খুলনায় তাপবাহিত রোগ প্রকট

0
32

শিশুসহ বয়বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি, শ্বাস কষ্ট, চর্মরোগ, হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় প্রতিদিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাপমাত্রার সাথে সাথে বেড়েছে প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম। গরমের কারণে খুলনার শিশুসহ বয়বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি, শ্বাস কষ্ট, চর্মরোগ, হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত দু’সপ্তাহে খুলনা শিশু হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি, শ্বাষ কষ্টে আক্রান্ত ২৬০ জন শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তিন শতাধিক শিশু। আক্রান্তের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী সংখ্যা বেশী। এছাড়া জ্বরে শয্যাশায়ী অনেকেই। খুলনা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষক নজিবুর রহমান জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত দুই দিন ধরে অসুস্থ হয়ে বাড়ীতে শয্যাশায়ী। খালিশপুর কাশিপুর এলাকার সৌদি প্রবাসী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার দেশে এসে জ্বরে পড়েছেন।
খুলনা শিশু হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহে ২৬০ জন শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ রোগী ডায়রিয়ায় এবং ১১০ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত মার্চ মাসে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৬৪ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। গত মাসে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু শিশুরাই নয় সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন কিশোর, যুবক বয়োবৃদ্ধরা।
খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, গত ৫ দিন ধরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন এ রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রচন্ড ঘাম বসে গিয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ছয় মাসের বেশি বয়সী ডায়ারিয়া আক্রান্ত শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ওরস্যালাইন, রাইস স্যালাইন, দেশীয় মাছ, কাঁচকলা ভর্তা, থানকুনি পাতার রস, ডাবের পানি খাওয়ানোর পরমার্শ দেন।
এদিকে খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন ৩০/৩৫ জন রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি হয়। বেড সংকট সত্তে¡ও গুরুতর অসুস্থদের ভর্তি নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় রেখে সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালে ১ হাজার সিসি ও ৫শ’ সিসি কলেরা স্যালাইনের সংকট রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগেরও একই অবস্থা। বেশিরভাগ শিশু নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০টি শিশুকে খুমেক হাসপাাতলের আউটডোর ও ইনডোরে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি শিশুদের অধিকাংশের বয়স ৬ মাস থেকে দেড় বছর।
খুলনা মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসক (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডাঃ মামুনুর রশীদ বলেন, বাবা-মা’র অসচেতনতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে চিকিৎসা দিতে দেরি করেন তারা। এতে সমস্যা মারাত্মক পর্যায়ে যেতে পারে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে কোন অবস্থাতেই গোসল করানো যাবে না, তেল বা লোশন লাগানো যাবে না। ভ্যাপসা গরমে ভাইরাসের কারণে সহজেই শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে এবং ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৭ থেকে ৮ দিন ধরে ভুগতে পারে। তাছাড়া শিশুদের যেকোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে দ্রæত সময়ের মধ্যে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রচন্ড গরমে হিটস্ট্রোক ও ভাইরাসজনিত কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ সময় বিশেষ করে শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, বমি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসার কথা জানান তিনি। গরমে শিশু দু’ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে এআরআই (একুইড রেসপাইরেটরী ইনফেকশন) হলে শিশুর নাক দিয়ে পানি পড়ে, টনসিল ফুলে যায় ও শ্বাসকষ্ট হয়। এলআরটিআই (লোয়ার রেসপাইরেটরী ইনফেকশন) হলে দীর্ঘকালীন অসুস্থতায় শিশু শ্বাসকষ্টে খিঁচুনিতে ভুগতে পারে।
খুলনা সিভিস সার্জন ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, গরমের সময় বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া, জ্বর, বমি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া হতে পারে। শিশুদের এ ধরণের সমস্যা দেখা দিলে খাওয়ার স্যালাইনের সাথে দ্রæত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী।
এদিকে খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আমিরুল আযাদ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে খুলনায় তাপমাত্রা ৩৪-৩৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই মুহুর্ত্যে যশোর জেলার তাপমাত্রা সবচাইতে বেশী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here