ভারত থেকে আসছে পানি, তিস্তায় বন্যাকবলিত আরও ৫ হাজার পরিবার

4
Spread the love

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের গজলডোবা থেকে প্রচুর পানি ছেড়ে দেয়ায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শুক্রবার রাত ৯টায় ওই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবার পানিপ্রবাহ ১১ সেন্টিমিটার কমলেও দুপুর ১২টায় সেটি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করে বলে ডালিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়। এতে তিস্তা অববাহিকার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলিজমি প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি কপাট খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে লাল সংকেত দেয়া হবে। আপাতত হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ফাড ফিউজ (ফাড বাইপাস) এলাকাটি কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন। উজান ও ভাটি এলাকায় বসবাসকৃত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এদিকে উজানের ঢলে তিস্তায় চতুর্থ দফায় ভয়াবহ বন্যায় নতুন করে পাঁচ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরবেষ্টিত গ্রামের মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী ও ঝুনাগাছ চাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিম খড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলির বাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষ গরু-ছাগল, বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে সরে গেছে। অপরদিকে জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার দুই হাজার পরিবার বন্যাকালিত হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুই উপজেলার অসংখ্য ফসলিজমির আমন বীজতলা, রোপিত আমন তলিয়ে গেছে। বসতঘরগুলোতে হাঁটু ও কোমরসমান পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাছের পুকুরগুলো উপচেপড়ায় প্রচুর মাছ ভেসে গেছে। ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, আমরা প্রতিটি এলাকা মনিটরিং করছি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার চর ও চর গ্রামের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। উজানের ঢল কমে গেলে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে ঢল অব্যাহত থাকলে তিস্তা নদীর বন্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করে দিয়েছে।