বৈশাখ ও বাঙালি : নববর্ষ ১৪২৬

0
121

-ড. সাহিদা খানম

‘‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি যাক ভুলে যাওয়া গীতি
অশ্রু বাষ্প সুদূরে মিলাক
মুছে যাক সব গ্লানি। মুছে যাক জরা
অগ্নিবাণে দেহে-প্রাণে শুচি হোক ধরা।’’
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ঋতুভিত্তিক লেখা লিখেছেন। বৈশাখের বারতা তাঁর কবিতায় সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। নিমগ্নভাবে বৈশাখ বন্দনা করেছেন। একদিকে বৈশাখের ধ্বংসরূপ, পাশাপাশি নতুন বছরের আগমন সৃষ্টিকে নতুনরূপে উৎসাহিত করে, এমন সত্য তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন ‘‘বৈশাখ আবাহন’’ কবিতায়।
তেমনি ভাবে বৈশাখের মতোই রুদ্র, অশান্ত, বিপ্লবী, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বৈশাখের আগমনে মুক্তির উল্লাসে কবি মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। নতুনের আহবান ও সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবি উদ্দীপ্ত হন। কাব্যিক ব্যঞ্জনার মাধ্যমে দৃপ্তকণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করেন-
“ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কাল বৈশাখীর ঝড়
তোরা সব জয় ধ্বনি কর
তোরা সব জয় ধ্বনি কর
ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর
প্রলয় নতুন সৃজন বেদন
আসছে নবীন জীবন ধারা অসুন্দরে করতে ছেদন।’’
এমনিভাবে বৈশাখ নিয়ে বহু কবি সাহিত্যিকগণ কবিতায় তাদের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। চমৎকারভাবে সাবলীল ভঙ্গিতে তারা বৈশাখের জয়গান গেয়েছেন। এর মাধ্যমে কবি সাহিত্যিকগণ তাদের কবিতায় বৈশাখের মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নববর্ষের এই চেতনা সমগ্র জাতি সত্তাকে নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগাবে।
পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। বাঙালি একটি উৎসব মুখর জাতি। বাংলা নববর্ষ এই উৎসবের একটি বিশেষ উপাদান। পৃথিবীর বেশির ভাগ উৎসবের পেছনে রয়েছে ধর্মের প্রত্য বা পরো স্বীকৃতি। কিন্তু বাংলার নববর্ষই একমাত্র উৎসব, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় একই আনন্দে উজ্জীবিত হয়। ফলে, নববর্ষের প্রথম দিনটি আসে সগৌরবে-বাঙালি জাতির নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদিকে চিনিয়ে, সবাইকে জানিয়ে। বর্তমানে বাংলা নববর্ষ জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। পান্তা-ইলিশ, বাঁশি, ঢাক-ঢোলের বাজনায় আর মঙ্গল শোভাযাত্রায় পূর্ণতা পাচ্ছে বাঙালির এই উৎসব মুখরতা।
সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বার মাস অনেককাল আগে থেকেই পালিত হতো। এই সৌর পঞ্জিকার শুরু হতো গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় হতে। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়–ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ, কারণ প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হত।
বাংলা নববর্ষের প্রকৃত ঠিকুজি কুষ্ঠি (ইতিহাস) হয়ত অনেকেরই জানা, তারপরেও একটু ফিরে দেখা বাংলা নববর্ষের পথচলার ইতিহাসের দিকে। অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের ল্েয মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। তবে নতুন এ সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় ১৫৫৬ সালের ৫ই নভেম্বর থেকে। কারণ, এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে ‘তারিখ-ই-এলাহী’ নামে পরিচিত ছিল। তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা। এর পূর্বে মোঘল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের েেত্র হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করতেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এরপর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকানদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে, বিশেষত স্বর্ণের দোকানে। সম্রাট আকবরের সময় থেকে খাজনা আদায়ের মাস বৈশাখ থেকে শুরু হলেও বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে প্রাণের মেলার উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বাংলা দিনপঞ্জির সঙ্গে হিজরি ও খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরি সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিস্টীয় সন ঘড়ির হিসাবে চলে। এ কারণে হিজরি সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনে। ইংরেজি দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। পহেলা বৈশাখ রাত ১২ টা থেকে না সূর্যোদয় থেকে এটা নিয়ে দ্বিধাদ্ব›দ্ধ আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনা রীতি থাকলেও ১৪০২ সালের ১ বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২ টায় দিন গণনা শুরু নিয়ম চালু হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত।
আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওযা যায়। পরবর্তীকালে ১৯৬৭ সনের পূর্বে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি।
বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হল “শুভ নববর্ষ”। নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখ উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে।
ঢাকায় পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহ্বান। পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের পর পর ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানান। স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃতপে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনেও পহেলা বৈশাখ এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা। ছায়ানটের উদ্যোগে জনাকীর্ণ রমনার বটমূলে রবীন্দ্রনাথের আগমনী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’-এর মাধ্যমে নতুন বর্ষকে বরণ করা হয়।
কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরানো উৎসবের বিলুপ্তি ঘটেছে, আবার সংযোগ ঘটেছে অনেক নতুন উৎসবের। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্যাহ উৎসবের বিলুপ্তি ঘটে। তখন পহেলা বৈশাখ ছিল জমিদারদের পুণ্যাহের দিন। ঢাকার ঘুড়ি ওড়ানো এবং মুন্সিগঞ্জের গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা ছিল এক সময় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। কিন্তু এ দুটিসহ ঘোড় দৌড়, ষাড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, পায়রা ওড়ানো, নৌকা বাইচ, বহুরূপীর সাজ ইত্যাদি গ্রামবাংলার জনপ্রিয় খেলা বর্তমানে আর তেমন প্রচলিত নেই। বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন আঞ্চলিক অনুষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রামের বলীখেলা এবং রাজশাহীর গম্ভীরা প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে নগরজীবনে নগর-সংস্কৃতির আদলে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উৎযাপিত হয়। পহেলা বৈশাখের প্রভাতে উদীয়মান সূর্যকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় নববর্ষের উৎসব। এ সময় নতুন সূর্যকে প্রত্য করতে উদ্যানের কোনো বৃহৎ বৃমূলে বা লেকের ধারে অতি প্রত্যূষে নগরবাসীরা সমবেত হয়। নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এদিন নববর্ষকে স্বাগত জানাতে সাধারণত সব শ্রেণীর এবং সব বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক পরিধান করে।
সুতরাং, আমাদের জীবন ইতিহাসের পটভূমিতে এ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। আমাদের জাতীয় চেতনা অর্থাৎ বাঙালি সত্তার সঙ্গে পহেলা বৈশাখের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতির অস্থিমজ্জার সঙ্গে একাকার হয়ে আছে বাংলা নববর্ষের মাহাত্ম্য। কিন্তু বিষ্ময়কর হলেও সত্য, আজ আমরা আমাদের সন্তানদের বিত্ত-বৈভবে বড় করার জন্য দেশ-ভাষা-সংস্কৃতি বাদ দিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছি। এভাবেই সমূলে হারাতে বসেছি আমাদের শ্বাশতকালের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কবিতা, সংগীত, শ্লোক ইত্যাদিকে।
অথচ, প্রায় ৪০ কোটি মানুষের ভাষা আমাদের এই প্রিয় বাংলা ভাষা। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মধুসূধন, বঙ্কিমচন্দ্র, স্বামী বিবেকানন্দ-এদের হাতে বাংলা হয়েছিল সমৃদ্ধশালী এবং বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে তাঁরা বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল। এখনো বাঙালিদের পুরনো অভ্যাস সুখে-দুঃখে-কষ্টে রবীন্দ্রনাথকে খোঁজা। এই বৃদ্ধ মানুষটি তাঁর সারাটা জীবন মনে হয় ব্যয় করেছেন এই বাঙালিদের সুখী ও সমৃদ্ধ করতে। সে জানতো আজ থেকে একশ পঞ্চাশ বছর পরে আমাদের জীবনের শাখা-প্রশাখা; ধারা-উপধারায় কী লাগবে। কেননা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির দ্বিতীয় স্থানটি যে তাঁর।
আমাদের সন্তানেরা যুগোপযোগি হোক, কিন্তু ভাষা এবং সাংস্কৃতিক চেতনাকে বাদ দিয়ে নয়। নতুন প্রজন্মের আগন্তুকেরাই বাঙালি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। আমরা যেন তাঁদেরকে হাজার বছরের বাংলা এবং বাঙালি সংস্কৃতি থেকে দূরে না রাখি। সেই সাথে এই নির্মল আনন্দের উৎস্য ধারায় নিজেকে উজাড় করি আপনজনের খুশিতে, ভুলে যাই সকল বিবাদ। আমাদের আছে সম্মান ও সহানুভূতি দেখানোর নিজস্ব কিছু কায়দা। এই আবেগ, এই ভালোবাসা, এই বাঙালিয়ানা সংস্কৃতি বুকে-ধরেই আমরা প্রমান করি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। নতুন বাংলা বছরে সবার মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ুক এবং আগামী দিনগুলো হয়ে উঠুক আরো সুন্দর ও সমৃদ্ধ। এই হোক নতুন বছরের শপথ।
জয় হোক বাংলার!

লেখক: শিক ও গবেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here