পাটকেলঘাটায় কপোতাক্ষের বেড়িবাধ ও নদের মাটি কেটে ইট তৈরী করছে রাণী ব্রিকস

8
Spread the love

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা:

পাটকেলঘাটার ইসলামকাটি খেয়াঘাট ব্রীজের সামনে ইট ভাটা মালিক সাইফুর রহমানের নিউ রাণী ব্রিকসে অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কপোতাক্ষ নদ হতে স্কেভেটর দিয়ে প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে বেড়িবাধের মাটি। একাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে ৫/৭ টি ট্রাক্টর। শুধুমাত্র এখানেই শেষ নেই ভাটার কার্যক্রম। একেবারে কপোতাক্ষ নদের সন্নিকটে হওয়ায় রাতের আধারে স্কেভেটর লাইট বন্ধ করে একাধিক ট্রাক্টর লাগিয়ে নির্বিচারে উঠানো হচ্ছে মাটি। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছে তার ভাটা। শুধুমাত্র ভাটায় কয়েকজন দালাল আর মাসোয়ারা দিয়ে চলমান রয়েছে তার ইটের ভাটা।

সরেজমিনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০ টায় নিউ রাণী ব্রিকসে গেলে এমনই দৃশ্যের অবতারণা দেখা মেলে। দেখা যায়, স্কেভেটর দিয়ে নদের বেড়িবাধের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভাটায়। এভাবে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাধের মাটি কেটে কেন নিয়ে যাচ্ছে ভাটায় এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলে ভাটার ম্যানেজার রবিন পাল জানান, এটা আমাদের রেকর্ডীয় জমি। এভাবে আমরা মাটি কাটতেই পারি! দেখা যায়, নদ হতে মাত্র ২ হাত জায়গা রেখে গভীর কুপ করে র্দীর্ঘ দুরত্ব মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভাটায়। যা আগামী বর্ষা মৌসুমে নদের ২ হাতের বেড়িবাধ ধসে পড়বে এবং মানব সৃষ্ট বন্যায় পরিণত হবে। ভালো মন্দের বাচ বিচার না করে  আইন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় রীতিমতো জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারখানার লাইচেন্স আছে কিনা তা জানতে চাইলে না বোধক উত্তর পাওয়া যায়। রয়েছে ভাটার লাইচেন্সপত্রাদির গোজামিল। মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট চালালে অদৃশ্য কারণে নাম মাত্র পরিদর্শন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে ফসলি ক্ষেত আর চর্তুপাশে বসতি হওয়ায় বসবাস একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লা উড়িয়ে আকাশ বাতাস ভারি করছে রাণী ব্রিকসের কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাটা ব্যবস্থাপক রবিন পালের কাছে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সবাইকে ম্যানেজ করেই আমরা চলি। চা নাস্তার জন্য আপনাদের খুশি করা হবে বলে এড়িয়ে যান। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।