আটরা শিল্পাঞ্চলে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মামলা:অভিযুক্ত জাফরিন গ্রেফতার

2
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার:

নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী এলাকায় গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নিহত সাইফুলের পিতা সাইদুল শেখ বাদী হয়ে মৃত. আবুল হাসানের তিন ছেলে শেখ জাকারিয়া হাসান, শেখ জাফরিন হাসান ও শেখ মিল্টনসহ ২২জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬জনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন যার নং-১২।

অপর দিকে গতকাল বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দাতপুর গ্রাম থেকে শেখ জাফরিন হাসানকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়া শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত জাকারিয়ার শশুর কোরবান আলী, শ্যালক আরমান ও চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীরকে।

এলাকাবাসী জানায়, মশিয়ালী গ্রামে খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ জাকারিয়া, তার ভাই মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি শেখ জাফরিন হাসান এবং অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি শেখ মিল্টন হাসান বাহিনীর গুলিতে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে মিল শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৫৫) ও রাজমিস্ত্রীর হেলপার গোলাম রসুল (৩৫) নিহত হন। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত সাইফুল শেখ (২২) রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং গ্রামবাসীর হামলায় গভীর রাতে জাকারিয়ার চাচাতো ভাই জিহাদ (৩০) মারা যান। হত্যাকা-ের পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জাকারিয়া, জাফরিন, মিল্টন, জিহাদ, জাহাঙ্গীর, সাগর ও রাজুর বাড়ি ভাংচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন।

এছাড়া গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের মৃত. শফিউল্লাহ শেখের ছেলে আফসার শেখ (৬৫), রজব আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (২৬), নজরুল শেখের ছেলে জুয়েল শেখ (৩৫), আকতার শেখের ছেলে সুজন শেখ (২৩), মৃত. আলকাস শেখের ছেলে রানা শেখ (২২), আফসার শেখের ছেলে রবি শেখ (৪০), আকরাম শেখের ছেলে শামীম শেখ (২৫)। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দু’জন আশঙ্কামুক্ত নন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রমজান মাসে মশিয়ালী গ্রামের তুহিনের সাথে জাফরিন নামের এক ব্যক্তির দ্বন্দ হয়। এর জের ধরে ঈদুল ফিতরের দিন জাফরিনদের সাথে গ্রামবাসী মুখোমুখি অবস্থান করে। তখন পুলিশের হস্থক্ষেপে উভয়পক্ষ পিছু হটে যায়। ওই ঘটনার সূত্র ধরে কয়েক দফায় গ্রামের কয়েকজন জাফরিনদের হামলার স্বীকার হয়। এতে জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন তিন ভাই ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন সময় আলিম জুট মিলের বকেয়া পাওনা ও শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে সরকার সমর্থক শ্রমিক নেতা জাকারিয়া, তার ভাই জাফরিন হাসান শ্রমিকদের হুমকির মুখে রাখতেন। বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মারধরও করতেন তারা। বৃহস্পতিবার খানজাহান আলী থানা পুলিশ আলিম জুট মিলের শ্রমিক মুজিবর শেখকে (৪৫) গোলাবারুদসহ আটক করে। খবর পেয়ে ওই জুটমিল শ্রমিক মুজিবরের স্বজন ও গ্রামের কয়েকজন তাকে ছাড়াতে যান। কিন্তু পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা রাত ৮টায় মশিয়ালীর হাড়াতলার মোড়ে এলে তিন সহোদর জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন, তাদের চাচাতো ভাই জিহাদ, সহযোগি আলমগীর, জাহাঙ্গীর, আরিফ, আজিমসহ ১০/১২ জনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র কানাই লাল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় সন্ত্রাসীদের এলাপাতাড়ি গুলিবর্ষনের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর রাত ২টার দিকে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসীদের পিটুনীতে জিহাদ শেখ (২৭) নামে হামলাকারীদের একজনের মৃত্যু হয়।