খুলনায় স্কুলছাত্র ফায়েত হত্যাকান্ডে ১২জনের নামে মামলা : আসামি আসিফের স্বীকারোক্তি

17
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর চাঁনমারী বাজার এলাকায় আল ফায়েত (১৭) নামের স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মেহেদী হাসান আসিফ (২০) নামের এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে এ জবানবন্দি দেয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ধারায় তার দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে ফায়েতের মরদেহ হস্তান্ত করেছে পুলিশ। সোমবার রাতেই লবণচরাস্থ হাজী আব্দুল মালেক কবরস্থানে তার মরদেহের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার নিহতের পিতা বাদী হয়ে ১২জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন যার নং-২০।

নিহত ফায়েত খুলনা শিপইয়ার্ড মসজিদ গেট এলাকার মো. শওকত আলমের পুত্র। সে নগরীর বিকে ইনস্টিটিউট’র ৮ম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। আদালতে জবানবন্দি দেয়া আসামি মেহেদী হাসান আসিফ চাঁনমারী বাজার কোয়ার্টার গলির জসিমের বাড়ির ভাড়াটিয়া জাকির হোসেনের পুত্র। তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছেন একই আদালত। এঘটনায় আহত ফায়েতের বন্ধু শুভ (১৮) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

হত্যাকান্ডের কারন হিসেবে জানা গেছে, স্থানীয় শিপইয়ার্ড স্কুলের সামনে আড্ডা ও ছাত্রীদের উত্যক্ত করার ঘটনার জের ধরে গত ৯ফেব্রুয়ারি দু’পরে মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই সুত্র ধরে ১৬ফেব্রুয়ারি ফায়েতের উপরে হামলা করা হয়।

মামলার এজাহারভূক্ত অপর আসামিরা হলেন গলামারী বিশ্বাবিদ্যালয়ের পেছনের বাসিন্দা আবু সাঈদের ছেলে আশিক (২০), চাঁনমারী বাজার ২য় গলির জালালের ছেলে জিয়া (২০), চানমারী বাজারের আহম্মদিয়া বাইলেনের সালামের ছেলে আহাদ (১৯), চাঁনমারী বাজার কোয়ার্টার গলির জাকির হোসেনের ছেলে হাসিব (২০), মতিয়াখালীর ৫ম গলির বিলালের ছেলে আমান (২০), চাঁনমারী বাজার মাজার গলির বুলু’র ছেলে জনি (১৯), চাঁনমারী মেছের সড়কের জিয়ার ছেলে মিঠু (১৯), মতিয়াখালীর ৬ষ্ঠ গলির হালিমের ছেলে হান্নান (২০), চাঁনমারী ২নং কালভার্ট এলাকার সুলতান শরিফের ছেলে আবির (১৯), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আসাদ (২০), চাঁনমারী ২য় গলির আলমের ছেলে মো. মারুফ (১৯) ও চাঁনমারী ২নং কালভার্ট এলাকার বাবুলের ছেলে খাইরুল (২৯)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার সময় চানমারি বাজারের চুল কাটতে যাওয়ার পথে আসামিরা পুর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা চালায়। এসময় মাথায় প্রতিপরে লাঠির আঘাতে ফায়েত গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে মাওয়া ফেরিঘাটের তার মুত্যু হয়।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম বাহার বুলবুল জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।