খুলনা অঞ্চলে ১০ লাখ মেট্রিক টন টার্গেটে ব্যস্ত পাঁচ লাখ কৃষক

0
54

স্টাফ রিপোর্টার
আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টিতে সেচ যন্ত্র চালিয়ে উৎপাদনে বাড়তি খরচ হওয়ায় লোকসান কাটিয়ে উঠতে বোরো আবাদে ব্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পাঁচ লাখ কৃষক। এবারের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান। মৌসুম শেষে এর মূল্য দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬’শ কোটি টাকা। এ অঞ্চলের জেলা গুলো হচ্ছে খুলনা, যশোর সাতক্ষীরা, নড়াইল ও বাগেরহাট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ২০১৮ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ৭৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। যা ২০১৭ সালের তুলনায় অর্ধেক। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসে কাংখিত বৃষ্টিপাতের চেয়ে ৪৩ শতাংক কম হয়। আমন বাঁচাতে এ অঞ্চলের কৃষকে ১৩ হাজার সেচ যন্ত্র চালাতে হয়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
কৃষি বিভাগের সূত্র জানান, চলতি মৌসুমের হাইব্রিড জাতের বীজ গতবারের তুলনায় কেজি প্রতি ১’শ টাকা বেশি দরে কিনতে হয়। এছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কুয়াশার কারণে ১০ শতাংশ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন। মৌসুম শেষে উৎপাদিত ধানের মূল্য দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ শতাংশ জমির রোপন শেষ হয়েছে।
সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পোকার আক্রমণ বা রোগবালাই দেখা দেয়নি। কাংঙ্খিত বোরো উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদী। উৎপাদিত ধানের দাম বাড়বে ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এই সূত্র জানান, গত মৌসুমে এ অঞ্চলে ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। সব এলাকার উৎপাদন ভাল হয়।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের নড়াইলের উপ পরিচালক চিন্ময় রায় জানান, এবারে এখানে রোগ বালাই দেখা দেয়নি। সারের সংকট নেই। ফলে কাংঙ্খিত উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী।
খুলনার ফুলতলা কৃষি কর্মকর্তা রিনা খাতুন ও দীঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রোপন শেষ হবে। আপাতত সেচ সংকট নেই। স্বল্প পরিমাণ জমির বীজতলায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক অনাদি মন্ডল ও মোনজ কুমার বাছাড় জানান, গেল মৌসুমে বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। এবারে বীজের মূল্য বেশি এবং কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়বে।
নড়াইলের খারুরিয়া গ্রামের কৃষক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, গত মৌসুমের তুলনায় এবারে হাইব্রিড জাতের বীজ কেজি প্রতি ১’শ টাকা বেশি মূল্যে কিনতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতবছর এ অঞ্চলে বøাস্টে আক্রান্ত হয়ে ৬৬ একক জমির বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here