মিয়ানমার সীমান্তে সেনা সমাবেশ, বিজিপি প্রত্যাহার হচ্ছে

7


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট::


মিয়ানমারে ক্ষমতার পালা বদলের পর সোমবার রাতে অসংখ্য ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে দেশটির সরকারী বাহিনী। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে মিয়ানমার। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ, প্রেসিডেন্ট, স্টেট কাউন্সিলরসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার, ২৪ জন মন্ত্রী বরখাস্ত শেষে এবার সীমান্ত এলাকা থেকে মিয়ানমার বর্ডারগার্ড পুলিশকে (বিজিপি) প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সীমান্ত থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে। আগামী এক বছরের জন্য জরুরী অবস্থা জারি থাকায় সীমান্ত থেকে বিজিপি প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মিয়ানমার সীমান্ত জুড়ে (নো-ম্যান্সল্যান্ড থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে) সেনা সদস্যরা টহল দিচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের তুমব্রু সীমান্তে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে অহেতুক ফাঁকা গুলি ছুড়েছে সরকারী বাহিনীর সদস্যরা। এতে সীমান্তের অধিবাসীরা আতঙ্কিত নয় বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মিয়ানমারের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোন ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সীমান্ত ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, এটাই স্বাভাবিক।


সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক:

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবারও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, চাকঢালা, উখিয়ার বালুখালী, রহমতেরবিল, আঞ্জুমানপাড়া, টেকনাফের উলুবনিয়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, দমদমিয়া, লেদা, খারাংখালী, নাইট্যংপাড়া ও শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবি জওয়ানরা টহল জোরদার করতে দেখা গেছে। সোমবার ভোর থেকেই সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে এই নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তের বিভিন্ন চৌকিতে সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের কোন ধরনের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে পড়েনি। সীমান্তের পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক।


সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্য আসেনি:

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রভাবে গত দুইদিন ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় কোন আমদানি পণ্য বোঝাই বোট আসেনি টেকনাফে। স্থলবন্দরের একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে অন্তত ২-৩ রকমের পণ্যের চালানবোঝাই ট্রলার আসে। কিন্তু সেদেশের নেত্রী আউং সান সুচি, প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের আটক ও মন্ত্রীদের মন্ত্রিত্ব বাতিলের ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা আমদানি পণ্য বোঝাই কোন ট্রলার নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসেনি। টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে উখিয়া থেকে সংবাদদাতা হানিফ আজাদ জানান, অন্য সময় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও সামরিক অভ্যুত্থানের পর ওপারে ইন্টারনেট না থাকার কারণে দেশটির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্য বোঝাই ট্রলার ভিড়তে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন টেকনাফের ব্যবসায়ীরা।

আশ্রিত হিন্দুরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়:

স্বদেশে ফিরে যাবার জন্য উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে অপেক্ষায় থাকা আরাকানী হিন্দুরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। মিয়ানমারে ক্ষমতার পালা বদলের পর সোমবার থেকে ওই হিন্দুদের মধ্যে এ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ:

মঙ্গলবার ভোর থেকে মিয়ানমারে পুরো সীমান্ত জুড়ে সেনা মোতায়েন করে টহল জোরদার করেছে। টেকনাফ থেকে পার্বত্য থানচি সীমান্ত বরাবর মিয়ানমার অভ্যন্তরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


বিজিপি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত:

মিয়ানমার সামরিক সরকার সীমান্ত জুড়ে সেনা মোতায়েন করেছে এবং পুরো সীমান্ত এলাকা থেকে বর্ডারগার্ড পুলিশকে (বিজিপি) প্রত্যাহার করে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মিয়ানমার শূন্য রেখার রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, ৩৫নং সীমান্ত পিলারের বিপরীতে বিজিপি সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে। এতে শূন্য রেখায় অবস্থিত ৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা আতঙ্কে রয়েছে।-জনকন্ঠ