করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সরকারের কাছে খুলনা নগর বিএনপির ১০ প্রস্তাব

3
Spread the love

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্খাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত তিন সপ্তাহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঘটেছে ব্যাপক হারে। গতকাল পর্যন্ত আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। পিসিআর ল্যাবে পরিক্ষার অপেক্ষায় শতশত রুগী প্রতিদিন নতুন সনাক্তের সংখ্যা থাকছে প্রায় শতাধিক, এভাবে সনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে খুলনা করোনা শহরে পরিণত হবে। এ অবস্থায় করোনা রোগীদের কার্যকর চিকিৎসায় সরকারকে ১০টি প্রস্তাব দিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার মধ্যদিয়ে এ সুপারিশ পেশ করেছে বিএনপি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে- খুলনা মহানগর বিএনপি দেশে করোনা ভাইরাসে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষনার পর খুলনা শহরে ২৫ হাজার নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে। একই সাথে প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝেও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

খুলনা শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং চিকিৎসা সেবা অপ্রতুল হওয়ায় খুলনা মহানগর বিএনপির “কল সেন্টার” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবিক চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। করোনা আক্রান্ত রুগী ও তার পরিবারকে ডাক্তারী পরামর্শ, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা, প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও ঔষধ সরবারাহ, এ্যাম্বুলেন্স সহায়তা প্রদান এই কর্মসূচীর মধ্যেই থাকছে। একই সাথে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের দাফন ও সৎকারের ব্যাপারে প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চলছে।

আরও বলা হয়েছে- খুলনা শহরে দ্রুত সংক্রমনের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা খুবই ভংগুর। পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষায় ঘোষিত রুগীর সংখ্যা আড়াই হাজার। উপসর্গ নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষার অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল একটি, বেড ৮৫টি, ৯৫%ভাগ রোগী বাড়ীতে অবস্থান করে নিজেদের মত করে চিকিৎসা নিচ্ছে। জটিল রুগীর জন্য মাত্র ১০ টি আইসিইউ। হাসপাতালে কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে না। পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা রিপোর্ট পেতে ৭-১০ দিন সময় লাগছে। কিটের অভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পরীক্ষার অপেক্ষায় ১৫/১৬শ’ রোগী। ফলোআপ টেষ্ট বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। করোনা হাসপাতাল (খুলনা ডায়াবেটিকস হাসপাতাল) এর অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ।

এসব বিবেচনায় খুলনা মহানগর বিএনপি খুলনা করোনা চিকিৎসার জন্য দ্রুত কার্যকারী চিকিৎসার জন্য নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।

প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে- অল্প সময়ে অধিক পরীক্ষার জন্য আরও কমপক্ষে দু’টি পিসিআর মেশিন ও ল্যাব স্থাপন একই সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব চালুু, আরও একাধিক হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা, পিসিআর এ পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার রির্পোট দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করা, ফলোআপ টেষ্ট পুনরায় চালু করা, পর্যাপ্ত আইসিইউ স্থাপন করা, করোনা হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা দূর করা, জেলা করোনা ম্যানেজমেন্ট কমিটি সমন্বয়হীনতা দূর করা, গরীব মানুষের জন্য বিনামূল্যে করোনা টেষ্টের ব্যবস্থা করা।

স্মারকলিপিতে স্মারক করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, স ম আব্দুর রহমান, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, এ্যাড. গোলাম মওলা প্রমুখ। স্মারকলিপি একটি অনুলিপি জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ  মোঃ সুজাত আহমেদকেও দেয়া হয়।