হুমকির মুখে জীববৈচিত্র: কপোতাক্ষ নদ এখন ময়লার ভাগাড়

9
Spread the love

যশোর অফিস

এক সময়কার প্রবাহমান কপোতাক্ষ নদ এখন ময়লার ভাগাড়। যশোরের চৌগাছা শহরের হাট বাজার, কল-কারখানার বর্জ্য প্রতিদিনই প্রকাশ্যে ফেলা হচ্ছে নদটিতে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার প্রতিনিয়ত নদ, নদী, খাল-বিল ও হাওড় ইত্যাদির পাড় অবৈধ মুক্ত করছেন। কিন্তু এ নদে বর্জ্য ফেলা বন্ধ ও ময়লার ভাগাড় সরানোর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাই নদের পানি দূষণ ও পরিবেশ ক্রমেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার মলমূত্রের ড্রেন সরাসরি নদের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়েছে। কশাইখানার রক্ত, মুরগীর বিষ্টা ও মানববর্জ্যসহ অন্যান্য ময়লা নদে গিয়ে পড়ছে। এতে কপোতাক্ষ নদ রূপ নিয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। নষ্ট হচ্ছে নদের পরিবেশ। হারাচ্ছে নদটির নাব্যতা। হুমকির মুখে পড়েছে নদের জীববৈচিত্র। ময়লায় নদের পানিতে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ। মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ ।

এ ব্যাপারে চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবাদত হোসেন বলেন, যে নদের পানি এক সময় মানুষ পান করতো, ওযু-গোসল, জামা-কাপড় পরিষ্কার করতো, রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার করতো এখন সে নদের পানিতে দুর্গন্ধ। দূষিত গন্ধে নদের পাড়ে দাঁড়ানোই যায় না। নদের জায়গা দখলে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। নদ পাড়ের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান, হাফিজুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার পৌর শহর, নারায়ণপুর বাজার, কাবিলপুর বাজার, ধুলিয়ানী বাজারের আবর্জনা ফেলা হয় নদের পাড়। এতে মরছে মাছ, বাড়ছে পানি বাহিত রোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নদের পাড়ে বসবাসকারী মৎসজীবীরা। নদে মাছ ধরতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

এ ব্যাপারে কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের যশোর জেলা কমিটির আহ্বাবায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, নদ বাঁচাও আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদটি রক্ষার জন্য নানা সচেতনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছি। নদকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করছে, যা মেনে নেয়া যায় না।

এ ব্যাপারে চৌগাছা পৌর মেয়র নুর-উদ্দীন আল মামুন হিমেল বলেন, নদের পানিতে বিভিন্ন ধরনের ময়লা ফেলায় পানি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি দারুণ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। তাই ময়লা ফেলার জন্য নতুন স্থান তৈরি করেছি। অতিদ্রুত সেখানে ময়লা ফেলা হবে। এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কপোতাক্ষ নদ রক্ষায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ পাটাতন উচ্ছেদ করা হয়েছে। নদ দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িত পাটাতন সরিয়ে নিতে নোটিস করা হয়েছে। এরপরও কোনো ব্যক্তি যদি নদ দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িত থাকেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।