সকল জাতীয় সংবাদ

0
18

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর
স্টাফ রিপোর্টার
ব্যক্তির জন্মদিন ঘটাকরে প্রায় সময় উদযাপিত হয়। দেশের কিছু কিছু মানুষ থাকেন তারা জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে যান। বলাই বাহুল্য তাঁদের জন্মদিন অবশ্যই পালিত হয়ে থাকে। ঠিক এইভাবে রাষ্ট্রের কোনো জন্মদিন চিহ্নিত করা মুশকিল। জাতি ও রাষ্ট্র একদিনে তৈরি হয় না। জাতির পেছনেও শতাব্দির পর শতাব্দির ইতিহাস আছে। রাষ্ট্রও তেমনি তার উদ্ভবের পেছনে বিরাট ইতিহাস থাকতে পারে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের জন্মদিনটিকে চিহ্নিত করা যায়।
মধ্যযুগে বাংলাদেশ এই নামে কোনো রাষ্ট্র ছিল না, তবে এখন যা বাংলাদেশ বলে পরিচিত একসময় তা অনেকগুলো জনপদে বিভক্ত ছিল এবং সেইসব জনপদে রাষ্ট্র হিসেবে বিশেষ পরিচিতিও ছিল। আমরা গৌড়, পুন্ড্রবর্ধন, বঙ্গ, সমতট হতে হরিকেল, এরকম অনেকগুলো রাজ্যের নাম পাই। বঙ্গ ছিল এগুলোর অন্যতম একটি। পাশেই ছিল সুম্ভ; ‘তারপর হরিকেল, সমতট ইত্যাদি। বাংলাদেশের নামে কোনো একটি বিশেষ রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করা যায় না। এই বার-তেরটি জনপদকে পরবর্তীকালে বৃহৎ বঙ্গ বলা হয়েছে। দেখাই যাচ্ছে, ইতিহাসের পট বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং কোনো কোনো জনপদ সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এ কথার একটাই অর্থ যে, এরা একটা সময়ে বৃহৎ বঙ্গের অন্তর্গত হয়ে যায় এবং তাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের পরিচয় পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে থাকে।

এদিক থেকে দেখতে গেলে প্রাচীন বঙ্গ সত্যিই অতি প্রাচীন। অতি প্রাচীন এর সংস্কৃতি ও শিল্পী-সাহিত্য বিভিন্ন চারুকলা ও কারুকলা এক একটি রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে। অষ্টাদশ শতকের প্রথমভাগ পর্যন্ত এইভাবেই বৃহৎ বঙ্গকে চিহ্নিত করা যেত।
পরে এইসব জনপদ এক সঙ্গে বঙ্গদেশ বা বাংলা বলে পরিচিত হয়। এই ব্রিটিশ আমলের শেষে বাংলা বলে পরিচিত অংশটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে দিয়ে তাদের খোলনলচে বদলে দিয়ে এই পূর্ববাংলা হয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তান। পশ্চিম পাকিস্তানের কথা আদৌ আনছি না। এবং পূর্ব পাকিস্তানও আমরা তার জন্মের পর থেকেই চেতনাগতভাবে নির্বাসিত করে দেই। ৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা সম্পন্ন হয় এবং জন্মলাভ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই রাষ্ট্রের জন্মের পেছনে এক সমুদ্র রক্ত বাঙালিকে দিতে হয়েছে। এবং সেটা ৪৭ সালের দেশ ভাগের পর থেকেই।
৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করার চক্রান্ত হয়, ৫২ সালে বাঙালিরা মাথা উঁচু করে বিদ্রোহ করে। ঘটে যায় ২১শে ফেব্রæয়ারি ভাষা আন্দোলন। আমরা ভাষা আন্দোলনের পরিপূর্ণ মর্যাদা এবং তার বিকাশে পরিপূর্ণ ফল খুব কমই তলিয়ে বিচার করি। বিচার করলে দেখা যাবে, পূর্বপাকিস্তান সৃষ্টি হবার দিন থেকে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন পর্যন্ত এই রক্তপাত করতে থাকে। এই ইতিহাসটা আমরা ভুলতে পারি না, ভুলতে পারব না, এই ইতিহাস যে ভোলে তার বাঙালি পরিচয় থাকতে পারে না।
একটি ভাষাকে কেন্দ্র করে একটি রাষ্ট্রের উত্পত্তি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। আমরা সেই ঘটনা ঘটিয়েছি, রক্ত দিয়েছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই রাষ্ট্রের জন্মের জন্য আরো রক্ত দিতে প্রস্তুত ছিলেন। একথার অর্থ বাঙালি তার দেশের জন্য, তার ভাষায় জন্য, রক্ত দিতে কুণ্ঠিত হয়নি। এই গৌরবময় ইতিহাস বর্তমান বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের পেছনে রয়েছে। আমাদের এই গৌরব হিমাদ্রি সদৃশ উচ্চতা লাভ করেছে।
পৃথিবীতে এইভাবেই একটি আশ্চর্য গৌরবময় বিজয় ইতিহাসে ঘটেছে কিনা সন্দেহ। সেই রাষ্ট্রের জন্ম ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালিরা এই দিনটির জন্য তার সমস্ত কিছু বিলিয়ে দিতে পারে। আমরাই এই গৌরব অর্জন করেছি, আমরাই এই গৌরব চির উচ্চ রাখব। বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা চিরজীবী হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই মহান জন্মদিন পালিত হবে আগামি ১৬ই ডিসেম্বর।

মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে নয়, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করি বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। আমরা দেশে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। যে যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। যা একটা সমাজকে ধ্বংস করে দেয়, একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, সেটা যেন কোনোমতে না হয়। আমরা এতটুকু বলতে পারি আমরা দক্ষতার সাথে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।
গণমাধ্যম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় অনেক পত্রিকা এটা-ওটা লেখে আর আমাদের অনেকে সেটা নিয়ে ঘাবড়ে যায়। আমি অন্তত এইটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচালনায় আমি পত্রিকার লেখা পড়ে গাইডলাইন গ্রহণ করি না। আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা, পরিকল্পনা এবং জ্ঞান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন দিয়ে সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। এখন আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। দেশের ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি, প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালবো।
রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার ব্যাপক কাজ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। যে কাজগুলো আমরা করেছি, যেন সেসব উন্নয়নকাজের ধারাবাহিকতা থাকে।
২০২১, ২০৪১, ২০৭১ ও ২১০০ সাল টার্গেট করে সরকারের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বয়স এখন ৭২ বছর। ২০৪১ সাল পর্যন্ততো বাঁচবো না। তবে সে পর্যন্ত দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে নেতৃত্ব, তারা এখানেই (প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা) প্রস্তুত।

আপিল শুনানির প্রথমদিনে বৈধতা পেলেন ৮১ প্রার্থী
ঢাকা অফিস
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রথম ১৬০টি আপিল আবেদনের মধ্যে ৮১টিকে বৈধতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২টি আবেদন অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। বাকি ৭৭টি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলা শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী এজলাসে প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে শুনানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। এগুলোর মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আপিলের শুনানি হয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০ এবং শেষ দিন ৩১১ থেকে ৫৪৩ ক্রমিক পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি হবে।
গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ-অবৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। পরদিন ৩ ডিসেম্বর (সোমবার) থেকে নির্বাচন কমিশন আপিল গ্রহণ শুরু করে। গত বুধবার ছিল আপিল গ্রহণের শেষ দিন।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এবার ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এগুলো যাচাইয়ের পরে ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭৯ জন।
দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন দুই হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৪০২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। স্বতন্ত্র হিসেবে দাখিল করা ৪৯৮ জনের মধ্যে ৩৮৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১১৪ জন।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী ২৭৮ জন, ৩ জনের আবেদন বাতিল হয়। বিএপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জনের মনোনয়নপত্র। ২১০ আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন প্রার্থীর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধতা পেয়েছেন ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জনের মনোনয়নপত্র।

প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন, ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ২ আসনে তৈয়ব আলি, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ এর ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ মোহম্মদ শাহজাহান, পটুয়াখালী-১ মো. সুমন সন্যামত, মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আবিদুর রহমান খান, নাটোর-১ আসনে বীরেন্দ্রনাথ সাহা, সিরাজগঞ্জ-৩ আয়নাল হক, গাজীপুর-২ মাহবুব আলম, গাজীপুর-২ জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ জেসমিন নূর বেবী, রংপুর-৪ মোস্তফা সেলিম, খুলনা-৬ এসএম শফিকুল আলম, হবিগঞ্জ-২ আসনে মো. জাকির হোসেন, হবিগঞ্জ-১ জুবায়ের আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭ জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আবদুল­াহ আল হেলাল, ময়মনসিংহ-২ মো. আবু বকর সিদ্দিক, শেরপুর-২ এ কে মুখলেসুর রহমান, হবিগঞ্জ-৪ মাওলানা মোহাম্মদ সোলায়মান খান রাব্বানী, নাটোর-৪ আলাউদ্দিন মৃধা, কুড়িগ্রাম-৪ মো. ইউনুছ আলী, বরিশাল-২ আনিছুজ্জামান, ঢাকা-৫ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল­া-৩ এ কে এম মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ মো. তোজাম্মেল হক, সিলেট-৫ ফয়জুল মনির চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৩ আহম্মদ তাইবুর রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সৈয়দ আনুর আহমদ লিটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ মো. মামুনুর রশিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আবু আসিফ, ঢাকা-১৪ মো. জাকির হোসেন, পঞ্চগড়-২ মো. ফরহাদ হোসেন, মানিকগঞ্জ-৩ মো. আতাউর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ এম এ বাশার, ঢাকা-১৪ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আব্দুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ মো. মাহফুজার রহমান, চট্টগ্রাম-১ নূরুল আমিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ মুখলেসুর রহমান, ল²ীপুর-১ মো. মাহবুব আলম, কুমিল­া- ৫ মো. ইউনুছ, চাঁদপুর-৫ মো. নেয়ামুল বশির, বরিশাল-২ মোয়াজ্জেম হোসেন, চট্টগ্রাম-৩ মোস্তফা কামাল পাশা, রংপুর-১ মো. আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৩ মো. আবু জাফর, কুড়িগ্রাম-৪ শাহ আলম, গাইবান্ধা-৩ মো. রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫ মো. নাজিবুল ইসলাম (শর্ত সাপেক্ষে), যশোর-৬ সাইদুজ্জামান, নড়াইল-২ ফকির শওকত আলি, সিরাজগঞ্জ-৫ ফকির শওকত আলী, নাটোর-৪ আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ এম এ মুহিত, সিরাজগঞ্জ-৪ আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৫ মোজর (অব.) মনজুর কাদের, বগুড়া-৫ মো. আব্দুর রউফ মণ্ডল জন, সিরাজগঞ্জ-৬ মো. হাবিবুর রহমান, বগুড়া-২ শফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৬ মোহাম্মদ ফয়সাল বিন, রাজশাহী-১ মো. আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ, গাইবান্ধা- ৩ আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল­াহ, চট্টগ্রাম-১০ মো. আনিছুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ আব্দুর রহিম সরকার, কুমিল­া- ১১ মো. তাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ মোহাম্মদ দুলাল খান ও ঝিনাইদহ-৩ মো. কামরুজ্জামান স্বাধীন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল ও ২ ডিসেম্বর বাছাই। ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহার এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অরিত্রীর আত্মহত্যা: অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাসনা হেনা গ্রেফতার

ঢাকা অফিস
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন সহকারী শিক্ষকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম হাসনা হেনা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) একটি টিম তাকে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ডিবির (পূর্ব) সহকারী কমিশনার আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্যের সত্যতা তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি। অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতই অরিত্রীর আন্দোলনরত সহপাঠীদের ছয়দফা দাবির অন্যতম একটি। দাবি আদায়ে গত দুইদিন ধরে তারা স্কুলটির সামনে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছে।
হাসনা হেনাকে গ্রেফতারের বিষয়ে ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবীর ভাষ্য, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেন গোয়েন্দারা। শিক্ষিকা হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। আগামীকাল সকালে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।
পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কারণে অরিত্রী অধিকারীর বিরুদ্ধে নকল করার অভিযোগ আনেন ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকারা। তারা তার বাবা-মাকে ডেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা করতে বলেন। অরিত্রীর বাবার ভাষ্য: ৩ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল ১১টায় আমার স্ত্রী বিউটি অধিকারী ও মেয়ে অরিত্রী অধিকারীকে নিয়ে আমি স্কুলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা প্রথমে ক্লাস টিচার হাসনে হেনার কাছে যাই। তিনি আমাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন এবং পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রভাতী শাখা প্রধান জিনাত আক্তারের কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদের দেখেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং আমাদেরকে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে টিসি দিয়ে দেবো।’ তিনি রাগান্বিত অবস্থায় আছেন বুঝতে পেরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমার কিছু করার নেই।’ তখন আমরা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমার মেয়ে তার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মেয়ের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আমরাও করজোড়ে ক্ষমা চাই। তারপর আমরা কেঁদে ফেলি। আমাদের বা অরিত্রীর কারওর ক্ষমাপ্রার্থনাই অধ্যক্ষের হৃদয় গলাতে পারেনি।
পরে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর অরিত্রী নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ তার সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা। সেখানে তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখা যায়। তারপর উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অরিত্রীকে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুজব ছড়ালেই কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
গুজবে কান না দেওয়ার আহŸান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘গুজব বা মিথ্যা তথ্য একটি দিয়াশলাইয়ের মতো। দিয়াশলাই কাঠি যেমন মুহূর্তেই জ্বলে উঠে ও বিশাল অগ্নিকাণ্ড ছড়াতে পারে, তেমনি কোনও গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ‘গুজব বিরোধী জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের (টিভিসি)’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু দিন আগে ছোট ছোট স্কুলের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। যদিও তারা একটা সঠিক কারণেই রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু সেটাকে গুজব রটিয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা আমরা দেখেছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারাই গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে ও চেষ্টা করছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের সবাই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এর সুফলের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে কুফল বা অপব্যবহারও করা হচ্ছে। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন ফলে বিশ্বে অভূতপূর্ব তথ্য বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এটি যেমন সমাজে তথ্যের গতিশীলতা তরান্বিত করেছে তেমনি মিথ্যা তথ্য স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তথ্য আমাদের অধিকার। সঠিক তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার বা আপলোড করা যাবে না। ইতোমধ্যে র‌্যাব সাইবার ক্রাইম সেল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা সাইবার অপরাধীদের ওপর নজর রাখছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি জলদস্যু, বনদস্যু, জঙ্গি নির্মূলে র‌্যাবের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। র‌্যাব জনগণের একটা আস্থা অর্জন করেছে। গুজব প্রতিরোধেও র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘এখন সবার হাতে হাতেই স্মার্টফোন। সোশ্যাল মিডিয়া এমন হয়ে গেছে, যে লেখাপড়া জানে না সেও এটা ব্যবহার করছে। গুজব ছড়িয়ে রামুতে ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সচেষ্ট না হলে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে দিতে পারে।’
র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ডিজিটাল বিপ্লবের আড়ালে একশ্রেণির বিকারগ্রস্ত, অসুস্থ মানুষ ইন্টারনেটে অপপ্রচার করছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা করার জন্য একশ্রেণির মানুষ উঠেপড়ে লেগেছে। তারা মিথ্যা অপপ্রচার করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। আমরা বিশ্বাস করি দেশবাসী এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টের জনসভা স্থগিত, ১৭ ডিসেম্বর ইশতেহার
ঢাকা অফিস
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পূর্বনির্ধারিত ১০ ডিসেম্বরের জনসভা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটটির মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে জনসভার তারিখ জানানো হবে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণহারে মনোনয়নপত্র বাতিলের পর যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এ বিষয়ে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতীক বরাদ্দের পরেই নিজ নিজ এলাকায়, নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে জনগণের সামনে মিছিল করা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় এ প্রোগ্রামগুলো রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১০ তারিখের জনসভা নির্বাচনের কারণে স্থগিত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই জনসভার তারিখ ঘোষণা করা হবে। এটা সম্ভবত নির্বাচনি প্রচারণার শেষের দিকে এই জনসভা করা হবে।’
নির্বাচনি ইশতেহার সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ১৭ ডিসেম্বর ঐক্যফ্রন্টের যে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে, তা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জানানো হবে।’
আসন বণ্টন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ ও আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা দুই-একদিনের মধ্যেই জানতে পারবেন।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল­াহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

ভোটের সময় গরু-খাসি জবাইও থাকবে দুদকের নজরে
ঢাকা অফিস
নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি রোধে ভোটে প্রার্থীদের প্রচারের ব্যয়ের দিকে নজর রাখবে দুর্নীতি দমন কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ একথা জানান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ বা আপনারা-আমরা কেউ চাই না যে নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহার হোক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার বিস্তার ঠেকাতে গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে বলে ইকবাল মাহমুদ জানান।
“আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে একটা গাইড লাইন দিয়েছি, এটি আমি প্রকাশ করতে চাই না। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে বলছি, ইলেকশনের প্রচার শুরু হলে কতগুলো গরু জবাই করলেন, কতগুলো খাসি জবাই করলেন, কতগুলো লাল পোস্টার করলেনৃ যেটা আইনসিদ্ধ নয়, সেগুলো আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কালেক্ট করে একটি তালিকা তৈরি করবে।
আমরা ওই রিপোর্ট নিয়ে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়টি নিশ্চিত করব। তবে কতটুকু করতে পারব জানি না।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে দুদকের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কিছু সত্যই বলতে হবে, সত্য সত্যই। পৃথিবীর সব দেশেই জনগণের প্রত্যাশা থাকে নেতার চরিত্র পুত-পবিত্র হতে হবে। আমাদের দেশেরও নেতার নেতৃত্বে অবশ্যই সততা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।
“বলেছিলাম যারা হলফনামায় তথ্য দেবেন, তা সঠিকভাবে দিবেন। হলফনামা পাবলিক ডকুমেন্ট। আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট ডাউনলোড করছে। তবে কী করব ভবিষ্যৎ বলবে। আমরা বই আকারে সংরক্ষণ করছি।
কালো টাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্ল্যাট ও প্লটে কালো টাকা চলে যাচ্ছে। এ বিষয়টি দুদক অবহিত। দুদক সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ পাঠিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে দুদক প্রত্যাশা করে। তবে কালো টাকা যদি বিনিয়োগ হত, তাহলে দেশের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারত।
ঋণখেলাপির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমাদের না, ব্যাংকের। তবে যদি কেউ জালিয়াতি করে ঋণ নেন তাহলে বিষয়টি দুদকের। মতবিনিময় সভায় খ ম হারুন, মাহফুজ আনাম, মঞ্জুরুল হক, খায়রুল বাশার মুকুল, ইমদাদুল হক মিলন, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আবদুল কাউয়ুম, মোজাম্মেল বাবু, জ ই মামুন, মুস্তাফিজ শফি, শামীমুল হক, রাহুল রাহা, আশিষ সৈকত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ড.কামাল বিএনপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন: কাদের
ঢাকা অফিস
ড. কামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্বাচনী বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন এখন নেতা নন, নির্বাচনও করছেন না। তাহলে বিএনপির নেতা হচ্ছেন পলাতক, দÐিত আসামি তারেক রহমান। তার নির্দেশে কামাল হোসেন এখন কথাও বলেন না। তারেক রহমানের নির্দেশে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টু পরিচালিত হচ্ছেন। হায় রে কি লজ্জা।
তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের পরাজয় মানে বাংলাদেশের রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়া। আমাদের পরাজয় মানে ২০০১ এক সালের অন্ধকার। আমরা কী সে সন্ত্রাস দুর্নীতির অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই?
কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনাদের এমন কি কাজ আছে যেটা দেখে মানুষ ভোট দেবে। আছে হাওয়া ভবন আর খাম্বা। তাদের দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের কারণে মানুষ আর তাদের চায় না।
তিনি বলেন, দু’একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি আমরা দিয়ে দেবো। আজ সেটা শুরু হবে, কালকের মধ্যে সেটা শেষ হবে। নির্বাচনে মহাজোট থেকে আমরা প্রার্থী দিয়েছি, তারা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। তবে আত্মতুষ্ট হওয়ার মতো পরিবেশ নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। দলের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ক্ষমতায় আসলে সম্মান দেয়া হবে।

ন্যায় বিচারের জন্য ইসিকে ধন্যবাদ ফখরুলের
ঢাকা অফিস
বিএনপির প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণার কারণে নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা যে অসংখ্য প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আজকে নির্বাচন কমিশনের শুনানির মধ্য দিয়ে তাঁদের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই, তারা ন্যায়বিচার করেছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন যেসব কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেখানে অনেক জায়গায় প্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাননি। বিএনপি বরাবরই যে কথা বলে আসছে, সেটি হলো সরকারি কর্মকর্তারা যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাঁদের কথা বেশির ভাগ সময় মেনে চলতে হয়। সে কারণে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ন্যায়বিচার করা সম্ভব হয় না।
ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার ঘোষণা, এটা একটি বিজয়। বিএনপির আন্দোলনে জনগণের বিজয় যে আজকে দলের প্রার্থীরা বৈধ হয়ে এসেছেন এবং তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটাও আশা করি, ন্যায়বিচার যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন, বিবেচিত হবেন।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, আজ রাত আটটার পর দলের চূড়ান্ত প্রার্থীদের কিছু আংশিক তালিকা প্রকাশ করা যাবে।
নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকে সরকার এত ভীতসন্ত্রস্ত বলেই তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে, সেখানে সরকার বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করছে। উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে গ্রেপ্তার চলছেই, কোথাও কোথাও বাড়ছে। আজকে খবর এসেছে, বিএনপি কোথাও কোথাও ঘরোয়া সাংগঠনিক সভা করছে, সেখানেও বাধা দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও প্রশাসন এখানে অনেক ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে। এ সময় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে এবং গ্রেপ্তার বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহŸান জানান ফখরুল।

রাজশাহীতে এমপির শটগানের গুলিতে যুবক আহত
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
রাজশাহীর পুঠিয়া-দুর্গাপুরের এমপি কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার শটগান পরীক্ষার সময় গুলিতে আশিক ইকবাল (৩৫) নামে একজন আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শটগান পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। আহত আশিক ইকবাল উপজেলার শিবপুর হাট বিহারীপাড়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুসারে বৈধ বন্দুক শটগানের মালিকরা বৃহস্পতিবার লাইসেন্স নবায়ন করতে উপজেলা পরিষদে আসেন। সেখানে পুঠিয়া দুর্গাপুরের সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারার শটগানটি লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসেন তার ছোট ভাই কাজী সুজা।
সেখানে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে লাইসেন্সকৃত বন্দুক ও শটগানগুলো পরীক্ষা করে সেগুলোর লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম চলছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এমপির ভাই শটগানটি পরীক্ষা করতে গিয়ে টিগারে চাপ দিলে গুলি বের হয়ে সেখানে আশিক ইকবালের পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শটগানটিতে আগে থেকেই গুলি লোড করা ছিল। ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণ অসাবধানতাবশত ঘটেছে। তবে আমাদের সৌভাগ্য যে, কোনো বড় ধরনের কিছু ঘটেনি। আহত ব্যক্তির দুই পায়ে গুলির খোসা ছিটে গিয়ে তার পায়ে লেগে সামান্য রক্তপাত হয়েছে।

নাটোরে ট্রেন আটকে আ’লীগের মনোনয়ন দাবি
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নাটোর-১ (লালাপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে শহিদুল ইসলাম বকুলকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছে তার সমর্থকরা। এ সময় কাফনের কাপড় পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমবাশে করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট এলাকায় এসব কর্মসূচি পালনকালে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের বড়ভাই ছানোয়ার হোসেন ছানাকে দশ হাজার টাকা অর্থদÐ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নাটোর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গত ২৫ নভেম্বর শহিদুল ইসলাম বকুলকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। এর দুদিন পর ২৭ নভেম্বর একই আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রমজান আলী সরকারকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শহিদুল ইসলাম বকুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা মালঞ্চি রেলগেট এলাকায় জড়ো হয়। এ সময় তারা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ-মিছিল করতে থাকে। দুপুর ১২ টার দিকে বিক্ষোভকারীরা রেল লাইনের ওপর অবস্থান নিয়ে রেলপথ অবরোধ করে। সে সময় লাল কাপড় টানিয়ে তারা নাটোর থেকে আব্দুলপুরগামী মালবাহী ট্রেন থামিয়ে দেয়। প্রায় পাঁচ মিনিট ট্রেনটি অবরোধের মুখে থেমে থাকে। পরে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। রেলপথ অবরোধের চেষ্টাকালে বকুলের ছোটভাই ওহিদুল ইসলাম গোকুলকে আটক করে পুলিশ। পরে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে তাকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এদিকে বিক্ষোভকারীরা মালঞ্চি রেলগেটের পূর্বপাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে পথসভা করে। পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফ, থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য হাসানুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ। বক্তারা বকুলের চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যহত রাখার ঘোষণা দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড মেরিনা সুলতানা জানান, নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীর সমর্থককে দশ হাজার টাকা অর্থদÐ দেওয়া হয়েছে।
নাটোর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবলু হাসনাত বলেন, বকুলের সমর্থকরা রেললাইন অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। রেল চলাচলে তেমন বিঘœ ঘটেনি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ এরশাদের
ঢাকা অফিস
কারও নাম না উল্লেখ করে তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুকে ভয় করি না।’ তবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কথা বলার সময় এইচ এম এরশাদ এ মন্তব্য করেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘তোমাদের কোনো ভয় নেই। জাপা তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে। জাপা চিরদিন নির্বাচন করেছে, এবারও করবে।’
একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দর-কষাকষির মধ্যেই অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা কথা আছে। পাঁচ দিন আগে তিনি বাসায় ফেরেন। জাপা সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে আবার সিএমএইচে চলে যান এরশাদ।
সোমবারই হঠাৎ করে এরশাদ দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে বাদ দেন। মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগে হাওলাদারকে বাদ দেওয়া হয় বলে দলের কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দলের নতুন মহাসচিবকে নিয়ে এরশাদ বলেন, ‘পুরোনো মহাসচিবকে ভালোবাসতাম। নতুন মহাসচিবকে তোমরা ভালোবাস। সে নতুন, তাঁকে সাহায্য করো।’ তিনি বলেন, ‘বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। ২৭ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, পার্টি ছাড়ি নাই। সব নির্ভর করে তোমাদের ওপর। কেউ পার্টি ছেড়ে যেয়ো না, আমাকে প্রতিশ্রæতি দাও।’ কার্যালয় ত্যাগের আগে এরশাদ তাঁর কর্মীদের বলেন, ‘আমার বøাড শর্টেজ আছে, একটু বাসায় যাচ্ছি খেতে।’
এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রক্তে হিমোগেøাবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এরশাদ ‘ভয়ে থাকেন’। এ কারণে তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়। ঘুমের সমস্যা হলেও তিনি সিএমএইচে যান। বাসায় একা থাকেন বলে তাঁর একলা লাগে, ভয় করে। তা ছাড়া ইনফেকশনের ভয়ও আছে।
ওই দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা আরও বলেন, এরশাদ এখন ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট ফিট’ থাকলেও চিকিৎসার জন্য তাঁর দেশের বাইরে যাওয়া জরুরি। কিন্তু পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শেষ না করে তিনি দেশের বাইরে যেতে চান না। মহাজোটের আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ১০ ডিসেম্বরের পর হয়তো এরশাদ বিদেশে যেতে পারেন।

দেখে যান বাংলাদেশে কী হচ্ছে: আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আ স ম রব
ঢাকা অফিস
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নাম উল্লেখ করে তাদের পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘আসুন আপনারা এসে ঘুরে দেখে যান বাংলাদেশে এসব কী হচ্ছে?’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ভয়াবহ সংকটে। এখানে নির্বাচনী প্রার্থীরা গ্রেফতার হচ্ছে, হুমকি দেয়া হচ্ছে তাদের। লেভেল প্লেয়িং বলে কিছু নেই। জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, যার ভোট সে যেন দিতে পারে- শুধু এতটুকু দাবিও এ সরকার মেনে নিচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সব দেশে নির্বাচনের সময় রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে, হামলা-মামলা-গ্রেফতার বন্ধ করে নির্বাচন দেয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে প্রার্থী গ্রেফতার হচ্ছে।
রব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জামিনও পেতে পারেন না। কারণ খালেদা জিয়া জেলে আছেন শুধুমাত্র তার জনপ্রিয়তার কারণে। জনপ্রিয় হওয়া তার কী অপরাধ?
রব বলেন, সরকারই বিরোধী দলকে উসকে দিচ্ছে যেন তারা নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত না থাকে। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার দলই নির্বাচনী মাঠ থেকে পালিয়ে যাবে।

খুন বাড়ছে তৃণমূলে, অস্বস্তি কেন্দ্রে
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সর্বোচ্চ সতর্কতায় আওয়ামী লীগ। মাঠের দ্ব›দ্ব কমাতে মরিয়া কেন্দ্র। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার- এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খোদ দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। অন্তঃকোন্দল বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেয়া হয়নি, আছে কৌশলগত কারণও। আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব নিরসনে পুলিশকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নির্বাচন ঘিরে এমন সাবধানতা, এরপরও বন্ধ হচ্ছে না রক্তপাত। রাজনৈতিক দ্ব›েদ্ব রোজ খুন হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রক্তের রং যেন আরও গাঢ় হচ্ছে। রক্তের যে ধারা প্রবাহিত হচ্ছে, তাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংখ্যাই বেশি।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। গেল সপ্তাহে রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলায় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মী খুন হন। ৩ ডিসেম্বর পাবনায় দলীয় সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী নিহত হন। ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুনের অভিযোগ ওঠে। স¤প্রতি নরসিংদীতে দলীয় কোন্দলে খুন হন আওয়ামী লীগের আরও দুই কর্মী। মনোনয়নপত্র নিতে এসে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে দুই যুবক নিহত হন।
সূত্র জানায়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে অর্ধশতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যকার দ্ব›েদ্ধর কারণেই বেশি সংঘর্ষ হয়েছে। হতাহতের সংখ্যাও আওয়ামী লীগ শিবিরেই বেশি।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, বাড়ছে শঙ্কাও। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় নামলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা বিভিন্ন মহলে। বিরোধী পক্ষের পাশাপাশি সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যকার দ্ব›েদ্বর জের ধরেও। প্রার্থী আর মনোনয়ন-বঞ্চিতদের মধ্যে বিরোধ ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়। গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় প্রশাসন। বিশেষ করে সরকারি দলের মধ্যকার দ্ব›দ্ব কমিয়ে আনতে বিভিন্ন সংস্থা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। দ্ব›দ্ব কমাতে পারলে সবার জন্যই মঙ্গল।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনে সাধারণত বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সরকারপন্থীদের সংঘর্ষ হয়। গত ১০ বছরে বিরোধী পক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থায়। এ কারণে সরকারি দলে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসছে। অথচ এমন দ্বন্দ্ব আগেও ছিল। তিনি বলেন, তৃণমূলে যে সংঘাতের খবর আসছে, তা এ মুহূর্তে আমাদের জন্য সুখের নয়। কারণ নিজেদের মধ্যে রক্তপাত বাড়লে অন্যরা সুযোগ নেবে। আমরা সেই সুযোগ দিতে প্রস্তুত নই। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজনীতিতে সংঘাত নতুন কিছু নয়। নির্বাচন ঘিরে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই, তবে সতর্ক অবস্থায় আছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে এখন দলীয় কোন্দল নেই। সবাই নির্বাচনমুখী। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার হয়ে কাজ করার জন্য সবাই একাট্টা। তবে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ সে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সদা সজাগ।

বিয়ের মৌসুমকে আনন্দময় করতে স্যামসাং’র ‘কবুল বললেই হাউজফুল’ ক্যাম্পেইন
ঢাকা অফিস
বিয়ের মৌসুমকে আনন্দময় তুলতে নবদম্পতিদের জন্য ‘কবুল বললেই হাউজফুল’ ক্যাম্পেইন চালু করেছে স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স বাংলাদেশ।
বিয়েতে নবদম্পতিদের নতুন সংসারে হোম অ্যাপ্লায়েন্স বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও টিভি সবচেয়ে জরুরি হোম অ্যাপ্লায়েন্সগুলোর মধ্যে পড়ে। সংসার সাজাতে হোম অ্যাপ্লায়েন্স উপহার দেয়ার বিষয়টি নবদম্পতিদের আত্মীয়-স্বজনের মাথায় আসে সবার আগে। আর এসব বিষয় মাথায় রেখেই উক্ত ক্যাম্পেইনের আওতায়, স্যামসাং টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর এবং ওয়াশিং মেশিন একসঙ্গে ক্রয় করে বিশেষ বান্ডেল অফার উপভোগ করতে পারবেন সম্মানিত ক্রেতারা। উল্লেখিত তিনটি পণ্য একসঙ্গে ক্রয় করলে ক্রেতারা পাবেন সর্বোচ্চ ১০% এবং দুটি পণ্য একসঙ্গে ক্রয়ে পাবেন সর্বোচ্চ ৫% ক্যাশব্যাক।
স্যামসাং হোম অ্যাপ্লায়েন্স যেমন- টিভি, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও ভ্যাক্যুয়াম ক্লিনারের নির্দিষ্ট মডেল ক্রয় করে ক্রেতারা পাবেন স্যামসাং-এর মেগা গিফট। এছাড়া ক্রেতাদের জন্য ইনভার্টার বা নন-ইনভার্টার এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট ১৫% ক্যাশব্যাকের সুবিধা রেখেছে স্যামসাং।
পাশাপাশি স্যামসাং টিভি, রেফ্রিজারেটর, আরএসি, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ভ্যাক্যুয়াম ক্লিনার এবং ওয়াশিং মেশিনের যেকোনো মডেল ক্রয় করে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকার গিফট ভাউচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। ৩১ মার্চ, ২০১৯ তারিখের আগে স্যামসাং পণ্য ক্রয় করে তা অ্যাক্টিভেট বা চালু করার দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ভাউচারটি ক্যাশ করে নেয়া যাবে। উপরোক্ত অফার ছাড়াও ক্যাম্পেইনের আওতায়, রেফ্রিজারেটর ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৪৯,৯০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া টিভি এক্সচেঞ্জ বা অদল-বদলের ক্ষেত্রে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাবেন। নির্দিষ্ট মডেলের অত্যাধুনিক কিউএলইডি টিভি ক্রয়ে ক্রেতারা উপহার হিসেবে পাবেন একটি গ্যালাক্সি নোট নাইন অথবা ২ টনের একটি স্যামসাং ইনভার্টার এসি। আল্ট্রাএইচডি (ইউএইচডি) টিভি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতারা পাবেন ১টি ফ্রি এলইডি টিভি।
এ প্রসঙ্গে স্যামসাং বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংওয়ান ইয়ুন বলেন, “বিয়ের মৌসুমে নতুন পণ্য বিশেষ করে হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য ক্রয়ের আগ্রহ সবার। এ মূহুর্তগুলো আরও আনন্দময় করে তোলার লক্ষ্যে নবদম্পতিদের নতুন জীবনের শুরুতে স্যামসাং তাদের সঙ্গী হতে চায় আর এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে আমরা সাজিয়েছি আমাদেও নতুন ষ্ঠকবুল বললেই হাউজফুল’ ক্যাম্পেইনটি।”
ক্যাম্পেইনটি দেশব্যাপি চলবে আগামি ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত। সকল স্যামসাং স্মার্টপ্লাজা, ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স আউটলেট, ট্রান্সকম ডিজিটাল, র‌্যাঙগ্স ইলেক্ট্রনিক্স এবং ইলেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল থেকে ক্যাম্পেইনের সব অফার উপভোগ করতে পারবেন আগ্রহী ক্রেতারা। উল্লেখ্য, স্যামসাং-এর পণ্য ক্রয় করে ক্রেতারা বিনামূল্যে ইন্সটলেশন এবং ডেলিভারি সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
তাছাড়া ক্রেতারা উপভোগ করতে পারবেন ৩৬ মাস পর্যন্ত ইএমআই বা কিস্তি সুবিধা। এ ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে আরও জানতে গ্রাহকরা কল করতে পারেন স্যামসাং-এর সার্ভিসে (০৮০০০ ৩০০ ৩০০) অথবা ভিজিট করতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ফেসবুক ফ্যান পেইজে (www.facebook.com/SamsungBangladesh)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here