সকল জাতীয় সংবাদ

0
58

ভোটের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নেমেছে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) সদস্যরা। গতকাল রবিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়েই সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এরআগে, গত ১৩ ডিসেম্বর সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ওইদিন তিনি বলেন, ‘ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। এক হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি এখন মাঠে কাজ করছে।
ইসি সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি টিমের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আদলে এবারও ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।
এরআগে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিন মাঠে ছিল সেনাবাহিনী। তারা সাধারণ এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন এলাকায় একজন কমিশনারের অধীনে দায়িত্ব পালন করে। ওই নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ৫০ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় একটি ব্যাটালিয়ন (৭৪০ সদস্য) ও প্রতিটি উপজেলায় এক প্লাটুন (৩৫ জন) সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

নৌকায় ভোট দিলে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়: প্রধানমন্ত্রী
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন সামনে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়েছে। নৌকায় ভোট দিলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।
রংপুরের তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আসেন নির্বাচনী জনসভাস্থলে। এরপর তুমুল করতালি। হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রী ওঠেন মঞ্চে। হাত নাড়েন উপস্থিত জনতার উদ্দেশে। শুরু করেন বক্তৃতা। মাত্র সাত মিনিটে বক্তব্য শেষ করে শেখ হাসিনা পীরগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা করার উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা হন।
এই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাÐের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাবারের ব্যবস্থা করেছি। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। বিনা পয়সায় মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। প্রতিটি মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য এখন আর বই কিনতে হয় না। নতুন বই আমরা দিয়ে দিচ্ছি। উপবৃত্তি দিচ্ছি। মোবাইল ফোনে মায়েদের কাছে বৃত্তির টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। নৌকায় ভোট দিলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।’
আওয়ামী লীগের শাসন আমলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য দুস্থ ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতা দিচ্ছি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি। যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। এখন আর মঙ্গা নেই। খাদ্যসংকট নেই। খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ করে দিয়েছে। এসব হয়েছে নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক মসজিদ ও কালচার সেন্টার করে দিচ্ছি। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছি। ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করেছি। বেকারদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। গৃহহারাদের জন্য গৃহের ব্যবস্থা করেছি। মানুষ গৃহহারা থাকবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে মাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জে দুই লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছি। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। সার, বীজ সহজলভ্য করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগের আমলে কৃষকের উন্নয়ন হয়। সারের সমস্যা হয় না। উৎপাদিত পণ্যের মূল্য আমরা নিশ্চিত করেছি। এখন এক ইঞ্চি মাটিও অনাবাদি থাকে না। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করেছি। আমরা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হয়।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক ওরফে ডিউক চৌধুরীকে পরিচয় করে দিয়ে বলেন, ‘ডিউককে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। তাঁকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’

সুজনের পর্যবেক্ষণ
ইতিবাচক দিক থাকলেও দলগুলোর ইশতেহারে নেই কর্মপরিকল্পনা
ঢাকা অফিস
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত ইশতেহারের ওপর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। পর্যবেক্ষণে তারা বলেছে, পর্যালোচিত প্রায় প্রতিটি ইশতেহারেই দেখা গেছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সভাপতি ও সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। দলগুলোর ঘোষিত ইশতেহারের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়।
ইশতেহারে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও মূলনীতির স্থান নিয়ে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যে ক’টি রাজনৈতিক দলের ইশতেহার মূল্যায়ন করার সুযোগ আমরা পেয়েছি, তার প্রতিটিতেই আমরা দেখি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বলতে কোন দল কী বোঝায় সেটা স্পষ্ট না হলেও এ বিষয়টির স্বীকৃতি তাৎপর্যপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যত অনেক বৈরিতা ও মতপার্থক্য থাকলেও ইশতেহারে দেখা গেছে- তাদের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য এসেছে। বিশেষ করে নতুন সরকারকে কোন কোন ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে তা নিয়ে সার্বজনীন বিষয়ে বেশিরভাগ দলকেই আমরা একই রকম অবস্থানে দেখি। এরমধ্যে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ ইত্যাদির গুরুত্ব প্রায় সব রাজনৈতিক দলই স্বীকার করে।
ইশতেহারের ওপর সুজনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, তরুণ ভোটারদের মন জয় করার জন্য প্রায় সবগুলো দলকেই যতœবান হতে দেখা গেছে। কেবল এই নির্বাচনই নয়, ভবিষ্যতে দলের রাজনৈতিক কর্মকাÐে তরুণ সমাজকে পাশে নেওয়ার বিকল্প নেই বলে সব রাজনৈতিক দলই উপলব্ধি করেছে।
তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যে সমালোচনা ইশতেহারে দেখা গেছে, তাতে কিছুটা গৎবাঁধা প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ সুজনের। তারা বলছে, দেশের উন্নয়নের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ভালো কাজের মূল্যায়ন এবারের ইশতেহারেও দেখা যায়নি। তবে একদলের শাসনামলে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প অন্য দলের শাসনকালে সমর্থন নাও হতে পারে, এ রকম শঙ্কার লাঘব করতে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ময়দানে জাতীয় ঐক্য গঠনের সম্ভাবনার ব্যাপারে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিহিংসার পথ বর্জন করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, ভয়মুক্ত বাংলাদেশ তৈরি, প্রতিহিংসামুক্ত সহমর্মী বাংলাদেশ এবং সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন ইত্যাদি ইতিবাচক বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে এগুলো ইতিবাচক উদাহরণ।
সামাজিক বৈষম্য নিরসনে দলগুলোর ইশতেহারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বিভিন্ন পন্থার ভেতরে উল্লেখযোগ্য হলো সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা স¤প্রসারণে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করা, রেশনিং এমনকি পল্লী রেশনিং।
এবার নানা মাত্রায় বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়টি ইশতেহারগুলোতে এসেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু, প্রবীণ কল্যাণ, হিজড়া, হরিজন ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, পার্বত্য ও অন্যান্য অঞ্চলের নানা নৃ-গোষ্ঠীদের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ সৃষ্টি, ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, আবাসন, পেনশন ফান্ড ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রবর্তন ইশতেহারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।
তবে ইশতেহারে কর্মপরিকল্পনার অনুপস্থিতি ফুটে উঠেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অতীতের মতো নির্বাচনী ইশতেহার যেন নিতান্তই কথার ফুলঝুরিতে পরিণত না হয় সে লক্ষ্যে আমরা আশা করেছিলাম যে দলগুলো তাদের ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা রূপরেখা দেবে। যেমন তারা সরকার গঠন করলে প্রথম ১০০ দিনে কী করবে, প্রথম বছর কী করবে, দ্বিতীয় বছর কী করবে, তৃতীয় বছর কী করবে, চতুর্থ বছর কী করবে এবং শেষ বছর কী করবে। এমন একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করলে দলগুলোর নিজেদের সময়ভিত্তিক অগ্রাধিকার স্থাপন সহজ হতো।
সুজনের ভাষ্যে, প্রতিপক্ষের ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক দলগুলো সবসময়ই নিজেদের স্বার্থকতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টায় থাকে। এবারেও এরকম প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু এগুলো ছাপিয়ে গেছে ইশতেহারের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক। যেমন ইশতেহারে অনেক ক্ষেত্রে ঐক্যমত, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর ঐক্যের সম্ভাবনা, বিকেন্দ্রীকরণ ও বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রæতি এবং প্রান্তিক ও অবহেলিত গোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এই ইতিবাচক দিকগুলোই আগামী দিনে গণতন্ত্রের সুদৃঢ় বুনিয়াদ সৃষ্টি করতে পারে। সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পরও ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে মনে রাখবে।

ইসিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঐক্যফ্রন্টের
সেনা মোতায়েনের ফলে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির আশা
ঢাকা অফিস
আগামী পহেলা জানুয়ারী ২০১৯ এর পরিবর্তে নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ২৪ ডিসেম্বর বই উৎসব করা নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে তা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার কাছে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল রবিবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি সিইসির দফতরে জমা দেন গণফোরামের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।
চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৪ ডিসেম্বর দেশে বই উৎসব উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উৎসবের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। চিঠিতে আরো বরা হয়, ‘আমরা মনে করি এ ধরনের কর্মসূচি একজন প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনাকে বিশেষ সুবিধা দেবে। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী। ইতিপূর্বে সময় এই বই উৎসব ৩০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়। ১/২ জানুুয়ারী বই উৎসব করা হলে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ২৪ ডিসেম্বও তড়িঘড়ি করে এই উৎসব উদ্বোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার সামিল হবে। বই উৎসবের মতো একটি অনুষ্টান কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা নির্বাচনী আচিরনবিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্ব›দ্বীতাকারী অন্য প্রার্থীসহ সারাদেশের প্রার্থীদের অধিকারকে লঙ্গন করবে। এছারাও নির্বাচনের আগে ২৪ ডিসেম্বও বই উৎসব কর্মসূচি উদ্বোধন না এবং বই উৎসব বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নির্দেশ প্রদানে সিইসিকে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।
অপরদিকে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন। গতকাল রবিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, সেনা মোতায়েনের ফলে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা এর আগে ছিল না।
আমরা আরো আশা করি, সেনাবাহিনী জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না, কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠির এজেন্ডা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করবে না। সেনাবাহিনী দেশ ও জনগণের সেবা করে, কারও পক্ষ হয়ে তারা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করবে না। বিবৃতিতে ড. কামাল বলেন, সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে চেম্বার আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন, আজ শুনানি
ঢাকা অফিস
তিন আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে আজ সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রবিবার সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে তিন আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ। গত মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একক বেঞ্চের এই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। ওই দিন আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে করা আবেদন খারিজ হওয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত থেকে বেরিয়ে যান। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার রিটের বিভক্ত আদেশটি সমাধানের জন্য বিচারপতি জেবিএম হাসানের একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এই আদালতে শুনানি করতে তিন দফা অনাস্থা প্রকাশ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গত বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ও গত সোমবার দুই দফা তারা অনাস্থা প্রকাশ করেন। আদালত প্রধান বিচারপতি বরাবর লিখিত অনাস্থা দিতে বলেন।
গতকাল রবিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা লিখিত অনাস্থা দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান ও মীর হেলাল। আদালত তাদের এ অনাস্থা আবেদন খারিজের আদেশ দেন এবং প্রার্থিতা চেয়ে খালেদা জিয়ার রিটের ওপর শুনানি করতে বলেন। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, আমরা এ কোর্টের ওপর অনাস্থা জানিয়েছি। আপনি আমাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এখন আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে যাব। তা সত্তে¡ও রিটের শুনানি করতে বলছেন কেন? এর পর আদালত খালেদা জিয়ার রিট আবেদনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে শুনানি করতে বলেন। মাহবুবে আলম শুনানি শুরু করতে থাকলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে বেরিয়ে আসেন। নিয়ে আদালত খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন।
খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি আসনের মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। গত ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিলের শুনানির পর সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে চার সদস্যের নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত দেন। শুনানিতে প্রার্থিতা বহালের পক্ষে মত দেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এর বিপক্ষে মত দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন। রিটার্নিং অফিসারের এ সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার পক্ষে রোববার তিনটি রিট করা হয়। গত সোমবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পৃথক তিনটি রিটের ওপর বিভক্ত আদেশ হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন।
খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। বেঞ্চের ওপর বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এতে দ্বিমত পোষণ করেন। আদালত পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদÐ নিয়ে ৮ ফেব্রæয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে: এইচটি ইমাম
ঢাকা অফিস
বিএনপি-জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমÐিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
এইচটি ইমাম বলেন, সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস বাহিনীর কারণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নিহতের ঘটনা ঘটছে। আপনারা দেখেছেন-নির্বাচনের আগে নীলনকশা অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট জোট সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তারা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী নির্বাচনের মাঠে না থেকে, দেশে সর্বত্র সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও হামলা পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অন্য জোটের অফিস ভাঙচুর, মিছিলে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। আবার প্রতিদিন নিজেরাই সহিংসতা সৃষ্টি করে উল্টো নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা অভিযোগ করছে এবং মিডিয়াতে লাগাতার মিথ্যাচার অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এইচটি ইমাম বলেন, নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগের পাঁচজন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী সমর্থক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। শত শত নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি ও দোকানপাটে হামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ (রবিবার) সকালে আমি আসতে আসতে আমাকে আসাদুজ্জামান নূর ফোনে জানালেন, নীলফামারী থেকে তার ওখানেও বড় রকমের হামলা হয়েছে। প্রতিদিনই আমরা এমন তথ্য পাচ্ছি। যারা নিহত হয়েছেন, আমাদের নেতাকর্মী তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ আল মামুন, মোহাম্মদ হানিফ, ইসহাক হোসেন, জামাল উদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন মÐল। ২০০১ সালের মতো সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপি ও জামায়াত হামলা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লতিফ সিদ্দিকী
ঢাকা অফিস
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংসদ। পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।
লতিফ সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, আমি আর নির্বাচন করছি না। কারণ, মাঠ নির্বাচন করার মতো সমতল নয়। মাঠ এমনই সমতল যে পুলিশের বুটের তলে পড়তে হয়। আর সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাত খেতে হয়। আমার অফিস ভেঙে দিয়েছে। আমার নিরীহ লোকদের প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করছে। যারা সমর্থক, তাদের পুলিশ প্রতিনিয়ত টেলিফোন করে ভয় দেখাচ্ছে। এরপর ইলেকশন করা যায় নাকি?
১৬ ডিসেম্বর কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগে গেলে লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা করে চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই দিন দুপুর থেকেই তিনি এ ঘটনার বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে অনশন শুরু করেন। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথম টাঙ্গাইলের হাসপাতালে ও পরে গত বুধবার ঢাকায় নেওয়া হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলাকারী চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ইলেকশনটা তো বাণিজ্য নয়। আমি জীবনে অনেক ইলেকশন করেছি। ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করেছি, আজকে ২০১৮ সাল। এ রকম নির্বাচন আমার এলাকায় আমি জীবনেও দেখিনি। আমি আর শাহজাহান সিরাজ ছিলাম দুই প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমাদের মধ্যে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। কিছুই চাইনি। আমি কিছু চাওয়ার লোক না। আমি বলে আসলাম, আপনি যে পরিচালনাটা করছেন, এই পরিচালনায় আপনি ব্যর্থ। এই পরিচালনায় নির্বাচন হতে পারে না। তাই আমি মাঠ ছেড়ে দাঁড়ালাম।
লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীও হন। ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে একটি সভায় ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে আসনটি শূন্য হওয়ার পর ২০১৭ সালের জানুয়ারির উপনির্বাচনে হাসান ইমাম খান সাংসদ নির্বাচিত হন। হাসান ইমাম খান এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
লতিফ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ওপর হামলা হাসান ইমামের সমর্থকেরাই করেছে। তিনি কালিহাতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়ী করে তাঁকে প্রত্যাহারের দাবি করেন। আজও লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ওসির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।
এখন ওসির প্রত্যাহার চান কি না জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, এখন আর কিছুই চাই না। এখন আর সময় আছে নাকি? আমি নিজেকেই মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়েছি। কার কাছে কী চাইব? এ দেশে চাইলেই কিছু হয় না। ঘটনাক্রমে ঘটে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন তো আর প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তাই আমি সরে দাঁড়ালাম। আমি নিরীহ মানুষকে আহত–নিহত হওয়ার সুযোগ কেন করে দেব? যারা আহত নিহত হবে, তাদের দায় আমাকে নিতে হবে। আমি সেই দায় নেব না। আমি এত বড় বীরপুরুষ হতে চাই না। এটা স্বাধীনতাযুদ্ধ না যে মুখোমুখি লড়াই করব। যার সঙ্গে লড়াই করব, সে আমারই কর্মী কিংবা কর্মীর সন্তান। আমি কেন যাব এই ধরনের হানাহানিতে? যদি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারে।
প্রত্যাহার নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কী বলা হলো, তা জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘কিছুই বলা হয়নি। আমি তো তার কাছে শুনতে চাই নাই। আমি বলেছি, এক মিনিট আপনার সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়ে চলে যাব।

হারার আগেই হেরে গেছে বিএনপি: কাদের
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপি এখন এলোমেলো, তারা হারার আগেই হেরে গেছে। আর আওয়ামী লীগ জেতার আগেই জিতে যায়।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ, জেতার আগে জিতবেন না। আওয়ামী লীগের একমাত্র দোষ তারা জেতার আগে জিতে যায়। মনে রাখবেন, এ বিজয়ের মাসে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় হবে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনের সেনবাগ বাজারের পাইলট হাইস্কুল মাঠে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মানে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, খুন। বিএনপির এ রাজনীতি সাধারণ মানুষ প্রত্যাখান করেছে। কারণ মানুষ বুঝে গেছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবার হাওয়া ভবন হবে, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে। তারা ক্ষমতা এলে রক্তগঙ্গা হবে। বাংলাদেশে লাশের পাহাড় সৃষ্টি করবে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আলোর পথে নিয়ে এসেছেন। এ আলোর পথকে আরো উন্নত করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ না হয় তাহলে আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না, যোগ করেন মন্ত্রী।

খালি মাঠে গোল দিতে দেব না: মির্জা ফখরুল
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু আমরা আর খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। এবার জনগণ মাঠে আছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আখানগর ইউনিয়নে এক পথসভায় ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা ভোট দিতে যাবেন। আপনাদের অধিকার ভোট দেয়া।
ধানের শীষ মার্কায় বিএনপিকে ভোট দেয়ার আহŸান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি অনুরোধ করবো, আপনারা পরিবর্তনটা আনেন। ধানের শীষ কাজ করবে। অতীতে করেছে ভবিষ্যতেও করবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, এই সরকারের পরিবর্তন একমাত্র আপনারাই করতে পারেন। আমরা শান্তি চাই, ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগনকে পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে মামলা করে আবারো ক্ষমতায় আসতে চায়। মামলা, হামলা, ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাই বেশি দিন টিকে থাকা যায় না।

সেনাবাহিনীকে ভোট পরিচালনায় চেয়ে হাইকোর্টে রিট
ঢাকা অফিস
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের কাজ সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ঢাকা-৮ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ।
রিট আবেদনে আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ১৪ দলের পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০ দলের পক্ষ বিএনপি মহাসচিব, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, রাশেদ খান মেনন, মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থতা কেন অসংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের সব কেন্দ্রে সেনাবাহিনী দিয়ে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এক দলের প্রার্থী অন্য দলের প্রতীক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০ দল বা ১৪ দলের নামে জোট গঠন করে নির্বাচন করার ওর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী জানান, আজ সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

আ’লীগেও রাজাকার, আল বদর, আল শামস নেতারা রয়েছে : রিজভী
ঢাকা অফিস
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির মনোনয়নে আইএসআই ভূমিকা রেখেছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে সরকার। যার কোনো প্রমাণ নেই। অথচ আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বললেও তাদের দলে রাজাকার, আল বদর, আল শামস নেতারা রয়েছেন।
গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- যারা যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেয় তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। আসলে একতরফা নির্বাচন করতেই আওয়ামী লীগ আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিএনপির প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের কথিত স্বপক্ষ শক্তি দাবি করে বিচার করলেও তাদের দলে থাকা রাজাকারদের ব্যাপারে একেবারে নিরব। এ দলটিতেও রয়েছে কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর, আল শামস, গণহত্যকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগকারীসহ অসংখ্য ব্যক্তি স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী লিপ্ত ছিল। এ ব্যক্তিরাসহ তাদের সন্তান-সন্তুতি এখন আওয়ামী লীগের বড়নেতা বা তাদের টিকিটে নির্বাচন করছেন।

নির্বাচন আর সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না: মাহবুব তালুকদার
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নির্বাচন আর সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না, ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গতকাল রবিবার সকালে সিলেটে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ যাতে আঙুল তুলতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে নজর রাখতে হবে। সকল প্রার্থী আমাদের কাছে সমান। আপনারা সবাই নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটার যেন ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পেশিশক্তি এবং কালোটাকার জোরে কেউ যেন নির্বাচনে জয়ী হতে না পারে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।
মাহবুব তালুকদার বলেন, সোমবার থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। এ সেনাবাহিনী মোতায়েন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সেনাবাহিনী আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসের পরম শক্তি। নির্বাচন নিয়ে মানুষের যে আস্থার সংকট ছিল, এবার সেনাবাহিনী মোতায়েন সে সংকট পুরণ করেছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

হামলায় রক্তাক্ত কোটা আন্দোলনের ৫ নেতা
ঢাকা অফিস
নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচ নেতা। গতকাল রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের শিকার সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহŸায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ এর ব্যানারে বিকাল তিনটায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তাঁদের কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে তারা টিএসসিতে অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে টিএসসিতে দুপুরের খাবার খেতে গেলে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার ৬০-৭০ জন নেতাকর্মী তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
সোহরাবের অভিযোগ, তাকেসহ তাঁদের সংগঠনের যুগ্ম আহŸায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা ও জসীম উদ্দিন আকাশকে মারধর করেন ছাত্রলীগের ওই নেতা-কর্মীরা। মারধরের পর জসীমকে তুলে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। জসীম কোথায় আছেন, তাঁরা জানেন না। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোহরাব ও ইয়ামিন চিকিৎসাধীন। সোহরাব হোসেন বলেন, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সোহানুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আর শহীদুল শান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহŸায়ক নুরুল হক বলেন, তাঁদের সংগঠনের পাঁচজন যুগ্ম আহŸায়ককে মারধর করা হয়েছে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত ছাত্ররা হলেন সোহরাব হোসেন, বিন ইয়ামিন মোল্লা, জসীম উদ্দিন, আহমেদ কবির ও মো. তারেক রহমান।
টিএসসি এলাকায় হামলায় আহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা জসিম উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর। ছবি: প্রথম আলোটিএসসি এলাকায় হামলায় আহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা জসিম উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মারধরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নুরুল হক বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একটা মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। আগের ঘটনাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এসব কর্মকাÐ চালিয়ে যাচ্ছে।’ এই হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য এসেছে যে ক্যাম্পাসে কিছু একটা ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে দুই ধরনের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তারা কোটা করে, না কী করে, সেটাতে আমরা ইন্টারেস্টেড না। তারা আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা শুনিনি। আমাদের যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ একটা ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করেছিল। আমরা সেই ইস্যুর পরিসমাপ্তি দেখেছি। তারপরও তারা কোন স্বার্থের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটা আমরা জানি না। যেকোনো ধরনের ঘটনা ঘটলে ছাত্রলীগের দিকেই বা কেন অভিযোগের আঙুল তাক করে, সেটাও আমাদের জানা নেই। তারা যদি ছাত্রসংগঠনের হতো, তাহলে তাদের কর্মকাÐ স্বাভাবিক মনে হতো। কিন্তু তাদের কার্যক্রমই আমাদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে।’

বাসচালক মোবাইলে কথা বলছিলেন, প্রাণ গেল ৪ জনের
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রিহুইলার সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে থ্রিহুইলারের চার যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে মোল্লাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার উথলী গ্রামের মালোপাড়ার রবিউল ইসলাম (২৭) তার স্ত্রী শ্যামলী খাতুন (২২)। তবে নিহত অপর দুইজনের পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে নিহত দম্পতির ছেলে তৌফিক (৬) ও একজন অজ্ঞাত (৩০)। তাদেরকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাসের যাত্রী নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, মোবাইলে ফোনে কথা বলতে গেলে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জীবননগর থেকে যাত্রী নিয়ে কেজিএন পরিবহনের মিনিবাসটি চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে উপজেলার মোল্লাবাড়ি নামক স্থালে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা থ্রিহুইলার সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা স্বামী-স্ত্রীসহ চার যাত্রী নিহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাসের সঙ্গে থ্রিহুইলার সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন দুইজন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here