মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের ঘটনায় সিবিএ’র দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা

0
22

পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাংচুর, কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্চিত
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা
সিবিএ নেতাদের হামলা ও বাঁধার মুখে স্থগিত হয়ে গেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ পরীক্ষা। এ ঘটনায় দায়ী সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদকসহ দুই নেতাকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই নেতারা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্চিত করে তাদের গাড়ীর চাবি আটকে রাখে। পরে নৌ বাহিনী ও পুলিশের সহযোগীতায় তারা ওই এলাকা ত্যাগ করেন। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটলেও বিলম্বে রাত পৌনে ১১ টার দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দপ্তরের সূত্রে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো: ওহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, শুক্রবার সকাল ১১টায় খুলনার নৌ বাহিনী স্কুলে ৯টি ক্যাটাগরিতে ৪০ টি নিয়োগ পদের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। এ সময় ৩টি ধাপের প্রথম ধাপের পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণায় মোংলা বন্দর কর্তপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতাদের মনোনীতরা কৃতকার্য না হওয়ায় তারা পরের ধাপের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে নানা রকম হুমকি ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী পরীক্ষা বন্ধ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান, পরিচালক প্রশাসন প্রণব কুমার রায়, নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) আফসানা ইয়াসমিন, নৌ পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব নজরুল ইসলাম, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী, যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভিাগের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান শাহ চৌধুরী এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার আব্দুল আলীমকে লাঞ্চিত করে তাদের গাড়ীর চাবি আটকে নিয়ে নেয়। এ সময় পরীক্ষা কেন্দ্র ভাংচুর করা হয় বলেও জানান সচিব ওহিউদ্দিন। পরে ঘটনাস্থলে নৌ বাহিনীর ও পুলিশ সদস্যদের খবর দিলে তাদের গাড়ীতে করে ওইসব কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (কর্ম) সালাউদ্দিন কবির বাদী হয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে আসামী করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা করেন।
এদিকে অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বন্দরের ইতিহাসে লিখিত পরীক্ষায় কোনদিন হার্ড (কঠিন) প্রশ্ন করা হয়নি, এবারের যে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে অনেকেই উন্নীত হতে না পারায় আমি প্রতিবাদ জানিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কোন অর্থ নেয়া হয়নি।
বন্দর সুত্র জানায়, পাম্প ড্রাইভার পদে ৫ জন, গাড়ীর ড্রাইভার পদে ৮ জন, গ্রীজার কাম পাম্প ড্রাইভার ২ জন, কার্য সহকারী পদে ২ জন, জাহাজের প্রথম শ্রেণীর ড্রাইভার পদে ২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ড্রাইভার পদে ৩ জন, ও ফোরম্যান পদে ১ জনসহ মোট ৪০ টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার কথা ছিল। কিন্তু সিবিএ নেতাদের বাধার মুখে তা স্থাগিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here