ফের বাড়ছে গ্যাসের দাম: জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত

0
17

গ্যাসের দাম আবারো বাড়ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাসের দাম বাড়াতে গতকাল থেকে গণশুনানি শুরু করেছে। চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। গ্যাসের দামের ওপর একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রাহক পযায়ে এক বার্নারের গ্যাসের চুলা ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা, দুই বার্নারের চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং মিটারযুক্ত চুলার ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৬৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
একই অর্থবছরের মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর এটি দ্বিতীয় উদ্যোগ। এর আগে সব প্রস্ততি নিয়েও নির্বাচনের আগে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কমিশন। অল্প সময়ের মধ্যে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ার খবরে গ্রাহকরা শঙ্কিত হবেন এটাই স্বভাবিক। গ্যাস বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হবে সরকারকে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গ্যাসের দাম বাড়লে জনগণ আরেক দফা দুর্ভোগে পড়বে। গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়া ছাড়াও বাড়বে দ্রব্যমূল্য ও পরিবহন ব্যয়। ফলে বেড়ে যাবে জীবনযাত্রার ব্যয়। এর চাপ পড়বে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর। গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য দেখানো হচ্ছে অদ্ভুত সব যুক্তি।
সরকার বাসাবাড়িতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ তো বন্ধ করেছেই, এখন পাইপলাইন গ্যাসের ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করতে চায়। দেশের অধিকাংশ মানুষ পাইপলাইনের গ্যাস পায় না। তাদের অনেকেই বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস ব্যবহার করে, যার দাম অনেক বেশি। এই দুই ধরনের ব্যবহারকারীর মধ্যে বৈষম্য কমানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সে কারণে নাকি বাসাবাড়ির গ্যাসের দাম বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, পাইপলাইনের গ্যাস ও সিলিন্ডার গ্যাসের দামের ব্যবধান কমাতে পাইপের গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে কেন? সিলিন্ডারের গ্যাস সুলভ ও সহজলভ্য করার কথা তো সরকার থেকে অনেকদিন ধরেই বলা হচ্ছে। কিন্তু তার তো কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর শিল্পোৎপাদনের ব্যয় বাড়লে উৎপাদিত পণ্যমূল্যও বাড়াবে। দেখা যাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাত তুলে বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর পাঁয়তারা চলবে। গ্যাসের অপচয় বন্ধ করা, সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে স্রেফ দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক চিন্তা নয়।
ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না ঘটিয়ে শুধু দাম বাড়িয়ে লাভ-লোকসানের হিসাব মেলানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা উচিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর। সরকারকে জনসাধারণের সার্বিক দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here