‘আগে কোরবানির দু’মাস আগেই অর্ডার থাকতো, এবার কেউ খোঁজ নিচ্ছে না’

2
Spread the love

মাগুরা প্রতিনিধি

করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির গরু নিয়ে শঙ্কায় পড়ছেন মাগুরার খামারিরা। করোনার কারণে একদিকে গরুর দাম কমে যেতে পারে এমন আশঙ্কা তো আছেই পাশাপাশি গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে স্থানীয় খামারিদের। অন্যবছরগুলোতে কোরবানির দু’মাস আগেই খামারিরা গরু পাঠানোর অর্ডার (চাহিদাপত্র) পেলেও এবার এখনও কোনওপক্ষ যোগাযোগ না করায় ভীষণ উদ্বেগে পড়েছেন তারা। মাগুরা পশু সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ১৫ হাজার ১৪৭টি গরু মোটাতাজাকরণের আওতায় আছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ২০০টি। এর অর্থ প্রায় ৬ হাজার অতিরিক্ত গরু মোটাতাজা করা হয়েছে যা ঈদের হাটে ওঠার অপেক্ষায়।

তবে খামারিদের শঙ্কা এবার করোনার কারণে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় গতবছরের তুলনায় কম কোরবানির পশু বিকি হবে। তারা জানান, গত বছর জেলায় ৩৪ হাজার গরু কোরবানি দেওয়া হলেও এ বছর ১০ হাজারের বেশি গরু কোরবানি হবে বলে মনে হয় না।

মহম্মদপুর উপজেলার মৌলি গ্রামের খামারি বদিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমি ৩০টি গরু মোটাতাজাকরণের জন্য পালন করছি। এ বাবদ আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। অন্যবার ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে দু’মাস আগে থেকেই অর্ডার আসতো। করোনার আগে তারা আড়াই লাখ টাকায় একটি গরু কিনতে চেয়েছে। আমি রাজি হইনি। অথচ এখন কেউ যোগাযোগ করছে না।

মাগুরা সদরের পারলা এলাকার শুকুর মিয়া বলেন, আগে যে খড় কিনতাম ১০০০ টাকায় এখন তার দাম ৩০০০ টাকা। ২৮ টাকা কেজির ভুসি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা করে। তেলের খৈল ৩৫ টাকা কেজি থেকে বেড়ে এ বছর ৪৫ টাকা হয়েছে। গত তিনমাসে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ এবার গরুর চাহিদা খুব কম। আমি দুটি গরু মোটাতাজা করছি। এর পেছনে এক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। জানি না খরচের টাকা উঠবে কিনা।

সদর উপজেলার কছুন্দি গ্রামের খামারি শরিফুল ইসলাম বলেন, এক বছর আগে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এক লাখ টাকা দিয়ে দুটি গরু কিনেছি। খাদ্য বাবদ আরও ২০ হাজার টাকা খরচ করেছি। বিক্রি করে যদি লোকসান হয় ঋণ শোধ করবো কিভাবে?

মাগুরার কৃষি ও প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, সরকার করোনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু গরু খামারিদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনও প্রণোদনার ঘোষণা আসেনি। গরু খামারিদের বাঁচাতে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, মাগুরার আঞ্চলিক কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই খামারিদের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমরা তাদের জন্য প্রস্তুত।