খুলনার ৬৮ ইউনিয়নের ৫৪টিতেই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন নেই

7
Spread the love
  • স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার নয় উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নের ৫৪টিতেই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই ভবন নেই। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন বাকি ১৪টির ভবন রয়েছে। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন থাকলেও সেখানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক আছেন। এজন্য তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় থাকার পরও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভবন নির্মিত হয়নি। খবর-বাংলা ট্রিবিউন  

স্থাপনা না থাকা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ফুলতলার  তিনটি, দিঘলিয়ার তিনটি, তেরখাদার পাঁচটি, রূপসার তিনটি, ডুমুরিয়ার ১২টি, বটিয়াঘাটার পাঁচটি, দাকোপের আটটি, পাইকগাছার ৯টি ও কয়রার সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম বলেন, ‘ভবন না থাকায় ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করেন।’

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, ‘দাকোপের বিভিন্ন ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও স্থাপনা নেই। ফলে সেখানে পদায়ন করা চিকিৎসকদের নিজ নিজ ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে সপ্তাহে দু’দিন সেবা দিতে বলা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খুলনার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুল আলম বলেন, সিভিল সার্জনের দফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের চাহিদার আলোকে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহের ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া তারা হাতে নিয়ে থাকেন। কোনও ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে আগে তাদের কাছে প্রস্তাব আসতে হবে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবন নির্মাণের জন্য সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক একাধিকবার প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। তিনিও বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নতুন পদায়নকৃত ৩৯তম বিশেষ বিসিএস’র ১২৭ জন চিকিৎসক বর্তমানে খুলনার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ পদায়ন করা ৫৪ চিকিৎসকের মধ্যে ফুলতলায় তিন জন, দিঘলিয়ায় তিন জন, তেরখাদায় পাঁচ জন, রূপসায় তিন জন, ডুমুরিয়ায় ১২ জন, বটিয়াঘাটায় পাঁচ জন, দাকোপে পাঁচ জন, পাইকগাছায় ৯ জন এবং কয়রায় সাত জন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০০৫ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত সব স্তরে সারাদেশে ১০ হাজার ৮০৩টি পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একজন মেডিক্যাল অফিসার ও একজন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টি করা হয়। ২০০৭ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জন্য ৯০৬টি পদ সৃষ্টি করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল পদায়ন করা হলেও ভবন নির্মাণের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।