কর্মস্থলে ফেরাও স্বস্তিদায়ক হোক

0
33

ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বলা যায়, এবার ঈদে ঘরে ফেরা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে ফেরায় বিভিন্ন পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। আজ থেকে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ফিরতি মানুষের ভিড় বাড়বে। চলবে আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত। এই সময়টা বিশেষ নজরদারি দরকার। বছরে দুটি ঈদ মুসলমানদের জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব। কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে যে যেখানেই থাকুক না কেন, দুটি ঈদে অন্তত তারা নিজ নিজ পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরে যায়। বরাবরের মতো এবার ঈদযাত্রায় টিকেটের ভোগান্তি থাকলেও পথে যানজট কম ছিল। উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি মানুষের চাপ অনেকটাই পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপরও দুর্ঘটনা রোধ করা যায়নি। সড়ক দুর্ঘটনা চালকের অসতর্কতার কারণেই প্রধানত ঘটে থাকে। ঈদের সময় অধিক যাত্রী পরিবহন এবং চালকের তাড়াহুড়োর কারণে প্রতিবারই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের আগে ও পরে সারাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ঈদেই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২১ জন। দুর্ঘটনার চিত্র পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) বলছে, এসব দুর্ঘটনার ৪৪ শতাংশ ঘটে দুই বা ততোধিক যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষজনিত কারণে। এর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটে প্রায় ১৭ ভাগ। বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য মূলত দায়ী চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অদক্ষতা। এ ছাড়াও সড়কের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। একেকটি দুর্ঘটনার পর অনেক পরিবারই তলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। দেশে এসব পরিবারের সংখ্যাও কম নয়। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। প্রতি বছরই ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেন, আশ্বাস-প্রতিশ্রুতি দেন। এবারো দিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভোগ কমাতে পারলেও দুর্ঘটনা পিছু ছাড়েনি। ঈদের পর দিন ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চালানোর পরিণামে দেশের নানা স্থানে অনাকাক্সিক্ষত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা ঈদের আনন্দে সংশ্লিষ্টদের জন্য কেবল অমোচনীয় বিষাদই শুধু বয়ে আনেনি; হতাহতদের স্বজনের আহাজারি অন্যদের আনন্দও ম্লান করে দিয়েছে। এ কথা ঠিক যে, মৃত্যু মানুষের স্বাভাবিক নিয়তি। কিন্তু দুর্ঘটনায় মৃত্যু কারো কাম্য নয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার দায় সংশ্লিষ্টদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, দেশের বিস্তৃত সড়কপথকে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোও যেহেতু চিহ্নিত, সেহেতু সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। ঈদে ঘরে ফেরার পালায় সড়ক ও নৌপথে ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সরকার যে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে তা কর্মস্থলে ফেরার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here