খুলনায় ফাঁসাতে গিয়ে পাতানো ফাঁদে ভগ্নিপতিসহ ৩জন জেলজাহতে

2
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর খালিশপুর হাউজিং এস্টেট রোড নং-১১৩, বাড়ির নং-১৯ এর বাসিন্দা মৃত. আরশেদ আলি সরদারের ছেলে মো. আব্দুল মালেক সরদার (৬২) তার শ্যালক হরিণটানা থানাধিন জয়কালি গ্রামের মৃত. আনোয়ার মোল্লার ছেলে মো. শাহিন মোল্লা (১৯) কে ৬পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই সহযোগিসহ ধরা পড়েছে।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে গল্লামারি বেগ প্লাজা প্রিন্স টেলিকম এর সামনে থেকে ৬পিস ইয়াবাসহ ইজিবাইক চালক শাহিন মোল্লাকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে আসল রহস্য। এসময় তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও অপর দু’জন পালিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. এনামুল হক গ্রেফতার ৩আসামিকে আদালতে হাজির করেন। ৩জনের মধ্যে দু’আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাদের দেয়া ফৌজধারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। পরে তাদের  জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

জবানবন্দি প্রদানকারী দু’আসামি হলেন মুজগুন্নি সিএনজি গ্যাস পাম্পের সামনে রেলের জায়গার বাসিন্দা আব্দুল বারেক ফকিরের ছেলে মো. বিল্লাল ফকির (৪২) ও মুজগুন্নি হাজাম পাড়ার ইদ্রিস ফকিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রজব আলি খন্দকারের ছেলে মো. আব্দুর রাজ্জাক খন্দকার (৩০)। মামলার পলাতক দু’আসামি হলেন খালিশপুর নয়াবাটি মুন্সি বাড়ি টিংকু মুন্সির বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত. তৈয়ব আলির ছেলে মো. রুস্তুম আলি (৪৫) ও একই বাড়ির মো. আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. টিটন হাওলাদার (৩৫)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৬মার্চ দুপুর পৌনে ১টার দিকে রুস্তুম আলি মামলার বাদী জানায় এসআই মো. দেলোয়ার হোসেনকে জানায় গল্লামারি পুলিশ বক্সের সামনে আব্দুর রাজ্জাক খন্দকার দাড়িয়ে আছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে ইয়াবাসহ একজনকে ধরাইয়া দিবে। এসআই মো. দেলোয়ার ১টার দিকে গল্লামারি পৌছালে রুস্তুম আলি বেগ প্লাজা প্রিন্স টেলিকম এর সামনে ইজিবাইক চালক হরিণটানা থানাধিন জয়কালি গ্রামের মৃত. আনোয়ার মোল্লার ছেলে মো. শাহিন মোল্লা (১৯) কে দেখিয়ে দেয়। পরে তার ইজিবাইক তল্লাশি করে ৬পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। শাহিন মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ৩/৪ বছর পুর্বে নগরীর খালিশপুর হাউজিং এস্টেট রোড নং-১১৩, বাড়ির নং-১৯ এর বাসন্দা মৃত. আরশেদ আলি সরদারের ছেলে মো. আব্দুল মালেক সরদার (৬২) এর সঙ্গে তার বোন মোছা. নুপুর আক্তার (২২) এর বিয়ে হয়। সম্প্রতি বোন নুপুর ভগ্নিপতি মালেক সরদারকে তালাকের নোটিশ দিলে সে শ্যালক শাহিন মোল্লাকে শায়েস্তা করার জন্য তার ড্রাইভার বিল্লাল ফকিরসহ অন্যান্যরা যোগসাজশে ইজিবাইকে ইয়াবা রেখে ডিবিকে সংবাদ দেয়। এঘটনায় এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৫জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন যার নং-১৫। 

  • নগরীর দোলখোলার একটি বাড়িতে চুরি মামলার আসামি রবিউলের আদালতে স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর দোলখোলার একটি বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি মামলার আসামি মো. রবিউল শেখ (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার দু’দিনের রিমা- শেষে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মমিনুর রহমান। রবিউলের দেয়া ফৌজধারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। রবিউল শেখ খুলনা জেলার রূপসা থানার পুর্ব বাগমারা গ্রামের কদমতলা মিনা বাড়ির মো. শাহাদাত শেখের ছেলে। এ মামলার অপর দু’আসামি রবিউলের স্ত্রী মোছা. সাথী আক্তার (১৯) এবং কিসমত গ্রামের জুম্মান খানের স্ত্রী মুক্তা খান (২২) গত ৫মার্চ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মমিনুর রহমান জানান, ৪মার্চ  বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর বাগমারা এলাকা হতে ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে হেলাতলা স্বর্ণপট্রির নিউ ঝুমুর জুয়েলার্স থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। ৫মার্চ তাদের আদালতে হাজির করা হলে দু’জন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। গতকাল মঙ্গলবার দু’দিনের রিমা- শেষে রবিউলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনিও স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে নগরীর দোলখোলা নিতাই দে’র বাড়ির ভাড়াটিয়া মনি রানী দত্ত তার মেয়েকে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার জন্য জিলা স্কুলে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন জানালার গ্রিল কেটে অজ্ঞাতনামা চোরেরা স্টীলের আলমারি ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ মোট ৮লাখ ৪৪হাজার টাকা মুল্যের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় মনি রানী দত্ত বাদী হয়ে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং-১৯।

  • নগরীতে র‌্যাবে অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’ এর ৩ সদস্য আটক

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর ৪নং ফুড ঘাট জামে মসজিদ এলাকা থেকে  নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন “আল্লার দল”এর  যশোর জেলার সহজেলা নায়েক মো. রাকিব হাসানসহ ৩জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। ১৬ মার্চ রাত পৌনে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মহানগরীর র‌্যাব-৬ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

আটকরা হলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার মো. আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস এর ছেলে ও সহজেলা নায়েক মো. রাকিব হাসান (২৪), যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আলী হোসেন মোড়ল এর ছেলে আশিকুজ্জামান আশিকুল (৩৬), একই উপজেলার মো. মোফাজ্জেল হোসেন মোড়ল এর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৩৯)।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানায়, দীর্ঘদিন যাবত তারা এই সংগঠনের সাথে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে সদস্য নির্বাচন, বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ এবং কর্মীদের বায়াত গ্রহণ করানোর মাধ্যমে দলীয় শক্তি বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। পরবর্তীতে তারা এই সংগঠনকে শক্তিশালী করার ল্েয দলীয় মিটিং, উগ্রবাদী বই বিতরণ, অর্থ প্রদান ও আদায় এবং সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য দাওয়াত প্রদান ইত্যাদি কর্মকান্ডে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গত বছরের ৩মে নগরীর পূর্ব বানিয়া খামার এলাকা থেকে ৩জন, ৩০ডিসেম্বর  লবণচরা খোলাবাড়িয়া থেকে ৫জন, এবছরের ১২জানুয়ারি নগরীর রেল স্টেশন থেকে ২জন এবং  ৬ফেব্রুয়ারি  ফুলবাড়ি গেট এলাকা হতে ২জনসহ মোট ১২জন নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন ‘আল্লার দল’এর সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখা হয়। এরই

ধারাবাহিকতায় ১৬ মার্চ রাত পৌনে ১২টার দিকে ওই ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপরোক্ত ঘটনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • বটিয়াঘাটায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার বটিয়াঘাটায় আব্দুর রউফ সবুজ (৫২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বটিয়াঘাটার নালুয়া নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রউফ বটিয়াঘাটার আমীরপুর ইউনিয়নের মজিদঘাটা গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে। তিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন গোলদার জানান, ‘আব্দুর রউফ মৃগী রোগী ছিলেন। তিনি মাঝে মধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতেন। গত ৩দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।’

বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রবিউল কবির বলেন, আমীরপুরের নালুয়া নদী থেকে একটি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।