পোড়াদহের মাছ মেলায় ৭৬ কেজি ওজনের বাঘা আইড়

4
Spread the love

 

খুলনাঞ্চল রির্পোট

পূর্ব বগুড়ার চারশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক পোড়াদহের মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৭৬ কেজি ওজনের বাঘা আইড় মাছ। এই মাছটি এককভাবে কেউ না কেনায় বিক্রেতা মাছটি কেটে ১৪ শ’টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। বাঘা আইড় ছাড়াও মেলায় উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ এলাকায় ইছামতি নদীর তীরে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, চারশ’বছর আগে একই এলাকায় গাড়িদহ নদীর তীরে বিশাল আকৃতির এক বট গাছের নীচে অজ্ঞাত এক সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ওই সন্ন্যাসীর কাছে গিয়ে যা প্রার্থনা করতেন তারই ফল পেতেন। এ কারণে তারা ওই সন্ন্যাসীকে পূজা করা শুরু করেন। এভাবেই প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবারে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়িদহ নদীর তীরে মেলা বসতো।

কালের বিবর্তনে মেলা পরিণত হয় মাছ, রকমারী মিষ্টিসহ বিভিন্ন তৈজসপত্রের মেলা। ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক যোগে বড় বড় মাছ মেলায় আসতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মেলায় মানুষের ঢল নামে। মেলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বগুড়ার শতাধিক গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। মেলাকে কেন্দ্র করে এই এলাকায় মেয়ে জামাইকে আমন্ত্রণ জানানো বাধ্যতামূলক। বছরের পর বছর মেলাটি গাড়িদহ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরোধের কারণে কয়েকবছর ধরে এক কিলোমিটার দূরে ইছামতি নদীর তীরে আয়োজন করা হয়।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, নারী শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ মেলায় এসেছে। মেলায় আগত অধিকাংশদের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনতে দেখা যায়। আগতরা জানান মেলায় মাছের দাম অনেক বেশি হলেও বাড়িতে মেয়ে জামাই আসায় মেলার মাছ কিনতেই হবে। মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন তৈজসপত্র এবং বিনোদনের জন্য সার্কাস, যাদু খেলা ও মোটরসাইকেল খেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলাটি মূলত একদিনের হলেও জনগণের চাহিদার কারণে চলে তিনদিন ধরে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হবে বউ মেলা। বউ মেলার প্রধান আর্কষণ বিভিন্ন বয়সী নারী ক্রেতা। বাড়ির বৌ-ঝি’রা মেলা থেকে বিভিন্ন প্রসাধনী ছাড়াও সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনবে। তবে এই মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে।

যে সন্ন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে পোড়াদহ মেলার আয়োজন সেই পূজা কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জু পাল বলেন, গাড়িদহ নদীর তীরে মেলা চারশ বছর ধরে হয়ে আসলেও প্রভাবশালীদের দ্বন্দ্বের কারণে ইছামতি নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। এবারও ৪০১তম সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করা হয়।