আটরা শিল্পাঞ্চলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪: আতঙ্কে এলাকাবাসী: আ’লীগ নেতার শশুর, শ্যালকসহ আটক ৩

1
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার

খানজাহান আলী থানার মশিয়ালীতে দফায় দফায় দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দু’পক্ষের ৪ জন মারা গেছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৭ জন।

১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফা সংঘর্ষের পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, মশিয়ালী গ্রামে খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ জাকারিয়া, তার ভাই মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি শেখ জাফরিন হাসান এবং অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি শেখ মিল্টন হাসান বাহিনীর গুলিতে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে মিল শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৫৫) ও রাজমিস্ত্রীর হেলপার গোলাম রসুল (৩৫) নিহত হন। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত সাইফুল শেখ (২২) রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং গ্রামবাসীর হামলায় গভীর রাতে জাকারিয়ার চাচাতো ভাই জিহাদ (৩০) মারা যান। হত্যাকা-ের পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জাকারিয়া, জাফরিন, মিল্টন, জিহাদ, জাহাঙ্গীর, সাগর ও রাজুর বাড়ি ভাংচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন।

এছাড়া গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের মৃত. শফিউল্লাহ শেখের ছেলে আফসার শেখ (৬৫), রজব আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (২৬), নজরুল শেখের ছেলে জুয়েল শেখ (৩৫), আকতার শেখের ছেলে সুজন শেখ (২৩), মৃত. আলকাস শেখের ছেলে রানা শেখ (২২), আফসার শেখের ছেলে রবি শেখ (৪০), আকরাম শেখের ছেলে শামীম শেখ (২৫)। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দু’জন আশঙ্কামুক্ত নন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জাফরিন শেখের সহযোগী জাহাঙ্গীরকে পুলিশ যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া থেকে আটক করেছে।

জানা গেছে, রমজান মাসে মশিয়ালী গ্রামের তুহিনের সাথে জাফরিন নামের এক ব্যক্তির দ্বন্দ হয়। এর জের ধরে ঈদুল ফিতরের দিন জাফরিনদের সাথে গ্রামবাসী মুখোমুখি অবস্থান করে। তখন পুলিশের হস্থক্ষেপে উভয়পক্ষ পিছু হটে যায়। ওই ঘটনার সূত্র ধরে কয়েক দফায় গ্রামের কয়েকজন জাফরিনদের হামলার স্বীকার হয়। এতে জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন তিন ভাই ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন সময় আলিম জুট মিলের বকেয়া পাওনা ও শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে সরকার সমর্থক শ্রমিক নেতা জাকারিয়া, তার ভাই জাফরিন হাসান শ্রমিকদের হুমকির মুখে রাখতেন। বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মারধরও করতেন তারা। বৃহস্পতিবার খানজাহান আলী থানা পুলিশ আলিম জুট মিলের শ্রমিক মুজিবর শেখকে (৪৫) গোলাবারুদসহ আটক করে। খবর পেয়ে ওই জুটমিল শ্রমিক মুজিবরের স্বজন ও গ্রামের কয়েকজন তাকে ছাড়াতে যান। কিন্তু পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা রাত ৮টায় মশিয়ালীর হাড়াতলার মোড়ে এলে তিন সহোদর জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন, তাদের চাচাতো ভাই জিহাদ, সহযোগি আলমগীর, জাহাঙ্গীর, আরিফ, আজিমসহ ১০/১২ জনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

পুলিশের হস্তক্ষেপে শুক্রবার দুপুরের পরে মশিয়ালী গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত হয়। এলাকায় তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসেন ডিসি নর্থ মোল্লা মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন, দৌলতপুর জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার বায়জিত ইবনে আকবরসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনায় দায়িদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

এদিকে, বিকেলে নিহত মিল শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৫৫) ও রাজমিস্তীর হেলপার গোলাম রসুল (৩৫) ও কৃষক সাইফুলের মরদেহ গ্রামে আনা হলে গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন আর গ্রামবাসীর কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নিহত তিনজনের একসঙ্গে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকায় খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ জাকারিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলো অভিযুক্ত জাকারিয়ার শশুর কোরবান আলী, শ্যালক আরমান ও চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর। অন্যদের আটকের জন্য কয়েকটি টিম কাজ করছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার রাত ৮টায় বলেন, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।