সকল জাতীয় সংবাদ

0
16

প্রধানমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন পহেলা জুলাই
ঢাকা অফিস
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী পহেলা জুলাই পাঁচ দিনের চীন সফরে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, পহেলা জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। সফরসূচি এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর বর্তমান আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ এবং রোহিঙ্গা ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে চীন বিশ্ববাণিজ্য কূটনীতিতে প্রধানতম উদ্যোগ হিসেবে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’কে সামনে এনেছে। এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পেতে চাচ্ছে চীন। বাংলাদেশও এরই মধ্যে চীনের এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে। বেইজিংয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নানা বিষয় এবং এর আলোকে আঞ্চলিক ও বিশ্বরাজনীতিতে যৌথ স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় চীনের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত চীনের অবস্থান মিয়ানমারের পক্ষেই যাচ্ছে বলে ধারণা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে। আশা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। চীন সফরে একাধিক মন্ত্রী এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দল অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালের অক্টোবরে ঢাকা সফর করেন। সে সময়ই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীন সফরে আমন্ত্রণ জানান।

খালেদা জিয়ার রিট নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ
ঢাকা অফিস
নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারে কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত স্থাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা রিট আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি খায়রুল আলমের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ফলে খালেদা জিয়ার রিটের শুনানি হবে হাইকোর্টে নিয়মিত বেঞ্চে।
অবকাশকালীন ছুটি শেষে ১৬ জুন থেকে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চ বসবে। আদেশের পর এ মামলার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি দরকার। অবকাশকালীন এ বেঞ্চের সেই সময় নেই। আদালত খোলার পর নিয়মিত বেঞ্চে দ্রæত এ মামলা শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, খালেদা জিয়ার এ রিটের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট, তাতে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার হতে কোনো বাধা দেখছি না। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার চলছিল। গত ১২ মে সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ মামলার বিচারের আদালত পুরনো কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে। ২৬ মে আদালত স্থানান্তরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর পরদিন এই রিটে পক্ষভুক্ত হয় দুদক। এতে দাবি করা হয়েছে, সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ বহির্ভূত। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধির উপধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনে প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়।

কৃষকের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ টন ধান কিনছে সরকার
ঢাকা অফিস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পড়তি দাম ওঠাতে কৃষকদের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ টন ধান কিনছে সরকার। আগের ঘোষণা অনুযায়ী দেড় লাখ টনের সঙ্গে এ আড়াই লাখ টন মিলিয়ে সরকার এবার চার লাখ টন ধান কিনছে। এতে কৃষক লাভবান না হলে ধান কেনার পরিমাণ আরও বাড়াবে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদসহ কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সোমবার প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কৃষিবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আরও আড়াই লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনব। এতেও বাজার না উঠলে ধান কেনার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। কৃষক যেন নায্যমূল্য পান।
তিনি বলেন, এবার বোরোর ফলন অনেক উদ্বৃত্ত হয়েছে। দেশের খাদ্য গুদামগুলোর ধারণ ক্ষমতা ১৯ লাখ ৬০ হাজার টন। আর এখন গুদামে আছে ১৪ লাখ টন।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে ২৯ হাজার টন বোরো ধান কেনা হয়েছে। এক লাখ ২১ হাজার টন ধান কেনা এখনও বাকি আছে। আরও আড়াই লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এবার সব মিলিয়ে মোট চার লাখ টন বোরো ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনবে সরকার। ধান কেনায় সরকারের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এবার অরেক সাহায্য করছে।
তিনি বলেন, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা বসেছি। তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কৃষিতে প্রনোদনা বাড়ানো ও সারের দাম আরও কমানোর চিন্তা করতে হবে। কৃষিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকের মজুরি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৭শ’ টাকায় ওঠেছে। এটা অবশ্য দেশ যে এগিয়েছে, তার লক্ষণ প্রকাশ করে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৪ লাখ টন খাদ্য মজুদ আছে। এরপরও যদি ধান দাম না বাড়ে, তাহলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকের কাছে থেকে সরাসরি আরও ধান কিনবে সরকার।
তিনি বলেন, কৃষির অবদান কমলেও সার্বিক অর্থনীতিতে এখনও কৃষির গুরুত্ব আছে। বাংলাদেশ ছিল খাদ্য ঘাটতি ও মঙ্গার দেশ। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। আমন ও বোরোতে বেশি ফলন হওয়ায় ধানের দাম কমেছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন। গুদাম না থাকায় দেড় লাখ টন ধান কিনে বাজারে প্রভাব ফেলা যায়নি।
মন্ত্রী বলেন, চালকল মালিকদের কাছে সরকারের বকেয়া আছে ৩ শ’ কোটি টাকা। ফলে তাদের মাধ্যমে মিল গেইটে চাল কেনা সম্ভব নয়। তাদের টাকা দিলে তারা মিটারের নামে আবার সমস্যা করবে। তাই সরকার ৩ হাজার মিটার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার চাল রফতানির বিষয়ে ভাবছে। বিশ্ব কৃষি ও খাদ্য সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে তারা চাল নিতে সম্মত হয়েছে।
সরকার এবছর বোরো মৌসুমে চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকার ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং কৃষকদের কাছ থেকে দেড় লাখ টন বোরো ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৫ এপ্রিল থেকে প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকা দরে ধান-চাল কেনার কথা। কিন্তু সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় শুরু হতে দেরির কারণে ধানের বাজারে ধস নামে। কৃষক উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও পায়নি। পানি দামে ধান বিক্রি করেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুব্ধ কৃষক ধান ক্ষেতে আগুন দিয়ে ধান পুড়িয়ে দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মন্ত্রণালয়কে বেশি ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। দেশের কৃষক সংগঠনগুলো কৃষকের পক্ষে মানববন্ধন করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবী জানায়। খাদ্য মন্ত্রনালয় চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য চায় আ’লীগ : কাদের
ঢাকা অফিস
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ থাকুক, এটাই সরকারি দলের প্রত্যাশা। একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সৃষ্ট টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে গত সোমবার ঐক্যফ্রন্টের ‘স্টিয়ারিং কমিটির’র বৈঠক হয়। সেখানে এই জোটের অনেক নেতা ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেন।
ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পাচ্ছে-এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারে আপনারা যে প্রশ্ন করেছেন, ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয় নেই, ঐক্য নেই। আমরা সেটা চাই না। ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ হোক, তাদের মধ্যে সমন্বয় হোক। একটি শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য শুভ।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল আমরা চাই। সংসদের ভেতরে ও বাইরে শুধু দায়িত্বশীল নয়, শক্তিশালী বিরোধী দল আমরা চাই। বিরোধী দল যথাযথ ভূমিকা পালন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) উদ্বেগ প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগ কোনো চাপ অনুভব করছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে কে কী বলেছে, তা নিয়ে কোনো চাপ আমরা অনুভব করছি না।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কিন্তু ডাক্তাররা তো কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করছেন না। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য উদ্বেগের পর্যায়ে আছে বলে আমাদের জানা নেই। মেডিকেল বোর্ডও এ রকম কোনো তথ্য দিতে পারেনি।’
খালেদা জিয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের জন্য কিছু করতে পারেননি বলে দলটির নেতারা মুখরক্ষায়, কর্মীদের চাঙা করতে নানান কথা বলছেন। বিএনপির নেতারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা না উদ্বিগ্ন, তার চেয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করতেই তাঁরা বেশি অভ্যস্ত ও ব্যস্ত।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বারবার বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। বিদেশিরা কখনো বলেনি বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য খারাপ। তারা বলেছে, বন্দী অবস্থায় যেন ভালো চিকিৎসা হয়। ভালো চিকিৎসা তো হচ্ছে। ডাক্তারদের পক্ষ থেকে তো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগের নেতারা প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন-বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা। শেখ হাসিনার ভালো কাজ তাঁরা (বিএনপির নেতারা) দেখতে পান না। উন্নয়ন তাঁদের চোখে পড়ে না। কারণ হচ্ছে, তাঁরা ধরে নিয়েছেন, তাঁদের রাজনীতি হচ্ছে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা। বাস্তব অবস্থার কোনো বিচার-বিশ্লেষণ তাঁরা করছেন না। আসলে তাঁদের পাওয়ারের চশমা দরকার। উন্নয়ন দেখার জন্য তাঁদের এখন পাওয়ারের চশমা দরকার। পাওয়ারের চশমা হলে হয়তোবা দেখতে পাবেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রুমিন ফারহানা সংসদকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারপরও তাঁর সাহসের আমরা প্রশংসা করি যে তিনি সংসদে এসেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম তো পাস করেও সংসদে আসেননি।’
রুমিন ফারহানার মন্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংসদে এসে সংসদের বিরুদ্ধে বলুক। সরকারের বিরুদ্ধে বলুক। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারপর সংসদে তো এসেছেন। সংসদ সদস্য হয়ে কীভাবে এই সংসদকে অবৈধ বললেন, তার মীমাংসা সংসদ অধিবেশনেই হবে।’

ঈদের চাঁদ ও সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ, হৈ-হট্টগোল
প্রথম দিনেই সংসদে উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপি এমপিরা
ঢাকা অফিস
একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়িয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা চলতি সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে ঈদের আগে চাঁদ দেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধর্মমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এসকল বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারী দলের সদস্যরা হৈ হট্টগোল শুরু করেন। এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে বিএনপি এমপিদের মাইক বন্ধ করে দেন স্পিকার।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে ঈদে চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাট ও বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন মন্তব্য করলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এ নিয়ে সমালোচনার এক পর্যায়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। চাঁদ দেখা ইস্যুতে বিএনপি সদস্যদের বক্তব্যকে সমর্থন জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা। এরপর বিএনপির অপর সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় ও হট্টগোল শুরু হয়।
সর্বশেষ আলোচনার সুযোগ নিয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য নিজে শপথ নিয়ে বর্তমান সংসদ যে বৈধ, তার প্রমাণ দিয়েছেন। আবার অধিবেশনে সংসদকে অবৈধ বলে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অপমাণিত করেছেন, ভোটারদের অবমাননা করেছেন। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানান। এ সময় স্পিকার কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদকে অবৈধ বলা অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করে দেন।
এর আগে বিএনপির হারুন অর রশিদ ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ঈদের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। চাঁদ দেখা যায় সন্ধ্যার সময়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রথমে ঘোষণা দিলেন, কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ হবে না। আবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই আবার বলা হলো, চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ। এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। আর ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ কথা যারা বলেন তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। তিনি চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
সর্বশেষ ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদকে অবৈধ বলায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একমাত্র সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফ্লোর নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। তাঁকে রাজনৈতিক কারণে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের মিথ্যা মামলার কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না।
তাঁর এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার ফারহানার বক্তব্যে প্রত্যাহার ও এক্সপাঞ্জের দাবি জানাতে থাকেন। স্পিকারও বক্তব্য শেষ করার এবং অন্য এমপিদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় সরকারি দলের অন্য এমপিরা ফ্লোর চাইলেও স্পিকার কাউকে ফ্লোর না দিয়ে দিনের পরবর্তী কার্যসূচিতে প্রবেশ করেন।
এর আগে জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ফ্লোর নিয়ে বলেন, ৯০ ভাগেরও বেশি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ, তবুও বিক্রি হচ্ছে। আর চাঁদ দেখা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তড়িঘড়ি করা উচিত হয়নি।
জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ৭৫ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশে মদ-জুয়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই-শায়খ আবদুর রহমানদের তৎপরতা বিএনপি আমলে দেশবাসী দেখেছে। কিন্তু ঈদে চাঁদ দেখানো নিয়ে জনগণকে ভোগান্তি দেওয়া হয়েছে। আর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশের দাম নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে।
সরকারি দলের পংকজ দেবনাথ বলেন, জনমতের চাপে সেনা সমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার এদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন-লুটপাটের কারণেই এই ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হয়েছিল।
জাতয়ি পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, দেশে আসলে হচ্ছেটা কি? নির্বাচনের আগে এই সরকারের একটি প্রতিশ্রæতি ছিলো দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র। এখন দেখতে পাচ্ছি কিছুই হচ্ছে না। ব্যাংক থেকে অনেক টাকা গায়েব হয়ে গেছে। এত টাকা গেল কোথায়? বলা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছড়িয়েছে তাহলে ব্যাংকের টাকা গেল কোথায়। ঋণের টাকা ফেরত আসছে না। আসলে টাকা যাচ্ছে কোথায় সরকারের সেটা খতিয়ে দেখা উচিত।

তারেকের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের
ঢাকা অফিস
ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা শিথিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়।
এর আগে বিকেল ৪টা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকে বসেন আন্দোলনরত ছাত্রদল নেতারা। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে যোগ দেন তারেক রহমান।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, এসময় তারেক রহমান কমিটি গঠনে বয়সসীমা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা অবসানে আরও বৈঠকের আশ্বাস দেন। পরে বৈঠক থেকে বেরিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেন ছাত্রদলের আন্দোলনরত অংশ।
এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদলের কিছু বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী। এসময় পদপ্রত্যাশীরা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়ে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রশিক্ষণ বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন।
বিএনপির এই চার নেতা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা। এসময় কমিটির বিষয়ে তাদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের বাগ্বিতÐা হয়। পরে বরকত উল্লাহ বুলু কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান। আর মিলন, এ্যানী ও মোশারফ কার্যালয়ের পাশে বইয়ে দোকানে বসতে চাইলে সাটার নামিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর এ্যানী ছাত্রদল নেতাদের ধমক দিলে এক নেতা তাকে ধাক্কা দেন।
কমিটি নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের এমন কাÐে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এতে সরকারের উস্কানি আছে।

চলন্ত বাসে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে চালককে গণধোলাই
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নিউ টাউন এলাকায় এক তরুণীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বাসের চালককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয় লোকজন। গত সোমবার রাত দশটায় মেঘনা থেকে ঢাকার গুলিস্থানে চলাচলকারী স্বদেশ পরিবহনের গাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চালক শামীম মিয়ার বাড়ি সোনারগাঁওয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখী মধ্যপাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ওই তরুণী মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন। তিনি ঈদের ছুটি কাটিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে রাত ৯টার দিকে গুলিস্তান পৌঁছে গজারিয়ায় যাওয়ার জন্য স্বদেশ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় গিয়ে সব যাত্রী নেমে যান। ওই তরুণী যাত্রীদের সঙ্গে নেমে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত চালক শামীম তাঁকে মেঘনাঘাটে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। বাস আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় গিয়ে সহকারীর কাছে বাস চালাতে দিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান শামীম। উপজেলার মেঘনা নিউ টাউন শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মার্কেটের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। স্বদেশ পরিবহনের বাসটি দেখে থামাতে বললে চালক গাড়িটি আরও দ্রæতগতিতে চালাতে শুরু করেন। ব্যবসায়ীরা ওই বাস থেকে এক তরুণীর চিৎকার শুনতে পান। পরে স্থানীয়রা গাড়িটি থামিয়ে দেখতে পান, চালক শামীম ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছেন। তাঁরা তরুণীকে উদ্ধার করে চালক শামীমকে ধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে চালকের সহকারী পালিয়ে যান।
সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাওহিদ উল্লাহ বলেন, স্বদেশ বাসে ধর্ষণচেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ মেঘনা নিউ টাউনে গিয়ে চালক ও বাসটি আটক করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেছেন।

বাজেট অধিবেশন শুরু
# কাল ২০১৯-’২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা
ঢাকা অফিস
একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ৬ মিনিটে শুরু হওয়া এ অধিবেশনেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার চলতি অধিবেশনের সভাপতিমÐলী মনোনয়ন দেন।
স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিমÐলীর সদস্যরা সংসদ পরিচালনা করেন। এ অধিবেশনে সভাপতিমÐলীর সদস্যরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, এবি তাজুল ইসলাম, হাবিবে মিল্লাত, কাজী ফিরোজ রশীদ ও মেহের আফরোজ চুমকি।
এর আগে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির তৃতীয় সভায় কমিটির সভাপতি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া কমিটির সদস্য রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মো: ফজলে রাব্বী মিয়া, আনিসুল হক, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং নূর-ই-আলম চৌধুরী সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, আগামী ১৩ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৯-’২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ১৪ ও ১৫ জুন দুইদিন বন্ধ থাকার পর ১৬ জুন সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনা শুরু হবে। ১৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাশ করা হবে। ১৮ জুন হতে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে।
আগামী ২২ ও ২৯ জুন এই দুই শনিবার অধিবেশন কার্যক্রম চলবে। ৩০ জুন ২০১৯-’২০ অর্থবছরের বাজেট পাশ করা হবে। এরপর ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন বন্ধ থােেকব। ৭ জুলাই থেকে ১১জুলাই পর্যন্ত এ অধিবেশন চলবে। প্রতিদিন বিকাল ৩ টায় অধিবেশন শুরু হবে।
সভায় জানানো হয় একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদে উত্থাপণের জন্য কোনো সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। আগে অনিষ্পন্ন ৩টি সরকারি বিল পাশের জন্য কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে। বেসরকারি সদস্যদের নিকট হতে কোনো বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। আগে পাওয়া ও অনিষ্পন্ন ১টি বেসরকারি বিল রয়েছে।
এ অধিবেশনের জন্য এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮৩টি ও সাধারণ প্রশ্ন ১ হাজার ৮৫১টিসহ প্রাপ্ত মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩৪টি । এছাড়া ১৭০টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি ১৩১) ও ৪৭টি মনোযোগ আর্কষনের নোটিশ (বিধি ৭১) পাওয়া গেছে।
সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান সভার কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠক শুরু হয়।
শুরুতে এই সংসদকে বয়কটের ঘোষণা দিলেও নানা নাটকীয়তার পর দ্বিতীয় অধিবেশন চলাকালে ৯০ দিনের মেয়াদের শেষ দিনে শপথ নেন বিএনপির এমপিরা। গত ২৪ এপ্রিল শুরু হয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছিল ৩০ এপ্রিল। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বসা ওই অধিবেশনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল বিএনপি সদস্যদের শপথ ও সংসদে যোগ দেওয়ার ঘটনা।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও এবার ঈদের ছুটির কারণে দ্বিতীয় সপ্তাহে বসতে যাচ্ছে। এ কারণে বাজেটের ওপর সদস্যরা আলোচনার সুযোগ কম পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরাবরের মতোই বাজেট পেশের আগে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে তা অনুমোদন করা হবে। বাজেট অধিবেশন সম্পর্কে সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাজেট পেশের দিন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতিসহ বিশিষ্টজন সংসদে উপস্থিত থাকবেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানান, এবারের বাজেটের আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো। পুঁজিবাজারে দরপতন, নতুন মন্ত্রিসভা, নতুন অর্থমন্ত্রী, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন ইস্যুর কারণে এবারের বাজেট আলোচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজেট পেশের পর সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা করবেন। পরে ৩০ জুন ওই বাজেট পাস হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস ছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদের বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরাও এবারের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তাদের পক্ষ থেকে একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবও জমা পড়েছে। তবে এই প্রস্তাব সংসদের বৈঠকে আলোচনা হবে কি-না, তা নির্ভর করছে স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও ২২ পণ্য বাজার থেকে তুলতে নির্দেশ বিএসটিআইর
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৪০৬টি পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অবশিষ্ট ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষা করে ২২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে ‘নিম্ন মানের বলে ঘোষণা করেছে জাতীয় মান নির্ধারণকারী সংস্থা বিএসটিআই। এসব পণ্য আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাজার থেকে তুলে নিতে কোম্পানিগুলোকে গতকাল মঙ্গলবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে হাসেম ফুডসের কুলসন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই এবং এস এ সল্টের মুসকান ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, প্রাণ ডেইরির প্রাণ প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘি, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের রাঁধুনী ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুঁড়া ও জিয়ার গুঁড়া, চট্টগ্রামের যমুনা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের এ-৭ ব্র্যান্ডের ঘি, চট্টগ্রামের কুইন কাউ ফুড প্রোডাক্টসের গ্রিন মাউন্টেন ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল, চট্টগ্রামের কনফিডেন্স সল্টের কনফিডেন্স ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির জে কে ফুড প্রোডাক্টের মদিনা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, চাঁদপুরের বিসমিল্লাহ সল্ট ফ্যাক্টরির উট ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং চাঁদপুরের জনতা সল্ট মিলসের নজরুল ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ। এসব পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করেছে বিএসটিআই।
তবে থ্রি স্টার ফ্লাওয়ার মিলের থ্রি স্টার ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া এবং এগ্রো অর্গানিকের খুশবু ব্র্যান্ডের ঘি নিম্নমানের হওয়ায় কোম্পানি দুটির লাইসেন্স বাতিল করেছে বিএসটিআই। আরও ৮টি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের কোনো লাইসেন্স ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করছিল। তাদের নাম প্রকাশ না করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়োমিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।
বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পণ্যগুলোর মানোন্নয়ন করে পুনঃঅনুমোদন ব্যতিরেকে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের পণ্য বিক্রি-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার হতে বিরত থাকার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারীগণকে বিক্রিত মালামাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রদান করা হল।
যেসব পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে, তার কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার রুখসানা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ভোক্তাসহ সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই আমাদের সব পণ্য তৈরি করা হয়। বিএসটিআই চাইলে আবারও পরীক্ষা করে দেখতে পারে।
গত রোজাকে সামনে রেখে বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তার মান পরীক্ষা করে বিএসটিআই। গত ১ মে প্রথম ধাপে ৩১৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে তারা। সেখানে ৫২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে নিম্নমানের বলে ঘোষণা করা হয়। তবে পরে কয়েকটি পণ্য মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বিএসটিআই। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৩ হাজার কোটি টাকা
আসাদুজ্জামান ইমন,ঢাকা
লাগামহীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কোনোভাবে এর রাশ টানতে পারছে না সরকার। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মার্চ মাস শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল) ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৭ লাখ ৫ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। যা মোট ঋণের ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
সূত্র আরও জানায়, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। যা ডিসেম্বর ২০১৮ শেষে ছিল ৯৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মে দেয়া ঋণ আর আদায় হচ্ছে না। অন্যদিকে বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠন করা ঋণ আবার খেলাপি হচ্ছে। ফলে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। এতে করে জনগণের আমানত গ্রহণ করলেও তার সুরক্ষা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো।
সূত্র জানায়, দেশে ব্যবসারত বিদেশি ৯ ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ৩৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। খেলাপি ঋণ তিনটি শ্রেণীতে বিভাজন করা হয়। একটি নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ বা ক্ষতিজনক মান।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ।
নিয়মানুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। এছাড়া নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। এতে করে কমছে মুনাফা।

এমপি লিটন হত্যাকাÐ
অস্ত্র মামলায় জাপার সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাÐের ঘটনায় এ সংক্রান্ত অস্ত্র মামলায় সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদÐ দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন গাইবান্ধার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক। কাদের খান জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি।
এর আগে, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক, শুনানিসহ সব কার্যক্রম শেষে গত ৩০ মে রায় ঘোষণার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সময় নির্ধারণ করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাইবান্ধার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রায়ের সময় অভিযুক্ত আসামি কাদের খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে লিটন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।
এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় তিনটি অস্ত্র ব্যবহার হয়। এর মধ্যে একটি অস্ত্র কাদের খান নিজে থানায় জমা দিয়েছেন। দ্বিতীয় অস্ত্রটি আব্দুল কাদের খানের গ্রামের বাড়ি ছাপরহাটি থেকে উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তৃতীয় অস্ত্রটির সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি কাদের খানকে বগুড়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে কাদের খানের দেওয়া তথ্যে তার বাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জের সাহাবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলি বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া হত্যার কাজে ব্যবহৃত গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইন মামলায় সুন্দরগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ। হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কাদের খানসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়।

নেত্রকোনায় ভাতিজাদের হাতে চাচা খুন
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জমি সংক্রান্ত্র বিরোধের জেরে ভাতিজাদের হামলায় চাচা ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রধান শিক্ষক এ এম কুতুবউদ্দিন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের সালতী ভবানিপুর গ্রামে।
নিহতের ভাতিজা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, বাগানবাড়ি নিয়ে চাচা কুতুবউদ্দিনের ভাই শামছুদ্দিনের ছেলে আজিজুল হক, মোজাম্মেল হক ও মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সাত্তারদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে চাচা কুতুবউদ্দিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পিছন থেকে ভাতিজা আজিজুল হকরা হামলা চালায়। তাকে লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
এতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুতুবউদ্দিনকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে পথিমধ্যেই কুতুবউদ্দিন মারা যান। নেত্রকোনা সদর সার্কেলের সহকারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত তিনজন আটক করা হয়েছে।

ষষ্ঠ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সপ্তম বিয়ে করতে না দেয়ায় বাবাকে হত্যা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
মাসুম মিয়া টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের টেংগুরিয়া পাড়া গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ৪ সন্তানের মধ্যে বড়। ছোট ২ ছেলে দির্ঘদিন দুবাই প্রবাসী। একমাত্র মেয়ে রাশদা বেগমের বিয়ে হয়েছে পাশের গ্রামে। মেঝ ছেলে সুমন চার মাস আগে বিয়ে করলেও প্রবাসে থাকার সুবাদে তার স্ত্রী শশুর বাড়িতেই থাকে। মাসুম মিয়া গত ৭/৮ বছরে ছয়টি বিয়ে করেছেন । ষষ্ঠ স্ত্রীকে স¤প্রতি তালাক দিয়েছে এবং ফের বিয়ে করাবার জন্য অসুস্থ মা এবং বাবা খোরশেদ মিয়াকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং বাবার সাথে ঝগড়ার শুরু হয় তার। এই ঝগড়ার রেশ ধরে নির্জন বাড়িতে গতকাল সোমবার বাবা খোরশেদ মিয়াকে হত্যা করেছে বড় ছেলে মাসুম মিয়া এমন অভিযোগ করে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের মেয়ে রাশেদা বেগম।
বাসাইল থানা পুলিশ নিহতের বাড়ির দেড়’শ গজ পশ্চিম পার্শে¦র ধানক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। অভিযুক্ত মাসুম মিয়াকে ঘটনার দিন সকালে বাড়িতে দেখলেও বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম তুহীন আলী বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের মেয়ে রাশেদা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঝালকাঠিতে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে দিলেন পুলিশ সদস্য
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে স্কুল শিক্ষার্থী দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুর মাথার চুল কেটে দিয়ে অমানবিক আচরণ করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন যুবক গত রবিবার বিকেলে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটায়। নির্যাতন ও চুল কাটার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান (১৪) বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় (১৪) একই গ্রামের আবদুল ক্দ্দুস হাওলাদারের ছেলে। তারা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা গৌরনদী থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়িতে গত শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রবিবার সকালে সজিব ও রিফাত নামে দুই শিশুকে আটক করে শাহ আলম ও তার ছেলেরা। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেয়। শাহ আলম বেøড দিয়ে জয় নামে এক শিশুর মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেয়। তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পুরো ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন স্থানীয় লোকজন। চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান, আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি।
নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র জয় সাংবাদিকদের জানায়, গত রবিবার রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্য শাহআলম বেøড দিয়ে আমার মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে শিশু নির্যাতনকারী একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে চাপে দেশের অর্থনীতি: সিপিডি
ঢাকা অফিস
গত এক দশকের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। গতকাল মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় অর্থনীতির পর্যালোচনা ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এমন দাবি করেন।

তিন কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় চিড় ধরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অনুষঙ্গগুলো হলো- কর আহরণে দুর্বলতা, ব্যাংকিং খাতে সমস্যা এবং বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতিতে চাপ।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতের সমস্যা দূর করতে স¤প্রতি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার একটিও ভালো ফল দিতে পারেনি। বরং ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে।
তার মতে, কর আহরণে দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারকে উচ্চ সুদের অর্থায়নের দিকে যেতে হচ্ছে, যা সরকারের বাজেট ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। দেশের অর্থনীতির সংস্কার প্রয়োজন জানিয়ে সিপিডির বিশেষ এই ফেলো বলেন, এই সংস্কার হতে হবে ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে আরও অনেক খাতে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের সূচকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের দিক থেকে ততটা ভালো অবস্থানে নেই।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে অনেক সংস্কার হয়েছে। শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য এই সংস্কার অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। শুধু সংস্কার বা প্রণোদনা দিলেই শেয়ারবাজারে কাজে আসবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here