সকল জাতীয় সংবাদ

0
7

ছাত্রলীগে বিতর্কিতরা থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ছাত্র সংগঠনটির অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ডেকে এ নির্দেশ দেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় থাকা কয়েকজন বিতর্কিত নেতার নাম কালি দিয়ে চিহ্নিত করে তাদের পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তালিকায় যদি আরও কোনো বিতর্কিত নেতা থাকেন খোঁজ-খবর নিয়ে তাদেরকেও বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে সোমবার ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। এরপর থেকেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাতে হামলা চালায় সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।

সেই ৫২টি খাদ্যপণ্যের সাতটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নিম্নমানের পণ্য হিসাবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে সাতটির উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। এছাড়া ১৮টি পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে বলে গতকাল বুধবার বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় ড্রিংকিং ওয়াটারের মধ্যে আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার, শাহারী অ্যান্ড ব্রাদার্সের নারজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার এবং আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার রয়েছে।
কেরাণীগঞ্জে শান্তা ফুড প্রডাক্টসের টেস্টি, তানি ও তাসকিয়া এবং কামরাঙ্গীরচরের জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টসের প্রিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডারেরও লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরের বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারীর বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি-এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
লাইসেন্স স্থগিত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সরিষার তেলে সিটি অয়েল মিল-গাজীপুর (তীর), গ্রিন বিøসিং ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (জিবি), শবনম ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (পুষ্টি), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (রূপচাঁদা); সুপেয় পানির মধ্যে আররা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (আররা), ডানকান প্রোডাক্ট (ডানকান), দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার (দিঘী); প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের প্রাণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই; হলুদের গুড়ার মধ্যে ড্যানিশ, প্রাণ ও ফ্রেশ। কারী পাউডারের মধ্যে প্রাণ ও ড্যানিশ; আয়োডিনযুক্ত লবণের মধ্যে এসিআই ও মোল্লা সল্ট; ধনিয়া গুড়ার মধ্যে এসিআই পিওর, নুডলসের মধ্যে নিউ জিল্যান্ড ডেইরির ডুডলস এবং চিপসের মধ্যে কাশেম ফুডের সান ব্র্যান্ড রয়েছে।
মনোন্নয়ন করে আবার লাইসেন্স গ্রহণের আগে এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এমনকি খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক প্রচার বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোজা শুরুর আগে বাজারে গোপন অভিযান চালিয়ে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব পণ্যের মধ্যে ৫২টি পণ্য নিম্নমানের হিসাবে চিহ্নিত হয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায়। স¤প্রতি সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলোকে এ নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস বিভাগের উপ-পরিচালক রিয়াজুল হক জানান, নোটিশের উত্তর দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পরও উত্তর না আসায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ই-পাসপোর্ট জুলাই থেকে
আসাদুজ্জামান ইমন,ঢাকা
নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এবং একজনের নামে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা বন্ধ করতে আগামী জুলাই থেকেই দেশে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
এছাড়া বিদেশগামী শ্রমিকদের সুবিধার কথা ভেবে পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে বলে গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছরের মধ্যেই ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট চালু হবে। আর আগামী জুলাই থেকে ই-পাসপোর্ট দেওয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশে হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট বা এমআরপি প্রবর্তনের পর এক দশকও পার হয়নি। কিন্তু এমআরপির ডেটাবেইজে ১০ আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট করার ঘটনা দেখে সরকার ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে গত বছর জুলাইয়ে জার্মানির কোম্পানি ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদপ্তর। সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করবে তারা।
ওই টাকায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশকে ২০ লাখ পাসপোর্ট বুকলেট, ২ কোটি ৮০ লাখ পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম, আনুষঙ্গিক হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দেবে। গত বছর ২১ জুন প্রকল্পটি একনেকের সায় পায়।
প্রবাসী শ্রমিকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে গত কয়েক বছর ধরে পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলেছিল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে। পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা হলে এতে পাতার সংখ্যাও বাড়বে। বর্তমানে ৪৮ পাতার পাসপোর্ট চলছে।
অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্য সাগরে নৌকা ডুবে নিহত বাংলাদেশিদের জন্য শোক প্রকাশ করা হয় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে।
যেসব ‘দালাল চক্র’ মানব পাচারে জড়িত, তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আহত ও নিহতদের সহযোগিতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।
ফারুক খান বলেন, যারা অবৈধভাবে বিদেশ যাচ্ছে, তারা কোনো না কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা ট্যুর এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছে। সমন্বয় করে কাজ করলে কারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তা চিহ্নিত করা যাবে।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল মজিদ খান, নাহিম রাজ্জাক এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহবুবুজ্জামান, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

দু’মাস পর দেশে ফিরে ওবায়দুল কাদের
রাজনীতিকের বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা
ঢাকা অফিস
‘একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা। আমি আমার কাজ ও ব্যবহারের মাধ্যমে তা অর্জন করতে পেরেছি। মানুষের ভালোবাসায় এবং দোয়ায় আজ ২ মাস ১১ দিন পর আমি দেশে ফিরতে পেরেছি।’ গতকাল বুধবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনটাই হলো ¯্রােতের বিপরীতে সাঁতার কাটা। আমরা এটা শিখেছি বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে। শেখ হাসিনার কাছ থেকে।’
‘আমাদের প্রিয় নেত্রী পরম মমতায় আমার দেখভাল করেছেন। একজন মা সন্তানের জন্য যা করেন, শেখ হাসিনা আমার জন্য তাই করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। ঋণের বোঝা আরো বেড়ে গেলো।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা কোরআন শরিফ পড়ে আমার জন্য দোয়া করেছেন। তার কাছেও আমার কৃতজ্ঞতা। ‘নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন। যদিও সেই সময় আমি আমার মধ্যে ছিলাম না। আমি শুনেছি শেখ হাসিনা হাসপাতালে আমাকে নাম ধরে ডেকেছিলেন। আমি নাকি কেবল তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম।’
নতুন উদ্যোমে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত বরে তিনি বলেন, আমি না থাকার পরও নেতাকর্মীরা ইউনিটি ধরে রেখে যেভাবে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন তা আমায় অভিভূত করেছে। আমরা এভাবেই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবো।
এর আগে দুপুর ২টা ১০মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয় তাকে বহনকারী বিমান। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ জানান, সেতুমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৫ ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার দুপুর দুইটা ১০ মিনিটে উড্ডয়ন করে।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ডা. আবু নাসার রিজভী এবং কিছু সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী রয়েছেন।
ওয়ালিদ জানান, দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসার পর আজ দেশে ফিরেছেন সেতুমন্ত্রী। বুধবার সকালে তিনি সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের পাশের ভাড়া বাসা থেকে ত্যাগ করেন।
এরপর তিনি চাঙ্গি বিমানবন্দরে পৌছে সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রওনা হন।
বাইপাস সার্জারির পর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ওবায়দুল কাদের গত ৫ এপ্রিল ছাড়পত্র পান। তিনি হাসপাতালের কাছেই একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০ মার্চ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়।
প্রসঙ্গত গত ৩ মার্চ সকালে বুকে প্রচÐ ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের।
সেখানে এনজিওগ্রাম করার পর তার করোনারি ধমনিতে তিনটি বøক ধরা পড়ে। সেদিন তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে উপমহাদেশের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ দুই মাস তার চিকিৎসা চলে।

তরল দুধ-দই পরীক্ষা করে একমাসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলে হাইকোর্টের নির্দেশ
ঢাকা অফিস
বাজারের সব ধরণের তরল দুধ ও দই পরীক্ষা করে আগামী এক মাসের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনকে (বিএসটিআই) বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নিম্নমানের দুধ ও দই প্রস্তুতকারক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সনাক্ত করে তাদের নামের তালিকাও চেয়েছে আদালত। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে. এম. হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। আগামী ২৩ জুন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
‘বাজারের ৯৬টি তরল দুধের ৯৩টির নমুনাতেই ক্ষতিকর উপাদান’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জন স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরীর প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসীকে তার প্রতিবেদন নিয়ে আগামী ২১ মে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিয়ে খেলতে দেওয়া হবে না। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক অণুজীবসহ দুধ দই উৎপাদনকারীদের শান্তির আওতায় আনতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে।’

শুনানিতে আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন সরকার এম আর হাসান মামুন। আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা তাতে বলেছি, এক মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রদান করবো। এটা বিশাল একটি কাজ বিভিন্ন রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। মিটিং করে তা স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর ও নিম্নমানের তা নিরুপণ করে প্রতিবেদন দিতে হবে। এজন্য আমরা আদালতের কাছে সময় চেয়েছি।’
ড.শাহনীলা ফেরদৌসীর করা প্রতিবেদন আপনারা সংগ্রহ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো করিনি। সংগ্রহ করবো। আদালতের নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের করা ১৬ সদস্যের কমিটিতে তিনিও একজন সদস্য হিসেবে আছেন।’
গত ১০ ফেব্রæয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গাভির দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সিসা!’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভির দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত পরিমানে। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এই পণ্যেও মিলেছে সিসা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল উঠে এসেছে। সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভির খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এই জরিপের কাজ করেছে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গরুর খোলা দুধে অণুজীবের সহনীয় মাত্রা সর্বোচ্চ ৪ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৭.৬৬ পর্যন্ত।’ এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মামুন মাহবুব।
এ বিষয়ে শুনানির সময় আদালত বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক অনুজীবসহ দুধ-দই উৎপাদনকারীদের শাস্তি পেতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। গবেষণা রিপোর্ট ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করতে হবে।
এর আগে দুধে সিসা মিশ্রণকারীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত। এছাড়াও রুলে দুগ্ধজাত খাবারে ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদÐ) কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি আদালত ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরুপণ করে একটি জরিপ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। যার ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের নির্দেশের পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. মাহবুব কবিরকে আহŸায়ক করে ১৬ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। এরপর ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

প্রিন্সিপালও সিল মেরে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা করেছে: সিইসি
ঢাকা অফিস
নির্বাচনে অতি উৎসাহীরা অনিয়ম করে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা আক্ষেপ করে বলেছেন, নির্বাচনে অতি উৎসাহী হয়ে হুজুররাও অনিয়মে জড়াচ্ছেন। গত নির্বাচনে এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপালও ব্যালট পেপারে সিল মেরে তার পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা করেছেন। কাজেই প্রিজাইডিং কর্মকর্তারাই যদি এমন করেন, কিভাবে কী হবে! তিনি বলেন, অতীতে আস্থার জায়গা থেকেই অনিয়ম হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আপনাদের সজাগ দায়িত্ব পালন থাকতে হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কে কত নিরপেক্ষ লোক যাচাই করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এটাই হচ্ছে বিষয়। ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। এমনকি ঈদের মধ্যেও সচেতন থাকতে হবে। এ সময়ও যদি প্রার্থীদের কোনো অভিযোগ আসে, তা আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী আচরণ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগে অটল থাকতে হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, অন্যায় করলে নির্বাচনী আইন ও বিধি পরিপন্থি কোনো কাজ করলে, যে পর্যায়ের লোক হোক না কেন তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
এজেন্টদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় ভোটকেন্দ্রে এজেন্টরা নিজে থেকেই যায় না। এবং না গিয়েই অভিযোগ করে যে, তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবুও নিরপেক্ষ থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রার্থীর এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীরা যেন সংক্ষুব্ধ না হয়, এজন্য নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
ইভিএম প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট নির্বাচন কমিশনের বড় স্বপ্ন। ইভিএম ব্যবহারে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে আশা করি। তবে এজন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
প্রসঙ্গত ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পঞ্চম ধাপের ভোটের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ মে, যাচাই-বাছাই ২৩ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে এবং ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন।

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দেয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর ৫ দিন পর মৃত্যু
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দেয়া আগুনে দগ্ধতার যন্ত্রণায় ৫দিন ধরে ছটফট করে বাঁচার জন্য পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন পাবনার আমিনপুর থানার তালিমনগর গ্রামের গৃহবধূ ফজিয়া খাতুন। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত ফজিয়া খাতুন তালিমনগর গ্রামের ছুরমান মÐলের স্ত্রী।
গতকাল বুধবার আমিনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মঈনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছুরমান মÐল কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকেন। সেখান থেকে তিনি প্রতি মাসে তার বোন সামেলা খাতুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। ননদ সামেলা খাতুন প্রতি মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা করে দেন তার ভাবী ফজিয়া খাতুনকে। কিন্তু অল্প টাকায় সংসার চালানো সম্ভব না হওয়ায় শাশুড়ি-ননদ, ভাসুর ও জায়ের সাথে কলহ দেখা দেয় প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী ফজিয়া খাতুনের।
পরে এ নিয়ে গেল ৯ মে ভোরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুরের বউ মিলে ফজিয়া খাতুনের শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মারা যান গৃহবধূ ফজিয়া খাতুন। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর বাবা ফজিবুর রহমান বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ননদ সামেলা খাতুনকে গ্রেফতার করলেও অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যুর কারণে মামলাটিতে একটি ধারা যুক্ত হয়ে হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ঋণে কেনা ৫০০ কোটি টাকার চিনি গুদামে কেন, জানতে চায় সংসদীয় কমিটি
ঢাকা অফিস
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৫০০ কোটি টাকার চিনি কিনে গুদামে ফেলে রেখেছে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। দুই বছর ধরে এ চিনি গুদামে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল ওই চিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে শিল্প সচিব উপস্থিত থাকলেও তিনি কারণ জানাতে ব্যর্থ হন। তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঋণ নিয়ে এই চিনি কেনার সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন না।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কেন চিনি কেনা হলো? সেই চিনি এখনও কেন গুদামে? নিজেদের মিলের উৎপাদিত চিনি বিক্রি হয় না। অথচ দেশের বাইরে থেকে চিনি কিনে গুদামে ফেলে রাখা হয়েছে। কার স্বার্থে? এসব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি করপোরেশন বা মন্ত্রণালয়। কমিটি এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী বৈঠকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে বৈঠকে আখ চাষীদের বকেয়া প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ঈদের আগেই পরিশোধ করার জন্য চিনি শিল্প করপোরেশনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর পর্যন্ত আখ চাষীরা করপোরেশনের কাছে ১১৯ কোটি টাকা পাবে। এর বাইরে বীজ সরবরাহকারীরা ৩১ কোটি টাকা পাবে।
এদিকে বেসরকারি চিনি কারখানার মালিকরা নিয়ম ভঙ্গ করছে বলে বৈঠকে অভিযোগ ওঠে। নিয়মানুযায়ী বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনের পর ৫০ ভাগ রফতানি করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। তারা পুরোটাই দেশীয় বাজারে বিক্রি করছে। এতে করে দেশীয় মিলে উৎপাদিত চিনি বিক্রি হয় না বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কমিটি বলেছে, নিয়মভঙ্গকারী বেসরকারি চিনি কলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষেত থেকে তুলে আনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আখ মাড়াইয়ের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রটি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনা যায় কী না, তা নিয়েও মন্ত্রিসভায় আলোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কেরুর লাভ বাড়ছে: বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীন কেরু অ্যান্ড কোং মিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং রেনউইক, যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং মিল এক কোটি ৬ লাখ টাকা লাভ করেছে। করপোরেশনের অধীন বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠানই লোকসানে।
বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে লাভ ছিল ২২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যা কমে দাঁড়ায় চার কোটি ১৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তিন কোটি ৮০ লাখ, ১৬-১৭ অর্থবছরে চার কোটি ৮১ লাখ। কমিটির সভাপতি বলেন, চিনি কলগুলোর আয় বাড়াতে প্রত্যেকটি চিনি কলকে ‘বাই প্রোডাক্টের’ উৎপাদনে নজর দিতে বলা হয়েছে।

এসএসসি’র ফল পুনঃনিরীক্ষণে ২ লাখ আবেদন
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছে সারাদেশের প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী। মোবাইল ফোনের ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে তারা। পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে এটি রেকর্ড সংখ্যক আবেদন। গতকাল বুধবার সকল বোর্ডে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
গত ৬ মে এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। বোর্ডগুলো থেকে জানা গেছে, এবার দশ বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৭০, বরিশালে সাড়ে ৮ হাজার ৪৮০, চট্টগ্রামে ১৯ হাজার ১৮৩টি, দিনাজপুরে ১২ হাজার ৫৪০, রাজশাহীতে ১৫ হাজার ১৭৩, সিলেটে ১০ হাজার ৫৪১টি, মাদরাসায় ১১ হাজার ৭৪৫ জর পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে খাতা পুনঃনিরীক্ষার জন্য।
অপরদিকে এক একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল চ্যালেঞ্জের কারণে উত্তরপত্রের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১টিতে। এরমধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৯২৩টি, বরিশালে সাড়ে ১৫ হাজার ৫২৭, চট্টগ্রামে ৪৪ হাজার ২৯৭টি, দিনাজপুরে ২৬ হাজার ৯২৫, রাজশাহীতে ৩০ হাজার ২৩১, সিলেটে ১৮ হাজার ৯১০টি, মাদরাসায় ২৩ হাজার ৭২৪টি পত্রের খাতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার দশ বোর্ডে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৯ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজসহ দেশসেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীও আছে। বেশির ভাগের আবেদন পড়েছে ইংরেজি-গণিত বিষয়ে। আছে ধর্মও। ১২টি পত্রের মধ্যে সর্বনিম্ন দু’টি থেকে সর্বোচ্চ ৪-৫টি পত্র চ্যালেঞ্জ করার রেকর্ডও রয়েছে। ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পড়েছে গণিত বিষয়ের খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন, ২২ হাজার ১৫০টি। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ধর্ম বিষয়ের খাতা, ১৫ হাজার আর তৃতীয় স্থানে আছে ইংরেজি প্রথমপত্রের খাতা, ১২ হাজার ৭০০টি।
রাজশাহী বোর্ডে ৬ হাজার ৫০০জন পরীক্ষার্থী গণিত, ৩ হাজার ৬ জন রসায়ন, ২ হাজার ৩১২ জন ইংরেজি প্রথমপত্র এবং ২ হাজার ৯৭৮ জন ধর্ম বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষা চেয়েছে। এভাবে অন্যান্য বোর্ডে গণিত, ইংরেজি এবং ধর্ম বিষয়ের ফল নিয়ে বেশি অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের।
বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার ক্ষেত্রে সবক’টি উত্তরে নম্বর দেয়া হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে (কম্পিউটারে ফল প্রণয়নে পাঠযোগ্য ফরম) উত্তোলনে ভুল হয়েছে কিনা এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কিনা, এসব বিষয় দেখা হয়। তবে সেই খাতায় নতুন করে নম্বর দেওয়া হয় না কখনো। গত ৬ মে ফল প্রকাশের পরদিনই শুরু হয় খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন প্রক্রিয়া। চলে ১৩ মে পর্যন্ত। আবেদনকারীরা ফল জানতে পারবে আগামী ২ জুনের মধ্যে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির আহŸায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, বরাবরের মতো অনেক পরীক্ষার্থী নিজেদের ফলে সন্তোষ্ট না হয়ে পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। নিময় অনূযায়ী এসব খাতা নতুনভাবে নিরীক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, এসব আবেদনকারীর মধ্যে যারা এক বা দুই নম্বর কম পাওয়ায় জিপিএ-৫ পান, তারা আছে অথবা কৌতুহলীও কেউ কেউ আবেদন করেছে। তবে এবার ইসলাম ধর্ম বিষয়ের ফলে আপত্তি জানিয়ে বেশি আবেদন জমা হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘর থেকে নির্মলেন্দু গুণের কবিতা উধাও
ঢাকা অফিস
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে জাদুঘরের দেয়ালে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’। গতকাল বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক ওয়ালে জাদুঘর থেকে নিজের কবিতা উধাওয়ের কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বরাবর একটি খোলা চিঠি লেখেন তিনি।
খোলা চিঠির মতো করে লেখা ওই পোস্টে কবি জানান, ‘জনাব, আপনার কাছে আমার আবেদন, আমার কবিতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘর থেকে উধাও হলো কীভাবে– তা তদন্ত করে বের করুন। আপনার মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় জাদুঘরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কতিপয় বঙ্গবন্ধু-বিরোধী আমলা মিলে এই অপকর্মটি করেছে বলে আমার ধারণা।
মন্ত্রীর কাছে এ ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে যথাযথ শাস্তির দাবি করে তিনি লেখেন, ‘আপনি এদের খুঁজে বের করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় আমি হাই কোর্টে রীট করবো অচিরেই।
বিখ্যাত এই কবির কালজয়ী এই কবিতা উধাওয়ের খবর ফেসবুকে পোস্ট করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও প্লাজা চত্বরের টেরাকোটা ম্যোরালের নিচেই স্থাপিত হয়েছে এই ভূগর্ভস্থ জাদুঘর। প্লাজা চত্বরে উপর থেকে নিচের দিকে চলে গেছে জাদুঘরের প্রবেশ পথ। প্রবেশের সময় রঙিন কাচের ভেতর থেকে আসা হালকা সবুজ আলো আর প্রথমেই হলঘরে চোখে পড়বে তাতে মিলবে অসংখ্য ছবি। ৬৬’র ছয়দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-আন্দোলন সকল বিষয়ে সুষ্পষ্ট ধারনা পাওয়া যাবে এ অংশ থেকে। এরপরই পর্যায়ক্রমে যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও নির্মলেন্দু গুনের একটি বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’, যা সেঁটে দেওয়া হয়েছে দেয়ালের এ অংশে। এর পাশেই স্থান পেয়েছে দেশের ঐতিহাসিক দলিলসহ বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষর করা স্বাধীনাতার ঘোষণাপত্র।

হয় নেতৃত্ব দিন, নয় গ্রহণ করুন: বিএনপিকে অলি
ঢাকা অফিস
জোট অক্ষুণœ রাখাসহ বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে অথবা তাকে নেতৃত্বে যাওয়ার সুযোগ দিতে আহŸান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জেল থেকে আমাদেরকে নির্দেশ নেয়া সম্ভব না। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদেরকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমি সেই দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত।

গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে এলডিপি।
অলি বলেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, বিএনপিকে অনুরোধ করব, বিএনপি নেতাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা নেতৃত্ব দেন, নাহলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে হবে না।
অলি আহমেদ বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক জায়গায় একত্রিত হন। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করেন। না হলে আপনাদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদেরকে বলেন, আমরা সেটা করতে রাজি আছি।
তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিতে পারি নাই। এবার স্বৈরাশাসকের হাতে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। বিএনপির যারা আছেন আপনাদের মধ্যে কথা বলেন। কারা কারা আসবেন আমাদের সঙ্গে আসেন।
তিনি আরো বলেন, এলডিপিকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আপনারা নতুনভাবে এটার নামকরণ করেন। আমার নেতৃত্বে আসতে হবে, এটাও না। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে তার নেতৃত্বেও আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। যে জাতির সঙ্গে বেঈমানি করে নাই, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যে কারো সঙ্গে আপোষ করবে না, দুর্নীতির কাছে মাথা নত করবে না, তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
অলি আহমেদ বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন মানে হলো এইটা না যে, আড়াই বছর পরে হবে। এটা কালকেও হতে পারে। পরশু দিনও হতে পারে। এই সরকারের অধীনে তো আমরা নির্বাচন করে দেখলাম। এরা দিনের বেলা কখনও নির্বাচন করে না। কারণ তারা দিনের বেলা আলোতে ভয় পায়, রাতের বেলা অন্ধকারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারা নিশাচর, তাই আমাদেরও মশাল হাতে নিয়ে বের হতে হবে। নিশাচরদেরকে তালাশ করে বের করতে হবে।

বিএনপিকে জামায়াতের পরামর্শ
ঢাকা অফিস
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে ছিল এবং থাকবে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি।
মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন, শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ যেটা মিডিয়ায় এসেছে তাতে প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়া আদালতের কাছে আটকে যায়নি। তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি মূলত ফ্যাসিবাদের জিঞ্জিরায় আবদ্ধ হয়ে আছেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলন একই সংগ্রাম। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বর্তমানে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
গোলাম পারোয়ার বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বলি আর ২০ দল বলি আমাদের সবাইকেই কৌশলের বিষয়ে স্পষ্ট হতে হবে। জনগণের সঙ্গে আমরা রাজনীতি করি তাদের সেন্টিমেন্ট যদি আমরা না বুঝি সেটাকে মানুষ কোনোভাবেই কৌশল হিসেবে নেয় না।

পদ্মা সেতুর ১৩তম স্প্যান বসছে রবিবার
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
পদ্মা সেতুর ১৩তম স্প্যান ১৬ মে গত বৃহস্পতিবার বসানোর কথা থাকলেও তার দিনক্ষণ পরিবর্তন হয়ে আগামী রবিবার বসানো হবে। গতকাল বুধবার প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্র সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ‘৩-বি’ নম্বরের স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তের ১৪ ও ১৫ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হবে। এ স্প্যানটি লাগানো হলে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে ১৯৫০ মিটার।
পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলী সূত্র জানায়, ১৩তম স্প্যানটিকে মাওয়া প্রান্তের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশনের স্টেক ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। রোববার সকালে ৩৬শ’ টন ওজন ক্ষমতার শক্তিশালী ক্রেনবাহী ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান-ই’ স্প্যানটিকে খুঁটির কাছে নিয়ে যাবে। চলতি মাসের শেষদিকে জাজিরা প্রান্তে আরও একটি স্প্যান (১৪তম) বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে গত ৬ মে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝামাঝি স্থানে ২০ ও ২১ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয়েছে ১২তম স্প্যান।
প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ৪২টি খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এরপরই মাথা তুলবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে এখনও ৪০-৪৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় এখনও ৪০ থেকে ৪৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছে। গত মঙ্গলবার লিবিয়ার ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর এ এস এম আশরাফুল ইসলাম বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, লিবিয়া হয়ে দুটি নৌকায় ইতালি যেতে চেয়েছিলেন অভিবাসী প্রত্যাশীরা। একটি নৌকায় প্রায় ৫০ এবং অন্যটিতে ৭০ জন যাত্রী ছিল। ওই দুটি নৌকা গত বৃহস্পতিবার রাতে একই সময়ে যাত্রা শুরু করে। তবে একটি নৌকা নিরাপদে ইতালি পৌঁছালেও অন্যটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ বাংলাদেশিকে জীবিত এবং এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম কুমার। তার বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়ায়।
এর আগে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কতজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৪ জনের সবাই বাংলাদেশি। এছাড়া নিহতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। যেহেতু ৩৭ জনকে পাওয়া যাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী এবং লেবার কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে চলে গেছেন। গত সোমবার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নৌকাডুবির নিহত ঘটনায় ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন (আরএফএল) বিভাগে দায়িত্বরত পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার বলেন, তিউনিসিয়া রেড ক্রিসেন্টের আঞ্চলিক প্রধান মাঙ্গি ¯িøমের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া চার বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে নিহত ২৭ বাংলাদেশির পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। তবে মরদেহ না পাওয়ায় তাদের নাম এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে একঘরে রাখার আহŸান জাতিসংঘের
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সব দেশের প্রতি আহŸান জানিয়েছে জাতিসংঘ। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য গঠিত জাতিসংঘের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের প্রতি এ আহŸান জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মিশন এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
মিশনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির সরকার এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেন তারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়।
রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বিষয়ক ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের’ প্রধান মারসুকি ডারুসমান মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ১০ দিনের এক সফর শেষে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে যেন তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত, যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলো যদি এ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, তবে তা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে চাপের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here