‘বড় একটা সময় কাটছে টেলিভিশনে সংবাদ দেখে’

7
Spread the love

বিনোদন ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বিস্তার লাভ করেছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের কারণে মানুষ এখন ঘরবন্দি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিও ঘরে থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এমন একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পৃথিবী সময় পার করছে যা আমাদের জীবনে প্রথম। আমাদের পূর্ব প্রজন্মও এরকম সময় দেখেনি। এক অদৃশ্য শক্তি অসহায়, অসুস্থ, মৃত করে দিচ্ছে পৃথিবীর মানুষকে। দুরত্ব যতই হোক সারা পৃথিবীর সবাই যেন এক পরিবার হয়ে উঠেছে যাদের একই রকম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, ভয়! কেউ জানিনা কী হতে যাচ্ছে! আপাতত একটা সমাধান সবার জানা। আর তা হলো ঘরবন্দি থাকা।

আমিও সবার মতো সেই চেষ্টাই করছি। নিজেকে ও পরিবারকে সময় দিচ্ছি। সেই সঙ্গে বেশ কিছু কাজও করছি। কারণ আমি কাজ ছাড়া খুব ডিপ্রেশনে চলে যাই। তাই কখনো ফ্রি থাকি না, কাজ তৈরি করে ফেলি। তো এই বন্দিদশা কাজে লাগানোর জন্য আমি বই পড়ছি, লিখছি, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছি, নেটে সময় কাটাচ্ছি। কিছুটা শরীরচর্চা করতে শুরু করেছি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দিনের একেকটা মুহুর্ত, প্রকৃতি দেখছি আর মায়ের সঙ্গে অনেক গল্প করছি। কিছু স্ক্রিপ্টের কাজ করছি যেগুলো খুব ইনফরমেটিভ। এর জন্য প্রচুর তথ্য ঘাটাঘাটি করতে হচ্ছে, পড়তে হচ্ছে। স্যোশ্যাল প্লাটফর্মগুলিতে মাঝে মাঝেই লিখি মানুষকে আরো সচেতন করার জন্য। করোনা পরবর্তী সময়টার ভাবনাও সময় নিচ্ছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি, অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কে জানে।

এসব নিয়ে আপসেট হচ্ছি মাঝে মাঝে। তবে ব্যাপারটা এখন মেনে নিয়ে ব্যস্ততা তৈরি করে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করছি। আর এই সময়টার ভালো দিকগুলো বেছে নিচ্ছি আমি। যেমন অনেক বছর পর বাড়িতে সময় কাটাচ্ছি, বেশ ভালো লাগছে আমার। কাজের ব্যস্ততায় যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি না তাদের সঙ্গে কথা বলছি, মানুষের ফোনকলে রেসপন্স করছি, ইনবক্স দেখছি। বড় একটা সময় কাটছে টেলিভিশনে সংবাদ দেখে। তবে ঘুম, জেগে থাকা এসব উল্টোপাল্টা হচ্ছে। একটা মানসিক চাপ তো থেকেই যায়! কখনো কখনো মনে উঁকি দেয় তাহলে কি সবাই মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি? আবার পরক্ষণেই মনে হয় করোনা শেষে আরো মানবিক, আরো শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর একটা পৃথিবীতে আমরা সবাই একসঙ্গে হাসবো।