসে নতুন সংগঠনটি তৈরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনামাফিক রক্সি ও শামিন জেলখানা থেকে বের হয়ে জঙ্গিদের নিয়ে শক্তিশালী একটি সংগঠন গঠনের কাজ শুরু করে।’

জেলখানা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যত চিন্তা:

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর থেকে দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা এখনও চলমান। সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতারও হয়েছেন দুই হাজারের মতো জঙ্গি সদস্য। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি করা এসব সফলতার মাঝেও রয়েছে দুশ্চিন্তার রেখা। এর পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি হলো- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যেখানে নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ছে জঙ্গি-মতাদর্শ। আরেকটি হলো কারাগার।

কারাগার থেকেই শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন:

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, কারাগারে থাকা জঙ্গিরা নানা কৌশলে তাদের সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এদিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে নব্য জেএমবির সদস্যরা।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কে থাকা জেএমবির আমির মাহাদী হাসান ওরফে জনের সঙ্গে কারাগারে বসেই নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন তারা।

তুরস্কে বসেই কারাগারে থাকা জঙ্গিদের দিকনির্দেশনা দেন মাহাদী হাসান ওরফে জন। তার নির্দেশেই কারাগারে নব্য জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জামিনে বের করা হয়। মুক্ত হয়ে নব্য জঙ্গিরা সরাসরি মাহাদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।

কারাগারে কেন নজরদারি চায় সিটিটিসি:

সূত্রে জানা গেছে, সদ্য জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়া তরুণরা যেন দুর্র্ধষ জঙ্গি না হয়ে ওঠে, সেজন্য সিটিটিসি কারাগারে নজরদারি করতে চায়। এমনকি সদ্য জঙ্গিবাদে জড়ানো তরুণদের কারাগারে দুর্র্ধষ জঙ্গিদের সেলে না পাঠিয়ে আলাদা রাখতে চায় পুলিশের সংস্থাটি। তারা বলছে, এর ফলে নতুনদের কাউন্সিলিং করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে।

অন্যদিকে দুর্র্ধষ যে জঙ্গিরা কারাগারে রয়েছে, তাদের কঠিন নজরদারির মধ্যে রাখলে জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে মনে করছে সিটিটিসি। এক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে কাজটি করতে চায় সংস্থাটি।

এ বিষয়ে বিগত ২০২১ সালে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জামিন পাওয়া অনেক জঙ্গি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। কোনো জঙ্গির জামিন হলে আমরা তাকে পর্যবেক্ষণ করি। দেখি, সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে কি না, নাকি পুনরায় সংগঠনের কাজ-কর্মে যুক্ত হয়েছে। যাকে নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করি, তাদের নজরদারিতে রাখি।’

‘কিন্তু কারাগারে আমরা নজরদারি করতে পারি না, কারণ আমাদের সেই অনুমতি নেই। তবে, আমরা কারাগারে নজরদারির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। কীভাবে কারাগারে থাকা জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করব। আশা করছি, এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া পাব।’

তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কারাগারে নজরদারির কোনো অনুমতি পায়নি সিটিটিসি।

ফিরে দেখা ২০২২: ‘জেগে ওঠা’র বছর বিএনপির, শেষ ধাক্কা ফখরুলে
ঢাকা অফিস
১৪ বছর ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। গত দুই নির্বাচনে জোট গঠনসহ নানা নাটকীয়তায় সময় পার করলেও চলতি বছর আন্দোলন-সমাবেশের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। বছরজুড়ে (২০২২ সাল) নানামাত্রিক কার্যক্রমে শীর্ষ নেতৃত্বশূন্য দলটির মধ্যে নতুনভাবে আশার সঞ্চার হয়েছে। ফাঁকে-ফাঁকে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দ্বন্দ্ব-বিরোধিতা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করলেও শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে দলকে তেমন একটা বিপাকে পড়তে হয়নি। উপরন্তু বছরের শেষ কয়েক মাসে রাজনৈতিকভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে দলটি। আলাপে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিদায়ী বছরকে অনেকটা এভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
২০২২ সালের প্রথম দিন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা দিয়ে বিদায়ী বছরের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু বিএনপির। আগামী ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিল দিয়ে সেই যাত্রার সমাপ্তি করবে দলটি।
বিদায়ী বছর পুরোটাই সাংগঠনিক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও যুগপৎ আন্দোলনে আগ্রহী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে পার করে বিএনপি। দলটির এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পেয়েছে ঢাকাসহ সারাদেশের ১০ বিভাগীয় সমাবেশ এবং যুগপৎ আন্দোলনের জন্য নতুন-পুরাতন সঙ্গীদের এক জায়গায় নিয়ে আসা।
শর্তবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনা আর লন্ডনে নির্বাসিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শারীরিক অনুপস্থিতিতে এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্রে রেখে রাজনৈতিক দোলাচলের মধ্যে ৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে উত্তরার বাসা থেকে মির্জা ফখরুলকে তুলে নেয় ডিবি পুলিশ।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিগত বছরগুলোতে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়েছেন। চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে তার গ্রেপ্তার ছিল আকস্মিক। নেতারা তার অভাব অনুভব করেছেন।
তবে, মির্জা ফখরুলের গ্রেপ্তারে দলের ভেতরে অভাব অনুভব হলেও প্রকাশ্যে নেতারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিশেষত, একজন নেতার গ্রেপ্তারে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান অন্য আরেকজনকে দিয়ে পূরণ করা এবং আন্দোলন চালিয়ে নিতে নেতৃত্বের নানা স্তর নির্ধারণ করে রেখেছে বিএনপি।

নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি আন্দোলনে আছে। কোনো নেতার গ্রেফতারে দলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখা যাবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আন্দোলন সফলভাবে চলছে। দেশের মানুষ এটা প্রমাণ করেছে। লাখ লাখ মানুষ ১০টা সমাবেশে সব বাধা উপেক্ষা করে এসেছে। সবকিছুই হচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। উনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং, আন্দোলনের ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। আন্দোলন চলছে।’
‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে আমরা যাব না। জনগণ ভোট দিয়ে একটি সরকার নির্বাচিত করবে। একটা সংসদ নির্বাচিত করবে। সেখানে বিএনপি যদি জয়ী হয়, তাহলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের উপস্থিতি হবে খুবই স্বাভাবিক। এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’

এদিকে, দলের বছরব্যাপী কর্মসূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিদায়ী বছরে পরিকল্পিতভাবে নাগরিক দুর্ভোগের ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল বিএনপি। বন্যায় তহবিল গঠন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী এবং সারাদেশে লাগাতার কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার প্রচার করেছে বিএনপি।

নেতারা মনে করেন, বিদায়ী বছরে বিএনপির রাজনৈতিক সফলতা হচ্ছে সরকারের নানা ধরনের ‘উসকানি’ সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে ১০টি সমাবেশ শেষ করা। ওই ১০ সমাবেশের মধ্যে কুমিল্লা ব্যতীত প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশ বানচালে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাষ্য, ‘মানুষ এ সরকারকে আর এক দিনও ক্ষমতায় চায় না। চায় না বলেই বিএনপির ১০টি সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে প্রাণিত করেছে। বিএনপির সমাবেশে মানুষ পায়ে হেঁটে, সাইকেল-নৌকা-স্পিডবোটে চড়ে যোগ দিয়েছে। প্রায় প্রতিটি সমাবেশের নির্ধারিত তারিখের তিন দিন আগে সমাবেশস্থলে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। চিড়া-মুড়ি খেয়ে, রাস্তায় ঘুমিয়ে, হামলা-মামলায় জর্জরিত হয়ে, এমনকি জীবন দিয়েও প্রতিটি সমাবেশ সফল করেছে তারা। দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতিতে এ রকম ঘটনা আর দেখা যায়নি। এটাই হচ্ছে বিএনপির স্পিরিট, গণমানুষের স্পিরিট।’

ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে একাধিক বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, বিদায়ী বছরে বিএনপির রাজনৈতিক সাফল্য হচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী সমমনা ২৩টি দলের সঙ্গে সংলাপ করে এক ছাতার নিচে আনা। যার ফল ইতোমধ্যে বিএনপি পেতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিলে যুগপৎভাবে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো। এছাড়া বিদায়ী বছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য তহবিল গঠন করে তাদের কাছে সাহায্য নিয়ে যাওয়াও একটি দলের জন্য সাফল্য।
এ বিষয়ে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘২০২২ সালে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস ওঠে। বিএনপি প্রতিটি ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আন্দোলন করে। সেই আন্দোলনে বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনের সাতজন শহীদ হন। এছাড়া বন্যায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানুষের পাশে থেকেছে বিএনপি। এমনকি জনগণের অধিকার আদায়ে এখনও আন্দোলনরত দলটি। জনগণের বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবেই।’

তবে, বিভাগীয় সমাবেশগুলোকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নেতাকর্মীদের একনিষ্ঠতা, সাতজন নিহত এবং কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাছে বিএনপির আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে বলেও মনে করেন অনেক নেতা।
ছিল অস্থিরতাও:

রাজনীতিতে বিদায়ী বছর সফলভাবে পার করার পাশাপাশি বিএনপির ভেতরে একটা আতঙ্কভাব ছিল। প্রবাসে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেওয়া কয়েকটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে দলের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা ছড়ায়। দল থেকে বহিষ্কার করা হয় কুমিল্লার মনিরুল হক সাক্কু, নারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকারসহ অনেককে।
চলতি বছরের ৮ আগস্ট কর্মসূচির ধরন নিয়ে বক্তব্য দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান মির্জা ফখরুল আর স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পরবর্তীতে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বরকে দলের বাইরে গিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার কারণও জানতে চান তারেক রহমান। শুধু তা-ই নয়, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ওই দুই নেতার বক্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান মির্জা ফখরুল। যা নিয়ে দলের ভেতরে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

বিএনপির নেতারা বলছেন, বিদায়ী বছরে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল দলকে যেমন সুসংঘটিত করেছেন, তেমনি রাজনীতিতেও দলের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের শারীরিক অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এছাড়া গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের সময় অন্য নেতারা যখন নিরাপদে বাসায় অবস্থান করছিলেন তখন মির্জা ফখরুল সাড়ে চার ঘণ্টা কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন।
যদিও স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য দাবি করেছেন, স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা সেদিন নয়াপল্টনে যেতে চাইলে বারণ করেন স্বয়ং মির্জা ফখরুল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন— এমন পরামর্শও দেন অনেক নেতাকে।

বিএনপি মহাসচিব প্রসঙ্গে কোনো-কোনো নেতার মন্তব্য, যুগপৎ আন্দোলনের ১০ দফা এবং বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা প্রস্তাব তৈরিতে সামনে থেকে কাজ করেছেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু যখনই এ বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরার সময় এলো তখনই তাকে আটক করা হলো।
স্থায়ী কমিটির এক নেতার ভাষ্য, বিএনপির মনোবল ভেঙে দিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একান্ত আগ্রহে বিএনপির মহাসচিবকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক এক সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল অনেক দিন ধরে দলের মহাসচিব। দলে তার অবস্থান শক্ত। এটা বুঝেই সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশে আইনের শাসনে এত দুরবস্থা যে তাকে যে অপরাধে জেলে নেওয়া হয়েছে সেই ফৌজদারি কার্যবিধিতে তিনি জামিনের হকদার। কিন্তু জামিন দেওয়া হচ্ছে না। কাজেই তিনি কখন জামিন পাবেন, নিশ্চিত করে বলা যায় না। আইনের শাসন থাকলে তিনি আটক হতেন না, আর আটক হলেও জামিন পেতেন।’
বিএনপির বছরব্যাপী কার্যক্রম ও বিদায়ী বছর মূল্যায়ন করতে গিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রহীন ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলে কাটছে আমাদের জীবন। তারা দেশটাকে তো একটা জেলখানা বানিয়ে রেখেছে। বিগত বছরে বিএনপির অর্জন হলো মানুষের কাছে যেতে পারা। মানুষও আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে।

‘রাজনৈতিকভাবে আমরা আগের থেকে সুসংগঠিত হতে পেরেছি। মানুষের দুর্ভোগের বিষয় নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে যেভাবে আমরা রাস্তায় নামতে পারতাম, সেভাবে হয়তো পারিনি। এরপরও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সারাদেশে আমাদের সাত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুলের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি একটা মুভমেন্টের গতি এনেছে এবং সেটার নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই মুভমেন্ট থেকে সরকার তাকে সরিয়ে দিয়েছে। দেশে যে গণতন্ত্র নেই, একটা ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে আমরা আছি— এটা তারই প্রমাণ। বিএনপি একটা বিশাল দল। এখানে নেতৃত্বের কোনো শূন্যতা নেই। একজন না থাকলে আরেকজন দল পরিচালনা করবে। তবে, এটা ঠিক যে মির্জা ফখরুল যেভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেটার অভাব আমরা অনুভব করছি।’

ফিরে দেখা ২০২২: ডলার সংকট, খেলাপি ও ঋণ অনিয়মে ‘তটস্থ’ ব্যাংক খাত
ঢাকা অফিস
ডলার সংকটে বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ)। প্রভাবশালী কিছু গ্রুপের একের পর এক ঋণ অনিয়ম আর লুটপাটে পুরো বছরই অস্থির ছিল ব্যাংকপাড়া। নানা সুবিধার পরও লাগামহীন ছিল খেলাপি ঋণ। রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা, আমানতকারীদের আস্থাহীনতাসহ ২০২২ সালে নানা চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ব্যাংক খাতে। ব্যাংক খাতে আলোচিত যত ঘটনা
খেলাপি ঋণ : খেলাপি ঋণ কমাতে অনেক ক্ষেত্রে ঢালাও সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। গ্রাহকের যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, ডিসেম্বরের মধ্যে তার ৭৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও তাকে আর খেলাপি করা যাবে না বলা হয়েছে। এ সুবিধার পরও বাড়ছে খেলাপি ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ তিন হাজার ২৭৪ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২২ সালের মার্চ মাস শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুনে এ অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ অঙ্ক এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারি : বছরের শুরুতে ব্যাংকপাড়ায় আলোচনায় উঠে আসে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের নাম। ব্যাংকের মালিকানায় থাকা জয়নুল হক সিকদার পরিবারের সদস্যদের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িত থাকার খবর আসে। তথ্য গোপন ও অর্থপাচারের দায়ে ব্যাংকটিকে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া নানা জালিয়াতির দায়ে ব্যাংকটির কার্ড বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ, দুটি শাখার এডি লাইসেন্স বাতিলসহ ব্যাংকটির পরিচালক রন হক সিকদার ও রিক হক সিকদারের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বন্ধ করতেও বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এছাড়া অনিয়মে বড় কয়েকটি গ্রুপকে দেওয়া ঋণ আদায় না হওয়ায় বেড়েছে খেলাপি ঋণও। এখন ব্যাংকটির মন্দ ঋণের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বছরজুড়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও শেষদিকে এসে আলোচনায় স্থান পায় চারটি ইসলামী ব্যাংকের বৃহৎ কেলেঙ্কারি। শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে চট্টগ্রামের একটি প্রভাবশালী গ্রুপ। ঋণের অর্থ পাচারও হয়েছে। অনেক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে নেওয়া হয়নি জামানত, মানা হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতিও। এসব অনিয়ম ফাঁস হওয়ার পর আতঙ্ক সৃষ্টি হয় আমানতকারীদের মধ্যে। অনেকে আমানত তুলে নেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে রাখেন অন্য ব্যাংকে। এতে শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো থেকে আশঙ্কাজনক হারে আমানত কমে যায়। এক মাসের ব্যবধানে একটি ব্যাংকের আমানত কমে যায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের নীতি-সহায়তা।

সর্বশেষ ঋণ অনিয়ম তদারকি করতে বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক নিয়ে আতঙ্ক : ‘লুটপাট করে খাচ্ছে ব্যাংকের টাকা। পাচার হচ্ছে অর্থ। শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সামনে আসছে দুর্ভিক্ষ। ব্যাংকে জমানো অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে না’— এমন সব তথ্য ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। এতে আমানতকারীরা আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে থাকেন।

সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেতিবাচক প্রচারে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তুলে নেন সাধারণ গ্রাহকরা। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচারিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থ নেই বা তারল্য সংকট আছে। কিন্তু এটি সত্য নয়। বাংলাদেশের ব্যাংক-ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। দেশের ব্যাংক-ব্যবস্থায় তারল্যের কোনো সংকট নেই। গত ১৪ নভেম্বর দেশে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে বলেও জানানো হয়। পরে আমানত ফিরে আসতে থাকে।

কবিরের বিদায়, তালুকদারের আগমন : মেয়াদ পূর্ণ করে গত ৩ জুলাই বিদায় নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১তম গভর্নর ফজলে কবির। টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে আইন পরিবর্তন করে দ্বিতীয় মেয়াদে নিযুক্ত করা হয় তাকে। পুরোটা সময় ‘সহাবস্থানের’ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ফজলে কবির। ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের কাছে ছিলেন ‘আজ্ঞাবহ’ গভর্নর। ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষে টানা আট দিন গভর্নর শূন্য ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের ১২ জুলাই দেশের ১২তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন আব্দুর রউফ তালুকদার।
১০ দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার যোগ দিয়েই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পৃথকভাবে তদারকির উদ্যোগ নেন। গত ৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১০টি দুর্বল ব্যাংককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করা হবে। খেলাপি ঋণের মাত্রা, মূলধন পর্যাপ্ততা, ঋণ-আমানত অনুপাত ও প্রভিশন তথা সঞ্চিতির পরিমাণ— এই চার সূচকের ভিত্তিতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব ব্যাংকের নাম জানাননি গভর্নর।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্বল ব্যাংকগুলো মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। এছাড়া বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল), পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক), আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের নাম শোনা যায়।
ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংকে সমন্বয়ক বসিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এগুলো হলো- এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। সমন্বয়করা ব্যাংকের সব নথিপত্র দেখতে ও তদারক করতে পারবেন। পর্যবেক্ষক দেওয়া হয় সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খেলাপির ‘ক্ষত’ : বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফআই। অনিয়ম-জালিয়াতির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে ঋণ। সেগুলো আদায় হচ্ছে না সময়মতো। যে কারণে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৪১৭ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা, যা মোট স্থিতির ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।

পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ বেশকিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত ফেরত দিতে পারেনি। অনেক আমানতকারী অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোনো সুফল পাননি। নানা অনিয়ম ও জমানো অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে না পারায় এনবিএফআইগুলোর ওপর আস্থা কমছে সাধারণ গ্রাহকদের। টাকা তুলে নিয়েছেন অনেকে। ফলে কমছে আমানতের পরিমাণ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এনবিএফআইয়ের আমানত দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আমানত কমেছে এক হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

ডলার সংকট : আমদানি চাপ ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশে মার্কিন ডলারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে দাম। কমতে থাকে টাকার মান। বছরজুড়ে ডলার সংকটে এলসির দায় পরিশোধে ব্যর্থ হয় অনেক ব্যাংক। চাপে পড়ে অর্থনীতি। কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে এলসি খোলায় কড়াকড়ি আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এরপরও সংকট কাটেনি।
২০২২ সালের শুরুতে দেশে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। ৯ জানুয়ারি এটি বেড়ে ৮৬ টাকায় পৌঁছে। ২২ মার্চ পর্যন্ত এ দরেই স্থির ছিল। গত ২৩ মার্চ আন্তঃব্যাংকে আরও ২০ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। ২৭ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। মে মাসে কয়েক দফা বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে। জুনে পৌঁছে যায় ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সায়। সেপ্টেম্বরে ডলার দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়ে ঠেকে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সায়। কিন্তু খোলা বাজারে নগদ ডলার একপর্যায়ে ১২০ টাকায় ওঠে। পরে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে নগদ ডলারের দাম কিছুটা কমে। এখনও ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে নগদ ডলার। বছরের শুরুতে যা মিলেছে ৮৫ টাকায়।

সংকট নিরসন ও প্রবাসী আয় বাড়াতে গত ১১ সেপ্টেম্বর ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ব্যাংক-নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) যৌথ সভায় এ দাম নির্ধারণ করা হয়।
বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে টান : ডলার সংকটের কারণে ধারাবাহিকভাবে কমেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত-রিজার্ভ। এটি কমে যাওয়া এবং এর ব্যবহার নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। সংকট নিরসনে প্রতিনিয়ত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভের প্রকৃত পরিমাণ দেখাতে চাপ দেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ।

বছরের শুরুতে ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ সর্বশেষ নভেম্বরে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যদি রিজার্ভ হিসাব করা হয় তাহলে এটি আরও আট বিলিয়নের মতো কমে যাবে। সেই হিসাবে এখন প্রকৃত রিজার্ভ আছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ডলারের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬০৫ কোটি। ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড ৭৬২ কোটি ১৭ লাখ ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৭৯৩ কোটি ডলার কেনে।
কমেছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ : প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স নিয়ে বছরজুড়ে দুশ্চিন্তায় ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু হুন্ডি ও ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণে সরকারের কোনো উদ্যোগই কাজে আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে নিয়ে আসেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে এসেছিল দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার।

চলতি অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ে গতি ফেরেনি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার, আগস্টে এসেছে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার এবং নভেম্বর এসেছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার।

রেমিট্যান্স বাড়াতে উদ্যোগ : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আড়াই শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজ করা, অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়নে অর্থায়ন সুবিধা, ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা এবং রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়।

‘বিনিময়’ সেবা চালু : লেনদেন সহজ করতে চালু করা হয় ‘বিনিময়’ সেবা। ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস ও পিএসপির মধ্যে আন্তঃলেনদেন করতে গত ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করে ‘বিনিময়’। এ সেবার মাধ্যমে বিকাশ থেকে রকেটে অথবা উপায় থেকে এমক্যাশে বা বিকাশ কিংবা ব্যাংকে তাৎক্ষণিক লেনদেন করা যাবে একটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে। ‘ক্যাশলেস সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় নতুন এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে— মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফিরে দেখা-২০২২: ২০২২ সালে বন্দুকযুদ্ধে ৪, হেফাজতে ১৫ মৃত্যু
ঢাকা অফিস
২০২২ সালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এবং পুলিশের হেফাজতে ১৯ জনের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। এর মধ্যে র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ গেছে চারজনের। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।

আসক বলছে, হেফাজতে মৃত্যুর মধ্যে গ্রেপ্তারের পর শারীরিক নির্যাতনে চারজন, হার্ট অ্যাটাকে একজন, গ্রেপ্তারের আগে শারীরিক নির্যাতনে চারজন, থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন দুইজন এবং অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন চারজন।
শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় আসক কার্যালয়ে ২০২২ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জনানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হয়েছিলেন পাঁচজন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে এবং ফিরে এসেছেন একজন।

আসক জানায়, ২০২২ সালে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২২৬ জন সাংবাদিক। এ ছাড়া কুমিল্লায় দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক সাংবাদিক। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২টি।

সারা দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৩৬ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন।

২০২২ সালে নির্যাতনে মারা গেছে ৫১৬ জন শিশু, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৬০ জন শিশু। এবং বলাৎকারের শিকার হয়েছে ৫২ জন ছেলেশিশু। এর মধ্যে ৩৪ জন ছেলেশিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) বলাৎকারের শিকার হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৬ জনসহ মোট ২৩ বাংলাদেশির প্রাণ গেছে।

গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। এ বছর ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে ৮ বিভাগের মধ্যে শুধু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ২৪৯টি।

সভা-সমাবেশ করা নাগরিক অধিকার, কিন্তু এ বছর সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে ৩৬ বার। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জনানো হয়।

এ ছাড়া ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর সারা দেশে পুলিশের ৩৩ হাজার ৪২৯টি অভিযানের ২৩ হাজার ৯৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর নামে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতি জেলায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ বছর নির্বাচন, রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে ৪৭৯টি। প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ জন, আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৯১৪ জন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সংখ্যাগত দিক থেকে ২০২১ সালের চেয়ে ২০২২ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো মনে হলেও ভেতরে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। এ সময় দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ১৪টি সুপারিশ জানানো হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের গুমের শিকার বিএনপির নেতার বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যাওয়ার বিষয়টিকে আসকের পক্ষ থেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

আরও বলা হয়, যেসব গোপন কারাগারের কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত এবং যারা যারা এ কাজের সঙ্গ যুক্ত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ এবং আসকের তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মাদ নুর খান, পরিচালক লীনা গোস্বামী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবু আহম্মেদ ফয়জুল কবির।

খুলনাবাসীকে বিএনপির ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৩ উপলক্ষে খুলনা নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কালের পরিক্রমায় আরও একটি বছর পেরিয়ে গেল। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার কালের সাক্ষী হয়ে বছরটি বিদায় নিলো। গত বছরের ব্যর্থতা ঝেড়ে সাফল্যকে সঞ্চয় করে আগামী পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রদত্ত বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, কাটুক বিষাদ, আসুক হর্ষ। হৃত গণতন্ত্রকে উদ্ধার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে সকলকে নতুনভাবে ব্রতী হতে হবে। আমাদের কর্মে নতুন বছরটি যাতে সাফল্য এবং সমৃদ্ধির বছরে পরিণত হয় সে লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছরটি সবার জীবনে বয়ে আনুক, অনাবিল সুখ ও শান্তি, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয় ধারা, দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন।
বিবৃতিদাতারা হলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল, সাবেক ছাত্রনেতা ও খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মানিত সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন প্রমূখ।

পাইকগাছায় রাড়ুলী বালিকা বিদ্যালয়ের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জোর করে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় রাড়ুলী ভূবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের মনোনয়ন জোর করে সিনিয়ে নিয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গত বৃহষ্পতিবার দুপরে মনোনয়ন পত্র জমাদেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পাইকগাছা থানায় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী নাসরিন নাহার লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নাসরিন নাহার জানান, গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে আমি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়ন জমাদেই। এ সময় উপস্থিত বিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস মনোনয়ন পত্রটি প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ফটোকপি করার কথা বলে নিয়ে যায়। এ বিষয় আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রপ্তি স্বীকার চাহিলে তিনি দিতে তালবাহানা করে। পরবর্তিতে তার মনোনয়ন পত্র জমা হয়নি জানালে নাসরিন নাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ কয়েকটি দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয় আরশাদ আরশ আলী বিশ্বাস জানান, আমি এ বিষয় আপনাদের সাথে পরে কথা বলবো। প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, নাসরিন নাহারের মনোনয় পত্রটি আমার টেবিলে রাখার পর সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস ফটোকপি করার কথাবলে নিয়ে যায়। পরে আর জমা দেননি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নির্বচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজান আলী জানান, অভিযোগ পেয়েছি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলেছি। উল্লেখ্য আগামী ১৮ জানুয়ারী পরিচালা কমিটির নর্বাচনের তফশিল ঘোষনা করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।