রেডিও’র সাথে কপিলমুনির স্বদেশ এর বন্ধুত্ব ৩২ বছর

14
Spread the love

  • পলাশ কর্মকার, কপিলমুনিঃ

“পড়ে না চোখের পলক, কি তোমার রুপের ঝলক, দোহায় লাগে মুখটি তোমার একটু আঁচলে ঢাকো, আমি জ্ঞান হারাবো মরে যাবে বাঁচাতে পারবো না কেউ….” সকাল ৯ টা, স্থান কপিলমুনির প্রধান সড়কের পারুল হার্ডওয়ার, রেডিওতে বাজতে শোনা যাচ্ছিলো এই গানটি, আর দোকানদার স্বদেশ মল্লিক (৪৮) কানের কাছে রেডিও নিয়ে অনুরোধের আসরের ওই গানটি আপন মনে শুনছিলেন। মেশিনারী, নজেল প্লাঞ্জার, বল বেয়ারিং, রং, হার্ডবোর্ড প্লাইউড, ‘স’ মিলের করাতসহ যাবতীয় ইলেট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রির মধ্য দিয়ে দিনের প্রায় সব সময়টা রেডিওতে শুনে আসছেন অনুরোধের আসর, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

বিজ্ঞানের জয়যাত্রার পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়া এখন সর্বত্র। ইতালীর নাগরিক ১৮৯০ সালে গুয়েল মার্কোনী রেডিও আবিষ্কার করেন। আর  সেখান থেকে একটা বড় সময় ধরে বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও। আধুনিকতার যাতাকলে পিষ্ট হওয়া গুয়েল মার্কোনীর সেই বেতার অর্থাৎ রেডিওকে সবাই ভুলতে বসলেও এখনো আকড়ে ধরে আছেন কপিলমুনি মৃতঃ বিরেন্দ্র নাথ মল্লিকের ছেলে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী স্বদেশ মল্লিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার মায়ের গর্ভে চড়ে  যেতে হয়েছিল ভারতে, দেশ স্বাধীনের পরে আবার ফিরে আসা স্বদেশে, আর তারপর অল্প কিছু দিন পরেই জন্ম হয় তার, তাই পিতা-মাতা আবেগে তার নাম রেখেছিলেন ‘স্বদেশ’। রেডিও’র সাথে স্বদেশ এর বন্ধুত্ব ৩২ বছর। প্রত্যেকটা মানুষের দু একজনের সাথে বন্ধুত্ব থাকলেও স্বদেশের বেলায় অন্যরকম, তার কোন বন্ধু নেই, তার বন্ধু রেডিও। খেতে শুতে তিনি রেডিওকেই সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে রেডিও’র অনুরোধের আসরে গান প্রার্থনা ও কুইজ প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে আসছেন। কুইজে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় বেতারের হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক কর্তৃক তাকে সম্মানী চেকও প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হয়েছেন স্বদেশ, পেয়েছেন অসংখ্য এ্যায়ার্ড, রেডিও, প্রাইজবন্ড আর মোবাইল। খুলনা বেতারের জীবনের কথা কুইজ প্রতিযোগীতা ২০১৩ এর সম্মাননা স্মারক, অনন্দ আনন্দ ১০০০ তম পর্বের ‘সহ¯্র সন্ধ্যার গল্প’ এর সম্মাননা স্মারক, সিনে রঙের ৫৪ পর্বের অনুষ্ঠানের সম্মাননা স্মারকসহ অসংখ্য এ্যায়ার্ড পেয়েছেন তিনি।

২০০৭ সালে ৮ জন রেডিও ভক্ত মানুষ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন “পারুল রেডিও লিসেনার্স কাব”। ওই সালেই বাংলাদেশ বেতার-খুলনা কাবটির নিবন্ধন দেয়। যার বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের অধিক। কাবের রেডিও পাগল সদস্যদের প্রায় সময়ই তার দোকানে পদচারণা ঘটে, ফলে তার দোকানটি কখনো হয়ে ওঠে ফ্যাান কাবের আড্ডাস্থল। যখন নতুন প্রজন্ম রাত দিন টাচ মোবাইলের ফেসবুক টেলতে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় রেডিও পাগল ভক্তদের স্বদেশ মল্লিকের ফ্যান কাবে পদচারনা স্থানীয়দের পুলকিত করেছে। সচেতনদের কাছে থেকে তাই স্বদেশ বাহবাও পেয়েছেন। ২০১৫ সালে ২৮৫ টাকা দিয়ে বেতার বাংলার গ্রাহক হয়েছেন তিনি। সেখান থেকে নিয়মিত বই পেয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে বেতারের  হীরক জয়ন্তীতে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন।

স্বদেশ মল্লিক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দূর্যোগ মোকাবিলাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ন খবর দ্রুত পাই, রেডিও আমার মনের প্রশান্তি আনে। রেডিও না শুনলে সে দিনটা যেন মাটি হয়ে যায়, আমি যেন কিছু শুন্যতা অনুভব করি। নতুন প্রজন্মকে বলব, ফেসবুকের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে বেশি বেশি রেডিও শুনুন, মন ভাল রাখুন।’