পাইকগাছার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে ইউএনও জুলিয়া সুকায়নার অনন্য উদ্যোগ

38
Spread the love


পাইকগাছা প্রতিনিধি:


মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সময়, জাতির ইতিহাসের অবস্মরণীয় ঘটনা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে সর্বস্তরের বাঙালি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিজয় লাভ করে। পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয় বাঙালি জাতি, রচিত হয় ইতিহাসের অমর কাব্য “স্বাধীনতা”। যে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা এবং লাল সবুজ পতাকা, স্বাধীনতার অর্ধশতবছর পূর্ণ হতে চললেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও উপজেলা পর্যায়ের ইতিহাস সংরক্ষণে তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে অনন্য উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না। তিনি নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারী করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি নানা ব্যস্ততার মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজ সম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন “মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা” নামক গ্রন্থ। ১৬০ পৃষ্ঠার বইয়ে ৪০জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ সমরের অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়কার স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন। রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য দুর্লভ আলোকচিত্র।


শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে ডিসি হেলাল হোসেন বলেন, আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফসল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমরা গর্ববোধ করি। পাইকগাছার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান। এখানে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কপিলমুনির রাজাকার হত্যা এখানকার ঐতিহাসিক একটি ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের এ ইতিহাস সংরক্ষণ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রকাশনার কোন বিকল্প নাই। অনেক কর্মকর্তা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও হৃদয়ে ধারণ করে না। ইউএনও জুলিয়া সুকায়না “মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা” গ্রন্থের মাধ্যমে এলাকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রকাশিত গ্রন্থের সম্পাদক ইউএনও জুলিয়া সুকায়না বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় পাইকগাছার বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, অনেকে যোদ্ধাহত হয়েছেন।


স্বাধীনতা পরবর্তী অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এক একজন মুক্তিযোদ্ধা এক একটি ইতিহাস। এমন একদিন আসবে সেদিন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার মত একজন মুক্তিযোদ্ধাও জীবিত থাকবেন না বা জীবিত কোন মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেদিনও যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস থেকে বঞ্চিত বা বিভ্রান্ত না হয়, সে লক্ষেই “মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা” গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে একটি দালিলিক সংকলন হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইউএনও’কে মুক্তিযোদ্ধাদের মা সম্বোধন করে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ রকম উদ্যোগ দেশের প্রতিটি উপজেলায় গ্রহণ করা হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে বের করা সম্ভব। তিনি বীরঙ্গনাদের তালিকা সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা গ্রন্থের মাধ্যমে এলাকার ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধের কথা জানতে পারবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তয়কী ফয়সাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, ওসি (তদন্ত) আশরাফুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসেবা অফিসার সরদার আলী আহসান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার সরকার, খালেকুজ্জামান, রহিমা আক্তার শম্পা ও মিলিজিয়াসমিন। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই বিতরণ করেন।

পাইকগাছার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে ইউএনও জুলিয়া সুকায়নার অনন্য উদ্যোগ
পাইকগাছা প্রতিনিধি
মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সময়, জাতির ইতিহাসের অবস্মরণীয় ঘটনা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে সর্বস্তরের বাঙালি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিজয় লাভ করে। পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত হয় বাঙালি জাতি, রচিত হয় ইতিহাসের অমর কাব্য “স্বাধীনতা”। যে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা এবং লাল সবুজ পতাকা, স্বাধীনতার অর্ধশতবছর পূর্ণ হতে চললেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও উপজেলা পর্যায়ের ইতিহাস সংরক্ষণে তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে অনন্য উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না। তিনি নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারী করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি নানা ব্যস্ততার মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজ সম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন “মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা” নামক গ্রন্থ। ১৬০ পৃষ্ঠার বইয়ে ৪০জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ সমরের অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়কার স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন। রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য দুর্লভ আলোকচিত্র।
শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে ডিসি হেলাল হোসেন বলেন, আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফসল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমরা গর্ববোধ করি। পাইকগাছার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান। এখানে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কপিলমুনির রাজাকার হত্যা এখানকার ঐতিহাসিক একটি ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের এ ইতিহাস সংরক্ষণ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রকাশনার কোন বিকল্প নাই। অনেক কর্মকর্তা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও হৃদয়ে ধারণ করে না। ইউএনও জুলিয়া সুকায়না “মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা” গ্রন্থের মাধ্যমে এলাকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রকাশিত গ্রন্থের সম্পাদক ইউএনও জুলিয়া সুকায়না বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় পাইকগাছার বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, অনেকে যোদ্ধাহত হয়েছেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এক একজন মুক্তিযোদ্ধা এক একটি ইতিহাস। এমন একদিন আসবে সেদিন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার মত একজন মুক্তিযোদ্ধাও জীবিত থাকবেন না বা জীবিত কোন মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেদিনও যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস থেকে বঞ্চিত বা বিভ্রান্ত না হয়, সে লক্ষেই “মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা” গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে একটি দালিলিক সংকলন হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইউএনও’কে মুক্তিযোদ্ধাদের মা সম্বোধন করে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ রকম উদ্যোগ দেশের প্রতিটি উপজেলায় গ্রহণ করা হলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে বের করা সম্ভব। তিনি বীরঙ্গনাদের তালিকা সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পাইকগাছা গ্রন্থের মাধ্যমে এলাকার ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধের কথা জানতে পারবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তয়কী ফয়সাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, ওসি (তদন্ত) আশরাফুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসেবা অফিসার সরদার আলী আহসান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার সরকার, খালেকুজ্জামান, রহিমা আক্তার শম্পা ও মিলিজিয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই বিতরণ করেন।