যে কারণে র‍্যাবের এসপি ও পুলিশের এসি বরখাস্ত হলেন

72

০ খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

রাজশাহীতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫-এর পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এস এম ফজলুল হক (বিপি-৭৮০৮১২১৫৯৪) এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. নাজমুল হাসানকে (বিপি-৯১১৬১৭৮৩০৯) সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৩৯ (১) ধারার বিধান মোতাবেক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে। তবে ঠিক কোন অপরাধে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে সেই বিষয়ে দুটি প্রজ্ঞাপনে তেমন কিছু বলা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এস এম ফজলুল হক মো. নাজমুল হাসানকে জনস্বার্থে সরকারি কর্ম থেকে বিরত রাখা আবশ্যক সমীচীন। সেজন্য সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারার বিধান মোতাবেক মঙ্গলবার থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন তারা পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

সম্প্রতি পুলিশের এলিটফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) একযোগে ৪৮ জন পুলিশ সুপারকে পদায়নের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রেকর্ড ফাঁস হয়। যেখানে সেনাবাহিনী র‌্যাব সম্পর্কে আপত্তিকর কথোপকথন হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই আপত্তিকর কথোপকথনে জড়িত দু’জন হলেন রাজশাহী র‌্যাব-ব্যাটালিয়নে কর্মরত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এস এম ফজলুল হক এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হাসান।

জানা গেছে, র‌্যাবে পুলিশের এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অনীহা রয়েছে। র‌্যাবে অন্য বাহিনী থেকে একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বয়স অপেক্ষাকৃত তরুণ হওয়ায় এসপি অন্য বাহিনীর একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব থাকে।

সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হইলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তাহার দায়িত্ব হইতে বিরত রাখিবার আবশ্যকতা, তৎকর্তৃক তদন্তকার্যে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা, ইত্যাদি বিবেচনা করিয়া তাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করিতে পারিবে।

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অধিকতর সমীচীন মনে করিলে, এইরূপ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করিবার পরিবর্তে, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার ছুটির প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, উক্ত আদেশে উল্লিখিত তারিখ হইতে ছুটিতে গমনের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।