করোনা পরীক্ষার ফি পুনর্বিবেচনা দাবি করে

3
Spread the love

সরকার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এই পরীক্ষার সুযোগ বিনামূল্যে থাকলেও এবার এখানে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। করোনার সংক্রমণ দিন দিন বাড়তে থাকার সময়টাতে দেশের অধিকাংশ মানুষ যখন আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর এই সময়ে সরকার ফি নির্ধারণ করল।

গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইউজার ফি’র হার নির্ধারণ’ শিরোনামের পরিপত্রে বলা হয়, আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নির্ণয় করা হয়। বর্তমানে এ পরীক্ষা সরকার বিনামূল্যে করার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে কোনো উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ গ্রহণ করছেন। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হলো। এতে আরও বলা হয়, আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে।পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে বুথে গিয়ে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে এলে ফি দিতে হবে ২০০ টাকা। আর বাসায় গিয়ে কারও নমুনা সংগ্রহ করতে হলে সেক্ষেত্রে ৫০০ টাকা ফি লাগবে।

সারা বিশ্বে যখন করোনা তার আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে এবং বাংলাদেশে আজ সব্বোর্চ মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে সেখানে বেশি করে নমুনা পরীক্ষার বদলে এখন নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে সরকার একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিলো। গত তিন মাসে দেশের প্রান্তিক জনগণসহ প্রায় সব শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এখন মানুষ জীবন বাঁচাবে না জীবিকা বাঁচাবে তাতে হিমশিম খাচ্ছে। এখন দরকার ছিল সরকারের সহযোগিতা, বরং তা না করে সরকার উল্টো নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। যেখানে রাষ্ট্র বিনা পয়সায় এই পরীক্ষা করার কথা সেখানে ফি ধার্য আমাদের বিস্মিত করেছে।

আমরা অবিলম্বে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি। আমরা মনে করি এই করোনা দুর্যোগকালে সরকার যেমন বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে ছিল সেভাবেই এই বিষয়েও পাশে থাকবে। করোনা নমুনা পরীক্ষা করার সামর্থ্য না থাকা মানুষ কী চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে। আর যারা এমনিতেই অসচেতন তারা এই সুযোগে নমুনা পরীক্ষা না করিয়ে জীবাণু বয়ে বেড়াবে দেশজুড়ে। যে অভিযোগ উঠেছে অকারণে পরীক্ষা করানোর তার তদন্ত হোক, সুষ্ঠু সমাধান খোঁজা হোক। নতুবা বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবেলায় সরকার এই পর্যন্ত যতটুকু সাফল্য পেয়েছেন তা ম্লাণ হয়ে যাবে কয়েকটি ছোট এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণে।