মণিরামপুরে ব্যস্ততা নেই কামার পাড়ায়

30

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর :

ঈদের আর মাত্র ছয় দিন বাকি। কোরবানির জন্য সাধ্যমত পশু কিনছেন কেউ কেউ। কিন্তু পশু জবাই ও মাংস প্রস্তত করতে ব্যবহৃত চাপাটি এবং ছুরি কিনতে বা ধার করাতে কামারের দোকানে ভিড়তে দেখা যাচ্ছে না লোকজনকে। ফলে কর্মহীন অলস সময় যাচ্ছে যশোরের মণিরামপুরে কামারদের।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপজেলার গাঙ্গুলিয়া, বাসুদেবপুর, টেংরামারী, হানুয়ার ও রাজগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন কামারপাড়া ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।

করোনায় কর্মহীন হওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষতির কারণে এবছর মানুষের হাতে টাকা পয়সা নেই। গত বছর যারা কোরবানি করেছেন তাদের অনেকে এবার কোরবানি করতে পারছেন না। ফলে কামারের কাছে ভিড়ছেন না ক্রেতারা।

গাঙ্গুলিয়া গ্রামের গৌর কর্মকার বলেন, এইবারের মত এত খারাপ অবস্থা আগে কখনো হয়নি। এবার কাজ মোটেও নেই। সকাল থেকে একটাকাও আয় হয়নি।

ওই পাড়ার মধু কর্মকার বলেন, গতবছর ঈদে কাজ করে ৭-৮ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার দুই হাজার টাকা লাভ হবে কিনা বলতে পারছিনে। আর রবিন কর্মকারের দাবি,এই বছর সবই লোকসান।

রাজগঞ্জ বাজারের জয়দেব কর্মকার বলেন, অন্য বছর রাতদিন কাজ করে শেষ নামাতে পারতাম না। এবার কাজ নেই। সকাল থেকে বসে আছি। রাজগঞ্জ বাজারে ১৫-১৬ টা কর্মকারের দোকান আছে; সবার একই অবস্থা।

ওই বাজারের পাইকারী বিক্রেতা দুলাল কর্মকার বলেন, সকাল থেকে কোন বিক্রি নেই। দোকানে বসে ঝিমাচ্ছি।

তবে গ্রাম এলাকার বাজার বা মোড়ের দুই একজন কর্মকারকে ব্যস্তসময় পার করতে দেখা গেছে। গাঙ্গুলিয়া আমতলা মোড়ের কানাই কর্মকার বলেন, আমার কাজ ভাল চলছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার কাজ বেশি হচ্ছে। গত ২০ দিন ধরে কাজের চাপ বেড়েছে। কেউ নতুন ছুরি বা চাপাটি গড়াচ্ছেন আবার কেউ কেউ পুরনোটা ধার করাতে আসছেন। আয় বাড়াতে সরকারি ঋণের দাবি কানাই কর্মকারের।

কানাই কর্মকারের খদ্দের উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের রজব আলী বলেন, এবার ছাগল কোরবানি করবো। তাই চাপাটি আর ছুরিতে ধার কাটাতে এসেছি।