নগরীতে গৃহবধু খুন!

0
36

স্বামী বলছে আত্মহত্যা, নিহত পরিবারের দাবি হত্যা
স্টাফ রিপোর্টার
পিতার সম্পতির কারনেই খুন হলো গৃহবধু আসমা আরজ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা প্রথম ফেজের ১১ নং রোড়ের ১৬২ নং বাড়ীতে। নিহত গৃহবধু মোংলার আরজ আলী এন্ড কোং এর মালিক আরজ আলী কন্যা।
সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার নাসির হাওলাদারের স্ত্রী এবং মোংলার শিল্পপতি আরজ আলীর কন্যা আসমা আরজ (৪৩) খুন হয়েছে না আত্মহত্যা করেছে সে ব্যাপারে স্বামী নাসির হাওলাদার বলেছেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। অপরদিকে নিহত মা, বোন এবং দুইভাই অভিযোগ করছে তাকে পরিকল্পিতভাবে নাসিরই খুন করেছেন। হত্যার পিছনে রয়েছে শশুরের সম্পত্তি বলে তাদের দাবী। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল নাসিরের পক্ষে হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা চলছে বলেও নিহতের পরিবার দাবী করেছেন। সোনাডাঙ্গা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রোহিত কুমার বিশ্বাস গতকাল দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরের সামনে বসে জানান, নিহতের গলায় ফাঁেসর দাগ রয়েছে। এছাড়া অন্য কোথাও কোন ধরণের আঘাতের দাগ পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তর রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
উপ-পুলিশ পরিদর্শক রোহিত কুমার বিশ্বাস আরো জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে খবর পান সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ১ নং ফেসের ১১ নং রোড়ের ১৬২ নং বাড়ীতে ঝুলান্ত লাশ রয়েছে। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন লাশ পায়নি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নিহতের লাশ আগেভাগেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন নিহতের স্বামী নাসির হাওলাদার।
আসমা আরজের ভাই হেমায়েত এবং শাহিন অভিযোগ করেন যে তাদের বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মোংলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুন্দরবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো হেমায়েত জানান, বুধবার রাতে তার বোন মায়ের কাছে মোবাইল করে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিল। তিনি দাবি করেন, সকালে বা রাতে নাসির তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাড়ির বাহিরে যান। পরে তিনি বাসায় ফিরে নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হত্যার কারন কি প্রশ্নের জবাবে অপরভাই শাহিন শেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই নাসির হাওলাদার তার বোনের জমি-জমা লিখে নিয়েছেন। বাবার সম্পত্তির ওপর ছিলো নাসিরের লোলুপ দৃষ্টি। সেই সম্পত্তির কারণেই ভগ্নিপতি নাসির তার বোনকে হত্যা করেছে।
১০ ভাই বোনের মধ্যে আসমা আরজ ছিলেন ৮ নম্বর। শান্ত স্বভাবের বোন আসমার সাথে বিয়ের পর থেকেই লোভী ভগ্নিপতি নাসির হাওলাদার শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করতো। টাকা ও সম্পত্তির জন্য আসমাকে অনেক অত্যাচার করেছে। অনেক ঠান্ডা মাথায় নাসির হাওলাদার তার বোনকে হত্যা করেছে। সোনাডাঙ্গার এক সুত্র জানিয়েছেন, ঘরে স্ত্রী আসমা আরজ থাকাবস্থায় অপর এক নারীর সাথে নাসিরের প্রেমজ সর্ম্পক ছিলো। সে ঘটনায়ও তাদের মাঝে প্রায়ই গন্ডগোল চলতো।
নিহতের স্বামী নাসির হাওলাদার বলেন, তিনি জমি বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে এসে একবন্ধুকে সাথে নিয়ে দরজা ভেঙ্গে আসমার লাশ উদ্ধার করি। অন্যদিকে নিহত আসমার কন্যা নিশা লাশ ঘরের সামনে চিৎকার করে বার বার বলছিলো, কিভাবে কি হলো আমি কিছুই বুজতে পারছি না। আমার মা নেই- আমি কাকে নিয়ে থাকবো। তোমার বাবার সাথে মায়ের কোন গন্ডগোল হয়েছিলো কিনা প্রশ্নের জবাবে নিশা বলেন, আমি কিছুই জানিনা।
রাতে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই রোহিত কুমার বিশ্বাস খুলনাঞ্চলকে জানান, যেহেতু বিষয়টি সন্দেহজনক সে কারণে অপমৃত্যু মামলা না করে জিডি করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here