নামেই ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা

2
Spread the love

  • মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ভবনমাগুরার ২৫০ শয্যার সদর  হাসপাতাল এখনও নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে এখানে রয়েছে ১০০ শয্যার হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা। লোকবল সংকট, যন্ত্রের স্বল্পতা, দালালের আধিপত্য সব মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না মাগুরাবাসী। এর ওপর সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেই চলছে মাগুরা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম।

২০১৮ সালে মাগুরার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ভবনের কাজ শেষ হয়। এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের জন্য আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা হয়নি। এজন্য ১০০ শয্যার পুরনো ভবনেই চলছে আড়াইশ শয্যার কার্যক্রম। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দু হাজার রোগী আসে। কিন্তু চিকিৎসক আছেন মাত্র চার-পাঁচ জন। দাঁত, নাক-কান-গলা, চোখসহ বেশ কিছু বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই। চিকিৎসকের ২৯টি পদের ৯টি শুন্য। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বেড আছে ১০০টি। গড়ে দৈনিক ৩০০ রোগী ভর্তি হয়। তাই বেশিরভাগ রোগীরই জায়গা হয় ওয়ার্ডের মেঝে বা বারান্দায়।

বহির্বিভাগে আসা এক রোগী বলেন, সকাল ৯টায় এসেছি ডাক্তার দেখাবো বলে। এখন ১২টা বাজে। লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, জানি না কখন দেখাতে পারবো।  এখানে নাকি বিভিন্ন পরীক্ষার টেকনিশিয়ানও নেই। যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন  তাদেরকে দেখছি বাইরে থেকে টেস্ট করিয়ে আনছে।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের লাইনবহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাফরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা মাত্র ৪ জন চিকিৎসক বহির্বিভাগের রোগী দেখছি। প্রতিদিন দেড় থেক দুই হাজার রোগী আসে। আমি কোনও কোনও দিন ৫০০ রোগীও দেখি। যেহেতু এখানে নাক-কান-গলা, চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। তাই সব রোগী আমাদেরই দেখতে হয়। মজার ব্যাপার হলো দাঁতের চিকিৎসাও আমাদের দিতে হয়।’

মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন হলেও প্রয়োজনীয় আসবাব এবং কিছু কাজ বাকি থাকায় নতুন ভবনে রোগী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। সব বিভাগে চিকিৎসক  ও টেকনিশিয়ান নেই। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।’ সিভিল সার্জন প্রদীপ কুমার সাহা বলেন,‘সার্বিক বিষয় সম্পর্কে আমরা অবগত। এগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।’