জাতীয় বাজেট পাস

4
Spread the love

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নতুন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। বুধবার থেকে সেটি কার্যকরও হচ্ছে। বাজেট পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আগামী ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরে সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪২ কোটি ৪৪ লাখ ২১ হাজার টাকা সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় করার অনুমতি প্রদান করল। করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর সতর্কতার মধ্যে এই বাজেট পাসে সব থেকে কম সময় ব্যয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটের বড় কোন সংশোধন আসেনি। সংসদীয় সংস্কৃতির সৌন্দর্য হলো প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা এবং মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব উপস্থাপন। করোনার কারণে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখা হয় আলোচনা। এবারও বাজেটের ওপর সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ৪২১টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন, যা বাতিল হয়ে যায় কণ্ঠভোটে।

বৈশ্বিক মহামারীর ভেতর মারণ-ভাইরাসের সর্বোচ্চ ছোবলের কালপর্বে জাতীয় বাজেট ঘোষণা এক অর্থে নজিরবিহীন। বিশ্ব মহামারীর হাত ধরে বিশ্বমন্দা আসার বাস্তবতা অনেকটা অবধারিত। অর্থনৈতিক মন্দার ভেতর সবচেয়ে বেশি জরুরী দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি উৎপাদন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং সে সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তাও। জনকল্যাণমূলক সরকার এই তিনটি দিককেই যে সর্বোচ্চ মূল্য দেবে, বিশেষ বিবেচনা করবে, সেটি বলাই বাহুল্য। পাসকৃত বাজেটের ক্ষেত্রে তারই প্রমাণ মিলেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় দশ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হয়েছে, যা ইতিবাচক। যথারীতি আশা জাগানো ভারসাম্যপূর্ণ এই বাজেটে রয়েছে কল্পনা-পরিকল্পনার মিশেলে সৃষ্ট কিছুটা উচ্চাভিলাষও। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করলে বলতেই হবে সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্নের সঙ্কেত আছে এই বাজেটে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেশকিছু ভাল পদক্ষেপও লক্ষণীয়।

একজন দায়িত্বশীল অর্থমন্ত্রীর প্রচেষ্টা থাকে নিঃসন্দেহে জনকল্যাণকর কিছু করার। টাকা আসবে কোথা থেকে আর খরচ হবে কোন্্ খাতে কত- এটা বাজেটের সারকথা হলেও এই হিসাব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি সরকারের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়। সরকারের রূপকল্প এবং অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপবে না, এমনটি আগাম প্রত্যাশা ছিল। মানুষের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর পর এবার করমুক্ত আয়ের সীমা বেড়েছে। আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বনিম্ন করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।

বাজেটে মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মোট পরিচালন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এক কোটি দরিদ্র মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা বাজেটের একটি মাইলফলক উদ্যোগ। লক্ষণীয়, বর্তমান সরকারের শাসনামলে প্রতিটি বাজেটেই সামাজিক নিরাপত্তা খাত গুরুত্ব পেয়ে আসছে। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে এবার এর পরিসর বেড়েছে। আবারও বলা দরকার, প্রতি অর্থবছর শেষে দেখা যায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর কিছু অংশ বাস্তবায়িত হয় না। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের সক্ষমতার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী হতে চাই।