খুলনায় ফ্যাক্টর তরুণ ও শিক্ষিত দেড় লাখ ভোটার

0
32

সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও বাম জোটের প্রার্থীরা ভিন্ন কৌশলে ভোট চাচ্ছেন। সু-শিক্ষিত নতুন ভোটারদের কাছে টানতে দুই শিবিরই কৌশলী।
কাজী অনিরুদ্ধ
খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার নতুন দেড় লাখ ভোটার ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন। এবারের নতুন ভোটাররা সু-শিক্ষিত। কাজেই সচেতন তরুন ভোটাররা যে প্রার্থীকে বেছে নেবেন তিনিই ভোট ব্যাংকে এগিয়ে থাকবেন এবং সেই প্রার্থীর জয় সু-নিশ্চিত হবে এমনটাই ভাবছেন খুলনার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর সেকারণেই প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তরুন ও নতুন প্রজম্মের ভোটারদের কাছে টানছেন। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সংগঠনের কর্মী সভা ও উঠান বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে ভোট চাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপিসহ ২০ দলী জোট ও ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীরা, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি ও তারেকের রহমানের মামলা প্রত্যাহার এবং নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ইস্যুগুলো সামনে এনে তরুন ভোটারদের কাছে টানছেন। সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা এখন শুরু না হলেও ভিন্ন কৌশলে ভোটারদের দ্বারস্থ হচ্ছেন প্রাথীরা। এর এরই মধ্যে নির্বাচন কিছুটা জমে উঠেছে। খুলনায় সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও বাম জোটের প্রার্থীরা ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান করে ভোট চাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার ১৮ লাখ ৬৫৬ জন।
সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনে ভোটার ছিল ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৬২ জন। দশ বছরের ব্যবধানে এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার ১৬ লাখ ২ হাজার ৪৯ জন। এ নির্বাচনে প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজার নতুন ভোটার জীবনের প্রথম ভোট দেবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে আ’লীগ মনোনীত ননী গোপাল মন্ডল এক লাখ ২০ হাজার ৮০১ ভোট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার একমাত্র নিকটতম প্রতিদ্বন্দি বিএনপি’র প্রার্থী আমীর এজাজ খান পেয়েছিলেন ৬৮ হাজার ৪২০ ভোট। এখন পর্যন্ত বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল ও জোট শরীক জাপার সুনীল শুভ রায় প্রার্থী রয়েছেন। সংখ্যালঘু অধ্যষুত এ আসনটিতে মহাজোটের মধ্যে চলছে দেন দরবার। অপর শিবিরে একক প্রার্থী আমীর এজাজ খান। খুলনা-২ আসনে বিএনপি তথা চারদলীয় জোট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১ হাজার ৬৭০ ভোটের ব্যবধানে আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানকে পরাজিত করেছিলেন। ওই নির্বাচনে মঞ্জু পেয়েছিলেন ৯০ হাজার ৯৫০ ভোট; আর মিজান পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ২৮০ ভোট। কিন্তু ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় এ আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগ প্রার্থী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান। এবার এ আসনে প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলএবং বিএনপি তথা ঐক্য ফন্ট্রের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানায় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই দুই প্রার্থী।
নবম জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে আ’লীগের মন্নুজান সুফিয়ান ৭৪ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ১৭৭ ভোট। এবার আ’লীগের একক প্রার্থী থাকলেও এখনো পর্যন্ত বিএনপি’র রকিবুল ইসলাম বকুল ও এস এম আরিফুর রহমান মিঠু নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। দু’জনই দলের কর্মীসভায় ভোট চাচ্ছেন।
খুলনা-৪ আসনে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা শরীফ শাহ কামাল তাজকে ১১ হাজার ৬৬৯ ভোটে হারিয়ে আ’লীগ থেকে মোল্লা জালাল উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন এক লাখ ৯ হাজার ২১৬ ভোট। আর শরীফ শাহ কামাল তাজ পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৫৪৭ ভোট। দশম নির্বাচনে প্রয়াত এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এবার এখানে আ’লীগের নতুন মুখ আব্দুস সালাম মুর্শেদী। আবার বিএনপির শরীফ শাহ কামাল তাজ-এর পাশাপাশি একই দলের প্রার্থী রয়েছেন আজিজুল বারী হেলাল। দু’জনেই ছুটছেন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে।
খুলনা-৫ আসনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী (বর্তমান) নারায়ণ চন্দ্র চন্দের কাছে ২০০৮ সালে ৩৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগ সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে ৪ হাজার ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন গোলাম পরওয়ার। এবার ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর এ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বিএনপি’র নিজস্ব প্রার্থী রয়েছেন ড. মামুন রহমান ও অধ্যাপক ডাঃ গাজী আব্দুল হক। আ’লীগের একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০ দলের তিন জন প্রার্থী তাদের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচি করছেন।
খুলনা-৬ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আ’লীগের এড. সোহরাব আলী সানা নির্বাচত হন। তার কাছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ১ লাখ ১৬ হাজার ১৬১ ভোট পেয়েও পরাজিত হন। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত আ’লীগের এড. নুরুল হক। এবার আ’লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নতুন প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আ’লীগের আক্তারুজ্জামান বাবু ছাড়াও আছেন মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু। অন্যদিকে বিএনপি’র এড. শফিকুল আলম মনা ও জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দু’জনেই একই দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। শফিকুল আলম মনা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি আপীল করেছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’র জেলা সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা বলেন, খুলনার প্রায় দেড় লাখ নতুন ভোটারের অধিকাংশই সুশিক্ষিত। তারা দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ভোট দেবেন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, নতুন ও তরুন ভোটাররা এবার ভেবে চিন্তেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আমরা আশাকরবো খুলনা উযন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে যোগ্য প্রাথী কে ভোট দেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here