দাকোপে জেলা ডিবির অভিযানে মাছ ধারার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৮

2
Spread the love


স্টাফ রিপোর্টার


খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন কালাবগি সুন্দরবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪টি বিভিন্ন সাইজের কাঠের তৈরী ডিঙ্গি নৌকা, ১২০০ ফুট মাছ ধরার জাল, মাছ মারার কীটনাশক ৪ বোতল ও বিপুল পরিমান কীটনাশক দিয়ে মারা মাছ সহ ৮জন গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন খুলনা জেলার দাকোপ থানার গোড়া খেজুরিয়া ঢ্যাংমারী গ্রামের লুৎফর মীরের ছেলে মো. তুহিন মীর (৩২), মৃত. জিহাদ সানার ছেলে মো. সোহরাব সানা (৪০), মৃত. রতন সরকারের ছেলে দীপক সরকার (৫০), কালিপদ মন্ডলের ছেলে নিশীত মন্ডল (৩২), ডুমুরিয়া থানার গোনালী গ্রামের মৃত. নিবাস সরকারের ছেলে তপন সরকার ওরফে নুছুল (৩৪), মনিন্দ্র সরকারের ছেলে অলোক সরকার (৩৩), বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার রেজাউল শেখের ছেলে সেলিম শেখ (২৭) ও নছরউদ্দীন মল্লিকের ছেলে মিরাজ মল্লিক (৫০)।


পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ (বিপিএম) জানান, ১৭জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানা যায়, দাকোপ থানাধীন কালাবগি সুন্দরবন এলাকার ভদ্রা নদীর খালের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যাক্তি খালে কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করতেছে। ১৮জুলাই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রলার যোগে দ্রুত রওনা হয়ে অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া এর নেতৃত্বে এসআই রাজিউল আমিন ৮জনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এসআই রাজিউল আমিন বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় বন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।


পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলোর মধ্যে মাছ অন্যতম। সুন্দরবনের বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদী ও খালের প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। জেলেরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রকার নিষিদ্ধ জাল ও কীটনাশক ব্যবহার করে মাছ আহরন করে থাকে। উক্ত কারণে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে যে সমস্ত নদ-নদী ও খাল রয়েছে সে সমস্ত নদ-নদী ও খালের আহরণের উপযোগী মাছ ব্যতীত সকল মাছের রেনু, পোনার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে।

কিছু কুচর্ক্রী জেলে মহল সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অবৈধ কীটনাশক ব্যবহার করে সকল প্রকার মাছের রেনু, পোনার ব্যাপক ক্ষতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করছে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্টকারী, ক্ষতিসাধনকারীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ, খুলনার অবস্থান ‘‘জিরো টলারেন্স’’। যারা এ সমস্ত কাজে জড়িত তাদের প্রত্যেকে আইনের আওতায় আনা হবে।