গরম পানি ছুড়ে গ্রাম পুলিশকে ঝলসে দিলো চা দোকানি

4
Spread the love

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের মণিরামপুরে গরম পানি ছুড়ে ইয়াসিন কবির (৩২) নামে এক গ্রাম পুলিশের পিঠ ঝলসে দিয়েছে চা বিক্রেতা। এই ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) বিকেলে ইউএনও অফিসে অভিযোগ করেছেন ইয়াসিন। অভিযোগ করা হচ্ছে, উপজেলার চাঁদপুর-মাঝিয়ালি নতুন বাজারের চা বিক্রেতা তাজউদ্দীনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সে কেটলির গরম পানি ছুড়ে ইয়াসিনের পিঠ ঝলসে দিয়েছে। ইয়াসিন ও অভিযুক্ত তাজউদ্দীনের বাড়ি মাঝিয়ালি গ্রামে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। ইয়াসিন খেদাপাড়া ইউপির আট নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।

ইয়াসিনের অভিযোগ, চাঁদপুর-মাঝিয়ালি নতুন বাজারের অনেক দোকানদার তাজউদ্দীনের কাছে টাকা পাবেন। তাজউদ্দীন তাদের টাকা দিচ্ছেন না। বিষয়টি পাওনাদাররা ইয়াসিনকে জানায়। শনিবার (২৭ জুন) রাত আটটার দিকে ইয়াসিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাজউদ্দীনের দোকানে যান। তিনি পাওনাদারদের দেনা মিটাতে তাজউদ্দীনকে চাপ দেন। তখন তাজউদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াসিনের গায়ে গরম পানির কেটলি ছুড়ে মারেন। এতে ইয়াসিনের পিঠ ঝলসে যায়। ওই রাতেই স্থানীয়রা ইয়াসিনকে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তাজউদ্দীনের মোবাইল ফোনে কল করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী জোসনা বেগম ফোন রিসিভ করে বলেন, বাজারে কমিটি গঠন নিয়ে ইয়াসিনের সাথে আমার স্বামীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইয়াসিন আমার স্বামীর হাতে রড দিয়ে আঘাত করে এবং একটি কেটলি ছুড়ে মারে। তখন আমার স্বামী তার হাতে থাকা কেটলি ইয়াসিনের গায়ে ছুড়ে মারেন।

চাঁদপুর-মাঝিয়ালি বাজার কমিটির সভাপতি নাসিরুদ্দিন বাবু বলেন, সম্পর্কে ইয়াসিন ও তাজউদ্দীন আপন চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয় না। বাজারের নতুন কমিটির মিটিং নিয়ে শনিবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। তখন তাজউদ্দীন গরম পানির কেটলি ইয়াসিনের গায়ে ছুড়ে মারে।

বাবু আরো বলেন, গ্রাম পুলিশের গায়ে গরম পানি ছুড়ে তাজউদ্দীন অন্যায় করেছে। আমরা তার দোকান খোলা বন্ধ করে দিয়েছি। সে ইয়াসিনের সাথে বিষয়টি মিট করে না নেওয়া পর্যন্ত তাকে দোকান খুলতে দেওয়া হবে না।

এদিকে গ্রাম পুলিশের গায়ে গরম পানি ছুড়ে অপরাধ ঢাকতে ওই রাতেই উল্টো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে খেদাপাড়া ক্যাম্পে যান তাজউদ্দীন। কিন্তু তাজউদ্দীনের অপরাধ আঁচ করতে পেরে অভিযোগ নেননি ক্যাম্পের আইসি এসআই খাইরুল আলম।

এসআই খাইরুল আলম বলেন, গ্রাম পুলিশ ইয়াসিনের বিরুদ্ধে কিছু লোক অভিযোগ করতে শনিবার রাতে ক্যাম্পে এসেছিলো। তখন আমি ইয়াসিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলি। ইয়াসিন ওই সময় হাসপাতালে ছিল। সে আমাকে সব খুলে বলেছে। আমি ওদের অভিযোগ নিইনি।

মণিরামপুরের নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, গ্রাম পুলিশ ইয়াসিন অফিসে এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।