সকল জাতীয় সংবাদ

0
41

সংলাপে সংকট সমাধান চান ড. কামাল
ঢাকা অফিস
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকারের ‘রাজ চালাকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, আসুন জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকার গঠন করি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে এ আলোচনার আয়োজন করে গণফোরাম। ড. কামাল বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে, ৩০ ডিসেম্বর যে ঘটনা ঘটলো; স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও এটা দেখতে হচ্ছে সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। এটা হওয়ার কথা না। ৪৮ বছর পরে এটা কেন এভাবে হবে।
তিনি বলেন, আমিতো সরলভাবে বলেছি, ভাই সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু টেলিভিশনে বলেছে কামাল হোসেনতো বুঝতেই পারছেন না, ঘটনাতো রাতেই ঘটে গেছে। উনি সকালে সকালে বলছেন। এটার মানে কি হল। যেভাবে হল আমরাতো কেউ টেরই পেলাম না যে আমাদের ভোট দেওয়া হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আজকে প্রশ্ন রাখতে চাই, এইসব অস্বাভাবিক কাজ কেন হচ্ছে? চতুর্থবারের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। ৩০০ লোক সংসদ সদস্য হয়ে গেছে। আর বিরোধীদলে সাতজন, আমাদের দুজন। এটার অর্থটা কি? এটা কি একটা খেলা নাকি? ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কি খেলা করা যায়? সারা দেশের মানুষের মুখে মুখে উচ্চারণ হচ্ছে যে নাটকগুলো করেছে। আমি মনে করি মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে এগুলো হয় না। ড. কামাল বলেন, চুপি চুপি রাতে কি হলো, সকালে জানিয়ে দিল যে শেষ। রাষ্ট্রকে নিয়ে এভাবে খেলা করাতো চলে না। আমি মনে হয় যারা এগুলো করছে হয় তারা না বুঝে করছে। তাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছে তারা সঠিক দিচ্ছে না। এই তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছর আমরা হয়ে যাচ্ছি এই ধরনের তথাকথিত নির্বাচন এটা কোনো সুস্থ মানুষের করার কথা না। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আইনানুগভাবে এটা হয় না। সংবিধান অনুযায়ী এটা হয় না। সংবিধান মানতে সবাই বাধ্য। সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ না। কিন্তু এসব সংকট কেন সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জনগণ ক্ষমতার মালিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়েছিল। ২০১৪ সালে কেউ নির্বাচনে গেল না। তারা বললো সাময়িকভাবে করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন না দিয়ে ৫ বছর থাকলো। পাঁচ বছর পরে যখন নির্বাচন আসলো এখনও এই প্রহসন দেখতে হচ্ছে। এটাকে বঙ্গবন্ধু বলতেন রাজ চালাকি। আমরা রাজনীতি থেকে সরে রাজ চালাকিতে চলে যাচ্ছি। ৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে, সেটা রাজ চালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমি বলবো, এই রাজ চালাকি থেকে বিরত থাকেন। সংবিধান অনুযায়ী আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে যা করার করেন। এছাড়া কোনো বিকল্প হতে পারে না। কারও জন্য এটা মঙ্গল হবে না। যারা করবে তাদের জন্যও না, যাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে তাদেরতো একদমই হবে না। কামাল বলেন, যেখানে সংকট বা বিরোধ সৃষ্টি করার কোনো প্রয়োজন নাই। কেন সংকট সৃষ্টি করছেন। এটা কোনো সুস্থ মানুষের করার কথা না। আমি আবার বলছি। সুস্থ মানুষ জেনেশুনে বিরোধ সৃষ্টি করবে কেন। আজকে শতকরা একশভাগ মানুষই বলবে, সরকার গঠন করতে হলে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। ৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে সেটা কি কেউ অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন বলবে। আসুন বছরের প্রথম দিকে সংকট সৃষ্টি না করে সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ সবচেয়ে ভাল পথ। সংলাপের মধ্যে দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হোক কিভাবে আমরা সংবিধানকে মেনে, নির্বাচন করে, নির্বাচিত সরকার গঠন করব।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সায়িদ, মোস্তফা মহসিন মন্টু, মেজর জেনারেল অব. আমসা আমিন, মফিজুল ইসলাম কামাল প্রমুখ।

মার্চ থেকে শুরু উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
আসাদুজ্জামান ইমন, ঢাকা
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, ‘মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে সারাদেশে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে।’
উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ১৭(১)(গ) ধারা অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের মতো পরিষদের প্রথম বৈঠক (সভা) থেকে ৫ বছরের মেয়াদ শুরু হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রæয়ারি ৯৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৭ ফেব্রæয়ারি হয় আরও ১১৫টি উপজেলায় ভোট। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের জুন-জুলাইয়ে সব মিলিয়ে ৭ ধাপে দেশের ৪৮৭টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হয়েছিল। ওই বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উপজেলা পরিষদগুলোতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রথমদিনে যেসব উপজেলায় ভোট হয়েছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের উপযোগী হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। ওই বছর ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। এরপর ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরও ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। ২০০৯ সালে দেশে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর ৪৭৫টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে চতুর্থবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ছয় ধাপে দেশের ৪৮৭টি উপজেলায় ভোট হয়।

ঘুষের ৬ লাখ টাকাসহ রাজস্ব কর্মকর্তা হাতেনাতে ধরা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) নাজিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম।
তিনি জানান, গোপন খবর পেয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) নাজিম উদ্দিনের অফিসের আলমারি থেকে ঘুষের ছয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক জানায়, দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন–১০৬) অভিযোগ আসে যে সমুদ্রগামী জাহাজের ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষ বাণিজ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগী জাহাজ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ও মো. হুমায়ুন কবীর।

শুধু চা বিক্রি করেই ২৩টা দেশ ঘুরেছেন এই দম্পতি!
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
বিদেশ ঘোরার স্বপ্ন থাকলে ঠিক কতো টাকা রোজগার করতে হয়? সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, পেরু, সুইজারল্যান্ড শুধুমাত্র চা বিক্রি করে কি এসব জায়গায় ঘুরে আসা সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। আর সেটাই করে দেখালেন এক দম্পতি। ভারতের কোচিতে একটি ছোট চায়ের দোকান এই দম্পতির। ৫০ বছর ধরে এই দোকানেই চা বিক্রি করে আসছেন। আর সেই চা বিক্রির টাকাতেই ২৩টা দেশ ঘুরে ফেলেছেন তারা। কেরালার কোচির বাসিন্দা ৭০ বছরের বিজয়ন এবং তার ৬৮ বছরের স্ত্রী মোহনা। ১৯৬৩ সাল থেকে চা বিক্রি করছেন বিজয়ন। প্রথমে কোচির রাস্তায় রাস্তায় চা বিক্রি করতেন তিনি। পরে কোচিতে চায়ের দোকান খুলেন। ছোটবেলা থেকেই দু’জনের ইচ্ছা ছিল দেশ ভ্রমণের। ছোট সেই দোকানই তাদের স্বপ্নের উড়ানে সাহায্য করে।
বিজয়ন জানান, ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, পেরু, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, আমেরিকাসহ ২৩টা দেশ ঘুরেছেন তারা। এবার তাদের তালিকায় রয়েছে সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, গ্রিনল্যান্ড, নরওয়ে। কিন্তু কীভাবে বিদেশযাত্রার এই বিশাল খরচ জোগান তারা? তিনি জানান, তাদের দোকানে রোজ ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাহক আসেন। তারা দু’জনে মিলে দৈনিক ৩০০ টাকা করে জমিয়ে রাখেন শুধুমাত্র বেড়ানোর খাতে। এতে বছরে ১ লাখ টাকার মতো জমে। কয়েকটা বছর এভাবে টাকা জমান। বাকিটা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নেন। পরে ৩ বছর ধরে সেই ঋণ শোধ করেন। ঋণ শোধ হওয়ার পর আবার শুরু করেন পরবর্তী বিদেশ ভ্রমণের তোড়জোড়। এভাবেই ২৩টি দেশ ঘুরে ফেলেছেন তারা।

দৈনন্দিন খরচ কমানোর জন্য দোকান এবং বাড়ির সমস্ত কাজ তারা নিজেরাই করে থাকেন। তাদের দোকানে একজনও কর্মচারী নেই। বাড়িতেও নেই কোনও পরিচারিকা। কোচির ওই দম্পতি এখন সেলিব্রিটি। তাদের দোকান এক ডাকে চেনেন সকলে। বিদেশ সফর থেকে কী শিখলেন? বিজয়ন বলেন, ঘুরলে আপনার মন পাল্টে যায়, সংস্কৃতিরও বদল ঘটে।
আর পাঁচজন দম্পতির মতো বিজয়ন ও মোহনারও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে অনেক মতবিরোধ হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে একটাই মিল। দু’জনেই দেশ-বিদেশ ঘোরার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচেন। সেই স্বপ্নের জোরেই এখন তাদের কাহীনি সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন।

নমিনেশন অকশন করে বিএনপি কিভাবে জয়ী হবে : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
কোনো দল আন্দোলনে ব্যর্থ হলে তারা নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সব আন্দোলনই ব্যর্থ হয়েছে। আর আন্দোলন যাদের ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারে না।
নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের ব্যর্থতার কারণ তাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনী জয়ী হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি এরকম আরও অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।
এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী ২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সময়ে এ দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে, তারা অনেক কষ্ট পেয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছিল। মাত্র ১০ বছরে আমরা যা পেরেছি, ২৮ বছরেও অন্যরা তা কেন পারেনি? কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। যখনই জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন ক্ষমতায় এসেছে তখনই মানুষের উন্নতি হয়েছে এবং এই উন্নয়ন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ায় এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বিপুল এই বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করে তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরেই এই দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হতো। জাতির পিতা আজ নেই। কিন্তু তার আদর্শ আছে। আমরা তার আদর্শ অনুযায়ী দেশ গড়ে তুলতে চাই। নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সংসদ, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে চান কাদের
ঢাকা অফিস
সড়কে ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে চান বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, সড়কে ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো আমার প্রধান ও অগ্রাধিকারমূলক কাজ। এই দুই সেক্টরে বিশৃঙ্খলা বজায় রেখে সুফল পাওয়া যাবে না। দুটি বিভাগেই শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। এটি শুরুতেই করতে হবে, প্রথম রাতে বিড়াল মারার মতো। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, এ দুই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিজস্ব কৌশল আছে। যদিও শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজটি সহজ না, সময় লাগবে। কারণ শৃঙ্খলা ফেরাতে গেলে অনেকের স্বার্থ ক্ষুণœ হবে। যাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে তারা সাধারণ কেউ নন, অসাধারণ মানুষ। স্বার্থ ক্ষুণœ হলে তারা বাধা দেবে, তা কাটিয়ে উঠতে হবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল বলেন, ডিটিসিকে আমি ফাংশনাল করতে পারিনি। এটি করতে না পারলে এই শহর পছন্দ হবে না। ফুটপাত পরিচ্ছন্ন ও যানজট নিরসন করতে হবে। এই কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরও কাজ করছে। মোট কথা ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে হবে। পাতাল রেল করতে হবে। রাতারাতি দৃশ্যপটের পরিবর্তন হবে না, তবে আমি হাল ছাড়ি না।

বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করতে মরিয়া সরকার: মির্জা ফখরুল
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দুঃশাসনকে দীর্ঘায়িত করতে আওয়ামী লীগ সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে দলের সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গত বুধবার আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করে একদলীয় দুঃশাসনকে দীর্ঘায়িত করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্ভট, মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পুরে রাখছে।
মূলত শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তি করায় র‌্যাব-৮ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। তানভির হাসান মোহন (২৩) নামের ওই যুবক রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তুলসীপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। গত বুধবার রাতে মাদারীপুরে শিবচর উপজেলার নলগোড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব- ৮ এর স্কোয়াড কমান্ডার (সহকারী পুলিশ সুপার) দেবাশীষ কর্মকার জানান, তানভীর হাসান নিজ নামের ফেসবুক আইডির মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদেরসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কটূক্তি এবং ব্যাঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ করছিল। র‌্যাব অনুসন্ধানে তানভীর হাসানের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তানভীর তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের ধানের শীষের প্রার্থী অপু রিমান্ডে
ঢাকা অফিস
নির্বাচনে টাকা বিলির অভিযোগে অর্থ পাচার আইনের মামলায় ধানের শীষ প্রার্থী মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারী আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস ধানের শীষ প্রার্থী মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান রিমান্ড শুনানি করেন। আসামিপক্ষে মো. তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।
শুনানিতে তারা বলেন, অপু বিএনপির একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। এটাই তার অপরাধ। তার সুনাম ক্ষুণœ করতে এবং নির্বাচনে অযোগ্য করতে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে তার এলাকায় তিনি সন্ত্রাসী কর্তৃক মারাত্মক জখম হন। তার মাথায় ১৭টি সেলাই পড়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। তিনি অসুস্থ। আগে তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অপুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা রিমান্ডের ৫টি কারণ হল (১) আসামি অপু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানাবিধ সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করার মূল হোতা ও নিয়ন্ত্রক বিধায় তার দলের সহযোগিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, গ্রেফতার করাসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন।
(২) অপু ও তার মামা মো. মাহমুদুল হাসানকে উদ্ধারকৃত নগদ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫০ টাকার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা। (৩) অপুর সঙ্গে মামলার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের কোন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা জানা। ৪) ব্যাংক হিসাব নম্বরে কার নির্দেশে কোথায়, কিভাবে টাকা লেনদেন করা হত সে বিষয়ে জানা। (৫) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উদ্ধারকৃত টাকা দিয়ে কি ধরনের নাশকতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিক তথ্য সংগ্রহ।
আদালত সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানাবিধ সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সহিংসতা বন্ধের জন্য র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন স্তরে নজরদারি করে আসছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর মতিঝিল থানাধীন সিটি সেন্টারের ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যাÐ ইউনাইটেড করপোরশনে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনাকালে প্রতিষ্ঠানটির এমডি আসামি আলী হায়দারকে আটক করার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জব্দ হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুসারে পল্টন থানাধী হাউজ বিল্ডিং রোডের বায়তুল খায়ের টাওয়ারের সিটি মানিটারি এক্সচেঞ্জ থেকে আরও ৫ কোটি টাকা জব্দ হয়।
আলী হয়দার জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তার মামা ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপু। তার নির্বাচনী কাজে অবৈধ প্রভাব খাটানো এবং নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতার জন্য ২ থেকে ৩ দিন আগে গুলশানস্থ তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমেনা এন্টারপ্রাইজ অ্যাÐ সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে নির্বাহী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন এবং অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন ৩ কোটি টাকা নিয়ে যায়। পরদিন আমেনা এন্টারপ্রাইজের অফিসে গিয়ে জয়নাল আবেদীন এবং আলমগীর হোসেনকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫০ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে অপুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে এদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

আসকের প্রতিবেদন
গত বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐ বেড়েছে ২৮৭ শতাংশ
ঢাকা অফিস
বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐের দিক থেকে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষণের তথ্য প্রকাশ করে আসকের উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐ বেড়েছে ২৮৭ শতাংশ। গত এক বছরে বাংলাদেশে মোট ৪৬৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন মাদকবিরোধী অভিযানের সময়।
বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আসক’র নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, ২০১৭ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐের শিকার হয়েছিলেন ১৬২ জন। গত এক বছরে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐ ২৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐের যেসব ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখতে হবে যে কোনো নিরপরাধ মানুষ এর শিকার হয়েছেন কি না।
আসক ২০১৮ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব তথ্য উত্থাপন করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ,ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৩২টি, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ও ৭ জন ধর্ষিতা আত্মহত্যা করেছেন ১,০১১ জন শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছে, নিপীড়নের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২৮৩টি ও আত্মহত্যা করেছে ১০৮ শিশু পুলিশের সংগে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৬৭ জন নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৪ জন; আওয়ামী লীগের ১৯ জন, বিএনপির ৪ জন ও সাধারণ মানুষ ১০ জন।
‘সার্বিকভাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে শীপা হাফিজা বলেন, নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের সাজা হচ্ছে না। এই কারণেই এরকম অপরাধ ঘটেই চলেছে। একটি স্বাধীন দেশে এসব হত্যাকাÐ হোক তা আমরা চাই না।

নারী আসনের ৪৩টিই আ’লীগ পাচ্ছে
ঢাকা অফিস
একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৩টিই পেতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পাবে ৪টি।
সংরক্ষিত নারী আসনের আইন অনুযায়ী তারা এই সংখ্যক আসন পাবে। আইনে বলা আছে, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে যে দল যতটি আসন, তার আনুপাতিক হারে ৫০টি আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে তারা পাবে ৪৩টি আসন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এর বিপরীতে তারা পাবে ৪টি নারী আসন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৮টি আসন। এই অনুপাতে তারা পাবে ১টি আসন। বাকি ২টি আসন পাবে অন্য দলগুলো।
আইন অনুযায়ী, যে দলের অনুকূলে যতটি আসন নির্ধারিত হবে দলগুলো সেই সব আসনপ্রতি এক বা একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। একজন করে প্রার্থী দেওয়া হলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। তবে আসনপ্রতি একাধিক প্রার্থী থাকলে দলের সদস্যদের ভোটে একজন নির্বাচিত হবেন।
তবে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে দলগুলো থেকে একের অধিক প্রার্থী দেওয়া হয়নি। যে কারণে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি।
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি, ঐক্যফ্রন্ট ৭টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, জাতীয় পার্টি জেপি ১টি ও তরীকত ফেডারেশন ১টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া ৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের পর আসনটি বিএনপি পেয়েছে।

ফেনীতে ৪ তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ, আটক ২
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ফেনী শহরের রামপুর এলাকায় একটি বাসায় চার তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার তাদের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে গত সোমবার সকালে ওই তরুণীদের কান্না ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর এক তরুণী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামপুর এলাকা থেকে মো. ওমায়ের (১৯) ও আরিফুল ইসলাম প্রকাশ আরমান (৩৩) নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে।
ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুজন হালদার জানান, শহরের রামপুরের ওই বাসা থেকে তরুণীদের উদ্ধার অভিযানের সময় বাসার বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নির্যাতনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।

নোয়াখালীতে তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নোয়াখালীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার পূর্বশুলুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম পারভিন আক্তার (১৮), তিনি ওই গ্রামের জহিরুল হকের মেয়ে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার সময় পারভীনের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। রাত ৮টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ির বাইরে যান পারভীন। তার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাড়ির অন্য সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের একটি ধানক্ষেতে তার রক্তাক্ত লাশ পান।
খবর পেয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরিফ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান জনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গার্মেন্টস কারাখানার চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিন মাস আগে বাড়িতে ফিরে আসে পারভীন। বাড়িতে আসার পর থেকে এলাকার কিছু যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত। পারভীনের মা কয়েকদিন ধরে বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে একই এলাকার যুবক সাদ্দাম প্রায়ই ওই বাড়িতে যেত। সে পারভীনের ঘরে ঢুকে কথা বলত। এর মধ্যে সে কয়েকবার পারভীনকে ধর্ষণও করেছে। ওই ঘটনার জেরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনার পর থেকে সাদ্দামকে এলাকায় দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তারা।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. স্বপন দাস জানান, নিহত পারভীনের শরীরে অনেকগুলো জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি-না সে বিষয়ে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তারা।
নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান জনি সমকালকে বলেন, ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই নারীর ঘাড়, হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলেছে। এ ছাড়া তার নিম্নাঙ্গসহ পুরো শরীরে ২০টি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ঘাতকরা কোনো কারণে তার ওপর খুবই ক্ষিপ্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই গ্রাম থেকে শাহেদ নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় গতকাল বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

গাইবান্ধা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ভোট কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কা করে আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ উপনির্বাচন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ভোটের আগে ও পরে ৩ দিন ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। যাতে করে ভোট কারচুপির এসব সংবাদ প্রকাশ না পায়।
তিনি বলেন, যে নির্বাচনে ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত থাকে। রেজাল্ট শিট যেখানে তৈরি করা আছে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আমি আমার নিরীহ ও অসহায় নেতাকর্মীদের আবারও মামলা, হামলা, নিপীড়ন, নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিতে চাই না। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সংসদ উপনির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here