বসন্তের হাতছানি: শীতের সিগ্ধতায় বাহারী ফুল

0
136

হারুন-অর-রশীদ
শীতের বিদায় লগ্ন। গাছে গাছে পলাশ ও আ¤্র মুকুল’র আগমনে প্রকৃতিতে বসন্তের অগ্রিম হাতছানি। সিগ্ধ সকলের শিশির বিন্দুতে ভিজে লাল টকটকে হয়ে উঠছে ডালিয়া। রাতভর শিশির ¯œানে রঙ ধরছে চন্দ্রমল্লিকাতে। হিমেল হাওয়ায় সতেজ হয়ে উঠছে গাদা ফুলের গাছগুলো। ফুলগাছগুলোতে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে নানা রঙের প্রজাপতি। সাজানো গোছানো ফুল বাগানের চারদিকে মৌ মৌ করছে রঙিন ফুলের সৌরভ। এমনই ফুলের পরসে মোহনীয় হয়ে উঠছে খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,দর্শণীয় স্থান, সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো এবং নার্সারী। উঁচু ভবন থেকে দেখলে মনে হয় এক টুকরো মাটিতে ফুলের গালিচা বিছানো। শীতের সোনালী রোদের কিরণ ফুলের গায়ে পড়তেই চারদিকে তার আভা ছড়িয়ে পড়ছে। গাছের পাতার ভাঁজে ভাঁজে হেসে উঠছে সবুজ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। মৌসুমী ফুলে চার দিকে মনমাতানো গন্ধ ছড়াচ্ছে।ফুল নিয়ে অনেক সংগীত ,কবিতা ও ছড়া রচনা করা হয়েছে।
নগর ভবনের সামনে রয়েছে নানা রঙের ফুল। ফুলগাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। শহীদ হাদিস পার্কে রয়েছে ফুলের বাগান। আগত দর্শকরা এ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেসিসির কর্মীরা নিয়মিত দেখাশুনা করছেন। জেলা কালেক্ট্রো ভবনের সামনে রয়েছে ফুলের বাগান ও বিশাল নার্সারী। খুলনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ফুল। খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রবেশ মুখে রয়েছে ফুলের বাগান। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়, শিববাড়ি মোড়ে পানির ফোয়ারার চারপাশে লাগানো হয়েছে নানা রঙের ফুল গাছ। ফুটেছে বাহারী সব ফুল। একটি মোবাইল কোম্পানি আর এর দেখভাল করছে।
নগরীর ইকবালনগর বর্ণমালা শিশু শিক্ষালয়ের সামনে রয়েছে মো. মনিরুল ইসলাম মোল্লার মালিকানাধিন রূপলিী নামের বিশাল এক নার্সারী। এখানে রয়েছে হাজারো রকমে নানা বাহারী ফুলসহ জবা, টগর, একঝাড়া, রঙ, বারবিনা, স্টার, ফলিয়ক্স, নয়নতারা, কালেনগোলা, সানবিয়া, ন্যাশটোসিয়াম, পিটুলিয়া, ইসকা¯েøাবাল ও পানচাটিয়া। এ ছাড়াও রয়েছে অনেক বনজ, ফলদ, ঔষধী ও শোভাবর্ধণকারী গাছের চারা। তিনি প্রতিদিন তার এই বাগান পরিচর্চা করছেন।
তিনি বলেন, অনেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। আবার অনেকে কিনতে আসেন। খুলনায় প্রায় ১০হাজার নার্র্সারী রয়েছে। প্রতিটি নার্সারীতে হরেক রকম ফুল ফুটেছে। ফুল ও ফুলের চারা বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়েছে ফুলের বাগান। সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বারে রয়েছে চমৎকার ফুলের বাগান।
করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনেও রয়েছে অনুরূপ ফুলের বাগান। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলোতে শোভাপাচ্ছে নানা রকম ফুল। দেশী ফুলের পাশাপাশি বিদেশী ফুল রয়েছে। শতাধিক প্রজাতির রয়েছে গাঁদা ফুল। এর মধ্যে বিদেশী গাঁদার মধ্যে রয়েছে মেরী গোল্ড, ইনকা, জাম্বু, চাইনিজ, ফায়ার বন, ভারত থেকে আনা পানচাটিয়াসহ প্রায় শতাধিক গাঁদা ফুল। বিদেশী গোলাপের মধ্যে রয়েছে কালগোলাপ, সবুজ গোলাপ, লাল গোলাপ, ভিনকা, ¯েœাবল, জারবরা, ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা রকমের ফুল। দেশী ফুলের মধ্যে রয়েছে জবা, টগর, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামিনী,বেলী, জুঁই চামেলী ও রংঙনসহ হাজারো প্রজাতির ফুল।
শহীদ হাদিস পার্কে ফুল বাগানসহ রক্ষনাবেক্ষণের জন্য ১০জন কর্মী। এখানে দেখা গেছে কর্মীরা কাজ করছেন। ফুল বাগান রং করা বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। রং দিয়ে বাঁশ আকার্ষনীয় করা হয়েছে। ঝর্ণা নামের একজন মালি বাগানে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, সারাদিন লোক আসে ফুল দেখতে। বিকেলে বেশী আসে। ফুলদেখা বিনোদনও বটে। লোকচক্ষুর আড়ালে ফুল অনেকে নিয়ে যায়। সারাদিন পাহারা দিতে হয়। বিদেশী গাঁদা ফুলে বীজ বা চারা হয় না। এ দেশের মাটি ও আবহাওয়ার সাথে মিল না থাকার কারণে এ অবস্থা।
নগরীর আহসান আহমেদ রোডস্থ সোহাগ নার্সারীর সত্ত¡াধিকারী মোঃ চান মিয়া বলেন, তার নার্সারীতে দেশী বিদেশী হাজারো প্রজাতির ফুল রয়েছে। অনেক নার্সারী মালিক জমি ভাড়া নিয়ে লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করে। এরপর যদি জমি ছেড়ে দিতে হয় তা হলে বেঁচে থাকার কোন পথ থাকে না। ভারতে থেকে চারা সংগ্রহ করতে হয়। এতে অনেক খরচ হয়। তিনি নার্সারী করার জন্য সরকারের কাছে খাস জমি বরাদ্ধের দাবি জানান।
খুলনা নার্সারী মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ মুন্না বলেন, জেলার প্রতিটি নার্সারীতে নানা রকমের ফুল করেছে। ফুল প্রেমিরা ঘুরতে আসেন। কেউ আবার শখ করে টবসহ চারা কিনছেন। নার্সারী মালিকরা সব সময় আতংকে থাকেন কখন মালিক পক্ষ বলবে চলে যেতে। আমরা পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকি। তিনি সরকারি খাস জমি বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here