সকল আঞ্চলিক সংবাদ

0
17

বন্যা প্রতিরোধে খুলনার দু’উপজেলায় ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার উপকূলবর্তী উপজেলা দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় বন্য প্রতিরোধে ৮৫০ কোটি টাকার বেড়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। টেকসই সমাধানে প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্প গ্রহণ করে। ফণীর পূর্বে দাকোপের বানিশান্তায় বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে দু’টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ২০০৯ সালের ২৬ মে আইলা নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগে দাকোপে পঞ্চাশ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানান, দাকোপ উপজেলায় ৩১নং পোল্ডারে এবং বটিয়ঘাটা উপজেলায় ৩০ ও ৩৪/২ পোল্ডারে পুন:সংস্কারের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। উল্লেখিত দু’টি পোল্ডারের আওতায় ২৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ঢাকি, কাজিবাছা ও চুনকুড়ি নদীর ২০কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, দাকোপের ৩১ পোল্ডারের খনা ও ঝালবুনিয়ায় দেড় কিলোমিটার বেড়ী বাঁধ ও ৩টি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (অ: দা:) পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ, অফিস ও কলোনী ভবনও রয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নলিয়ান ও সুতারখালী এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ফণীর আঘাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়নের ৩৪ পোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান উল্লেখ করেন কচুবুনিয়া, বারোআড়িয়া ও বড়ইতলা ভেঙ্গে যেকোন সময় বিচ্ছিন্ন হতে পারে। দাকোপ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন গত মার্চের সভায় উল্লেখ করেন, উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বাঁধ নির্মাণের কাজ ধীর গতিতে চলছে। উপজেলায় বাঁধের ২৭টি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ৩১নং পোল্ডারে কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ছাড়া কয়রা, পাইকগাছা ও রূপসা উপজেলায় ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ ফণীর আঘাতে দাকোপের আট কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বস্ত হয়। বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়ন বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া, কোলা, সুভদ্রকাটি, চাকলা এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৯ সালে আইলায় কয়রা ও আশাশুনির মোট ৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু কয়রা ও পাইগাছা উপজেলায় ৫৫ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাধ নির্মাণের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনে দাবি তোলেন।

৩ ঘন্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত
খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে কর্মবিরতি অব্যহত
স্টাফ রিপোর্টার
বকেয়া পাওনাসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি ৩ ঘন্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে। গতকাল বুধবার ভোর ৬টায় স্ব স্ব কর্মস্থলে না গিয়ে পাটকলের প্রায় অর্ধলখ শ্রমিকরা আন্দোলনের টানা ১০ দিনে এ কর্মসূচীা পালন করে।
পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ, বকেয়া মজুরী -বেতন পরিশ্ধো, মজুরী কমিশন কার্যকর ও প্রতি সপ্তাহর মজুরী প্রতি সপ্তাহে প্রদান সহ ৯দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকলীগের ডাকে দীর্ঘ দিন শ্রমিকরা রাজপথে আন্দোলন করছে। গতকাল বুধবার কর্মবিরতির ১০দিনে ভোর ৬টায় শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে না যেয়ে এ কর্মসূচী পালন করে। দুপুর সাড়ে ৩টায় ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর , ষ্টার, আলীম, ইষ্টার্ণ, কার্পেটিং ও জেজেধাই জুট মিলের শ্রমিকরা থালা হাতে নিয়ে স্ব স্ব মিল গেটে সমবেত হয়। পরে বিকাল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নতুন রাস্তা মোড়, আটরা ও রাজঘাটের খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবস্থান করে। পাওনার দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক ও রেললাইনের উপর বিক্ষোভ করতে থাকে । এ সময় শ্রমিকরা রাজপথে জামাতের সাথে আসরের নামাজ আদায় করে । পরে আন্দোলনকারীরা মহাসড়কের সকল যান ও রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজপথ রেলপথ অবরোধ কর্মসূচীতে অংশ নেয়। ফলে নতুন রাস্তা, আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দূর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। ক্রিসন্টে, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর ও দিঘলিয়ার ষ্টার জুট মিলের শ্রমিকরা খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়, আটরা শিল্প এলাকার আলীম , ইর্ষ্টাণ জুট মিলের শ্রমিকরা আলীম মিল গেট খুলনা-যশোর মহাসড়ক এবং নওয়াপাড়ার কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলের শ্রমিকরা রাজঘাট শিল্প এলকায় অবরোধ স্থানেই বসে ইফতার করেন। পরে পৃথক ৩ স্থানে খুলনা-যশোর মহাসড়কে মাগরিবের নামাজ পড়ে অবরোধ শেষ করে আন্দোলনকারীরা। অবরোধ চলাকালে এক সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাটকল শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দীন, শ্রমিক নেতা মোঃ মুরাদ হোসেন, মোঃ সোহরাব হোসেন, সাহানা শারমিন, হুমায়ুন কবির, আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ , সাধারন সম্পাদক ইব্রাহীম হেমায়েত উদ্দীন আজাদী, আবু জাফর, মোঃ পান্নু মিয়া, ও খলিলুর রহমান মোঃ তরিকুর ইসলাম, পাটকল শ্রমিকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান, এস এম আজম, আবু হানিফ, আব্দুল মজিদ বকুল, মোঃ সেলিম শিকদার, সরদার আলী আহম্মেদ , মোঃ সাহিদুল ইসলাম সাহিদ, আইয়ুব আলী, বেলায়েত হোসেন ও আবু হানিফ। আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার আলীম, ইষ্টার্ণ, কার্পেটিং, জেজেধাই জুট মিলের শ্রমিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিবিএ-নন সিবিএ ও পাটকল শ্রমিকলীগের নেতারা এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এদিকে পাট মন্ত্রনালয়ের নিদের্শে বিজেএমসি রাষ্ট্রায়ত্ব ২৬ পাটকলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বকেয়া মজুরী-বেতনের সঠিক হিসাবে চেয়েছেন। পাওনা শ্রমিকর ও কর্মকর্তারদের পৃথক পৃথক ভাবে তালিকা তৈরী করে তা মন্ত্রনালয়ে প্রেরনের জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যপারে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মঈনুল করিম জানান, শ্রমিক ও কর্মচারীদের কয়টা মজুরী ও বেতন বকেয়া রয়েছে তা জানতে বিজেএমসি কর্তৃপ্কণষ টেলিফোন করেছে। পাওনাদার শ্রমিকদের মজুরীর ও কর্মকর্তাদের বেতনের হিসাব শ্রমিক, কর্মচারী,কর্মকর্তাদের পৃথক পৃথক ভাবে নামের তালিকা করে তা দ্রæত বিজেএমসিতে প্রেরনেরও নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্লাটিনমের এক প্রকল্প প্রধান ।

ক্ষুদার্ত পাটকল শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে খুলনার বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন
# শনিবারে শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার
ক্ষুধার্ত পাটকল শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে খুলনার বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার সকালে তারা শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে নগরীতে মানববন্ধন করবে। এছাড়া অসহায় শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা দেয়ারও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গতকাল সকালে খালিশপুর প্লাটিনাম গেটস্থ বেসরকারি সামাজিক সংগঠন একুশের আলোর কার্যালয়ে নাগরিক ও শ্রমিক নেতাদের মত বিনিময় সভায় এসব কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের নেতৃত্বে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এ সভায় অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুজন মহানগর কমিটির সভাপতি ভাষাসৈনিক আলহাজ্ব লোকমান হাকিম। সভায় বক্তৃতা করেন সুজনের জেলা সম্পাদক এড. কুদরত ই খুদা, বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু, প্লাটিনাম মিল শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান, নাগরিক নেতা এড. জাহাঙ্গীর হোসেন, কাজী জাবেদ খালিদ জয়, সুজন খালিশপুর থানা কমিটির সম্পাদক খলিলুর রহমান সুমন, ছায়াবৃক্ষের প্রধান নির্বাহী মাহবুব আলম বাদশা, একুশের আলো খুলনার নির্বাহী প্রধান মাহবুবুল হক, দৈনিক তথ্যের বার্তা সম্পাদক নুর হোসেন জনি, সময়ের খবরের স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ মিলন,শ্রমিক নেতা আব্দুল কুদ্দুস প্রমূখ।
সভায় পাটকল শ্রমিকদের দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের স্বপক্ষে সুজনসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনের ব্যানারে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া যে কোন দিন শ্রমিকদের সাথে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথের ইফতারে অংশ গ্রহণ করা। পাটকল শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা যাতে লেখা পড়া বন্ধ না হয় এ জন্য শিক্ষা সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নাগরিক নেতারা শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপন সম্পর্কে অবগত হন। সভায় নাগরিক নেতারা যে যার সাধ্য মত আর্থিক সহায়তা দিয়ে ক্ষুধার্ত শ্রমিকের পাশে থাকার আহবান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে বিজেএমসি নিয়ন্ত্রিত পাটকল শ্রমিকরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। বকেয়া মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের আহবান ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের
খবর বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন সোনাডাঙ্গা থানা শাখার সভাপতি মাওলানা ইকবাল মাহমুদ এক বিবৃতিতে বলেন সরকার শুধুই ডিজিটাল উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছে । কিন্তু দেশের শ্রমজীবি মানুষ আজ বড় চরম উৎকন্ঠা ও অনাহারের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে । রমজানের মধ্যে রাজপথ দখল করে কেন তাদের ন্যায্য বেতন পাওয়ার জন্য রাজপথ অবরোধ করতে হচ্ছে। অতিসত্ত¡র পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশনসহ বকেয়া বিল পরিশোধ করতে সরকারকে আহবান জানান । অন্যথায় শ্রমজীবি মানুষের রোষানলে সরকারের চ‚ড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনবে ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সোনাডাঙ্গা থানা দফতর সম্পাদক মোঃ মকবুল আহমেদ, হাফেজ মাছুম বিল্লাহ, মোঃ ফজলুর রহমান, মোঃ আলী আকবর, মোঃ নাজমুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ
কয়রায় নদী পাড়ের মানুষ আতঙ্কে
শাহজাহান সিরাজ, কয়রা
চলতি মাসের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত আনে সমুদ্র উপকূলবর্তী একাধিক উপজেলার মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলায় এবং মারাক্তক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৮ কিলোমিটার ওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ। তবে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যের ব্যাপক প্রচেষ্ঠায় এবং এলাকাবাসী সেচ্ছাশ্রমে কাজ করায় উপজেলার কোথাও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কিন্তু ৪ টি ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে কপোতাক্ষ নদীর বেঁড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ লঞ্চঘাট ও হরিনখোলা, উত্তরবেদকাশির শাকবাড়িয়া ও গাজীপাড়া, দক্ষিণ বেদকাশির আংটিহারা এবং মহারাজপুরের দশহালিয়া বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। খবর নিয়ে জানা গেছে, শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ থাকায় এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন।
সরেজমেিন ফণীর আঘাত চলাকালে শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর বেঁড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পর সাংসদ এর উপস্থিতিতে এবং তারই নির্দেশে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এলাকাবাসী তাৎক্ষনিক যে ভাবে বাঁধ রক্ষা করেছিলেন। অথচ ফণীর ১০ দিন পরও সেই বাাঁধ আজও অরক্ষিত রয়েছে এবং অনুরুপ গাজীপাড়া, আংটিহারা, দশহালিয়ার বেঁড়িবাঁধ অরক্ষিত। এলাকাবাসী জানায় ঠিকাদার নিয়োগ হলেও এখনও কাজ শুরু না করায় আসছে পূর্ণিমার জোয়ারের পানির ¯্রােতে ক্ষতি হতে পারে। এদিকে সরেজমিনে শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর মারক্তক ঝুকিপূর্ণ বেঁড়িবাঁধে কথা হয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরদারের সাথে। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে গাববুনিয়া গ্রামটি ৯০ ভাগ এখন কপোতাক্ষ নদী ও শ্রমনগর থানার গাবুরা ইউনিয়নে চর জেগেছে। এছাড়া শাকবাড়িয়া গ্রামের ৩০ ভাগ নদীগর্ভে বিলীন। এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তা মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ২/১ দিনের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন এবং সেজন্য ঠিকাদারের উপর জরুরী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান বাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কযরার বেঁড়িবাঁধ তার ঘুম হারাম করে দিয়েছে। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল জনগণের কাছে টেকসই বেঁড়িবাঁধ করার এবং তার নির্বাচনী এলাকা কয়রায় ১২০ কিলোঃ বেঁড়িবাঁধের মধ্যে ৩৫ কিলোঃ ঝুকিপূর্ণ। সে জন্য তিনি মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে পাউবোর সকল কর্মকর্তাদের দৌড়ের ওপর রেখেছেন। এছাড়া কয়রা বেঁড়িবাঁধের খবর না নিয়ে তিনি রাতে ঘুমান না বলেও জানান। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজ তিনি নিজেই তদারকি করছেন এবং আল্লাহর রহমতে বড় কোন আঘাত না হলে কয়রার মানুষ লবন পানিতে আর ভাসবে না। তিনি আরও বলেন, ফনীর পর অরক্ষিত আছে কিছু এলাকা এবং সেগুলিতে সর্বক্ষণ তার দৃষ্টি আছে এবং টেকসই বাঁধ নির্মানে তার প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।

খুলনা-মোংলার একমাত্র এক্সেল লোড কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের একমাত্র এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় যানবাহনগুলো অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে ক্ষতি হচ্ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের। সঙ্গে ঘটছে দুর্ঘটনাও। জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ মে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার নওয়াপাড়া (শ্যামবাগাত) এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে অনিয়মিতভাবে কিছুদিন চালু থাকলেও, পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটি। সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, কেন্দ্রটি তৈরির পরে লোকবল নিয়োগ না হওয়া এবং দুর্বল মেশিনের কারণে বন্ধ রয়েছে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। তবে কবে থেকে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলায় সড়ক পথে যাওয়া ও বের হওয়ার একমাত্র পথ এটি। এখান থেকেই সড়ক পথের সব পণ্য প্রবেশ ও বের হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এঙ্গে লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় চালক ও পরিবহন মালিকেরা মাত্রাতিরিক্ত পণ্য বহন করে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে চলেছে সড়কের। পথচারী আব্দুল আউয়াল মিয়া বলেন, এক্সেল লোড না থাকার কারণে ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন অনেক বেশি মাল বহন করে রাস্তার ক্ষতি করছে। পাশাপাশি তাদের দ্রæতগতির কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে। এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, নির্মাণের সময় থেকেই এঙ্গে লোড কেন্দ্রটি অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়। এখনকার মেশিন দুর্বল হওয়ায় দু-একটি গাড়ির ওজন মাপের পরই সেটি বন্ধ হয়ে যেত। এছাড়া কেন্দ্রটি নির্মাণের পর থেকে এখানে কোনোদিন আনসার ও স্টাফ নিয়োগ হয়নি। তাই কিছুদিন পর কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন মেশিনটি নষ্ট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে মহাসড়কে নতুন এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। তার অংশ হিসেবে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজের সামনে উন্নত মেশিন দিয়ে স্থায়ী এক্সেল লোড নির্মাণ করা হবে।

তেরখাদায় বাল্যবিয়ের দায়ে তিন জনকে জরিমানা
তেরখাদা প্রতিনিধি
তেরখাদায় গত ১৪ মে মঙ্গলবার রাত ৮টায় উপজেলার ৪নং সাচিয়াদহ ইউনিয়নের উত্তর কুশলা গ্রামে মোঃ হাবিবুর লস্কারের পুত্রের সহিত একই গ্রামের মৃত ইলিয়াস এর অপ্রাপ্ত বয়স্কা কন্যা সুখীয়া খাতুন (১৬) এর বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী ঘটনাস্থলে যান এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বরকে ১০ হাজার টাকা, নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম কে ২০ হাজার টাকা এবং বাল্য বিবাহের স্বাক্ষী মোঃ নিয়ামত আলীকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেন।
উল্লেখ্য কয়েক মাস পূর্বে গোপনে তাদের বাল্য বিবাহ সংঘটিত হয়। যার অনুুষ্ঠান করতে গিয়ে বিষয়টি সকলের নজরে আসে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সালেকুজ্জামান, এসআই শেখ আবু সাইদ প্রমুখ।

নড়াইলে রোহিঙ্গা সন্দেহে গণধোলাই
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে রোহিঙ্গা সন্দেহে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। বুধবার (১৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নড়াইল সদর থানার এস আই আমির হোসেন জানান, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবককে হিজলডাঙ্গা গ্রামে ঘুরতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। অনেকের মাঝে ‘ছেলে-মেয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার গুজব’ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া তার কথাবার্তা শুনে এলাকাবাসী তাকে রোহিঙ্গা মনে করেন। এলোমেলো কথাও বলেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন-তার নাম জসিম। পুলিশ কর্মকর্তা এস আই আমির আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে।

খুলনার আলোচনা সভায় বক্তারা
ধর্ষক প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড দিতে হবে
খবর বিজ্ঞপ্তি
এ দেশে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা এত তীব্র হয়েছে সুবিচারের অভাবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে দ্রæততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষক প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। আইনী সীমাবদ্ধতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, লোকলজ্জা এবং পুলিশ ও সমাজের প্রভাবশালীদের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আমাদের দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বাড়ছে তাই শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস গড়ে তুলতে হবে। যে আইন আছে, বিজ্ঞপ্তি আছে, তা দিয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং অপরাধের ভীতিটা জানাতে হবে। ইন্টারনেট থেকে পন্যগ্রাফী ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করতে হবে। শিশুরা যেন অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করতে পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি জাতীয় সুরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, পৃথক শিশু অধিদপ্তর ও জাতীয় শিশু অধিকার কমিশন গঠন করতে হবে। জনউদ্যোগ,খুলনার আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় বিএমএ’র সেমিনার কক্ষে জনউদ্যোগ,খুলনার আয়োজনে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমএ’র সভাপতি শেখ বাহারুল আলম। বিষয়বস্তুর উপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন জনউদ্যোগ,খুলনার সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। সঞ্চালনা করেন এ্যাডঃ শামীমা সুলতানা শীলু। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জনউদ্যোগের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব তারিক হোসেন, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয়নেতা শ্যামল সিংহ রায়, নারীনেত্রী এ্যাডঃ সুলতানা রহমান শিল্পী, সুতপা বেদজ্ঞ,খুলনা উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, আয়কর আইনজীবী সমিতির এস এম শাহনওয়াজ আলী, জেপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার এ্যাডঃ মোমিনুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পাটির শেখ মফিদুল ইসলাম, নির্যাতিত নারী অধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার এ্যাডঃ তসলিমা খাতুন ছন্দা, সেফের সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান, শান্তিসদনের প্রতিষ্ঠাতা রসু আক্তার, পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালকএম নাজমুল আজম ডেভিড, পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, সিলভী হারুণ,মহিলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মনিরা সুলতানা, সোনালী দিন প্রতিবন্ধী সংস্থার ইসরাত আরা হীরা, আলীজ একাডেমীর সভাপতি সৈয়দ আলী হাকিম, নান্দিক একাডেমীর পরিচালক জেসমিন জামান, সঞ্জয় কুমার মল্লিক, নূরুন নাহার হীরা, বনানী সুলতানা, সালমা সুলতানা, বেদৌরা আফরোজ, আলমাস আরা, মোঃ মশিউর রহমান, মোঃ আসিফ ইকবাল, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার নারী লজ্জায় এবং আতঙ্কে থাকেন। তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে সে অভিজ্ঞতা বা ধর্ষক সম্পর্কে তথ্য জানাতে ভয় পান, কুণ্ঠা বোধ করেন। অনেকদিন লেগে যায় ধর্ষণের কথা কাউকে বলতে।

বিজ্ঞান শিক্ষাই বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের নিয়ামক শক্তি-শীর্ষক সেমিনার
তথ্য বিবরণী
‘বিজ্ঞান শিক্ষাই বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের নিয়ামক শক্তি’ শীর্ষক সেমিনার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন গতকাল বুধবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সহযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞানের সাথে আছি। বিজ্ঞান আমাদের কাজকে সহজ করে দিয়েছে। দূরকে নিকটে এনে দিয়েছে। বিজ্ঞান ছাড়া এখন কোন কিছু চিন্তাই করা যায় না। বিজ্ঞান ছাড়া জীবন এখন অচল। মেধার সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটালে অসম্ভবকে উৎরানো সম্ভব। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ছাড়া মানুয়ের বাঁচার সুযোগ নেই। জীবনের জন্য ও চলার জন্য বিজ্ঞান সবসময় প্রয়োজন।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক হোসেন আলী খোন্দকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এবং কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার এস এম ফজলুর রহমান। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণের পরিচালক প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার। রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাধন রঞ্জন ঘোষ এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
সেমিনারে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুলের প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষজ্ঞদলের পরিদর্শনের পর ভেঙ্গে পড়ল লোহাগড়া হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা
ফরহাদ খান, নড়াইল
আবারও ভেঙ্গে পড়েছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলার ছাদের পলেস্তারা। বুধবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন রোগি ও তার স্বজনেরা। এর আগে গত ১৩ মে দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয়তলার পুরুষ ওয়ার্ডে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। এ সময় পুরুষ ওয়ার্ডে ২০ জন রোগি ভর্তি ছিলেন। এছাড়া ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শামসুল আলম ও সহকারী প্রকৌশলী তানজিলা ফেরদৌসী, নড়াইলের সিভিল সার্জন ডাক্তার আসাদ-উজ-জামান মুন্সীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ৫০ শয্যার লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন।
পরিদর্শন শেষে প্রকৌশলীরা লোহাগড়া হাসপাতাল সম্পর্কে মন্তব্য করেন, পুরুষ ওয়ার্ডের সবগুলো ভীম (নবধস) ও ক্র্যাক (ঈৎধপশ) দেখা যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে বড় ধরণের ভবন ধসের পূর্বলক্ষণ। এছাড়া ছাদে ও বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারাসহ কংক্রিট (ঈড়হপৎবঃব) খুলে আসছে। পুরুষ ওয়ার্ডের বøকটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ব্যবহার না করার সুপারিশসহ রোগি স্থানান্তরেরও সুপারিশ করেন প্রকৌশলীরা। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের পরেরদিনই আবারও দ্বিতলার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এতে করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগি, তাদের স্বজন ও চিকিৎসকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন নাহার জানান, বুধবার ছাদের পলেস্তারা ভেঙ্গে পড়ার সময় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পাঁচজন রোগি ছিলেন। এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলার ডিগ্রিরচর গ্রামের রনজু শেখের স্ত্রী শিলা বলেন, হাসপাতালের দ্বিতলায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুপুত্র জুনায়েতকে নিয়ে বেডের ওপর বসেছিলাম। হঠাৎ ওই বেডের একপাশে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। অল্পের জন্য আমরা রক্ষা পেয়েছি। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
এদিকে, লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদে বড় ধরণের ঝুঁকির পরও গতকাল বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত দ্বিতীয়তলা থেকে রোগি স্থানান্তর করা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ছাড়াও জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য ওয়ার্ড রয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জন ডাক্তার আসাদ-উজ-জামান মুন্সী বলেন, লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনে ৩১ শয্যা আছে। আর নতুন ভবনে ১৯ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগিদের রাখব কোথায় ? এ নিয়ে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি রয়েছে।
এদিকে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে সাত কোটি ১৭ লাখ ৩৪১ টাকা ব্যয়ে নতুন তিনতলা ভবন ও কোয়ার্টার নির্মাণ করা হলেও তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা চালু হচ্ছে না। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবন হস্তান্তর করা হয়। নতুন এ ভবনে রোগিদের জন্য ১৯ শয্যা, পাঁচটি কেবিন, একটি মিলনায়তন, তিনটি অপারেশন থিয়েটার, একটি পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ ও দুটি নরমাল ডেলিভারি কক্ষ রয়েছে। জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে এ ভবন এবং উপকরণগুলো। নতুন ভবনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লোহাগড়া উপজেলাবাসী। আর পুরাতন ভবনে ঝুঁকির মধ্যে আছেন রোগি, তাদের স্বজন ও চিকিৎসকেরা। পুরাতন ভবনের অধিকাংশ স্থানে ফাটল ধরেছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। এ পরিস্থিতিতে দ্রæত নতুন ভবন চালুসহ পুরাতন ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আরো একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি করেছেন লোহাগড়া উপজেলাবাসী।

খুলনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিঃ এর পরিচালনা পরিষদের এক সভা গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংক’র পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান,সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান। সভায় বক্তব্য রাখেন ভাইস-চেয়ারম্যান সাংবাদিক এসএম ফরিদ রানা, পরিচালকবৃন্দ যথাক্রমে মোঃ সরিফুল ইসলাম, কাজী জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোঃ খোরশেদ শেখ, সুরেন্দ্রনাথ মন্ডল, আনিসুর রহমান, আব্দুল মতিন, গোলাম নবী মাসুম ও ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ লিয়াকত বিন এমদাদ। সভায় আগামী ২৩ মে’১৯ বৃহস্পতিবার ১৭ রমজান ব্যাংক’র দোয়া ও ইফতার মাহফিলের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়া বাজেট সভা ও সাধারণ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

মহেশপুরে শিশু ধর্ষণ চেষ্টাকারী আটক
মহেশপুর প্রতিনিধি
প্রতিবেশী ৪ বছরের এক শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে প্রতিবেশী লম্পট জিহাদুল ইসলাম জিহাদ (১৯) নামের এক যুবক। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পেরে ধর্ষনের চেষ্টাকারী লম্পট জিহাদুল ইসলাম জিহাদকে ধরে পুলিশে সোপর্দ্দ করে।
পরে শিশুটির মা বাদি হয়ে লম্পট জিহাদুল ইসলাম জিহাদকে আসামী করে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।
এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের একটি গ্রামে।
এলাকাবাসী জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে জিহাদুল ইসলাম জিহাদ প্রতিবেশীর বাড়ীতে ৪ বছরের এক শিশু কন্যাকে একা পেয়ে তাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় পাড়ার কয়েক জন দেখে ফেললে জিহাদুল ইসলাম জিহাদ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে ধরে ভৈরবা পুলিশ ফাঁড়িতে সোপার্দ করা হয়।
কাজিরবেড় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা জানান, আমি ঘটনাটি লোক মুখে শুনেছি। এদেরকে কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।
মহেশপুর থানার ডিউটি অফিসার এ এস আই আসাদই আলম জানান, সকালে ভৈরবা ফাঁড়ির সদস্যরা এক শিশু ধর্ষনের চেষ্টাকারী জিহাদুল ইসলাম জিহাদ নামের এক যুবককে থানায় দিয়ে গেছে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলাম জানান, ওই গ্রামের ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টার আসামী জিহাদুল ইসলাম জিহাদকে সকালেই আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার শিশুটির মা বাদি হয়ে জিহাদুল ইসলাম জিহাদকে আসামী করে থানায় একটি মামলাও করেছেন।

উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : এমপি বাবু
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু বলেছেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন। সংগঠনটি ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ফলে গণতান্ত্রিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে এ দেশের মানুষ বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে। তিনি আরো বলেন, পথিমধ্যে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীরা পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার হত্যা চেষ্টা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনে এদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বুধবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক গাজী মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব মোঃ রশীদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগনেতা আনোয়ার ইকবাল মন্টু, আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু, গাজী আব্দুল মান্নান, নাহার আক্তার, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার, রুহুল আমিন বিশ্বাস, রিপন কুমার মন্ডল, কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, কওছার আলী জোয়াদ্দার, সাবেক চেয়ারম্যান মুনছুর আলী গাজী, গোলাম মোস্তফা, কাজল কান্তি বিশ্বাস, আওয়ামী লীগনেতা যুগোল কিশোর দে, আনন্দ মোহন বিশ্বাস, নির্মল মন্ডল, জিএম ইকরামুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন খোকন, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, আবুল বাশার বাবুল সরদার, বিজন বিহারী সরকার, বিভূতি ভূষণ সানা, গোলক বিহারী মন্ডল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মন্ডল, গাজী নজরুল ইসলাম, হেমেশ চন্দ্র মন্ডল, আরশাদ আলী বিশ্বাস, এসএম আয়ুব আলী, আজমল হোসেন, ডাঃ শংকর দেবনাথ, শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, তৃপ্তি রঞ্জন সেন, মাসুমা বেগম, ময়না খাতুন, জুলি শেখ, আব্দুর রাজ্জাক রাজু, এমএম আজিজুল হাকিম, এ্যাডঃ শেখ আব্দুর রশিদ, কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, পবিত্র মন্ডল, শেখ হারুনুর রশীদ হিরা, শাহাজান কবির, শেখ জাহিদুল ইসলাম, কেডি বাবু, আকরামুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল গফফার মোড়ল, কবির উদ্দীন সরদার, শিকদার আবু হানিফ সোহেল, ছাত্রলীগনেতা তানজিম মোস্তাফিজ বাচ্চু ও রায়হান পারভেজ রনি।

কেসিসির অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ও খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধকল্পে গঠিত কমিটির নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরীর অপরাধে নগরীর খালিশপুরস্থ ডিআইডিসি রোডের ইস্টার্ণ ফ্লাওয়ার মিলের মালিক’কে ভোক্তা অধিকার আইনের ৫২ ধারায় ৩০ হাজার টাকা, ৫১ ধারায় মেসার্স সোনালী ফ্লাওয়ার মিলের মালিককে (মিল্লাত সেমাই) ২০ হাজার টাকা, হাসেম ফুডের মালিককে ১০ হাজার টাকা এবং ছোট বয়রা পূজা খোলা মোড়স্থ বিনিময় বিপনী’র মালিককে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোল্ড ড্রিংস ও জুস বিক্রীর অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অভিযানকালে বয়রা কাঁচা বাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্যমূল্য তালিকা প্রদর্শন, খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণের স্থান ও বাজার দর পর্যবেক্ষণ করা হয়।
কেসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খান মাসুম বিল্লাহ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাজার সুপার মো: সেলিমুর রহমানসহ স্যানিটারী ইন্সপেক্টরগণ অংশগ্রহণ করেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টীম অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে।
পবিত্র মাহে রমজানে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধকল্পে কেসিসি’র এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরায় ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার বাইপাস সড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে শহরের অদূরে কামননগর-বকচরা বাইপাস সড়কে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ট্রাক চালকের নাম মফিজুল ইসলাম (৩৫)। তিনি শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনয়নের ভড়ভুড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী গাইনের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, ট্রাক চালক মফিজুল কুষ্টিয়া থেকে পোলট্রি ফিড ভর্তি ট্রাকটি চালিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাতক্ষীরায় আসার আগেই তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিনি এ সময় তার হেলপার মামুনকে দিয়ে ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন এবং হেলপারের বামপাশে বসে তিনি বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে সাতক্ষীরা শহরের অদূরে বাইপাস সড়কের বকচরা মোড় নামক স্থানে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি ট্রাকের পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ট্রাকটি রাস্তার ধারে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনা স্থলেই মারা যান চালক মফিজুল। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে ট্রাকটি উদ্ধার করেন। এদিকে, চালক মফিজুলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে, এ ঘটনায় হেলপার মামুন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে

বেনাপোলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোলে একাধিক পরকীয়া প্রেমের নায়িকা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বিদেশ থেকে আসা স্বামী জামাল হোসেনকে (৩৬) দেশে আসার মাত্র ১০ ঘন্টা পর প্রেমিকদের সহযোগিতায় কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতর পরিবার। বুধবার নিজ বাড়ির বেড রুমে স্ত্রী আয়েশা তার স্বামীকে কতিথ প্রেমিক ও নিজ বাবা মায়ের সহযোগিতায় হত্যা করে। এঘটনায় তাৎক্ষনিক পুলিশ আয়েশার মা-বাবা সহ তিনজনকে আটক করেছে।
নিহত জামাল হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে।
আটককৃতরা হলো – নিহত জামালের স্ত্রী আয়েশা খাতুন, শশুর রিয়াজুল ইসলাম টুক, ও শাশুড়ী ফুলবুড়ি।
নিহতর বাবা হবিবার রহমান অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে প্রায় ১৫ বছর যাবৎ মালায়েশীয়া থাকে। একই গ্রামের রিয়াজুলের মেয়ে আয়েশার সাথে তার প্রায় ১৫ বছর বিবাহ হয়। আর বিগত এই ১৫ বছরে তার ছেলে মালায়েশীয়া থেকে মাত্র ৩ বার বাড়ি এসেছে। তার বাড়ি না থাকার কারনে স্ত্রী আয়েশা এলাকার বিভিন্ন ছেলের সাথে প্রেম করত। প্রায় কারো না কারো সাথে সে মোটর সাইকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুই তিন দিন পর বাড়ি ফিরত। তার ছেলের আলাদা করে বাড়ি যে বিল্ডিং তৈরী করেছে সেই বিল্ডিংয়ে আয়েশা ও তার মা বাবা বসবাস করত। ছেলে গতকাল মঙ্গলবার বাড়ি বেলা ২ টার সময় মালায়েশীয়া থেকে আসে। আর রাত ১২ টার সময় তার বুকে পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। তবে কার সাথে প্রেম করত তার ছেলের স্ত্রী এ প্রশ্নে তিনি এলাকার লোকের বাধার মুখে নাম বলতে অস্বীকার করে।
স্থানীয়রা জানায়, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে আয়েশা একাধিক প্রেম সম্পর্ক গড়ে তোলে এলাকায়। কেউ তাকে ফোন করে ডাকলে সে মোটরসাইকেল ভাড়া ঘরে দুই তিনদিন একাধারে হারিয়ে যেত। এর আগে যখন তার স্বামী বিদেশ থেকে বাড়ি আসে তখন তাকে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে বলে এলকার জনসাধারন অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি ৯ (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, হত্যার তদন্তের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সাথে আলাপ চলছে কে বা কারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না।

ধানের ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় চরম হতাশ পাটকেলঘাটার কৃষক
এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা
ধান লাগায়ি কি হবে, এর চায়ি কিনি খাব তবুও লোকসান গুণতি হবে না আমাগি মতোন কৃষকের-কথাগুলো বলছিলেন পাটকেলঘাটার থানার কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র ধানচাষি শহিদুল ইসলাম। অনেকটা অভিমানের সুরে নিজের অজান্তে কথা গুলো অকপটে বলেই চলেছিলেন একান্ত স্বাক্ষাৎকারে। তিনি আরো বলেন, ধান যদি আমরা না লাগাই তাহলি সরকারের তো বাইর দেশেত্তে আনতি হবে। আমাগির সরকার কি বোঝে না খরচের চায়ি যদি দাম কম পাই তালি ও লাগাবো কি করতি।
সরেজমিনে পাটকেলঘাটার কয়েকজন ধান ব্যবসায়ীর নিকট খোজ নিয়ে এমন কথার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায় এসকল ব্যবসায়ীগণ অনেককটা অনাগ্রহের সহিত ধান কিনছেন। বিশেষত মুদি, কাপড় সহ সমস্থ দোকানগুলোতে বৈশাখের শুরু হতে এক যোগে হালখাতার লগ্ন চলছে। সারাবছর বাকি করে কিনলে এখন সেগুলো পরিশোধ করা বাধ্যতা মুলক হয়ে দাড়িয়েছে সকলের। তাই যার যা সম্বল গরু, ছাগল বিক্রি করেও অনেকে দেনা পরিশোধ করছেন বলে জানা যায়। অপরদিকে অধিকাংশ ধানচাষী কৃষকরা চেয়ে আছেন কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত ধান ক্ষেতের দিকে। বছরের ভাত ঘরে তুলে বাকি ধানগুলো বিক্রি করে সকল দেনা পরিশোধ করে দেবেন। কার্যত দেখছেন ঝুকি নিয়ে ধানগাছ লাগানোর চেয়ে ধান কেনাই লাভবান বেশি। গতকাল বুধবার উপজেলার বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাটকেলঘাটা বাজারে বেশিরভাগ কৃষকের ধান বিক্রি করতে এসে কপাল ভাজ হতে দেখা যায়। তাদের এমন দশা লোকসান হলেও করার কিছুই নেই। ধান বিক্রি করে হালখাতার টাকা শোধ না করলে বাড়ি গিয়ে মান অপমান হতে পারেন। কয়েকজন ধান ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭’শ দামে মণ দিচ্ছি। বাজার যদি চড়া না হয় সরকার যদি মাঠপর্যায়ে কৃষকের খোজ খবর না নেয় আমরা কি বা করতে পারি। অথচ মণ প্রতি ধান উৎপাদন করতে হাজারেরও বেশি অলিখিত খরচ হয়ে দাড়িয়েছে এতদাঞ্চলের কৃষকের। চড়া দামে ধান বীজ কেনা, অনেকের চড়া দামে পাতা (ধানের চারা) কেনা অতপর শ্রমিক দিয়ে চারা লাগানো, পরিষ্কার করা, পানি খরচ, সার দেয়া, গাছগুলো কাটা, ঝাড়া পরিষ্কার শেষে ঘরে তোলা নেহায়েত কম শ্রম নয়। অথচ যা খেয়ে আমাদের জীবন বাচে, যা এদেশের কৃষকরা উৎপাদন না করলে সরকার সহ জনগণের মাথায় হাত উঠে যাবে তার দাম দর নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। অনেকের ধানের দাম না পাওয়ায় ধানগাছে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর খবরও কানে আসছে। তাই সরকারের উচিত এদেশের কৃষকদের দিকে সুনজর দেয়া। আবারও যাতে কৃষকরা লাভের আশায় নতুন উজ্জীবিত হয়ে ধান পাট চাষে আগ্রহ তৈরী করতে পারে তার সুব্যবস্থার জন্য আহবান জানান এ অঞ্চলের সাধারণ কৃষককুল।

বিভিন্ন মহলের শোক
খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ’র পিতার দাফন সম্পন্ন
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিজয় টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক আহমেদ’র পিতা নূর মোহাম্মদ মঙ্গলবার রাত ৯.৩০ মিনিটের দিকে ঢাকার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র, চার কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গতকাল বুধবার ফজর বাদ ঢাকার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর পার্ক মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের জানাজায় দেড় সহ¯্রাধীক লোক উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টায় উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে সাংবাদিক ফারুক আহমেদ’র পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী।
অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)’র সভাপতি মোঃ মুন্সি মাহাবুব আলম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, মহেন্দ্র নাথ সেন, যুগ্ম সম্পাদক নিয়ামুল হাসান কচি, কোষাধ্যক্ষ অভিজিৎ পাল, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল ফরাজী, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুর হাসান জনি, সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, আল মাহমুদ প্রিন্স ও বিমল সাহা। অনুরূপ শোক প্রকাশ করেছেন বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য এস এম ফরিদ রানা। খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মামুন রেজা, সাধারন সম্পাদক সুনীল দাস, সহসভাপতি মল্লিক সুধাংশু ও শামসুজ্জামান শাহীন, যুগ্মসম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অভিজিৎ পাল, প্রচার, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত রুমী, নিবার্হী সদস্য মকবুল হোসেন মিন্টু, মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ, রকিবউদ্দিন পান্নু, বাবুল আকতারসহ সদস্যবৃন্দ। খুলনা টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সাঈদ, সহ সভাপতি শাহজালাল মোল্লা মিলন, সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যুগ্ম সম্পাদক আমির সোহেল, কোষাধ্যক্ষ আরিফ বিল্লাহ, নির্বাহী সদস্য নিয়ামুল হোসেন কচি, মেহেদী হাসান পলাশ, রকিবুল ইসলাম মতি, আজিজুল ইসলাম, খায়রুল আলম, জাকারিয়া হোসেন তুষার, শেখ জুয়েল, আরাফাত হোসেন অনিক আমিনুর রহমান নিউটন, আবুল বাশার, মনিরুল ইসলাম সাগর, সোহেল, শেখ রাসেল, সুদীপ রফিক আলী।

খুবির ফউটে ও সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের ইফতার
খবর বিজ্ঞপ্তি
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন (ফউটে) এবং সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনে পৃথকভাবে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ফউটে ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা থেকে খুলনায় পৌঁছে অতঃপর ডিসিপ্লিনের ইফতারীতে উপস্থিত থাকায় উপাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ এনামূল কবীর। ইফতারে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশ নেন।
অপরদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল মধুসূদন দত্ত অতিথি ভবনের নীচতলায় বিশ্ববদ্যিালয়ের টিচার্স ক্লাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলের পূর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. শেখ মোতাসিম বিল্লাহ সবাইকে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। সূচনা বক্তব্য রাখেন ইফতার মাহফিল আয়োজক কমিটির আহবায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. জগদীশ চন্দ্র জোয়ারদার। ইফতার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মোঃ তারেক বিন সালাম। ইফতার অনুষ্ঠানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহান ও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান ভ‚ঁইয়াসহ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ইফতার মাহফিলে ইফতার পূর্বে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস। ইফতার মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন পেশ ইমাম ক্বারী মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ।

জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা রমেশের মৃত্যুতে শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় শ্রমিক লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স (রেজিঃ নং- বি-২০১১) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও আইএলও সদস্য রায় রমেশ চন্দ্র গতকাল বুধবার সকালে ৮/২, বøক-সি, লাল মাটিয়া, মোহাম্মদপুরস্থ নিজ বাস ভবনে পরলোক গমন করেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন, খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লা, সধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স (রেজিঃ নং- বি-২০১১) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রনজিত কুমার ঘোষ, মোঃ মোতালেব মিয়া, সৈয়দ এমদাদুল হক, শেখ মখলুকার রহমান, মোঃ সেলিম রাজু, সাঈফ হুমায়ুন কবির, মোঃ লুৎফর রহমান, মল্লিক নওশের আলী, শেখ সরোয়ার হোসেন, দুলাল মল্লিক, মোঃ ফারুক হোসেন, মোঃ বাবুল হোসেন, মীর মোঃ আবু হানিফ, কাজী আঃ ওহাব, আব্দুর রহিম খান, মোঃ মাহাবুব হাসান শামীম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ আসাদুজ্জামান মিনা আসাদ, মোল্লা আজাদ আলী, আঃ রশিদ শিকদার, কিংকর সাহা, মোঃ আসাদুজ্জামান মুন্না, শরীফ মোর্ত্তজা আলী, খন্দকর রফিকুল ইসলাম, ইউনুস মুন্সি, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ মতিউর রহমান, মোঃ শাহ আলম শেখ, মোঃ হাবিবুর রহমান হাবি, মোঃ মোশারেফ হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ আনিছুর রহমান, আঃ মান্নান শেখ, শেখ মোঃ রমজান, মোঃ মনিরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, হুমায়ুন কবির খান হিমু, মোঃ মোক্তাহিদুর রহমান অপু, মোঃ শরিফুল ইসলাম, মোঃ তারিকুল ইসলাম বারেক, মোঃ জামাল হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ বাবুল হোসেন, মোঃ মাহাবুব হোসেন বুলু, মোঃ আক্তার হোসেন, মোঃ শরিফুল, নাসরিন আক্তার, শেখ আকবর হোসেন, মোঃ খালেক শিকদার, জাকির হোসেন বিপ্লব, মোঃ আনিছুর রহমান, এস. এম. ইমরুল আলম, মোঃ হানিফ সরদার, মোঃ জাবেদ, বিপ্লব কুমার দে, মোঃ নূর ইসলাম, প্রশান্ত কুমার ঘোষ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

হুইপ পঞ্চানন বিশ^াসের সুস্থতা কামনা জেলা ও নগর আ’লীগের
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ^াস এমপি গুরুতর অসুস্থ হয়ে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার আশু সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মেয়র আলহাজ্জ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আলহাজ্জ্ব মিজানুর রহমান মিজান , খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারী।
এছাড়া তার অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে যান খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল। এসময় তিনি তার চিকিৎসার খোজ-খবর নেন এবং তার দ্রæত সুস্থতা কামনা করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ্যাড. নিমাই চন্দ্র রায়, আইন বিষয়ক সম্পাদক নবকুমার চক্রবর্তী, আল মাহামুদ, সরদার জাকির হোসেন, জামিল খান, তাপস জোয়ার্দার, সাবিনা ইয়াসমিন, পাপিয়া সারোয়ার, কবির আহম্মেদ মনা, চঞ্চল রায় প্রমুখ।

বিপিএইচসিডিওএ খুলনা শাখার দোয়া ও ইফতার মাহফিল
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ প্রাইভেট কিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ), খুলনা শাখার উদ্যোগে গতকাল বুধবার “বিএমএ ভবন” কাজী আজাহারুল হক মিলনায়তনে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপিএইচসিডিওএ’র খুলনা শাখার সভাপতি, সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান।
এছাড়াও দোয়া ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিপিএইচসিডিওএ খুলনা শাখার সহ-সভাপতি ডা.মোঃ মোস্তফা কামাল, ডা. এম আর খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সওকাত আলী লস্কর, কোষাধ্যক্ষ, ডা. এম. এ. হান্নান, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ডা. এম বি জামান, কার্যকরী পরিষদের সদস্য ডা. বজলুল হক, ডা.মোল্ল্যা হারুন অর রশিদ, ডা. সৈয়দা জাহানারা মাহমুদ, মোঃ হাবিবুর রহমান মিয়া, মোঃ রুহুল আমিন, এ্যাড সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লব কুমার দাস, পরিচালক স্বাস্থ্য দপ্তরের এম আই এস বিভাগের সহকারী পরিচালক মোঃ জুবায়ের হোসেন সহ কার্যকরী পরিষদের সকল সম্মানিত সদস্যগণ এবং সংগঠনের নিয়মিত সকল সদস্যগন উপস্তি ছিলেন। ইফতার মাহফিলে দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন ডা. আসাদুল্লাহহিল গালিব।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হলেন খুলনার ছেলে বান্টি
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনার ছেলে বান্টি এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার (১৩ মে) ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রকাশ করা হয়। এতে সহ-সম্পাদক হিসেবে স্থান পেয়েছেন আফি আজাদ বান্টি।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গ্রামীন জনপদ আলমতলা গ্রামের ছেলে আফি আজাদ বান্টি। ছাত্র রাজনীতিতে তার মননে স্থান করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জীবনী। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির দর্শন ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট ও উৎসাহিত করেছে। আর তাই পড়াশুনার পাশাপাশি নিজেকে নিবেদিত করেছেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সহ-সম্পাদক আফি আজাদ বান্টি এর আগে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার খুলনা থেকে একমাত্র আফি আজাদ বান্টি পদ পেয়েছেন।

মৌভোগে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৮
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা ইউনিয়নের মৌভোগ পশ্চিমপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩নারীসহ কমপক্ষে ৮জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বৃদ্ধা শাহিনা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে নাজমুল শেখ নামের একজন মৎস্য ব্যবসায়ী একটি পিকআপে সাদা মাছ এনে মৌভোগ পশ্চিপাড়ার একটি সড়কের পাশে পিকআপ রেখে মাছ নামানোকে কেন্দ্র করে একই এলাকার হোসেন আলী শেখের সাথে নাজমুলের বাকবিতম্বার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এরই জের ধরে এদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় হোসেন আলী, তার সহযোগী ফজলু শেখ, নুর ইসলাম শেখ, নুরনবী শেখ, হাসান শেখ, আরিফ শেখ, মনিরুল শেখ, বাটুল শেখ সহ ১০/১২ মিলিত হয়ে দা, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আকস্মিক অতর্কিতভাবে হামলা চালায় নাজমুল শেখের পরিবারের উপর। এসময় ঠেকাতে আসা লোকজনের উপরও তারা হামলা চালায়। এতে মারাত্বক জখম হয়েছে নাজমুল শেখ (৩০), ভাই শরিফুল ইসলাম (৩৩) ও তরিকুল শেখ (৩৬), বৃদ্ধা মা শাহিনা বেগম (৬০), রাজ আলী শেখ (৪৫), এর মাতা ছামেলা বেগম (৭০), সাইফুল শেখ (৩৫), আছমা বেগম (৩৮)। এদিকে এঘটনায় অত্র এলাকায় উভয় পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে পুনঃরায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু জাহিদ শেখের হস্তক্ষেপে মৌভোগ স্থানীয় ফাড়ি পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সম্পুন্ন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ব্যাপারে নাজমুলের ভাই শরিফুল ইসলাম নিজ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট মডেল থানায় লিখিত আভিযোগ করেছেন। তবে ঘটনার সাথে জড়িতরা সকলে গা ঢাকা দিয়েছে। তাদেরকে আটকের জোর চেষ্টা চালছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন(পিকেএ)।

পূর্ণিমার আগে বাঁধ সংস্কার হয়নি
কয়রায় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের ফের ভাঙনের আতংক
শাহজাহান সিরাজ, কয়রা
পূর্ণিমার গোন (সময়)কে সামনে রেখে ফের খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার বাসিন্দারা ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতংকে রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাতে উপজেলার প্রায় ৮কিলোমিটার বাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ লঞ্চঘাট ও হরিনখোলা, উত্তর বেদকাশির শাকবাড়িয়া ও গাজীপাড়া, দক্ষিণ বেদকাশির আংটিহারা ও মহারাজপুরের দশহালিয়া বেড়িবাঁধ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতের পর ১০/১১দিন পেরিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব বাঁধের কাজ শুরু না করায় তারা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। সামনের পূর্নিমার সময়ে নদীতে পানির চাপ বাড়বে। ফলে দুর্বল এ বাঁধগুলো ভেঙে বিস্তৃণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান বাবুও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে বাঁধের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, দুযোগ কবলিত কয়রার উপজেলার , ১২০ কিলোমিটার বেঁড়িবাঁধ। এরমধ্যে ৩৫ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ লঞ্চঘাট ও হরিনখোলা, উত্তর বেদকাশির শাকবাড়িয়া ও গাজীপাড়া, দক্ষিণ বেদকাশির আংটিহারা ও মহারাজপুরের দশহালিয়া বেড়িবাঁধ, শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে উপজেলার প্রায় ৮ কিলোমিটার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যাপক প্রচেষ্টায় ও এলাকাবাসী সেচ্ছাশ্রমে কাজ করায় উপজেলার কোথাও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমতিয়াজ হোসেনসহ অনান্যরা জানান, বাধ সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। ফলে আসছে পূর্ণিমার জোয়ারের পানির ¯্রােতে ক্ষতি হতে পারে।
উত্তর বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরদার বলেন, ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামটি ৯০ ভাগ
কপোতাক্ষ নদী ও শাখবাড়িয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যেখানে সহ¯্রাধিক ভোটার ছিল, সেখানে এখন ভোটার ১০৩ ভোট। এছাড়া শাকবাড়িয়া গ্রামের ৩০ ভাগ নদীগর্ভে বিলীন। এ কারণে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার গাবুরা ইউনিয়নে চর জেগেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তা মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ২/১ দিনের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন। সেজন্য ঠিকাদারের উপর জরুরী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, কযরার বেড়িবাঁধ নিয়ে প্রত্যেক গোনে আমাকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। এজন্য মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেয়া হচ্ছে। আশাকরি সকলের সহযোগিতা পেলে কয়রার মানুষের আর লবণ পানিতে ভাসতে হবে না।

সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারীর মিষ্টিতে তেলাপোকা, জরিমানা মাত্র ৫ হাজার
মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় একটি ঘোষ ডেয়ারীর মিষ্টির মধ্যে তেলাপোকা থাকায় ওই ঘোষ ডেয়ারী মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ভেজাল বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় মোংলা পোর্ট পৌরসভার শেখ আ: হাই সড়কের সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারীতে অভিযান চালায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম। এ সময় অভিযানকারীরা ঘোষ ডেয়ারীর মিষ্টির পাত্রে একটি তেলাপোকা দেখতে পেয়ে মালিক উত্তম ঘোষকে নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া একই সময়ে নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বেচা-কেনার অভিযোগে তালুকদার আব্দুল খালেক সড়কের আল মদিনা হোটেলকে ৩ হাজার ও বাংলাদেশ হোটেলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম বলেন, রমজান মাস জুড়ে শহরের দোকানপাটে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানকালে জড়ো হওয়া স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মিষ্টির কড়াইয়ের মধ্যে তেলাপোকা পেয়ে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এটা খুবই কম জরিমানা করা হয়েছে, কমপক্ষে ৫০ হাজার কিংবা তার বেশি জরিমানা করা উচিৎ তাহলেই তারা সতর্ক হবে এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর হোটেল মালিকদের যে নগন্য পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে তাও হাস্যকর।
এদিকে রমজানে শুরু পর দেরিতে হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানোতে প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। স্থানীয়দের দাবী শুধু হোটেল ও ঘোষ ডেয়ারী নয় অভিযানের আওতায় আনা প্রয়োজন মুদি, সবজি, মাছ ও মাংসের দোকানগুলো।

পাটকল শ্রমিক পরিবার ৯ দফা মেনে নেয়ার আহবান নগর বিএনপির
খবর বিজ্ঞপ্তি
পাটকল শ্রমিকদের জীবনে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে দাবি করে অবিলম্বে সকল বকেয়া মজুরী-ভাতা প্রদানসহ ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ সময় শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে একাত্মতার কথা পুর্নঃব্যক্ত করা হয়েছে।
আজ এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়াত্ত¡ পাটকল শ্রমিকদের নিয়ে সরকার প্রহসনের খেলায় মেতে উঠেছে। খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলীম, ইস্টার্ন, যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলের অর্ধলাখ শ্রমিক-কর্মচারী ১৩ সপ্তাহ যাবৎ তাদের বেতন-মজুরি পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অতি গুরুত্ববহ ও ফজিলতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। রোজার আগে বিরতি দিয়ে কয়েক দফা আন্দোলন করলেও দাবি পূরণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি বিজেএমসি কিংবা সরকার। ফলে রোজার প্রথম দিন থেকে অর্ধলক্ষাধিক পাটকল শ্রমিক রাজপথের লাগাতার আন্দোলন শুরু করেছেন। গ্রীষ্মের প্রখর খরতাপের মধ্যে রোজাদার শ্রমিকরা মিল ধর্মঘট ছাড়াও বিকেল থেকে তিন ঘন্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করছেন। তারা আসর ও মাগরেবের নামাজ আদায় এবং অতি সামান্য খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ইফতার করছেন রাজপথে। এদিকে মজুরী-বেতন না পেয়ে শ্রমিক পরিবারগুলোকে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। এসব পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনা কিংবা সংগ্রহের সকল পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দোকানদাররা এখন পাটকল শ্রমিকদের কাছে চাল-ডালসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ এক একজন শ্রমিকের কাছে তাদের পাওনার পরিমান বিপুল অংকের টাকা। এ পরিস্থিতিতে চলমান রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া সকল টাকা পরিশোধের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

সিপিবি’র নগর সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার প্রতিবাদ

খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদারের উপর গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনের সামনে সন্ত্রাসী হামলা হামলায় আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসান্তে বাসায় অবস্থান করছেন। তাঁর উপর জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনÑবাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি ডাঃ মনোজ দাশ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. এম এম রুহুল আমিন, মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদৎ, সম্পাদকমÐলীর সদস্য মিজানুর রহমান বাবু, সুতপা বেদজ্ঞ, সদর থানা সভাপতি দীন মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক এড. নিত্যানন্দ ঢালী, সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতি নিতাই পাল, সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী হাওলাদার, খালিশপুর থানা সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল, দৌলতপুর থানা সভাপতি পূর্ণেন্দু দে বুবাই, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, খানজাহান আলী থানা সভাপতি আব্দুর রহমান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্য দিবালোকে আইনজীবী সমিতির সামনে প্রশাসনের নাকে ডগায় এহেন হামলায় বিষ্ময় প্রকাশ করে অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

জেলা বিএনপির সম্পাদক মন্ডলীর সভায় এ্যাড. মনা
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিন
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলা বিএনপি সভাপতি ও সম্পাদক মন্ডলীর এক বিশেষ সভা গতকাল বুধবার বেলা ২টায় দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা সভাপতিত্ব করেন।
সভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমীর এজাজ খান, মনিরুজ্জামন মন্টু, শেখ আব্দুল রশিদ, এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, চৌধুরী কাওসার আলী, এ্যাড. মাসুম আল রশিদ, এ্যাড. শফিকুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, আব্দুর রকিব মল্লিক, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, মোস্তফা উল বারী লাবলু, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, আশরাফুল আলম নান্নু, মেজবাউল আলম, এ্যাড. এস কে শহিদুল আলম, মুর্শিদুর রহমান লিটন, ওয়াহেদুজ্জাম রানা, মোল্যা এনামুল কবির, ইলিয়াস হোসেন মল্লিক, সুলতান মাহমুদ, নাজমুস সাকিব পিন্টু, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, হাফেজ আবুল বাসার, মোল্যা সাউফুর রহমান, সরোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন লাবু, রফিকুল ইসলাম বাবু, শামসুল বারিক পান্না, এ্যাড. আলফাজ হোসেন, আল মামুন, মাও: আব্দুস সালাম, তানভিরুল আজম রুমান প্রমুখ।
সভা থেকে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানানো হয়। দিঘলিয়া থানা বিএনপির সভাপতি মোল্যা সাইফুর রহমান মিন্টুর পিতার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব করা হয়। জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রানার বড় বোন রিনা পারভীন গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ও চালনা পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোজাফফর হোসেনের মেয়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন এবং চালনা বিএনপি নেতা শেখ রমজান আলীর দ্রæত সুস্থ্যতা কামনা করা হয়। আইচগাতী ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি ওসমান গনি মোল্যার স্ত্রীর মৃত্যু শোক প্রকাশ করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

পাইকগাছায় বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট : দু’ শিশুসহ অহত ৩
স্টাফ রিপোর্টার
পাইকগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সন্ত্রাসীরা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্নালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এদের হাতে দু’ শিশুসহ ৩জন আহত হয়। আহতের মধ্যে গৃহবধূ সুফিয়া বেগমকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতের পরিবার সূত্র জানায়, গত সোমবার দুপুর ১টায় উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মোস্তফা মোল্লার বাড়িতে ওই গ্রামের জব্বার শেখের পুত্র শেখ নূর ইসলাম বাবু, শীকন্ঠপুর গ্রামের বক্স গাজীর পুত্র আজিজ গাজী, ওই গ্রামের মৃতঃ বক্স গাজীর স্ত্রী মোসাম্মাৎ রহিমা বেগম, বাতিখালি গ্রামের জোহর গাজীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম এবং বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃতঃ আছমত মিস্ত্রীর পুত্র রেজাউল মিস্ত্রী ও তাদের আরো ৫-৬জন সহযোগি দা, লাঠি, শাবল, রড, হাতুড়ি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় গৃহকত্রী সুফিয়া বেগমকে বেদম মারপিট করে। তার চিৎকারে মেয়ে ময়না বেগম ও আমেনা বেগম ছুটে আসলে ময়না বেগমের ছোট বাচ্চা ও আমেনা বেগমের ২বছরের শিশু নাহিদকে আছাড় মারে এবং লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে আহত করে। সন্ত্রাসীরা বাক্সের মধ্যে থাকা ৫০হাজার টাকা ও ময়না বেগমের গলায় থাকা ১ভরি ওজনের ৫০হাজার টাকা মূল্যের স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
আহত সুফিয়া বেগমকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি পাইকগাছা থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে এস আই নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসআই নাজমুল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মারামারি হয়েছে। আহত সুফিয়া বেগম খুলনায় ভর্তি আছে। ওসি ইমদাদুল হক বলেন, ঘটনা সত্য এবং মামলা হবে। আমি ডিআইজি রেঞ্জের ইফতার মাহফিলে ছিলাম। পাইকগাছায় যাচ্ছি। গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট থানায় ময়না বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

নওয়াপাড়া বাজারে ব্যস্ততম গলি দখল করে স্থায়ী দোকান!
অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলা সদর নওয়াপাড়া পৌরসভার ব্যস্ততম ফুটপথ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী। এতে পথচারিদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। অপর দিকে সরু পথ দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে না পারলে কোথাও অগ্নি সংযোগ ঘটলে বাজার ভষ্মিভূত হওয়ার আশংকা করছেন ফারয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। দিনের পর দিন এ অবস্থা চললেও উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।
নওয়াপাড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নওয়াপাড়া বাজারে চলাচলের জন্য অনেকগুলো গলি পথ আছে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যস্ততম গলি। যশোর – খুলনা মহাসড়কে যানজট থেকে রেহাই পেতে বিকল্প পথ হিসাবে জনগন ওই সব গলি পথে যাতায়ত করেন। এক একটি গলি ১০ থেকে ১৬ ফিট পর্যন্ত চওড়া। কিন্তু দখলদারেরা গলি দখল করে দোকানের পসরা সাজিয়ে রেখে মাত্র ৪ থেকে ৫ ফুট গলিতে পরিনত করেছে। এতে করে বাজারে মালামাল নিয়ে ভ্যান রিক্সা ঢুকতে পারে না। কোথাও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সাভির্সের নওয়াপাড়া স্টেশন কর্মকর্তা খান এহসান-উল আলম জানান, আমরা অনেক বার গলি দখল মুক্ত করার জন্য বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই মুহুর্তে যদি বাজারে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে তাহলে বাজার ভষ্মিভূত হবে। তিনি বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে বাজার কমিটি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
অপরদিকে গলি দখলের ফলে পথচারিদের ও চলাচলে বিঘœ ঘটছে। আসন্ন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকের ভিড়ে চলাচল দুরুহ হয়ে পড়েছে। ্এসব গলির মধ্যে রয়েছে নওয়াপড়া কাপড়পটি, চুড়িপটি, মুদিপটিও কাঁচা বাজারে গলি উল্লেখযোগ্যা।
সরেজমিনে গত বুধবার কাপড় পর্টি, চুড়ি পর্টি, মুদিপটি, কাচাঁ বাজার, ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের দোকানদার সামনের ফুটপাত দখল করে রেখেছে। কেউ বেঞ্চ বসিয়ে আবার কেউ দোকানের মালামাল ফুটপাতের ওপর সাজিয়ে রেখেছে। নুরবাগ মোড় থেকে রেলগেট প্রর্যন্ত ফলের দোকান সহ নানা ধরনের কাচাঁ মালের দোকান বসিয়ে দেদারচ্ছে বেচাকেনা করছে তারা। স্বাধীনতা চত্বরের চার রাস্তা দখল করে মটর সাইকেল,ভ্যান,ইজিবাইক, স্টান্ড করা হয়েছে। নূর বাগরের পাশে হাসপাতাল রোডে প্রতিদিন বসে কাচা বাজার। ওই সব দোকান পাটের জন্য সড়কে স্থায়ী যানজট লেগে থাকে। স্কুলে আসা যাওয়ায় বিঘœ ঘটে ছাত্র-ছাত্রীদের।
এলাকাবাসির অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীর স্বার্থ না দেখে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখেন। তাই দিনের পর দিন এ অবস্থা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। তারা আরো জানান,কয়েক বছর আগে চুড়ি পর্টির অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। তারা সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে পাশের নবারুর মার্কেটে দোকান বসিয়েছিলো। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার তারা পূর্বের জায়গায় ফিরে আসে। ফুটপথ দখল করে দোকান ও ব্যবসা করেন এমন কিছু ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত পৌর সভাকে কর দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করি। হাটের ইজারা নিয়েছেন একজন প্রভাবশালী লোক যে করনে প্রশাসন আমাদের কিছুই করতে পারবে না। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা পথচারি ধোপাদী গ্রামের আছমা বেগম বলেন, চিপা গলির ভিতর দিয়ে সম্ভ্রম রক্ষা করে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। গলি দখল মুক্ত হলে আমরা সাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারতাম। নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র সুশান্ত কুমার দাস শান্ত বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে মাইকিং করে দোকানিদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার র্নিদেশ দিয়েছি। আমরা ফুটপথের দোকান থেকে কোন খাজনা আদায় করি না। ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এক-দুই মাস পারপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করি। এটি আমাদের চলমান প্রক্রিযা। জনগণের অসুবিধা করে আমরা কোনোভাবেই ফুটপথ দখল করে রাখতে দেব না। খুব শিগগিরই আবার আমরা ফুটপথ দখল মুক্ত করার অভিযান শুরু করব।

খালিশপুরে বৃহত্তর বরিশাল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির বিশেষ সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খালিশপুরে বৃহত্তর বরিশাল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪ টায় সুপার মার্কেটস্থ সমিতির কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করেন সমিতির নেতা কর্মীরা।
সমিতির সভাপতি মোঃ আল মামুন ফারুকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খলিলুর রহমানের পরিচালনায় সভায় সমিতির কার্যক্রম ক্রমে আরো গতিশীল করা, সদস্য সংগ্রহ করাসহ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল আয়োজন উপলক্ষে মোঃ হান্নান ডাকুয়াকে আহবায়ক, মনিরুজ্জামান চপলুকে সদস্য সচিব, খোকন হাওলাদার, সুমন খন্দকার ও জাহিদুল ইসলাম বাদশাকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

খালিশপুর অবকাশ গণগ্রন্থগারের দোয়া ও ইফতার মাহফিল
খবর বিজ্ঞপ্তি
খালিশপুর অবকাশ গণগ্রন্থগারের আয়োজনে বিশিষ্টজনদের সম্মননায় আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবকাশ গণগ্রন্থগারের সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে খন্দকার খলিলুর রহমানের সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় গ্রণগ্রন্থগারের সহকারী পরিচালক ড. মোঃ আহসান উল্যা, বিশেষ অতিথি ছিলেন ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি আঃ ওয়াদুদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে বিশিষ্টজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে বাজেট ঘোষণা
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জন্য ৪ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্ভাব্য বাজেট ঘোষণা করেছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ১৩নং ইউনিয়ন ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় পরিষদ মিলনায়তনে এক উন্মুক্ত সভায় এ বাজেট ঘোষনা করেন।
বেসরকারি সংস্থা র্ডরপ এর পানিই জীবন প্রকল্পের ফেইজ-২ এর সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যাণ্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান। উন্মুক্ত এ বাজেট সভায় ইউপি সদস্য মো. আলম মৃধা, লুৎফর আকন, আনোয়ার হোসেন, লুৎফর চৌকিদার, জসিম মৃধা, আবুল কালাম, মিলন তালুকদার, আসাদুল মাষ্টার ও যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান কাইয়ুম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দামোদর ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বাজেট
ফুলতলা প্রতিনিধি
ফুলতলার দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের আগামী ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ৩ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৫’শ ১২ টাকার বাজেট পরিকল্পনা করা হয়। এ উপলক্ষে এক বাজেট সভা বুধবার সকালে পরিষদ চত্ত¡রে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভ‚ঁইয়া শিপলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক ইশরাত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনও পারভীন সুলতানা, সনাক সভাপতি প্রফেসর আনোয়ারুল কাদির, প্রফেসর অচিন্ত্য কুমার ভৌমিক, ভাইস চেয়ারম্যান কে এম জিয়া হাসান তুহিন। বাজেট উপস্থাপন করেন সচিব এস এম রজিবুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন ইউপি সদস্য সরদার আঃ রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবু তাহের রিপন, সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস, শেখ আঃ রশিদ, নজরুল ইসলাম, মহাসিন বিশ্বাস, ইব্রাহিম হোসেন, মহিলা সদস্য বেগম শামসুন্নাহার, মিসেস কেয়া খাতুন, আকলিমা খাতুন প্রমুখ। সভায় দামোদর ইউনিয়নের এসএসসি-২০১৯ এর কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে বিশেষ অবদান রাখায় ইউপি সদস্য আঃ রহমান সরদার, মাসুদ পারভেজ মুক্ত ও গাজী আলমগীর হোসেনকে পুরস্কৃত করা হয়।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি দলের ক্ষতিগ্রস্থ শরণখোলার বগী গ্রাম পরিদর্শন
শরণখোলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘুর্ণীঝড় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ বগী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। ইউনিসেফের এমারজেন্সী চ্্াইল্ড প্রটেকশন টীমের বাংলাদেশ প্রধান মিস আইরিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বুধবার দুপুরে ফণী আক্রান্ত বগী গ্রামটি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের সাথে কথা বলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এ এলাকার শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলে গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। পরে তিনি বলেশ্বর তীরবর্তী বিধ্বস্ত বেড়ী বাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সফর সঙ্গী ছিলেন, ঢাকাস্থ ইউনিসেফ’র চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার শাবনাজ জাহেবিন, মুমিনুননেছা শিখা ও উন্নয়ন সংস্থা উদয়ন বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ ।

পাইকগাছায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক দোকান ঘরে তালা দেওয়ায় অভিযোগ
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছা আদালতের সামনে ব্যবসায়িক দোকান ঘরের তালা মারাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীর বিরুদ্ধে সমিতিতে অভিযোগ করেছেন শিক্ষানবীশ আইনজীবী। ঘটনারপর দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, পাইকগাছা পৌরসভার সরল ৪নং ওয়ার্ডের প্রভাত কুমার মন্ডলের ছেলে শিক্ষানবীশ আইনজীবী বিজয় কৃষ্ণ মন্ডল ও গড়ইখালী কলেজের প্রভাষক তরিকুল ইসলাম আদালতের প্রধান ফটকের সামনে আলহাজ্ব গণি সরদারের নিকট থেকে একটি দোকান ঘর ২০১৩ সাল হতে ২০১৮ সাল মেয়াদী চুক্তিপত্র মোতাবেক ভাড়া নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ২০১৮ সালে মেয়াদ শেষান্তে প্রভাষক তরিকুল চলে যাওয়ায় শিক্ষানবীশ আইনজীবী বিজয় কৃষ্ণ ঘর মালিকের নিকট থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নতুন মেয়াদী চুক্তি করে ব্যবসায়িক ও পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এদিকে আদালতের নতুন আইনজীবী এ্যাডঃ শেখ আবুল কালাম আজাদ তার লোকজন নিয়ে গত সোমবার রাতে বিজয় কৃষ্ণের দোকান ঘরে তালা মেরে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঘর মালিক পরের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিজে দাড়িয়ে থেকে তালা খুলে বিজয়কে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সু-ব্যবস্থা করেন। তালা খোলার সময় দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাক্কা ধাক্কি হয়। এ ঘটনায় বিজয় কৃষ্ণ প্রতিপক্ষ এ্যাডঃ শেখ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ ব্যাপারে শেখ আবুল কালাম আজাদ জানান, দোকান ঘরটি মূলত প্রভাষক তরিকুল ইসলামের নামে চুক্তিবদ্ধ করা ছিল। তরিকুল ইসলাম আমার নামে ঘরটি চুক্তি করে দিয়েছে। যার ফলে বিজয় কৃষ্ণের সাথে আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিজয়ের কথামত একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে এমন ভেবে আমি ঘরে তালা দেই এবং তালাটি আমাকে না জানিয়ে ভেঙ্গে ফেলায় আমি বিজয় সহ ঘর মালিকের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দায়ের করেছি।

পাইকগাছায় পুকুর ইজারা দিয়ে বিপাকে জমির মালিক ফজর আলী
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি পুকুর ইজারা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও দখল না ছাড়তে বিভিন্ন ধরণের অসৎ উপায় অবলম্বন করছে ইজারা গ্রহীতা। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করতে পারেন এমন আশঙ্কায় পুকুর ও জমির মালিক ফজর আলী ইজারাদার আজিজুর রহমান ওরফে আজহারুলের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে। প্রাপ্ত অভিযোগ জানাগেছে, পৌরসভার সরল ৪নং ওয়ার্ডের মৃত মোজাম আলী জোয়াদ্দারের ছেলে ফজর আলী জোয়াদ্দার ২০১০ ও ২০১৩ সালে ২৪৪১, ২৩২১ ও ৩০৩১ নং কোবলা দলিল মূলে প্রায় ২২ শতক জমি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের মৃত মাদার গাজীর ছেলে আজিজুর রহমান আজহারুল ইসলামের কাছ থেকে খরিদ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছেন। খরিদকৃত ১৭ শতক জমিতে পুকুর থাকায় পুকুরটি জমি বিক্রেতা আজহারুল ৫ বছর মেয়াদী লীজ নেয়। ডিডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও তিনি পুকুরটির দখল ছাড়ছেন না। এমনকি দুই বছরের পাওনা হারির টাকাও পরিশোধ করছে না। এমতাবস্থায় ফজর আলী পুকুরটি বালু দিয়ে ভরাট করবে মর্মে আজহারুলকে বারবার অবহিত করলেও তিনি বিষয়টি কর্ণপাত করেননি। এমনকি বিষয়টি কাউন্সিলরকেও অবহিত করলে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সর্বশেষ ৩ দিন সময় নেয়। এ অবস্থায় সোমবার রাতে কে বা কারা অত্র পুকুরে বিষ প্রয়োগ করলে পুকুরের মাছ মারা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজহারুল ইসলাম বিভিন্ন মামলা দিয়ে এবং বিভিন্ন ঘটনা সাজিয়ে হয়রানী করতে পারে এমন আশঙ্কায় ফজর আলী বুধবার আজহারুলের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছে। যার নং ৬৯৮, তাং ১৫/০৫/২০১৯ ইং।

পাইকগাছায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস বিক্রি করার অভিযোগে ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস বিক্রি করার অভিযোগে ৪ মাংস ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না বুধবার সকালে পৌর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস বিক্রি করার অভিযোগে ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক গাজী ও আবুল কালাম আজাদকে ৬ হাজার এবং মুরগী ব্যবসায়ীকে খায়রুল আলম খোকা ও মনিরুল ইসলামকে ৪ হাজার টাকা সহ মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল ও পেশকার দীপংকর প্রসাদ মল্লিক।

মোল্লাহাটে শিশু পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন
মোল্লাহাট প্রতিনিধি
প্রেসক্লাব মোল্লাহাটে “শিশু ও মানব পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় আইনী সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহবান” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিসিটিএসসিএন কনসোর্টিয়ামের পক্ষে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইনসিডিন বাংলাদেশের আয়োজনে বুধবার সকাল ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় প্রণীত “মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন জাতীয় কর্মপরিকল্পণা -২০১৮-২০২২” এর বাস্তবায়নে জেলা সিটিসি, চাইল্ড টাস্ক ফোর্স, চাইল্ড লেবার ওয়েলফেয়ার বোর্ড সদস্য ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইনসিডিন বাংলাদেশের পরিচালনাধীন কনসোর্টিয়াম পিসিটিএসসিএন এর যৌথ এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও প্রশ্নোত্তরে জানানো হয়, শিশু পাচার রোধে আইনের কাঠামোটি দৃঢ় হলেও তার কার্যকর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবী। আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে পাচারকারীদের শাস্তি ও পাচারের শিকার শিশুদের ন্যায় বিচার প্রদান করা যাচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে মানব পাচার রোধে সরকার গৃহীত জাতীয় কর্মপরিকল্পণা ২০১৮-২০২২ এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না।
তাই মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন মোতাবেক পাচারের শিকার বা পাচার থেকে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের ক্ষতিপুরণ, পুনর্বাসন, পূণঃএকত্রীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা-২০১৭ এর নির্দেশনা অনুযায়ী মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল ও জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে হবে। এছাড়া উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী আইনের যথাযথ প্রয়োগে “মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান।

কেশবপুরে প্রদীপ প্রকল্পের পরিচিতি সভা
কেশবপুর প্রতিনিধি
কেশবপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে পরিত্রাণ কর্তৃক আয়োজিত দাতা সংস্থা ইউকেএইড ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রোমোটিং রাইটস্ অফ দলিত এন্ড এক্সক্লুডেড পিপুলস (প্রদীপ) প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ে পরিচিতি সভা বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিত্রাণের নির্বাহী পরিচালক মিলন দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক ও ভাইস চেয়ারম্যান পলাশ মল্লিক। বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, এনজিও প্রতিনিধি সৈয়দ আকমল আলী, উজ্জ্বল মন্ডল, সুফিয়া খাতুন, দলিত প্রতিনিধি অসীম দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিত্রাণের প্রদীপ প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম ও প্রোগ্রাম অফিসার উজ্জ্বল দাস।

বাজেটে বিড়ির উপর হতে ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবিতে কেশবপুরে মানববন্ধন
কেশবপুর প্রতিনিধি
কেশবপুর অঞ্চল বাংলাদেশ বিড়ি ভোক্তা পক্ষের আয়োজনে আগামী বাজেটে বিড়ির উপর হতে সকল প্রকার ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার সকালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোক্তা পক্ষের সভাপতি অসিম দাসের সভাপতিত্বে কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সম্মুখে সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সদস্য শুভ কুমার, আসাদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তাগণ বিড়ির উপর অর্পিত সকল কর প্রত্যাহার করা, ভারতের ন্যায় বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষণা করা, বিদেশি সিগারেট বন্ধ করা, বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করার পায়তারা বন্ধ করা, বিড়ি যেন কম মূল্যে পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা বজায় রাখা-সহ রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ৭ দফা দাবি জানান।

দেবহাটায় উত্তরনের কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনায় করনীয় শীর্ষক কর্মশালা
দেবহাটা প্রতিনিধি
দেবহাটায় উত্তরনের অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আয়োজনে “ভূমি বঞ্চিত মানুষের ভূমিতে অধিকার, রাষ্ট্রের অঙ্গীকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির এক কর্মশালা বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরনের ভূমি কমিটির সভাপতি সরদার আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ। উত্তরন-অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান জমাদ্দারের সার্বিক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন, কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, আইডিয়ালের সমন্বয়কারী শাহাদাৎ হোসেন, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আর.কে.বাপ্পা, পারুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মনজুর কাদের, কুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অসীম কুমার হালদার, নোড়া ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক ইয়াদ আলীসহ ভূমিহীন কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মহেশপুরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫২ পণ্য
শামীম খান, মহেশপুর
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের(বিএসটিআই) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ৫২টি পন্য মহেশপুর শহরে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দিলেও এখনো তা দোকানীরা ডিসপ্লে করে দেদারছে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে এখনো নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থাগুলোর তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
১২মে এক রিট শুনানির আদেশে উচ্চ আদালত বিভিন্ন ধরণের ভোজ্য তেল,খাবারের মসলা,পানি,সেমাই,ঘি,ময়দা,দই,চানাচুর,মধু,লবনসহ বিভিন্ন ধরণের ৫২টি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি বন্ধ এবং সেগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেয়। বিএসটিআইয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরায় উত্তীর্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব পন্য উৎপাদন,সরবরাহ এবং বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় ওই রায়ে। আর আদেশ বাস্তবায়ন করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন আদালত। কিন্তুু মহেশপুর শহরের বিভিন্ন দোকানপাটসহ উপজেলার বিভিন্ন দোকানে মাহে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে এসব পন্য মজুদ করে রেখেছে দোকানীরা। থেমেও নেই এসব পণ্যের বিক্রি। নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থাগুলো কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিষিদ্ধ পণ্যে সয়লাভ মহেশপুর।
এদিকে ব্যবসায়ী ও দোকানীরা বলছেন,উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীদের কাছে থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। একারণে তারা এসব পন্য এখনো বিক্রি করছেন। তবে কর্র্তৃপক্ষের নির্দেষনা পেলে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব পন্য বিক্রি বন্ধ করে দেবেন।

ইয়াবা ও টাকাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার
মণিরামপুর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুরে ইয়াবা ও টাকাসহ মতিয়ার রহমান মতি (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১০ টায় র‌্যাব-৬ এর একটি দল উপজেলার সাতনল বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এসময় মতিয়ারের দেহ তল্লাশি করে ২০৫ পিচ ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ২৫ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটক মতিয়ার স্থানীয় সাতনল গ্রামের মৃত জমাদ্দার গাজীর ছেলে।
বুধবার (১৫ মে) সকালে র‌্যাব আটক মতিয়ারকে মণিরামপুর থানায় সোপর্দ করেছে। এই ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।
মামলার সূত্র ধরে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রুহুল আমিন বলেন, উপজেলার সাতনল বাজারের উত্তরপাশে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় র‌্যাব-৬ এর একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাব মতিয়ার রহমানকে ২০৫ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। একই সাথে মতিয়ারের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ২৫ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব।
মণিরামপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এসএম এনামুল হক বলেন, এই ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

দিঘলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত রুবেল হত্যার বিচার এখনো পায়নি পরিবার
দিঘলিয়া প্রতিনিধি
দিঘলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত রুবেলের হত্যাকারীদের আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ। এবিষয়ে নিহত রুবেল পিতা রুস্তম মৃধা জানান, গত ০৩ মে শুক্রবার বিকাল ৫ টায় অজ্ঞাত ৮/১০ জন সন্ত্রাসীরা দেশী অস্ত্র দ্বারা সেনহাটি শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা রুবেল মৃধা (৩৫) জুয়েল মোল্লা (২৬), শুকুর আলী (৪০), নূর আলম (৩৫) কে এলোপাথাড়ী ভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দ্রæত আহতদের চিকিৎসার জন্য খুলনা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে রুবেল ও জুয়েলের অবস্থা আশংকা জনক থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসকগন রুবেল ও জুয়েলকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান। ৬ মে তারিখে সোমবার ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুবেল মৃত্যুবরণ করেন। এ বিষয়ে পিতা রুস্তম মৃধা দিঘলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী আটক হয়নি বলে বাদি জানান। তবে দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মানস রঞ্জন দাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা আসামী ধরার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ডুমুরিয়ায় পৃথক ঘটনায় মা-ছেলেসহ বিধবা জখম
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় পৃথক হামলার ঘটনায় প্রতিপক্ষের হাতুড়ী পিটায় বিধবা মা-কলেজ ছাত্র ছেলে জখম
ও সাবলের আঘাতে এক বিধবার একটি হাত ভেঙ্গে গিয়েছে। আহতরা ডুমুরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বামুনদিয়া গাজী বাড়ী ও তালার আটুলিয়া এলাকায় পৃথক ভাবে এ ঘটনা ঘটে।
আহতর পারিবারিক সূত্রে জানা যায় বামুন্দিয়া এলাকার মৃত আব্দুর রহিম গাজীর পরিবারের সাথে একই এলাকার প্রতিপক্ষ আঃ মজিদ গাজীর জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। তারই জের ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আঃ মজিদ গাজী তার ছেলে আবু সিদ্দিক গাজীসহ ৪/৫ জন লোহার রড ও হাতুড়ী নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে রহিম গাজীর বাড়ীতে হামলা চালায়। এতে প্রতিপক্ষের হাতুড়ী পেটায় রহিমের ছেলে কলেজ ছাত্র ফয়সাল গাজী (২১) মাথা ফেটে গুরুতর জখম ও তার মাতা বিধবা তাহমিনা বেগমও গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে তালা উপজেলার আটুলিয়া এলাকার মৃত সবুর বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী তাছলিমা বেগমের সাথে পার্শ্ববর্তি মৃত এরফান বিশ্বাসের ছেলে সুমন বিশ্বাসের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। তারই জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে প্রতিপক্ষ সুমন বিশ্বাস অতর্কিত ভাবে শাবল দিয়ে তাছলিমা বেগম (৪০) কে আঘাত করে। এতে তার বাম হাত ভেঙ্গে তাছলিমা গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ রিপোর্ট রেখা পর্যন্ত উভয় ঘটনায় মামলার প্রস্তÍুতি চলছিলো।

মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার আত্মার মাগফেরাত কামনা
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি
গিলাতলা মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর প্রতিষ্ঠাতা,খুলনা ধান-চাউল বণিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মরহুম আলহাজ্জ মোল্যা মোদাচ্ছের আলীর মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল গতকাল আসর বাদ গিলাতলা মোল্যাপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল হোসেন,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গিলাতলা মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি এস এ রহমান বাবুল,আলহাজ্জ শেখ আব্দুল মজিদ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলহাজ্জ মোল্যা মোজাহার উদ্দীন,গিলাতলা মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আলহাজ্জ মোফাজ্জেল হোসেন, শিরোমনি আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওঃ আসলাম হোসেন,খানজাহান আলী কলেজের প্রভাষক মোঃ তোকিবুর রহমান, জবেদা কাদের ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ শেখ গোলাম কিবরিয়া মিন্টু, গিলাতলা মুহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোল্যা নূরুল ইসলাম, হাফেজ মাওঃ আব্দুল লতিফ,হাফেজ অহিদুর রহমান, গাজী আব্দুর রশিদ, মোঃ ফরহাদ হোসেন, আলহাজ্জ শেখ বাবুল হোসেন, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক, সাংবাদিক গাজী মাকুল উদ্দীন,শেখ মোহাম্মাদ আলী, হাফেজ মোল্যা রুহুল আমিন, মোল্যা জাকির হোসেন মোল্যা লিমন হোসেন, নাবিল হোসেন। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন অত্র মসজিদের খতিব ও ইউপি সদস্য হাফেজ গোলাম মোস্তফা।

আলোচিত শিরোমনি ঘাটের ইজারা নিয়ে উত্তেজনা
সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
স্টাফ রিপোর্টার ও শিরোমণি প্রতিনিধি
নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকার আলোচিত শিরোমনি নদী পারাপার ঘাটের ইজারা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঘাটটি একই সাথে শুল্ক আদায় ও হ্যান্ডলিং ঘাট নামে পরিচিত। বিভিন্ন স্থান থেকে আমদানি করা সার ও বিএডিসি’র পণ্য এই ঘাট দিয়ে খালাস হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘাটের পূর্বের ইজারা বাতিল করে ঘাট পরিচালনায় নতুন ইজারাদার নিয়োগ করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষ এড়াতে দুপুর ২টা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সূত্র জানায়, পূর্বের ইজারাদার এসএম মনিরুজ্জামান ঘাটের ইজারা নিয়ে প্রায় ৯ বছর ধরে ঘাটটি নিজ দখলে রাখেন। আদালতে মামলা করে তিনি ঘাটের নতুন ইজারা বন্ধ করে রাখেন।
শ্রমিকরা জানায়, ঘাটটি প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হলেও সেখানে বছরে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আয় হয়। এ কারনে ঘাটটি কাঁচা টাকার উৎস হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে টেন্ডার জমা দেওয়ার জন্য খুলনা নদী বন্দর অফিস সনি এন্টারপ্রাইজের পক্ষের লোকজন জিম্মি করে রাখে। কেউ যাতে দ্বিতীয় তলায় টেন্ডার জমা দিতে না পারে। এমনকি দুপুর ১টার পরেই উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানকে জিম্মি করে ওয়ার্ক অর্ডার নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে তারা। এ সময়ে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের জিম্মি থাকার কথা শিকার করে নিরাপত্তা চান। ফোন রাখার পরপরই সনি এন্টারপ্রাইজের লোকজন আরো ক্ষিপ্ত হয় মোস্তাফিজুর রহমানের উপরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
খুলনা’র নদী, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘাটটি নতুন করে ইজারা দেয়ার জন্য বুধবার দরপত্র আহবান করা হয়। এতে একমাত্র প্রতিষ্ঠান এলআর এন্টারপ্রাইজ দরপত্র জমা দেয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা ইজারায় একমাসের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ইজারা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তা’ বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, সানি এন্টারপ্রাইজ নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠান নির্দিস্ট সময়ের পরে দরপত্র জমা দিতে আসে। ওই দরপত্র জমা না নেয়ায় তারা কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এতে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘাট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শ্রীপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের এক গৃহবধূ (২০) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই ধর্ষিতা সংখ্যালঘু সম্পাদায়ের একটি পরিবারের গৃহবধূ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে স্বামীর বাড়ি শ্রীপুরের বরিশাট গ্রামে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। এ সময় আনিসুর রহমান ও রবিউল নামে দুই যুবক তাকে জোর করে বরিশাট শ্মশান এলাকায় নিয়ে একজন ধর্ষণ এবং অন্যজন তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।
মহিলার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় শ্রীকোল ইউপি চেয়ারম্যান মোতাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম বরিশাট গ্রামের আজিজ বিশ্বাসের ছেলে আনিসুর রহমান (৩২) ও মো. সাজ্জাদ রহমান মোল্লার ছেলে রবিউলকে (২৬) আটক করে শ্রীপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। তাদের উভয়ের বাড়ি বরিশাট গ্রামে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালীগঞ্জে পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেল দু’শিশু
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মঙ্গলপৈতা গ্রামে পাচারকারীদের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই শিশু। গতকাল বুধবার সকালে মাঠে ছাগল চড়ানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। শিশুরা হলো- মঙ্গলপৈতা গ্রামের তাহাজ্জেল হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (৮) ও মনিরুল ইসলামের ছেলে রাজু হোসেন (৬)। ওই দুই শিশু মঙ্গলপৈতা মাদ্রাসার ছাত্র।
স্থানীয়রা জানান, রমজান মাসে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় গ্রামের মাঠে ছাগল চড়াতে যায় ওই দুই শিশু। এরপর বস্তা হাতে দুইজন ব্যক্তি তাদের দিকে এগিয়ে আসে। তাদের বিস্কুট খাওয়ার কথা বলে। এসময় শিশুরা বিস্কুট খেতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক শিশু রাজু হোসেনকে বস্তায় ভরার পর হাত-পা বেঁধে মিলনকে বস্তায় ভরার চেষ্টা করে। এ সময় তারা চিৎকার শুরু করলে পার্শ্ববর্তী জমিতে থাকা কৃষকরা এগিয়ে এলে পাচারকারী দুই ব্যক্তি তাদের ফেলে রেখে দৌড়ে পালায়।
কালীগঞ্জ থানার সুবর্ণসারা পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই সৈয়দ আলী জানান, এ ঘটনা শোনার সাথে সাথে ক্যাম্প থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here