অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দীর পরিবেশ বিষয়ক গ্রন্থ ‘সুন্দরবন উপকূলের কথকতা’

18
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার

পৃথিবীর একক বৃহত্তম বাদাবন- সুন্দরবন-এর বেশীরভাগ আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে। ঈষৎ নোনাজলের এই ঘন-বনটি জীববৈচিত্র্যের অপার আধার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই বনটি মানুষের কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দু। সুদূর অতীত হতেই মানুষ সম্পদ আহরণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্যে এই বনে যায়। বলাইবাহুল্য, ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধা এখন অনেক বেড়েছে। ভ্রমণকারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। আরও আছে সাগরপাড়ের এই বন-সংলগ্ন মানুষের জীবন-জীবিকার নানান সংকট।

নগরভিত্তিক সমাজের বিকাশ ঘটছে দ্রুতলয়ে। পুঁজির বিকাশ ঘটছে। পুঁজির দাপটে অনেক কিছুই দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। সুন্দরবনের গাছ ও পাতা নির্ভর ঘরগুলোর পরিবর্তে ইট ও টিনের ঘর, যাতায়াতের রাস্তা, মুহূর্তে যোগাযোগের জন্যে হাতে রাখা ফোন প্রভৃতি বন-সংলগ্ন সহজ-স্বাভাবিক মানুষগুলোকে বদলে দিচ্ছে। গ্রামীণ জীবনের পাশাপাশি দুনিয়াজুড়েও অনেক বদল হয়েছে। নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে কার্বন ও কার্বন-আশ্রিত নানান গ্যাস। বাতাসে এই গ্যাসের উপস্থিতি ভয়াবহরকমভাবে বাড়ছে। সুন্দরবনতো কার্বনের বিশাল আধার। এ কারণে এই সুন্দরবনকে নিয়ে ব্যবসা করারও নতুন চিন্তার উদয় হয়েছে বিশ্ব-বাণিজ্যের হোতাদের। কত পরিমাণ কার্বন সুন্দরবন ধরে রাখতে পারে ইতিমধ্যে তার জরিপও হয়েছে। কার্বন ব্যবসায় ভাটা না পরলে হয়তো এতোদিনে সুন্দরবনও কার্বন-বাণিজ্যের অংশিদার হয়ে উঠতো।

এসব বিষয় নিয়েই সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দীর বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে -‘সুন্দরবন উপকূলের কথকতা’ নামের গ্রন্থটি। পেশাজীবী সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দীর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও কর্মক্ষেত্র খুলনা তথা সুন্দরবন উপকূলে। ছোটবেলা হতেই নিজ অঞ্চলের পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পরিবেশগত অবস্থানের মুখোমুখি হয়েছেন; এ নিয়ে তৈরি করেছেন একাধিক প্রতিবেদন, মাঠ-গবেষণা ও অনুসন্ধান। বইটির পাতায় পাতায় আছে তারই প্রতিফলন। বইটি প্রকাশ করেছে বেহুলাবাংলা প্রকাশনী। পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের ৪৬৯, ৪৭০ ও ৪৭১ নং স্টলে। খুলনা বইমেলার বিজ্ঞান একাডেমী ( ১ নং) স্টলে।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দীর এটি দ্বাদশ গ্রন্থ। উনসত্তরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে খুলনায় শহীদ হাদিসুর রহমানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস ‘উনসত্তরের রক্তবীজ’ (২০১৮); জীবণীগ্রন্থ ‘মানবপ্রেমী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়’ (২০১৭) এবং মুক্তিযুদ্ধের তথ্যভিত্তিক গ্রন্থ ‘বৃহত্তর খুলনার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ (২০১৬) পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত। এছাড়াও প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : নিবন্ধ – কালের আয়না (২০১৮); মুক্তিযুদ্ধ – দেয়াড়া গণহত্যা (২০১৫); বাদামতলা গণহত্যা (২০১৫); মাঠ-গবেষণা – বিষের জ্বালা (ফসলে সার ও বালাইনাশক ব্যবহারে প্রতিক্রিয়া) (২০১৮); উপকূলে নিরাপদ পানির আকাল (২০১৩); জালের ফাঁদে (২০১১); চিংড়ি ও জন-অর্থনীতি : কার লাভ কার ক্ষতি (২০০৭) এবং মানবাধিকার আন্দোলন : প্রেক্ষিত উপকূলীয় প্লাবনভূমি অঞ্চল (২০০৫)।