সবাই পাস সবাই খুশি: উত্তীর্ণদের অভিনন্দন

63
Spread the love

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত বছরের এপ্রিলে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ শিক্ষার্থীর এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এখন পরীক্ষা ছাড়াই ফল মূল্যায়ন করায় সবাই পাস করেছে। করোনাকালে দীর্ঘদিন বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ ফলে শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম। আগের পরীক্ষার মূল্যায়নে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ শিক্ষার্থী। প্রতিবছর এইচএসসির ফল ঘোষণার পর রাজধানীসহ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আনন্দে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে থাকে। এবার তেমনটি দেখা যায়নি। এমনকি পরীক্ষার ফল জানার জন্য শিক্ষার্থীরা কলেজে উপস্থিত হয়নি বললেই চলে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে আগেই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অটোপাসের তকমায় ফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতা বিরাজ করছিল। তাই কাউকে বিরূপ মন্তব্য না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ডিজিটালি এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একই পদ্ধতিতে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর যেন হারিয়ে না যায়। শিক্ষার ধারা চলমান থাকুক। তাদের মধ্যে যেন হতাশা ভর না করতে পারে। এই পরীক্ষায় পাস করা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীরা সবাই ভর্তির সুযোগ পাবে। কিন্তু আশঙ্কা রয়েছে পছন্দসই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দের বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ নিয়ে। ফল প্রকাশকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, উচ্চশিক্ষায় আসনস্বল্পতা নেই। সবাই ভর্তির সুযোগ পাবে। এ বছর ভর্তিতে ভোগান্তি কমছে। ২৬টি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হবে। ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে গুচ্ছের অধীনে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞানÑ এই তিনটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই পাবে শিক্ষার্থীরা।

বৈশি^ক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছিল গোটা বিশ^। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অন্যান্য ক্ষেত্রের মতোই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে চলে গেছে শিক্ষাবর্ষের একটি বছর। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়  ছিলেন অভিভাবকরা। শিক্ষাবর্ষ শেষে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হবে, সে নিয়েও ছিল উৎকণ্ঠা। উচ্চ মাধ্যমিকের পরই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে, যা তাদের আগামীর পথনির্দেশ করবে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা দূর করা ছিল সময়ের দাবি। করোনা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। করোনার টিকা আমাদের হাতে এসেছে। তাই এ সময় এইচএসসির ফল ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেই সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় রয়েছি, তাকে সচল রাখতে হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে দেওয়া ঠিক হবে না। শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেই সরকার করোনাকালেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারাবাহিকতা রক্ষায় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে। সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের অভিনন্দন রইল।