কয়রায় নদী পাড়ের মানুষ আতঙ্কে

0
15

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ
শাহজাহান সিরাজ, কয়রা
চলতি মাসের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত আনে সমুদ্র উপকূলবর্তী একাধিক উপজেলার মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলায় এবং মারাক্তক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৮ কিলোমিটার ওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ। তবে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যের ব্যাপক প্রচেষ্ঠায় এবং এলাকাবাসী সেচ্ছাশ্রমে কাজ করায় উপজেলার কোথাও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কিন্তু ৪ টি ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে কপোতাক্ষ নদীর বেঁড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ লঞ্চঘাট ও হরিনখোলা, উত্তরবেদকাশির শাকবাড়িয়া ও গাজীপাড়া, দক্ষিণ বেদকাশির আংটিহারা এবং মহারাজপুরের দশহালিয়া বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। খবর নিয়ে জানা গেছে, শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ থাকায় এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন।
সরেজমেিন ফণীর আঘাত চলাকালে শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর বেঁড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পর সাংসদ এর উপস্থিতিতে এবং তারই নির্দেশে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এলাকাবাসী তাৎক্ষনিক যে ভাবে বাঁধ রক্ষা করেছিলেন। অথচ ফণীর ১০ দিন পরও সেই বাাঁধ আজও অরক্ষিত রয়েছে এবং অনুরুপ গাজীপাড়া, আংটিহারা, দশহালিয়ার বেঁড়িবাঁধ অরক্ষিত। এলাকাবাসী জানায় ঠিকাদার নিয়োগ হলেও এখনও কাজ শুরু না করায় আসছে পূর্ণিমার জোয়ারের পানির ¯্রােতে ক্ষতি হতে পারে। এদিকে সরেজমিনে শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদীর মারক্তক ঝুকিপূর্ণ বেঁড়িবাঁধে কথা হয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরদারের সাথে। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে গাববুনিয়া গ্রামটি ৯০ ভাগ এখন কপোতাক্ষ নদী ও শ্রমনগর থানার গাবুরা ইউনিয়নে চর জেগেছে। এছাড়া শাকবাড়িয়া গ্রামের ৩০ ভাগ নদীগর্ভে বিলীন। এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তা মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ২/১ দিনের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন এবং সেজন্য ঠিকাদারের উপর জরুরী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান বাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কযরার বেঁড়িবাঁধ তার ঘুম হারাম করে দিয়েছে। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল জনগণের কাছে টেকসই বেঁড়িবাঁধ করার এবং তার নির্বাচনী এলাকা কয়রায় ১২০ কিলোঃ বেঁড়িবাঁধের মধ্যে ৩৫ কিলোঃ ঝুকিপূর্ণ। সে জন্য তিনি মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে পাউবোর সকল কর্মকর্তাদের দৌড়ের ওপর রেখেছেন। এছাড়া কয়রা বেঁড়িবাঁধের খবর না নিয়ে তিনি রাতে ঘুমান না বলেও জানান। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজ তিনি নিজেই তদারকি করছেন এবং আল্লাহর রহমতে বড় কোন আঘাত না হলে কয়রার মানুষ লবন পানিতে আর ভাসবে না। তিনি আরও বলেন, ফনীর পর অরক্ষিত আছে কিছু এলাকা এবং সেগুলিতে সর্বক্ষণ তার দৃষ্টি আছে এবং টেকসই বাঁধ নির্মানে তার প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here