নদীর গভীরতা বাড়লেই সক্ষমতা বাড়বে মোংলা বন্দরের

4
Spread the love

  • ঢাকা অফিস

মোংলা বন্দরের সুদিন ফিরিয়ে এনে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি এই বন্দরকে রফতানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এজন্য বন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে বেশকিছু  উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ কাজে মূল সমস্যাই হচ্ছে নদীতে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকা। বাগেরহাটের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত এ বন্দরের জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না মূলত নদীর গভীরতা সংকটে। এখানে বর্তমানে যে গভীরতা রয়েছে, তা সাড়ে নয় থেকে দশ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে চাইলেও এ বন্দরের কার্যক্রম সেভাবে সচল করা যাচ্ছে না। তাই বন্দরটির কার্যক্রম সচল করতে প্রয়োজনীয় গভীরতা বাড়ানো জরুরি। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত এমন তথ্যের ভিত্তিতে এবার ‘মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের ব্যয়ের পুরোটাই আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। আর বাস্তবায়ন হবে ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে। এ প্রকল্পটি গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।  

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর সম্মতি নেওয়া হয়। জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। বেড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও। এতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য চললেও এখন সেখানে চাপ বেড়েছে। তাই সেখানকার চাপ কিছুটা হলেও কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার। এ কারণেই এখানকার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এতদিন গভীরতা সংকটে এ বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তো না। তাই বন্দরের কিছুটা গভীরতা বাড়াবে প্রকল্পটি। এটুকু বাড়াতে পারলেই এখানে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে কয়েকগুণ। 

এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় কাটার সাকশান ড্রেজার দিয়ে নদীর ডেজিং করা হবে ১৫৭ দশমিক ৭৫ লাখ ঘনমিটার, ট্রেইলিং সাকশান হপার ড্রেজার দিয়ে ডেজিং করা হবে ৫৮ দশমিক ৩৪ লাখ ঘনমিটার, ডাইক নির্মাণ করা হবে ২ লাখ ঘনমিটার এবং জিয়োটিউব ডাইক নির্মাণ করা হবে শূন্য দশমিক ৫০ লাখ ঘনমিটার।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, মোংলা বন্দরকে রফতানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের চলমান ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি মোংলা বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রয়োজনীয় গভীরতা অর্জন করার জন্য একটি উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। জানতে চাইলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের জেটিতে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা অর্জন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, মোংলা বন্দরের বর্ধিত চাহিদা সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করার জন্য মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

এ প্রসঙ্গে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ২০২১ সাল নাগাদ বন্দরে বছরে এক হাজার জাহাজ ভিড়বে বলে প্রত্যাশা করছি আমরা। আশা করছি বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত হবে। এছাড়া বন্দরের আধুনিকায়নে কাজ করা, কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাতীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা দেওয়ার ভিশন নিয়েও আমরা কাজ করছি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং লাইন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জেটি, গুদাম, কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সুবিধাসহ নিরাপদে দিনরাত শিপিংয়ের সুবিধা দেবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চ্যানেলে পর্যাপ্ত পানির গভীরতা বজায় রাখার সুবিধা এবং সেবা দেওয়া আমাদের ভিশন।