সহিংসতা এড়াতে হবে: অসহিষ্ণু মনোভাব কাম্য নয়

0
46

রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশের জন্য এক অভিশাপের নাম। এ অভিশাপের শিকার হয়ে গত ১০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক লোক আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত-সহিংসতা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ডাটা প্রজেক্টের (অ্যাকলেড) এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই অনাকাক্সিক্ষত তথ্য। জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় দফতরের পোর্টাল রিলিফওয়েবে গত শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে একে ‘চলমান পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশবিষয়ক তথ্যভান্ডারে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিবাদ ও অন্যান্য অহিংস ঘটনার তথ্য রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এযাবৎ যোগ হওয়া ঘটনার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৮০০। অ্যাকলেড তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদনে সহিংসতাগুলোকে মূলত চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। সেগুলো হলো সংঘর্ষ, গুপ্ত হামলা, সহিংসতা, দাঙ্গা ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং বেসামরিক লোকজনের ওপর সহিংসতা। বেসামরিক লোকজনের ওপর সহিংসতা ক্যাটাগরিতে আফগানিস্তান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশে। একমাত্র আফগানিস্তানেই ঝুঁকি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে গুপ্ত হামলার হার কম হলেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে বেশ কয়েক মাস বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা অবরোধের সময় গণপরিবহনে সহিংস হামলায় অনেক বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছে।
অন্যদিকে ২০১৬ ও ’১৭ সালেও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে বেশকিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাবই প্রধানত দায়ী। এ অসহিষ্ণু মনোভাব গণতন্ত্রচর্চায় বিড়ম্বনা ডেকে আনছে, কেড়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই সংঘাতের পথ থেকে সরে আসা রাজনৈতিক দলগুলোর কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। জনগণের জন্য যেহেতু রাজনীতি সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে সংঘাতের বদলে জনমানুষের কল্যাণে ব্রতী হওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here