পবিত্র শব-ই মেরাজ আজ

9
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র শব-ই মেরাজ আজরবিবার দিন শেষে যে রজনী বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হচ্ছে তা মহাসম্মানিত রজনী হিসেবে খ্যাতএই রাতে প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) উর্ধগমনে ভ্রমণ করেছিলেনআল্লাহর দিদার লাভ করেনএই সাক্ষাতে বিশ্বের মুসলমান বা বিশ্বাসীদের জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা বয়ে আনেনযার মধ্যে রয়েছে প্রত্যহ ৫ ওয়াক্ত সালাত

বিশ্বের মুসলমানরা এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রজনী অতিবাহিত করবেনবিশেষ করে বর্তমানে সারাবিশ্ব করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্তএই মহামারী থেকে মুক্তি কামনায় ইবাদত-বন্দেগি, আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হবে এই রজনী উপলক্ষেইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব অনেককেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই নামাজ অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয়এদিকে শব-ই মেরাজ বা পবিত্র রজনী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছেএ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেনজাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইবাদত-বন্দেগি পালনের কর্মসূচী নেয়া হয়েছে

মেরাজ বা উর্ধাকাশে গমণের বিষয়টি কোরানের ১৭ নম্বর সুরা ইসরাইলে বর্ণনা করা হয়েছেএই সুরার প্রথম আয়াতে আল্লাহ্তাআলা বলেন, পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্তÑ যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছিযাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেইনিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও সর্বদ্রষ্টা

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মুহম্মদের (সা.) নবুওয়াত প্রকাশের একাদশ বছরের (৬২০ খ্রিস্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাতে প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের নামাজের জামায়াতে ইমামতি করেনঅতঃপর তিনি বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে উর্ধলোকে গমন করেনঊর্ধাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করেনএই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন

হাদিস গ্রন্থ বোখারি শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী উর্ধাকাশে যাওয়ার পথে তিনি বিভিন্ন নবী রাসুলের সাক্ষাত লাভ করেনএর মধ্যে প্রথম আসমানে সাক্ষাত লাভ করেন প্রথম মানব এবং নবী আদম আঃ, দ্বিতীয় আকাশে হযরত ইসা আঃ এবং ইয়াহইয়া আঃ, তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ আঃ চতুর্থ আসমানে ইদ্রিস আঃ, পঞ্চম আসমানে দেখা পান হযরত হারুন আঃ, ষষ্ঠ আসমানে মুসা আঃ এবং সপ্ত আসমানে তিনি সাক্ষাত লাভ করেন হযরত ইব্রাহিম আঃ এর

এই মেরাজের রাতেই মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদত করা যাবে নাউপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে নাপিতামাতার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে হবেনিকট আত্মীয়-স্বজনের অধিকার দিতে হবে, মিসকিন ও পথশিশুদের অধিকার দিতে হবেঅপচয় করা যাবে নাঅপচয়কারী শয়তানের ভাইকার্পণ্য বা কৃপণতাও করা যাবে নাসন্তান হত্যা করা যাবে নাব্যভিচারের ধারে কাছেও যাওয়া যাবে নামানব হত্যা করা যাবে নাএতিমের সম্পদ আত্মসাত করা যাবে নাপ্রতিশ্রুতি পালন বা ওয়াদা পূর্ণ করতে হবেওজন বা মাপে কম দেয়া যাবে নাঅজ্ঞতার সঙ্গে কোন কিছু করা যাবে নাপৃথিবী বা জমিনের ওপর দম্ভভরে চলাফেরা করা যাবে নাএছাড়াও মুসলমানদের ইমানের পরেই নামাজ যা মেরাজের রাতেই আল্লহর কাছ থেকে উপহার হিসেবে লাভ করেন তিনি