সকল জাতীয় সংবাদ

0
29

ক্ষমতায় থেকেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় থাকলে দেখা যায় দলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, কিন্তু আমরা ক্ষমতায় থেকেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসটা অর্জন করতে পেরেছি। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তার দল ক্ষমতায় থাকাকালীন মানুষের জন্য যে উন্নয়ন করেছে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে কাজটা করেছে, সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের ওপর দেশের জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস দেখিয়েছে, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহŸান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সে সময় বিদেশে অবস্থানকালীন তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানার দেশে ফেরার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তৎকালীন সরকার। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করলে একরকম জোর করেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দল এবং সব সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
৩৮ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন উপলক্ষে শেখ হাসিনা দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের অপরিসীম ত্যাগ তিতিক্ষার জন্যই আওয়ামী লীগ আজকে বাংলাদেশে এক নম্বর রাজনৈতিক দল। যে পার্টি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে এবং সেই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ছিল এবারের নির্বাচন। তিনি বলেন, নির্বাচনে একেবারে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যারা একেবারে প্রথমবারের ভোটার, তারা সবাই ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দলের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস জানিয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশের মধ্যে আমরা একটা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। তিনি বলেন, অন্তত এটুকু বলতে পারি এই ৩৮ বছরে বাংলাদেশের বা দেশের মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়, এমন কোনো কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য করে নাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই কাজ করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, যতবারই ক্ষমতায় এসেছি, কাজ করেছি এবং মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং দেশটা যেন ওই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের হাতে এ দেশের মানুষের ভাগ্যটা চলে না যায়, তারা যেন আর কোনো দিন এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের করে এনেছেন উল্লেখ করে বলেন, খুনিরা যদি সমাজে দম্ভ করে খুনের কথা প্রচার করে এবং তার যদি বিচার না হয়, তাহলে সে সমাজে এমন অপরাধ চলতেই থাকে।
তিনি বলেন, একটি দলের সভানেত্রী হিসেবে ৩৮ বছর। চিন্তা করলে অবাকই লাগে। এটা বোধ হয় একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে। আপনাদেরও সময় এসেছে, তা ছাড়া বয়সও হয়েছে, চোখের ছানির অপারেশন করিয়ে এসেছি (লন্ডন থেকে), কাজেই বাস্তবতাকে তো মানতে হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের এগিয়ে যাওয়াটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’
দেশের দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আমরা ২১ ভাগে নিয়ে এসেছি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই হারকে আমরা আরও নামিয়ে আনব, এই দেশে হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না।

ঢাকায় ৯৩ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্যান্ডেল লন্ডভন্ড
চার জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ নিহত ৯
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সারাদেশে কাল বৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৯জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকায় চারজন, নওগাঁয় দুই ধান কাটা শ্রমিক, রাজশাহীর বানেশ্বরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই বৃষক নিহত হয়েছে।
ঢাকা : ইফতারির পর হঠাৎ ৯৩ কিলোমিটার বেগে রাজধানীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। এতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্যান্ডেল ভেঙে মারা গেছেন এক মুসল্লি। বাড্ডায় দেয়াল ধসে মারা গেছেন অন্তত তিনজন। ভেঙে পড়েছে গাছের ডাল। জৈষ্ঠ্য মাসে এমন আরও কালবৈশাখী মাঝে মধ্যে হানা দেবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, ঢাকায় মৌসুমের বড় ধরনের কালবৈশাখী হয়ে গেছে গতকাল শুক্রবার) সন্ধ্যায়। বিমানবন্দর এলাকায় এ ঝড়ের সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ৯৩ কিলোমিটার। আগারগাঁওয়ে ৬৫ কিলোমিটার বেগে এ ঝড় বয়ে যায়। দেশের অন্যান্য স্থানেও এ ঝড় বয়ে গেছে। রংপুরে এ ঝড়ের গতি ছিল ৬৭, বগুড়ায় ৬৫ ও রাজশাহীতে ৫২ কিলোমিটার।
হঠাৎ এ ঝড় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ তাÐব চালিয়ে গেছে প্রকৃতিতে। ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা, গাছপালা। উড়িয়ে নিয়ে গেছে চাল। ইফতারির পরপরই হওয়ায় ঘরে ফেরা অনেক মানুষও বেশ বিপাকে পড়ে এ ঝড়ে। সঙ্গে দমকা বৃষ্টি থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ে।
দমকা বাতাস ও ঝড়ো বৃষ্টির কবলে পড়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের পশ্চিমপাশে মুসল্লিদের নামাজের অস্থায়ী প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে সফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অন্তত ১৩ জন।
বায়তুল মোকাররমে চলছে উদ্ধার কাজএছাড়া মধ্যবাড্ডায় প্রাণ সেন্টারের পাশে একটি দেয়াল ধসে তিনজন আহত হন। এর মধ্যে ২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও একজনকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তিনজনই মারা গেছেন।
ক’দিনের তীব্র গরমের পর এ ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি আতঙ্ক হয়ে দেখা দেয় রাজধানীবাসীর। ব্যাপক সতর্কতা থাকার পরও ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময়ে বাতাসের গতিবেগ এতো ওঠেনি রাজধানীতে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৈশাখটা যেমন খরতাপে কেটেছে, জৈষ্ঠ্যটাও একইভাবে কাটবে। মাঝে একটু আধটু বৃষ্টিপাত কিছুটা আরাম দিলেও দিনের বেলায় সূর্য তার তেজ নিয়েই হাজির হবে। ফলে তাপমাত্রার তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।
রাজধানীর এ বৃষ্টিপাত বেশিক্ষণ চলবে না। কিছুটা তাপ কমবে। আবার বাড়বে। এভাবেই চলবে। খুলনা ও ঢাকার কিছু কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। এটা অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদফতর এক পূর্বাভাসে আরও জানিয়েছে, সাগরে লঘুচাপ আছে। সোমবার নাগাদ তাপমাত্রা আরও বাড়বে। তবে আগামী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও কিছুটা বাড়বে। আর শনিবার সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে এবং রংপুর, রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো অথবা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া দেশের সর্বত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও আকাশ মেঘলা থাকবে। তবে কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণের কোনো সতর্কতা নেই। গতকাল শুক্রবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি। আর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজারহাটে, ৩৭ মিলিমিটার।
নওগাঁ : নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে দুই ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতরা হলেন, উপজেলার গানইর গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে শফিনুর ইসলাম (৩২) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঠালিপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩৫)।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে আধা ঘণ্টা ধরে পোরশা, সাপাহার, মান্দা, রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও সদর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবলবেগে ঝড় বয়ে যায়। এছাড়া বৃষ্টিও হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে মাঠে থাকা ধান কাটা শ্রমিক শফিনুর ও হাসান নিহত হন।
ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সবচাইতে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাণীনগর উপজেলার পারইল, একডালা ও কালিগ্রাম ইউনিয়নে। তিন ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত কাঁচা ঘরের চাল উড়ে গেছে। আমসহ অনান্য ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।এছাড়া বজ্রপাতে গানোইর গ্রামের আব্দুল্লার ছেলে বুলবুল (৩২) আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
রাজশাহী : রাজশাহীর বানেশ্বরে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান সরকার ঝড়ের কবলে প ড়ে মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের সময় তিনি বানেশ্বর বাজারের একটি মুড়ির মিলে ছিলেন। পরে ঝড় শুরু হলে একটি ইট এসে তার মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোবহানের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও এক কৃষক। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষকেরা হলেন- শ্রীরামপুর গ্রামের মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে মোশাররফ হোসেন (৩৫) ও মৃত হযরত আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৫৫)। আহত হযরত আলী (৫৮) ওই গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে শ্রীরামপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী কুমারী বিলে তারা ধান কাটছিলেন। হঠাৎ করেই আকাশে মেঘ এবং ঝড় উঠে। এ সময় বজ্রপাতে মোশাররফ ও রেজাউল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান আহত হন হযরত আলী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হযরত আলীকে উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাণের হলুদ গুঁড়োসহ ৫ পণ্যে হতে পারে ক্যানসার ও কিডনি রোগ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
দেশে ভেজাল খাবারে বাজার সয়লাব। তবে রমজানে ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে চলছে প্রশাসনের জোরালো অভিযান। স¤প্রতি বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় প্রাণের গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাইসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
যে ৫২টি খাদ্য পণ্য বিএসটিআই কর্তৃক মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, সেই তালিকায় নির্দিষ্ট পাঁচ ধরনের খাবারের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে- প্যাকেটজাত লবণ, তেল, হলুদ, লাচ্ছা সেমাই ও বোতলজাত পানি। বাজারের খুব নামকরা সব কোম্পানির খাদ্যপণ্য রয়েছে এর মধ্যে।
খাদ্যপণ্যে ভেজালের বিষয়ে নর্দান ইন্টারন্যানাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুষ্টিবিদ তাসনিম আসিফ যুগান্তরকে বলেন, লবণে আয়োডিনের মাত্রা, গুঁড়ো মশলায় কৃত্রিম রং মেশানো, লাচ্ছা সেমাইতে রয়েছে বাড়তি তেল অথবা চর্বি-জাতীয় পদার্থ আর বোতলজাত পানিতে জীবাণু ও সরিষার তেলে আয়রন।
তিনি বলেন, এগুলো মানদেহের জন্য মারত্মক ক্ষতিকর। এই ভেজাল খাদ্যপণ্য খেলে হার্টে বøক, ক্যানসার, লিভার ও কিডনি ড্যামেজ হয়ে এক সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
‘লাচ্ছা সেমাইতে রয়েছে বাড়তি তেল অথবা চর্বি-জাতীয় পদার্থ। ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে হার্ট বøক হয়ে যেতে পারে। হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। এ সময় তিনি প্রাণের গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাইসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের ৫২টি খাদ্যপণ্য না কিনতে সকলকে পরামর্শ দেন।
নিচে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া ৫টি পণ্যের বিষয়ে তুলে ধরা হলো-
লবণে আয়োডিনের মাত্রায় হেরফের :বিএসটিআইয়ের তালিকায় থাকা প্যাকেটজাত লবণগুলোতে আয়োডিনের মাত্রা ঠিক নেই। এমনো হয়েছে যে আয়োডিন দেয়া হয়নি ও পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম-বেশি হয়েছে।
মশলায় কৃত্রিম রং : গুঁড়ো মশলা দেখতে সুন্দর করতে কৃত্রিম রং মেশানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাণের হলুদ গুঁড়োসহ আরও বেশ কয়েকটি পণ্য রয়েছে। কৃত্রিম রং মেশানোর এসব হলুদ বা মরিচের গুঁড়ো দেখতে সুন্দর মনে হলেও এতে মিশে যাচ্ছে সীসা ও আর্সেনিক।
লাচ্ছা সেমাই : বিএসটিআইয়ের তালিকায় থাকা লাচ্ছা সেমাইতে ফ্যাট পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। এই সেমাই খেলে আমাদের শরীরে খাবার কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেয়ে হার্ট বøক হয়ে যেতে পারে।
বোতলজাত পানিতে জীবাণু: পানিতে সবচেয়ে বেশি মারাতœক রোগ হয়। তাই সুস্থভাবে বাঁচতে হলে বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নেই। বেশ কিছু বোতলজাত পানিতে জীবাণু পেয়েছে বিএসটিআই। বিশুদ্ধ পানিতে একটি নির্ধারিত পিএইচ মাত্রা রয়েছে। সেই নির্দিষ্ট পিএইচ না থাকা মানে পানিটি বিশুদ্ধ নয়।

সরিষার তেল : সরিষার তেলে কোনো আয়রন বা লৌহ জাতীয় পদার্থ থাকার কথা নয়। তবে সরিষার তেলে পাওয়া গেছে আয়রন। সরিষার তেলের যে ঝাঁঝ বাড়ানোর জন্য, অন্যধরনের তেলের মধ্যে এক ধরনের কেমিকেল মিশিয়ে সেই ঝাঁঝ বানিয়ে সরিষার তেল বলে বিক্রি করা হয়।

কারও দাস হিসেবে কাজ করব ভাবলে ভুল করবে: অলি আহমদ
ঢাকা অফিস
বিএনপি থেকে বের হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, তাঁদের বিদ্রোহ ছিল তখনকার সরকারের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং তা ছিল উপমহাদেশের এক নজিরবিহীন ঘটনা। শুক্রবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এলডিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অলি আহমদ এ কথা বলেন।
এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে আমরা কারও দাস হিসেবে কাজ করব, তাহলে ভুল করবে। ২০০৫ সালে আমরা মনে করেছিলাম, রাজনীতিতে ভুল হচ্ছে। সে জন্য উপমহাদেশে একটা নজিরবিহীন ঘটনা হয়েছিল। তিনজন মন্ত্রীসহ ৩২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে আমরা এলডিপি গঠন করি। এটা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়, সে সময়ে সামগ্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের বিদ্রোহ ছিল।’
অলি আহমদ বলেন, ‘আজকের ব্যবস্থা আরও শতগুণ অবনতি হয়েছে। এখন আমরা কী ঘরে বসে থাকব? ২০-দলীয় জোটে একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলব? বেগম জিয়া এখনো কারাবন্দী। শুধু তা-ই নয়, লক্ষাধিক নেতা-কর্মী কারাগারে, আমরা তাঁদের সম্পর্কে চিন্তাও করছি না। সমগ্র দেশ আজ জেলখানায় পরিণত হয়েছে। আমরা এর জন্য সংগ্রাম করব, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জনমত গঠন করব।’
বিএনপির এই সাবেক নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিছু লোক চায় না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক। কারণ তিনি জেল থেকে বের হলে তাঁদের অসুবিধা হয়।
সরকারের সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষের অবস্থা ভয়াবহ। গরিব মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। অনেক কিছুই ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।

মালদ্বীপের সেই মডেলের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি ইন্টারপোলের
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের নাগরিক মডেল রাউধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনার তিনটি তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে ইন্টারপোল। ভিসেরা, ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে মালদ্বীপ সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এরপরই এই মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই’র রাজশাহী কার্যালয় থেকে এসব কাগজপত্র তলব করেছে পুলিশ সদর দফতর।
পিবিআই রাজশহী কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, রাউধার আত্মহত্যার ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন চেয়েছে পুলিশ সদর দফতর। সেগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রতিবেদনগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর হয়ে ইন্টারপোলের কাছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘পিবিআই তদন্তে রাউধা আত্মহত্যাই করেছিল সেটা পাওয়া যায়। আমরা ইতোমধ্যে রাউধার আত্মহত্যার তদন্ত কাজ শেষ করেছি এবং আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। অন্যান্য সংস্থার তদন্ত শেষে পঞ্চমবারের মত এ বিষয়ে তদন্ত কাজ চালাচ্ছিল পিবিআই।’
মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আতিফ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ মেডিকেলের ছাত্রী হোস্টেলের নিজ কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর ঘটনা শাহ মখদুম থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করে।
এছাড়াও মালদ্বীপের পুলিশের দুইজন কর্মকর্তা এসে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তবে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ পুলিশের আত্মহতার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজশাহীর আদালত ঘটনাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়।

বান্দরবানে শেল বিস্ফোরণে সেনা সদস্য নিহত
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
বান্দরবানের সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে পরিত্যক্ত শেল বিস্ফোরিত হয়ে এক সেনা সদস্য নিহত ও আরো ১১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের আমতলি ফায়ারিং রেঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ডিভিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল শুক্রবারের টেস্ট ফায়ারিং শেষে শনিবারের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। তখনই কোনো একটি অবিস্ফোরিত শেলে বিস্ফোরণ ঘটে বলে তারা ধারণা করছেন। এদিকে দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বিজিবির বাইতুল ইজ্জত ট্রেনিং সেন্টারে নেয়া হয়। সেখান থেকে আহত ১১ জনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাটোরে ৩৫ হাজার ডিম ভেঙে ক্লোজড ৬ পুলিশ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আগ্রাণ সুতিরপাড় এলাকায় ডিম ভর্তি একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পথচারী সড়কে নেমে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি দল। গত বৃহস্পতিবার ভোরের ওই ঘটনায় পুলিশ দেখে স্বস্তি ফেরে চালক ও সহকারীর। তারা ডিমভর্তি গাড়িটি মহাসড়কে তোলার ব্যাপারে তাদের কাছে সহযোগিতা চান।
ওই সময়ে পুলিশ রেকারভাড়া বাবদ ২০ হাজার টাকা বকশিস দাবি করে। এত টাকা নেই জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ডিমের খাঁচা আটকানো দড়ি কেটে দিতে থাকে পুলিশ। এতে ডিমের খাঁচাগুলো সড়কে পড়ে ৩৫ হাজার ডিমের প্রায় সবই ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার জড়িত ৬ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ডিমের মালিক সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মেসার্স প্রীতিমণি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব কুমার সাহা জানান, পুলিশের এমন কাÐে তার অন্তত তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সোহেল রানা জানান, ঘটনা সম্পর্কে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিমের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইওয়ে পুলিশের এসপি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের হাইওয়ে বগুড়া রিজিয়ন সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

সিডনিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যৌন হয়রানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক চিকিৎসক। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তার সাজা ঘোষণা করবেন আদালত। গত বুধবার শুনানি শেষে শরীফ ফাত্তাহ নামের ওই চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করেন সিডনির স্থানীয় একটি আদালত।
শরীফ ফাত্তাহর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির ৩০টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৮টিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। অর্থাৎ ১৮টি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। ১৯ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৬ জন নারী শরীফ ফাত্তাহর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
৬২ বছর বয়সী চিকিৎসক শরীফ ফাত্তাহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। তিনি সিডনিতে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন। তিনি সিডনিতে ক্যামডেন হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি সেন্টারটিতে যোগ দিয়েছিলেন।

শরীফ ফাত্তাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চিকিৎসার সময় অনাবশ্যক পরীক্ষার নাম করে নারী রোগীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতেন।
২০১৭ সালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীর সঙ্গে শরীফ ফাত্তাহ জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি (নারী) পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শরীফ ফাত্তাহ গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আসে। গ্রেপ্তারের পর শরীফ ফাত্তাহকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা প্রদান বন্ধ রাখার শর্তে তখন তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের কোনো বৈধ ভিসা বর্তমানে শরীফ ফাত্তাহর নেই। এ জন্য তাঁকে ভিলাউড বন্দিশালার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত ৯
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত নয় জন নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের ওই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজন জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি (যাদের একজন পাকিস্তানি কমান্ডার), স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী দল হিজবুল মুজাহিদিনের দুই সদস্য, দুই ভারতীয় সেনা এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
গত ১৪ ফেব্রæয়ারি পুলওয়ামায় ভারতীয় জওয়ানদের গাড়ি বহরে জঙ্গি হামলার পর কাশ্মীরে একদিনে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিদল জইশ-ই-মোহাম্মদের ওই বোমা হামলায় ৪০ জওয়ান নিহত হয়।
তারপর থেকে মুসলমান অধ্যুষিত কাশ্মীরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুলওয়ামায় হামলার পর জঙ্গি আক্রমণ প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে ‘অবাধ ক্ষমতা’ দিয়েছেন। কাশ্মীরের গ্রামগুলোতে প্রতিদিনই তল্লাশি অভিযান চলছে এবং গোলাগুলির মধ্যে পড়ে বেসামরিক নাগরিকরা প্রাণ হারাচ্ছেন।
সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার নিহতদের একজন রইস আহমদ দার (৩২) বলে জানান গ্রামবাসীরা।
তারা বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি বাড়িতে জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে সন্দেহে তল্লাশি করতে গিয়ে প্রথমে রইসকে ভেতরে পাঠায়। সেনাবাহিনী এর আগেও বেসামরিক নাগরিকদের এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, রইস দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে মারা গেছেন। তাকে তল্লাশি করতে পাঠানো হয়নি। সংঘর্ষের প্রতিবাদে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘দ্য জয়েন্ট রেজিসটেন্স লিয়ারশিপ’ (জেআরএল) গত শুক্রবার কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে।
জেআরএল’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও হত্যাকাÐ থামছে না। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র যুবাসহ ভারতীয় সেনাদের রক্ত ঝরেই চলছে।

আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
বিশেষ প্রতিনিধি
আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। দেশের বৌদ্ধ স¤প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করবে। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ‘‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে এ দেশের বৌদ্ধ স¤প্রদায় গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে জ্ঞান, মেধা, কর্মদক্ষতা ও কৃতিত্বে নিজেদের আরও ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বুদ্ধ পূর্ণিমা । প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতমবুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন নেপালের লুম্বিনী কাননে। এ রাতেই তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের বুদ্ধগয়ায়। এছাড়া গৌতমবুদ্ধের মৃত্যুও হয়েছিল এ রাতেই। আর এ কারণেই এ তিথিকে বলা হয় ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমা। এছাড়া গৌতমবুদ্ধের জন্ম, মহাপ্রয়াণ ও বোধিলাভ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর অপর নাম বৈশাখী পূর্ণিমা।
দিনভর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দিনটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন , বাসাবো সবুজবাগ বৌদ্ধ বিহার দিবসটি উৎসবমূখর এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপনের জন্য দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কমৃসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধপূজা, মহাসংঘদান এবং আলোচনাসভা ।

কৃষিতে অবদানে ‘এআইপি কার্ড’ দেবে সরকার
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের নির্বাচন করে স্বীকৃতি দেবে সরকার। পাঁচ বিভাগে সর্বোচ্চ ৪০ জনকে ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন- এআইপি)’ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রতি বছর ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এআইপি কার্ড বিতরণ করা হবে।
খসড়া অনুযায়ী, ‘কৃষি উদ্ভাবন (জাত বা প্রযুক্তি)’ বিভাগের সর্বোচ্চ পাঁচজন এআইপি নির্বাচিত হবেন। ‘কৃষি উৎপাদন বা বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প’ বিভাগের সর্বোচ্চ ১৫ জন (একটি প্রশাসন বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ দুজন), ‘কৃষি পণ্য রফতানি’ বিভাগে সর্বোচ্চ ১০ জন, ‘স্বীকৃত বা সরকারের রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সংগঠন’ বিভাগে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরষ্কারে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত’ বিভাগের সর্বোচ্চ পাঁচজন এআইপি নির্বাচিত হবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষিশিক্ষা, গবেষণা, কৃষিপণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকার কৃষি খাতসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কৃষিবিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, বাণিজ্যিক কৃষি খামার স্থাপনকারী, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী ও কৃষি সংগঠক বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে সরকার প্রতি বছর কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষিতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের আমরা সম্মানিত করতে চাই। তারা কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।’
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করে আগামী বছর থেকে প্রথমবারের মতো এআইপি নির্বাচিত করা সম্ভব বলেও জানান কৃষি সচিব। রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি-রফতানি), বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনাবাসি বাংলাদেশিদের সিআইপি, শিল্পে অবদানে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি-শিল্প) নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এখন কৃষিক্ষেত্রেও অবদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনের উদ্যোগে নেয়া হলো।
‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচন নীতিমালা- ২০১৯’ নামে একটি নীতিমালার খসড়া করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটি সংক্ষেপে ‘এআইপি নীতিমালা- ২০১৯’ নামে পরিচিত হবে। খসড়া নীতিমালায় এআইপি নির্বাচনের শর্তে বলা হয়েছে, ‘কৃষি উদ্ভাবন (জাত বা প্রযুক্তি)’ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সব ধরনের দানাদার শস্য (যেমন- ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি) সবজি, ফলমূল এবং কন্দাল ফসল, মসলা ও পাট জাতীয় কৃষিপণ্যের নতুন জাত ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং এর উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে।
উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ের ফলাফলের প্রমাণ থাকতে হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা বা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকপর্যায়ে কৃষিতে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন- এমন গবেষক, বিজ্ঞানী বা শিক্ষাবিদ হতে হবে আবেদনকারীকে। ‘কৃষি উৎপাদন বা বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প’ বিভাগে আবেদনকারীকে মোট ফসল উৎপাদনের পরিমাণ, আবাদকৃত জমির পরিমাণ, ফলন, উৎপাদন খরচ, বিনিয়োগ ও লাভের তথ্য দিতে হবে। খামারে জমির পরিমাণ, নিয়োজিত লোকবল, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির তালিকা, বার্ষিক লাভ, ব্যাংক হিসাব ইত্যাদি তথ্য জমা দিতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্জনের যথাযথ প্রমাণক দাখিল করতে হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
‘কৃষিপণ্য রফতানি’ বিভাগে একটি পঞ্জিকা বছরের জন্য এআইপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরের রফতানির পরিমাণ, রফতানি আয়, উৎপাদন, অর্জন বিবেচনা করা হবে। রফতানিকারক বিবেচ্য অর্থবছরে কোনো নতুন বাজার স¤প্রসারণে সক্ষম হয়েছেন কি না- তাও বিবেচনা করা হবে। ন্যূনতম রফতানি আয় থাকলে দেশীয় রফতানিকারকরা এআইপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন।
প্রতি বছর এআইপি নির্বাচনের সময় পাওয়া আবেদনের সংখ্যা এবং আবেদনকারীদের অর্জিত আয়ের ভিত্তিতে পণ্যওয়ারি বিভাজন কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজন অনুযায়ী কম বা বেশি করতে পারবে। মন্ত্রণালয় পয়োজনে নতুন পণ্য বা খাত সংযোজন করতে পারবে এবং যে কোনো পণ্য বা খাত বিলুপ্ত করতে পারবে। রফতানি ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ন্যূনতম রফতানি ও প্রচ্ছন্ন রফতানি আয় শূন্য দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে হবে।
‘স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সংগঠন’ বিভাগে কৃষি পেশাজীবী সংগঠন (সরকারি কর্মচারী ছাড়া), কৃষি ব্যবসায়ী সংগঠক, কৃষি-সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন মনোনীত সদস্যদের মধ্য থেকে এআইপি নির্বাচন করা হবে।
‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরষ্কার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত’ বিভাগে যে বছরের জন্য এআইপির আবেদন আহŸান করা হবে এর আগের বছরে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরষ্কার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ বিভাগের আওতায় এআইপি হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
এআইপি নির্বাচনে সাধারণ শর্তাবলী: এআইপি আবেদনপত্রে আবেদনকারীকে তার পিতা-মাতার পূর্ণ নাম, টিআইএন এবং ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) উল্লেখ করতে হবে। এআইপি হতে আবেদনকারী ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে এবং তা প্রমাণিত হলে ওই আবেদনকারী পরবর্তী তিন বছর এআইপি নির্বাচনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া এআইপি হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তির তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হবে এবং পরবর্তী তিন বছর মনোনয়ন পাবেন না।
আদালতের সাজাপ্রাপ্ত বা অন্য কোনো কারণে অবাঞ্চিত বিবেচিত ব্যক্তি এআইপি হওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে সাজা ভোগের পাঁচ বছর পর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে যোগ্য হবেন। কর বকেয়া থাকলে কিংবা ঋণখেলাপি হলে এআইপি নির্বাচনের জন্য বিবেচিত হবেন না। আবেদনকারী করদাতা হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে আয়কর প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে এবং করদাতা না হলে তা উল্লেখ করে নিজে প্রত্যায়ন দিতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় দুটি কমিটির মাধ্যমে এআইপি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (স¤প্রসারণ) নেতৃত্বে থাকবে প্রাথমিক বাছাই কমিটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে থাকবে চূড়ান্ত বাছাই কমিটি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত বাছাই কমিটির সুপারিশ কৃষিমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এআইপি কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হবে।
এআইপিদের তালিকা চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ছাড়পত্র বা মতামত গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে মতামত পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে বিবেচিত হবে।
এআইপি নির্বাচনে প্রতি বছর ১৫ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং দরখাস্ত আহŸান ও গ্রহণ করবে। প্রাথমিক বাছাই কমিটি ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করবে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত বাছাই কমিটি বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামত নেবে।
২৬ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়কে এআইপি নির্বাচন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যক্রম ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গ্রহণ শেষ করতে হবে ১ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। প্রতি বছর ২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এআইপি কার্ড বিতরণ করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচিত এআইপিদের তালিকা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন এআইপিরা: একজন এআইপি সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাস পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকারি গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার পাবেন। একজন এআইপির ব্যবসা বা দাফতরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা পেতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন ইস্যু করবে।
একজন এআইপি তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, মাতা, পিতা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন এবং বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। এআইপির মেয়াদ হবে এক বছর। এক বছর পার হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবলুপ্ত হবে। এআইপি কার্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এআইপি কার্ডটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে দেশজুড়ে এসব চক্রের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব # টার্গেট সহজ সরল শ্রেণির মানুষ # লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পাঠানোর নামে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৭-৮ লাখ টাকা # ফাঁদে পড়ে একবার নৌপথে গেলে ফেরার আর পথ থাকে না ভিকটিমদের’
মানবপাচারে সক্রিয় ১৫ চক্র
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের মানুষ, যারা অল্প খরচে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি আয়ের চিন্তা করেন। এ শ্রেণির মানুষকে টার্গেট করে মানবপাচারকারীরা। এরপর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করে। লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পাঠানোর নামে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৭-৮ লাখ টাকা। পাঠানোর প্রক্রিয়া অবৈধ হলেও জানানো হয় না বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের। এ ফাঁদে পড়ে একবার নৌপথে গেলে ফেরার আর পথ থাকে না ভিকটিমদের।
স¤প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৩৯ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ হন এবং জীবিত উদ্ধার হন ১৪ জন। এ ঘটনার পর বিশ্বে নতুন করে সমালোচনায় আসে বাংলাদেশ থেকে নৌপথে মানবপাচারের বিষয়টি। ঘটনার তদন্তে নামে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তদন্তে ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে দেশজুড়ে অন্তত ১০-১৫টি চক্রের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব-১ ব্যাটালিয়ন। এর মধ্যে ৫-৬টি চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাংলাদেশিরা সেদিন নৌ-দুর্ঘটনায় পতিত হন।
র‌্যাব বলছে, চক্রের সদস্যরা ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে দেশজুড়ে লোক সংগ্রহ করে। তারপর ওই লোকদের সড়কপথ, বিমানপথ মিলিয়ে তিনটি রুটে লিবিয়ায় পাঠায়। সর্বশেষ লিবিয়া থেকে নৌপথে তিউনেশিয়ার উপকূল হয়ে ইউরোপে পাঠায়। অর্থের বিনিময়ে অবৈধ পথে বিদেশ যাবার পুরো প্রক্রিয়ায় নৌপথে ঝুঁকির বিষয়গুলো জানানো হয় না। নৌপথে নেয়ার পর শুরু হয় কালক্ষেপণ। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে দুই মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত।
স¤প্রতি ইউরোপে পাচারে তিনটি ব্যবহৃত রুট হলো, বাংলাদেশ – ইস্তান্বুল (তুরস্ক) – লিবিয়া, বাংলাদেশ – ভারত – শ্রীলঙ্কা (৪ – ৫দিন অবস্থান)- ইস্তান্বুল (ট্রানজিট)- লিবিয়া এবং বাংলাদেশ – দুবাই (৭-৮ দিন অবস্থান) -আম্মান (জর্ডান) (ট্রানজিট) – বেনগাজী (লিবিয়া) – ত্রিপলি (লিবিয়া)। এ ক্ষেত্রে সড়কপথ ও বিমানপথ ব্যবহার করে লিবিয়ায় পৌঁছানো হয়। সর্বশেষ লিবিয়া থেকে নৌপথে তিউনেশিয়ার উপকূল হয়ে ইউরোপে পাচার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-১। আটকরা হলেন- আক্কাস মাতুব্বর (৩৯), এনামুল হক তালুকদার (৪৬) ও আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া (৩৪)।
গতকাল শুক্রবার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘গত ৯ মে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের নৌকাডুবিতে প্রায় ৮৫-৯০ জন নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ৩৯ জন। এ ঘটনার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিমের স্বজনরা শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় দুটি মামলা করেছেন।’ ‘ওই মামলার ছায়া তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দুইটি চক্রের তিনজনকে আটক করা হয়। তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এ কর্মকাÐ চালিয়ে আসছিল। তারা প্রথমে বিদেশে গমনেচ্ছুক নির্বাচন করে, এরপরের ধাপে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া এবং সর্বশেষ ধাপে লিবিয়া থেকে তাদের নৌপথে ইউরোপে পাঠানো হয়।’
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘ভিকটিমদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয় এই সিন্ডিকেটের তত্ত¡াবধানে সম্পন্ন হয়। ইউরোপে পৌঁছে দিতে তারা ৭-৮ লাখ টাকা অর্থ নির্ধারণ করে, যার মধ্যে সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগে এবং বাকি টাকা লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাত্রার আগে পরিশোধ করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। এর মধ্যে অধিকাংশ টাকা পরিশোধ হয়ে যায়, যার ফলে ইচ্ছা থাকলেও আর ফেরত আসতে পারেন না ভুক্তভোগীরা।’
‘ভিকটিমরা ত্রিপলিতে পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কথিত ‘গুডলাক ভাই’সহ আরও কয়েকজন এজেন্ট তাদের গ্রহণ করে। তাদের ত্রিপলিতে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করানো হয়। এ সময়ে ভিকটিমদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে চক্রটি।’
‘সেখানকার সিন্ডিকেট সমুদ্রপথে অতিক্রম করার জন্য নৌ-যান চালনা এবং দিকনির্ণয় যন্ত্র পরিচালনাসহ আনুসাঙ্গিক বিষয়ের ওপর নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেয়। একটি নির্দিষ্ট দিনে ভোররাতে এক সঙ্গে কয়েকটি নৌ-যান লিবিয়া হয়ে তিউনেশিয়া উপকূলীয় চ্যানেলের হয়ে ইউরোপের পথে রওনা দেয়। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে গমনকালে ভিকটিমরা ভূমধ্যসাগরে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়’,- বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক।
গত ৯ মে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাংলাদেশিরা সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ ও নোয়াখালীর বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা ৫-৬ টি চক্রের মাধ্যমে ইউরোপে যাচ্ছিলেন। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আটক ৩ সদস্যের চক্রের মাধ্যমে কতজন সেখানে গিয়েছিলেন বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ছাড়া, দেশজুড়ে ১০-১৫ টি চক্রের খবর আমরা পেয়েছি। তাদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here