সকল জাতীয় সংবাদ

0
13

বিএনপির নির্বাচিতদের প্রশ্ন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দল কী করছে?
আসাদুজ্জামান ইমন,ঢাকা
বিএনপি থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা দলটির মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়েছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কী করা হচ্ছে? দল কী করছে? নির্বাচিতরা শপথ নেবেন কি না? তারা দলের শীর্ষ নেতাদের বলেছেন, দলের শীর্ষ নেতারা কী করছেন, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের অপেক্ষা করতে বলেছেন বলে এই নেতারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ছয়জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। এ প্রার্থীরা গত সোমবার বিএনপির গুলশান অফিসে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন। সেখানে শপথ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। তবে শপথের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির সংসদে যাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার একটি গুঞ্জন অনেক দিন থেকেই হচ্ছে। যদিও বিএনপি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। শপথ নিয়ে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তিসহ কয়েকটি বিষয়ে বিএনপির মধ্যে হিসাব-নিকাশ চলছে। এর মধ্যেই গত সোমবার নির্বাচিতদের বৈঠক হয়।
তবে আলোচনা সভাকে আনুষ্ঠানিক ‘বৈঠক’ বলতে চান না নির্বাচিতরা। ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান ক বলেন, ‘এটা ঠিক বৈঠক না। যারা নির্বাচিত হয়েছি তাদের মধ্যে পরিচিতি ও সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। মহাসচিব বাদে বাকি পাঁচজন যারা আছি তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা, কে কী অবস্থায় আছি, এলাকায় কী হচ্ছে, এগুলো নিয়েই কথা বলেছি।’
এত দিন পরে একসঙ্গে বসা প্রসঙ্গে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এই নেতা বলেন, সরকারের অবস্থান বা দলের অবস্থান কিছু বুঝতেছি না। তারপর এলাকায় জনগণের চাপ আছে। তাই ঢাকায় এক সঙ্গে হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয়জন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন। গত সোমবার মহাসচিবের কাছে নিজেদের অবস্থান জানান অপর পাঁচ সাংসদ। তারা আলাদাভাবে শপথ নেওয়ার পক্ষে বলে মহাসচিবকে জানিয়েছেন।
মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জাহিদুর রহমান বলেন, মহাসচিবকে বলেছি দেখেন আপনারা (মহাসচিবের উদ্দেশে) কী করছেন? আমরা তো কিছু বুঝতেছি না। আমরা ব্যক্তিগতভাবে শপথের পক্ষে। যদি আমরা সংসদে গেলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হয়, তাহলে আপনারা একটা তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করেন। কীভাবে মুক্ত করা যায়, জামিন করা যায়, এগুলো দেখেন। এলাকায় প্রচÐ চাপ আছে। এগুলো নিয়েই কথা বলেছি। উনি আমাদের অপেক্ষা করতে বলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, শপথসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের ওপর চাপ আছে। শপথ নেওয়ার জন্য এ মাসটাই হাতে আছে। এর মধ্যেই বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঐক্যফ্রন্ট থেকে এবার নির্বাচন করে বিএনপি। সেখানে গণফোরামের দুজন শপথ নিয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিতরাও চাচ্ছেন সংসদে যেতে। তবে তাঁরা এও বলছেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চান না। খালেদা জিয়ার জামিন হবে, সেদিকে তাকিয়ে আছেন তারা। নির্বাচিত সদস্যরা এবং বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি এখন সরকারের ওপর নির্ভও করছে এবং দলকেও সে অনুযায়ীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকারের সঙ্গে সমঝোতা, খালেদা জিয়ার মুক্তি এসব গুঞ্জনের মধ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসনের প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আলোচনা উঠেছে। সরকারদলীয় নেতারা বলছেন, প্যারোলের জন্য খালেদার পক্ষ থেকে আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকার মিথ্যা মামলায় তাকে আটকে রেখেছে এবং জামিন তার প্রাপ্য। বিএনপির এক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে এখন রাজনীতি, দল, সংগঠনের স্বার্থে কোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পয়লা বৈশাখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দলের তিন শীর্ষ নেতা। সেখানেও খালেদা জিয়া তেমন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।
বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত মোশাররফ হোসেন সোমবারের বৈঠক নিয়ে বলেন, ‘শপথের ব্যাপারে ম্যাডামকে মুক্তি দিলে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখব। জামিন দেওয়া সাপেক্ষেও তারা (সরকার) মামলা চালাতে পারে। এটা করলে আমরা ভেবে দেখব।’ নির্বাচিত বিএনপির নেতারা জানান, তারা আবারও বসবেন। শপথ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নেওয়া হবে।

বিজিএমইএ ভবন সিলগালা
ঢাকা অফিস
রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিচালিত অভিযানে ভবন মালিকদেরকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েক দফা সময় দেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান ফটকে সিলগালা করে দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা ভবন মালিকদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েক দফা সময় দিয়েছি। আজ বিকাল ৫টার মধ্যে তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও তখন পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্লোরে ৭০ ভাগ মালপত্র সরানোর কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর তারা সময় চাওয়ায় আরও দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।
অলিউর রহমান বলেন, এরপরও দেখা গেছে, কোনও কোনও ফ্লোরে বেশ কিছু মালামাল রয়ে গেছে। সেগুলো নেয়ার জন্য মালিকরা যদি রাজউকের কাছে আবেদন করেন তাহলে রাজউক বিবেচনা করবে কীভাবে সেগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা যায়। কিন্তু, আজ আমরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভবনটির ফ্লোরগুলো সিলগালা করে দিয়েছি। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট থেকে ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে সিলগালা করে দেওয়ার পর সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান ফটকে সিলগালা করা হয়।

প্রসঙ্গত রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা বিজিএমইএ’র এই ভবন ভাঙা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে। ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে ভবনটি কেন ভাঙা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ভবনটি ভেঙে ফেলার রায় দেন।
ওই রায়ে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমি ১৯৯৮ সালে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো যেভাবে বিজিএমইএকে দিয়েছে, তা বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয় এবং রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমÐিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।
এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজিএমইএ’র ওই আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা বিজিএমইএ’র আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। এরপরও ভবন না ভাঙতে আদালতের কাছে বারবার সময় চান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল মুচলেকা দিয়ে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় পান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এ সময় পার হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসা নেবেন না : মির্জা ফখরুল
ঢাকা অফিস
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বিষয়টি একান্ত তার ব্যক্তিগত ও তার পরিবারের। প্যারোলে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার যে সব খবর সংবাদপত্র প্রকাশ করছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, যারা বেগম জিয়ার প্যারোলে মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে অনুমাননির্ভর সংবাদ পরিবেশন করছেন তারা দেশবাসীকে ভুল ম্যাসেজ দিচ্ছেন। কেননা আমরা পহেলা বৈশাখের দিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেছি। বেগম জিয়া আমাদের স্পষ্টতই বলেছেন, তিনি প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসা নেবেন না। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি এখন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়া প্যারোলে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। একটি ইংরেজি দৈনিকে দেখলাম দিন, তারিখ ও সময় পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, কবে প্যরোলে যাচ্ছেন তিনি! কোন দেশে যাচ্ছেন। এটা আনফেয়ার। গত কয়েক দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে। আমি এই হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহŸান জানাচ্ছি।
গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে অনেক জনপ্রিয় লোক টকশোতে আসছেন না। অনেককে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। সত্য কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তাদের অনেকের চাকরি চলে গেছে। আবার সাংবাদিকদের একটি শ্রেণি ভালো আছে।
নুসরাত হত্যাকাÐ ও সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় এবং রাজনৈতিক কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফেনীতে যেটি ঘটেছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি একক লড়াই নয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার জন্য যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি এখন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আমাদের এগুতে হবে। এখন উদার রাজনীতির দর্শন এখন পরাজিত হচ্ছে। রাজনীতিতে উদারতার পরিবর্তে আজ ফ্যাসিবাদ জায়গা দখল করছে। রাজনীতি এমন কলুষিত হয়েছে, যেখানে ভালো মানুষ আর রাজনীতিতে টিকতে পারছে না।

নুসরাত হত্যা মামলায় আরও ২ ছাত্রী আটক
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আরো দুই ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ওই মাদ্রাসার আলীম পরীক্ষার্থী কামরুন নাহার এবং গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জান্নাতুল আফরোজকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে ফেনী শহর থেকে কামরুন নাহারকে আটক করে পিবিআই। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আলীম পরীক্ষা দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার সময় জান্নাতুল আফরোজকে আটক করা হয়। এদিকে আটক উম্মে সুলতানা পপি, ছদ্মনাম শম্পা বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। গত দুই দিনে এই হত্যা মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো। নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের ভাগ্নি হন জান্নাতুল আফরোজ।
আসামি শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম ও নুর উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ছাত্রীকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় বোরকা পরা ৪/৫জন নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে হাত-পা বেঁধে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান প্রতিবাদী নুসরাত জাহান রাফি।

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় কৃষি কর্মকর্তার যাবজ্জীবন
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাকিরুল ইসলাম মিলন (৩৮) নামে এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার যাবজ্জীবন কারাদÐাদেশ দিয়েছে আদালত। ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলার পর গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত জাকিরুল ইসলাম মিলন বদরগঞ্জের রামনাথপুর পাঠানপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ২০০৫ সালের ৪ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে মাথায় পানি ঢালার জন্য প্রতিবেশি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে আনেন জাকিরুল ইসলাম মিলন। এসময় ওই ছাত্রী বাড়িতে গেলে কেউ না থাকার সুযোগে হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে মিলন। পরে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানায়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও মিলন সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় কোনো সুরহা হয়নি। ফলে ১৩ জুলাই বদরগঞ্জ থানায় মিলনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রীর বাবা। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ১৫ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ মঙ্গলবার এর রায় ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে তা নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে দেওয়ার আদেশ দেন বিচারক।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, ঘটনার সময় মিলন পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধান করছিলেন। বর্তমানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত আছেন। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ চৌধুরী ও এমদাদুল হক।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার প্রস্তাব সংসদে জমা
ঢাকা অফিস
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর করার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টিও সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি। প্রস্তাবটি সংসদের আইন শাখা-২ এ ইতিমধ্যে জমাও দিয়েছেন রাশেদ খান মেনন।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি তরুণ সমাজের দীর্ঘ দিনের জানিয়ে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, এটি আমার কাছেও একটি যৌক্তিক দাবি বলে মনে হয়। এ জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি আনা হবে। এ ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি হল- ‘সংসদের অভিমত এই যে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর করা হোক।’
আগামী ২৪ এপ্রিল বিকাল ৫টায় একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশন শুরুর এক ঘণ্টা আগে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বাংলাদেশি ৪ জেলের জন্য মুক্তিপণ দাবি বিজিপির
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
কক্সবাজারের নাফ নদী থেকে একটি ট্রলারসহ চার বাংলাদেশি জেলেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল হাসান খান জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে বিজিপি তাদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। ওই এলাকার ট্রলার মালিক আমান উল্লাহ বলেন, তার ট্রলার নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান চার জেলে। মিয়ানমার থেকে বিজিপির একটি দল স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায়।
আমান উল্লাহ জানান, চার জেলে হলেন শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়ার বাসিন্দা আজিম উল্লাহ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবুল কালাম ও মোহাম্মদ হাসান। ঘটনার পরপরই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল হক।
আমান উল্লাহ আরও বলেন, সকাল ৭টার দিকে এক রোহিঙ্গা স্থানীয় ভাষায় ফোনে বিজিপির বরাতে আমার সঙ্গে কথা বলে। তারা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই জানালে জেলেদের মারধর করে তা মোবাইল ফোনে আমাকে শোনায়।
বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল ফয়সাল হাসান খান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে বিজিবি যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।

নির্যাতিত নারীর জবানবন্দি নেবেন নারী ম্যাজিস্ট্রেট
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে নারী নির্যাতনের মামলায় নারী বা শিশুদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অর্পণের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সার্কুলার জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয় বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সার্কুলারে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি উক্ত আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়।
অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত উক্ত জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস এর গোচরীভূত হয়েছে যে, বর্তমানে বেশকিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নারী বা শিশু ভিক্টিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচবোধ করে। ফলে এরূপ নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারী ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করে।
সার্কুলারে বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। এতে নারী ও শিশু ভিকটিমরা সহজে ও নিঃসঙ্কোচে তাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে পারবে।

বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় ময়মনসিংহ সিটির মেয়র টিটু
ঢাকা অফিস
বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় মেয়র নির্বাচিত হলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু। তার একমাত্র প্রতিদ্ব›দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গির আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে করে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাহার নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে মেয়র পদে স্থানীয়ভাবে নাম চাওয়া হয়। ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ মোট ৬ জনের নাম পাঠায়। এ ৬ জনের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইকরামুল হক টিটুর নামও ছিল।

স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বামীকে বেঁধে মারধর করে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধলাসার ইউনিয়নের পশ্চিম চাপলী গ্রামে। বখাটেচক্র ওই গৃহবধূকে (৩০) গত সোমবার রাত নয়টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে গণধর্ষণ শেষে অন্য এলাকার মেম্বার আনোয়ার ফকিরের বাড়িতে রেখে যায়। ওই রাতেই স্বামী মো.সিদ্দিককে এবং গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্ত্রীকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভিকটিমকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. ইদ্রিস আলম মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আইনি সহায়তার জন্য পাঠিয়েছেন। আর স্বামী সিদ্দিক কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ (৩০) জানান, সোমবার রাত সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটার পর তার খালা শ্বাশুড়ির বাসায় একদল যুবক প্রবেশ করে। এ সময় তারা এ বাসায় কেন এসেছে- জানতে চায়। গৃহবধূ তার স্বামীর সাথে এসেছে জানালে যুবকরা তার বিয়ের কাবিন দেখতে চায়। খবর পেয়ে তার স্বামী কাবিনের কাগজ নিয়ে আসলেও এ বিয়ে মিথ্যা দাবি করে তাকে হাত-পা বেঁধে বেধরক মারধর শুরু করে। এ সময় পরিবারের লোকজন বাঁচাতে এলে তাদেরও মারধর করে ফেলে রেখে। স্বামীকে মারধর শেষে যুবকরা পালাক্রমে প্রথমে ঘরের মধ্যে পরে পার্শ¦বর্তী মাছের ঘেরে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে পার্শ¦বর্তী গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার ফকিরের বাসায় গৃহবধূকে রেখে আসে।
ইউপি সদস্য আনোয়ার ফকির জানান, সোমবার রাতে জনৈক মামুন তাকে ফোন করে জানান যে, এক মহিলাকে তার বাসায় পাঠানো হচ্ছে। রাত সাড়ে ১১টার পর ওই মহিলা তার বাসায় আসেন। তার কাছে তখন ধর্ষণের কথা বলেননি বলে জানান। কে তার বাসায় তাকে দিয়ে গেছে তাও জানেন না।
কলাপাড়া হাসপাতালের ওসিসি’র প্রোগ্রাম অফিসার মো. ইদ্রিস আলম জানান, ভিকটিম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে তাদের কাছে আইনি সহায়তার জন্য এসেছেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা ও মনোকাউন্সিলিং করে ভিকটিমকে আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য মহিপুর থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রেফায়েত হোসাইন জানান, কলাপাড়া হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালে ভিকটিমের পরীক্ষা সম্ভব না। বিষয়টি মহিপুর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে এবং পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বলা হয়েছে।
মহিপুর থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম জানান, থানায় আইনি সহায়তা চাইলে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন মিয়ানমারে আটক দুই সাংবাদিক
খুলনাঞ্চল ডেস্ক

রোহিঙ্গা গণহত্যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ জড়িত থাকার খবর প্রকাশ করে সাংবাদিকতার নোবেল বলে পরিচিত পুলিৎজার পুরস্কার-২০১৯ পেয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। একাধিক আলোকচিত্রের জন্যে এই পুরস্কার দেয়া হয় সংস্থাটির দুই তরুণ প্রতিবেদক ওয়া লোন এবং কেই সোকে। রয়টার্স, বিবিসি।
রাখাইন প্রদেশের ইনদিন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে কবর দিয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ গ্রামবাসী। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেই তথ্য উঠে এলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
গণহত্যার ঘটনা বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে আসার ঘটনায় মূল ভূমিকা রাখা ওই দু’ সাংবাদিক চার’শ ৯০ দিন ধরে মিয়ানমারের কারাবন্দি রয়েছেন।
বিবিসি জানায়, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী মধ্য আমেরিকার অভিবাসীদের দুরবস্থার ওপর আলোকচিত্রের জন্যেও দুজনকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিকতার সবচে’ সম্মানজনক পুরস্কারটি টানা দ্বিতীয় বার পেলো রয়টার্স । যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এই বার্তা সংস্থা ২০০৮ সালের পর এ পর্যন্ত সাতবার পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেছে।

নায়ক ফেরদৌসের ভিসা বাতিল, ভারত ছাড়ার নির্দেশ
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পী ফেরদৌস আহমেদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ায় ফেরদৌসের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির খবরে এ কথা বলা হয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ফেরদৌস আহমেদের ভিসা–সংক্রান্ত আচরণ লঙ্ঘনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ভিসা বাতিল করেছে। এ ছাড়া তাঁকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন ফেরদৌস। তাঁর এ অংশগ্রহণের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপি। এরপর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে প্রতিবেদন চায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত রোববার ফেরদৌস রায়গঞ্জ আসনের করণ দিঘি থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত তৃণমূলের প্রচার মিছিলে অংশ নেন। এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। নির্বাচনী ওই প্রচারে ফেরদৌসের সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার দুই তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও পায়েল।
রায়গঞ্জ আসনে প্রচুর সংখ্যালঘু মুসলিমের বাস। জনসংখ্যার হারে মুসলিম বেশি। ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী, কংগ্রেসের প্রার্থী দীপা দাসমুন্সি আর সিপিএমের প্রার্থী বর্তমান বিদায়ী সাংসদ মোহাম্মদ সেলিম।
ফেরদৌসের অংশগ্রহণের পর তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘তৃণমূল তো বিদেশি তারকা এনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে। এ ধরনের ঘটনা এর আগে দেখিনি। কাল হয়তো ইমরান খানকে প্রচারে ডাকবে তৃণমূল।’ তিনি আরও প্রশ্ন তুলেন, ‘এভাবে ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি তারকা আসতে পারেন? তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইন মানেন না। ভোট কম পড়লে রোহিঙ্গাদের ডেকে আনবেন। কাল হয়তো ইমরান খানকে তৃণমূলের প্রচারে ডাকবেন। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।’ তবে এর পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা মদন মিত্র। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই এটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে হয়েছে। এর জন্য নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্ন নেই।’

২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হবে : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতেই শবে বরাত পালনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আলেম-ওলামাদের নিয়ে গঠিত ১১ সদস্যের সাব-কমিটির সুপারিশে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ গত ১৩ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কমপ্লেক্সস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ওই সাব-কমিটি গঠিত হয়।
সেই সাব-কমিটি বৈঠক করে কিছু সুপারিশমালা তৈরি করে এবং তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মঙ্গলবার এই সুপারিশমালা প্রকাশকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আগামী ২১ এপ্রিল (রোববার) দিবাগত রাতেই শবে বরাত পালনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।’ গত ৬ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সভা করে জানিয়েছিলো, ওই দিন দেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৮ এপ্রিল থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ২১ এপ্রিল দিনগত রাতে পবিত্র লায়লাতুল বরাত পালিত হবে।
তবে ‘মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল’ নামে একটি সংগঠন দাবি করে বসে, সেদিন খাগড়াছড়িতে চাঁদ দেখা গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল দিনগত রাতে শবে বরাত পালিত হওয়ার কথা।
এ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে জরুরি বৈঠক ডাকে সরকার, গঠন করে সাব-কমিটি। শেষ পর্যন্ত এই সাব-কমিটি আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখার সুপারিশ করে সরকারকে। সংবাদ সম্মেলনে সাব-কমিটির আহবায়ক মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ আবদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।-বাসস

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ
বিশেষ প্রতিনিধি
আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। জাতি এদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিবনগর দিবস উদযাপন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দিনটি অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।
এ দিন ঘোষিত ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়। ঘোষণাপত্রে সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়াও তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নিযুক্ত হন। অপরদিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চীফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।
১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতার ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। তাজউদ্দিনের ভাষণের মধ্যদিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে।
এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরের দিন দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা এবং সংবাদ মাধ্যমে ১৭ এপ্রিল শপথগ্রহণের এই সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বা আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হিসেবে এই দিনটির তাৎপর্য ছিল বিশাল।
মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথক বাণী দিয়েছেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস-২০১৯ উদযাপনের লক্ষ্যে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে মন্ত্রীবর্গ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, স্কাউটস্ এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা গার্ড অব অনার প্রদান ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করবেন। কুচকাওয়াজের পর পরই আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তর দিবসটির সাথে প্রাসঙ্গিক “বদলে যাও, বদলে দাও” শিরোনামের গীতিনাট্য উপস্থাপন করবে।
সকাল পৌনে ১১টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় সরকারের মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় সংসদ সদস্যগণ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। বিকাল ৫ টায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের মাঠে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা শহর, মেহেরপুর জেলা শহর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা, প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকা এবং আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা অফিস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা চিরায়ত স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতিকে মূলধারার ফিরিয়ে আনার আহŸান জানিয়েছেন। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ-২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উপেক্ষা করতে পারি না এবং মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এগুলোর উন্নয়নের জন্য আরো গুরুত্ব দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মান সম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যাপক সফল্য অর্জন করেছে এবং বিদেশে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে পাশাপাশি চিরায়ত ওষুধেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ভেষজ (হার্বাল) চিকিৎসার চাহিদা ব্যাপক উল্লেখ করে তিনি চিরায়ত চিকিৎসার উন্নয়নে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে জরুরী স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অর্থে কেনা অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ বিতরণ করেন।
তিনি জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, সকল মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রায় ১৪ হাজার ক্লিনিক মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এবং এখান থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্লিনিকগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই বুনিয়াদী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, প্রসবকালীন সময়ের জন্য দক্ষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকার আইসিটি ব্যবহার করে ‘স্বাস্থ্য বার্তা’ নামে কল সেন্টারের মাধ্যমে টেলি মেডিসিন সেবা চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ হচ্ছে মূলতঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত স্বাস্থ্যসেবারই অংশ। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কথা স্মরণ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব স্বাগত বক্তৃতা দেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাবিøউএইচও)-এর প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু সংবিধানে স্বাস্থ্যকে ৫টি মৌলিক চাহিদার একটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন, এই সাংবিধানিক নীতির অনুসরণে আওয়ামী লীগ সরকার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের মান সম্পন্ন চিকিৎসা সুবিধা প্রদান এবং চিকিৎসক ও নার্সদের মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ঢাকায় প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে। তিনি বলেন, তাঁর পরবর্তীতে সরকার দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটি মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা শুধু সায়েন্স ব্যাক গ্রাউন্ডের বদলে সব একাডেমিক ব্যাকগাউন্ড থেকে নার্স-নিয়োগে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংশোধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অপারেশন পরবর্তী রোগীদের পরিচর্চার জন্য নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কারণে দেশের গড় আয়ু ৬৬ দশমিক ৮ বছর থেকে বেড়ে ৭২ বছর ছাড়িয়েছে এবং মাতৃমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৪৮ থেকে কমে ১ দশমিক ৭২ (প্রতি হাজারে) এবং শিশু মৃত্যুর হার প্রতি ১০০০ এ ৪১ থেকে কমে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে । আওয়ামী লীগ সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকার বর্তমানে প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী বাজেট থেকে অটিস্টিকসহ সব ধরণের প্রতিবন্ধীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা এ সময় অটিস্টিকদের কল্যাণে তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগের ব্যাপক বিস্তার ঘটায় এইসব রোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহŸান জানান। তিনি বলেন, এই রোগগুলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহনই উত্তম। তিনি এ সময় এইসব রোগের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এগুলো প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি সেরা সমাধানগুলোর একটি। তিনি পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহনের জন্য সকলের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ করা ভালো। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি)-এর মত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ধর্ষণের মামলায় নারী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভিকটিমদের জবানবন্দি গ্রহণের নির্দেশ
ঢাকা অফিস
ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ভিকটিমদের একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে এ সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। গতকালএ কথা জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো.জাকির হোসেনের সাক্ষরিত সার্কুলারে বলা হয়,‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি উক্ত আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়।’
‘অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত উক্ত জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস এর গোচরীভূত হয়েছে যে, বর্তমানে বেশকিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নারী বা শিশু ভিক্টিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচবোধ করে। ফলে এরূপ নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারী ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করে।’ সার্কুলারে বলা হয়, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। এতে নারী ও শিশু ভিক্টিমরা সহজে ও নিঃসঙ্কোচে তাদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে পারবে।’
তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

২৮ বছরে হারিয়ে গেছে ৭ লাখ তাঁতি
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
দেশে ২৮ বছরের ব্যবধানে তাঁতীর সংখ্যা কমেছে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ জন। ১৫ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৮ জন তাঁতি। আর ২৮ বছরের ব্যবধানে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা কমেছে ৯৬ হাজার ৪১৫টি। ১৫ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৬৭ হাজার ৫০৬টি তাঁত ইউনিট। ‘তাঁত শুমারি ২০১৮’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তাঁত পেশায় আয় কম, হস্তশিল্প থেকে যান্ত্রিক শিল্পের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, তাঁত শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের অভাব, বাজারজাতকরণের সমস্যা ইত্যাদি কারণে তাঁত শিল্প দিন দিন কমছে বলে প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়। ১৯৯০ সালে প্রথম তাঁত শুমারি হয়। এরপর হয় ২০০৩ সালে। তৃতীয়বারের মতো তাঁত শুমারি হয় ২০১৮ সালে।
২০১৮ সালের তাঁত শুমারির তুলনামূলক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯০ সালে ১০ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭ জন তাঁতি ছিল। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৫ জন (৫৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ) আর নারী ছিল ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪২ জন, অর্থাৎ ৪৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০০৩ সালে ৮ লাখ ৮৮ হাজার ১১৫ জন তাঁতি ছিলেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৭ জন, যা ৫৩ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৮ জন, যা ৪৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।
২০১৮ সালে প্রতিবেদন থেকে বলা হয়েছে, ৩ লাখ ১ হাজার ৭৫৭ জন তাঁতি রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৪ জন, যা পরিমাণ ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৩ জন, যার পরিমাণ ৫৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৮ বছরের ব্যবধানে দেশে তাঁতির সংখ্যা কমেছে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ জন। ১৫ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৮ জন তাঁতি। ১৯৯০ ও ২০০৩ সালের তাঁত শুমারিতে পুরুষ তাঁতির সংখ্যা বেশি থাকলেও ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নারী তাঁতির সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে ১৯৯০ সালে কারখানা/ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও খানা ভিত্তিক তাঁত ইউনিট ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৪১২টি। ২০০৩ সালে তাঁত ইউনিট কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২টি। এর মধ্যে কারখানা/ শিল্প প্রতিষ্ঠান ইউনিট ১২ হাজার ৮১৯টি এবং খানাভিত্তিক ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৯৩টি। ২০১৮ সালে আরও কমে মোট তাঁত ইউনিট কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৬টি। এর মধ্যে কারখানা/ শিল্প প্রতিষ্ঠান ৫৮১টি এবং খানাভিত্তিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫টি। অর্থাৎ ২৮ বছরের ব্যবধানে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা কমেছে ৯৬ হাজার ৪১৫টি। ১৫ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৬৭ হাজার ৫০৬টি তাঁত ইউনিট।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘তাঁত শুমারি ২০১৭’ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় এবং শেষ হবে চলতি বছরের জুনে। সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সময় প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে তাঁত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই দুই বিভাগে দেশের মোট তাঁত ইউনিটের মধ্যে ৭৩ দশমিক ১০ শতাংশ। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগে এই হার ৫৬ দশমিক ২০ শতাংশ। সেই সঙ্গে শহর অঞ্চলের তুলনায় গ্রামে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা অনেক বেশি। শহরে ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং পল্লী এলাকায় ৮৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বিষয়ে বিবিএস মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন বলেন, ‘তাঁত শুমারির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই খাতের বর্তমান অবস্থার মূল্যায়ন করা, কার্যকর ও অকার্যকর তাঁতখানা সনাক্ত করা। তাঁতি ও স্বজাতীয় কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্ধারণ করা। আমি আশা করব, এই শুমারির তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এই খাতের উন্নয়নের জন্য নীতিমালা ও কার্যক্রম প্রণয়ন করতে সহায়ক হবে।’

পাট পাতার চা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে জার্মানি
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
বাংলাদেশে পাট পাতা থেকে চা বানিয়ে শুধু নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছে জার্মানি। পরীক্ষামূলক প্রকল্পে এ মৌসুমে উৎপাদিত চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কেজি জৈব পাট পানীয়র পুরোটা জার্মানিতে রফতানি করা হবে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আগামীতে পাট পাতার চা দেশের মানুষও পান করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি মির্জা আজম। কার্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, জার্মানির একটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ কারণে মানিকগঞ্জের লেমুবাড়িতে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৪০ শতাংশ জমি ও ১৭ কক্ষ বিশিষ্ট একটি স্থাপনা বিজেএমপি কর্তৃক তিন বছরের জন্য ভাড়া নিয়ে প্রকল্পের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মির্জা আজম বলেন, পাট পানীয় উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পাটের উৎপাদন বাড়ানো, জৈব পাট চাষ, পাট পাতা প্রক্রিয়াকরণ ও জৈব চাষ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ইউরোপিয়ান মান অনুসরণ করা হবে। আর এ বছর শুধু জার্মানিতে রফতানি করা হলেও আগামীতে দেশবাসীও পাট পাতার চা পান করত পারবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বস্ত্র খাতের যথাযথ উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি এ খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করারও সুপারিশ করা হয়েছে। বৈঠকে বিজেএমসি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষ দূর করার লক্ষ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মির্জা আজমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মো. ইসরাফিল আলম, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, রনজিত কুমার রায়, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহীন আক্তার, আব্দুল মমিন মন্ডল এবং খাদিজাতুল আনোয়ার অংশ নেন। এছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র অধিদফতরের মহাপরিচালক, বিজেএমসি, বিটিএমসি ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বরে কাউন্সিল, কতটা চ্যালেঞ্জে বিএনপি?
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
কোণঠাসা বিএনপি। সরাসরি দলটির নেতাকর্মীরা শীর্ষস্থানীয়দের নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৪ মাসের বেশি কারাবন্দি। তার ঠিক পরেই যার দলের হাল ধরার কথা, তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে। ফলে দিকভ্রান্ত নেতাকর্মীরা। গড়ে ওঠেনি নেত্রীর মুক্তির দাবিতে জোরালো কোনো আন্দোলন। ঘরোয়া কিছু সভা-সেমিনার ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয় কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতেই পারেননি। এজন্য সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন দলের বড় একটি অংশ।
এজন্য রাজনীতির মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে কমিটিগুলো পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে মহিলা দল, ড্যাব, ওলামা দল, তাঁতীদল, ঢাকা জেলা বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসেই তৃণমূল কমিটিগুলো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই বছরের শেষদিকে ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় জাতীয় কাউন্সিল করবে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্যে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, এবার ঢাকা থেকে কোনো কমিটি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাদের নেতৃত্ব ঠিক করবেন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, জেলা, মহানগর সব কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে করতে হবে।
আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। একের পর এক রাজনৈতিক ভুলে ব্যাকফুটে চলে যায়। যার প্রভাব পড়ে জাতীয় নির্বাচনেও। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে বিজয়ী হয়ে বিরোধীদল হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। এরপরই দলটির ওপর নেমে আসে সরকারি খড়্গ। সেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি। উল্টো ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলবন্দি হতে হয়। এখন পর্যন্ত তিনি মুক্তি পাননি। তাকে ছাড়াই গত ৩০ ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে জোট গঠন করে। কিন্তু, নির্বাচনে জোটের চরম ভরাডুবি হয়, মাত্র ৮টি আসনে জয় পায়। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ৬টিতে জয় পান।
ভোটে জিতলেও বিএনপির প্রার্থীরা এমপি হিসেবে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। কিন্তু, ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের দুই প্রার্থী শপথ নিয়েছেন। ফলে জোটে রাজনীতিতেও চলছে টানাপোড়েন। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির মধ্যম সারি নেতাদের দাবি, ক্ষমতা কেন্দ্রীক বলয়ে থাকায় বিএনপি সংগঠন হিসেবে তৃণমূলে বিকাশ লাভ করতে পারেনি। কারণ, দীর্ঘ ১২ বছর তারা ক্ষমতার বাইরে। ডিসেম্বরের কাউন্সিলে বেশ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বিএনপির জন্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা ক্ষোভই প্রকাশ করলেন সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে, ‘শক্তিশালী সংগঠন না থাকার পেছনে হাওয়া ভবন একমাত্র দায়ী। এই ভবনটি ঘিরে একটি শ্রেণী দুর্নীতির মহোৎসব করেছে। সারা দেশে পকেট কমিটি দেয়া হয়, যার খেসারত এখন দল দিচ্ছে।’ এ বিষয়ে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক রাজনীতি নেই। এর প্রভাব বিএনপিতেও পড়েছে। কোনো কিছুই ধারাবাহিকভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি বা হচ্ছে না। এরপরও সরকারের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। জেলা কমিটিগুলোকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানাসহ সব পর্যায়ের কমিটির পুনর্গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন শেষ হলে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে কাউন্সিলের দিন তারিখ ঠিক করবেন। তবে, ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।’ জানতে চাইলে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন চলছে। চলতি মাসেই ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব কমিটি পুনর্গঠন শেষ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এবার ঢাকা থেকে কোনো কমিটি চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাদের নেতা নির্ধারণ করবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পরপর কাউন্সিল করার কথা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here