মণিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় নিহত দুই শিশুর পিতা পেল এক লাখ টাকা !

4
Spread the love

  • আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর ::

মাত্র ১৫ মাসের কোলের শিশু মোহনাকে (ছোট মেয়ে) দাফন করে বাড়ি ফেরার পর বড় মেয়ে মৌ’র (৭) মরদেহ নিতে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে পিতা বিল্লাল হোসেনকে। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মণিরামপুরের দেবীদাসপুর গ্রামে। গত রোববার বিকেলে মণিরামপুর-ঝিকরগাছা সড়কের দেবিদাসপুর জামতলায় দ্রুতগামী পিকআপের ধাক্কায় গুরুত্বর আহত হয় শিশু দুইটি। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে দুর্ঘটনায় দুই শিশু কন্যাকে হারালেও দায়ী পিকআপের চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেননি পিতা বিল্লাল হোসেন। মাত্র একলাখ টাকায় পিকআপের মালিকপক্ষ তারসাথে বিষয়টি রফা করেছেন।

বিল্লাল হোসেনের বাড়ি খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার নালিয়া গ্রামে। স্ত্রী আমেনা খাতুন ও তিনি মণিরামপুরের দেবীদাসপুর গ্রামে পদ্মা ইটভাটায় কাজ করেন। দুই মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে ভাটার পাশে ছোট একটি কুঁড়ে ঘরে বসবাস করতেন ওই দম্পত্তি।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে ছোট বোন মোহনাকে কোলে করে মৌ জামতলা মোড়ে খাবার কিনতে আসে। এসময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ তাদের ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহনার মৃত্যু হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৌ’কে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। সোমবার সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

বিল্লাল হোসেন জানান, সোমবার সকালে গ্রামের বাড়িতে ছোট মেয়ের দাফন হয়। ওই সময় খবর আসে বড় মেয়েও মারা গেছে।

মণিরামপুর থানার এসআই আব্দুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় দায়ী পিকআপটি স্থানীয়রা ধরে থানায় সোপর্দ করে। পিকআপটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারকে পিকআপের মালিকপক্ষ এক লাখ টাকা দিয়েছে।