উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ

0
13

আন্দোলনে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট, দাবি নাকচ আ’লীগের
আসাদুজ্জামান ইমন, ঢাকা
দ্বিতীয় দিনের সংলাপেও সমাধান না আসায় আন্দোলনে দিকে যাচ্ছে ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছি। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায় করতে। এখন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। এরপর যা হবে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন করে ঐক্যফ্রন্ট একটি দাবি তুলেছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্য নির্বাচন করার দাবি করেছে তারা। কিন্তু আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না।
ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের এ রকম মুখোমুখি অনড় অবস্থানে থাকার কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। ঠিক এই অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে রাজধানীর বেইলি রোডের সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় ড. কামাল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সারাদেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আর কোনো গায়েবি হয়রানিমূলক মামলা ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংলাপ শেষে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে গেছি, সরকার বিষয়গুলো বিবেচনা করে দেখবে। যদি না মানে তাহলে আমাদের কর্মসূচি দেয়া আছে আমরা সেভাবেই আন্দোলন করব।
ফখরুল বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তাই আমরা জনগণের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সংলাপ যদি সফল না হয়, কোনো সমাধান না আসে, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারের।
কী ধরনের আন্দোলন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ হবে, এবং পরেরদিন রাজশাহীতে জনসভা হবে।
তফসিল ঘোষণার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপ চলতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি সত্তে¡ও বৃহস্পতিবার তা ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট। তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের এই দাবি না মানে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাব। এবং আমাদের দাবি আদায় করব।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যর আহŸায়ক মাহমুদুর
রহমান মান্না বলেন, আমরা সংলাপে সরকারকে অনুরোধ করেছি সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যেন তফসিল ঘোষণা করা না হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সংলাপে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টা জোর দিয়ে বলেছি, তাকে যেন মুক্তি দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরসহ অনেকে। এর আগে, গণভবন থেকে বেরিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপেও কোনো ‘সমাধান’ হয়নি। তিনি বলেন, আলোচনা মনঃপূত হয়নি। সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি।
অপরদিকে, গতকাল বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন করে ঐক্যফ্রন্ট একটি দাবি তুলেছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্য নির্বাচন করার দাবি করেছে তারা। কিন্তু আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আজকে যে দাবিগুলো নিয়ে এসেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে, সে বিষয়ে তার ঐক্যমত চান। নিশ্চয়তা চান। এছাড়া তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও রাজবন্দিদের মুক্তি চেয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের দাবি মেনে নিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মেজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়ে তারা যা বলেছেন, তা আমাদের দেশে চালু নেই। তবে সেনাবাহিনী টাস্কফোর্স হিসেবে থাকবে, স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।
তারা বেগম জিয়ার মুক্তি জামিন চেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলেছি, তত্ত¡াবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে এ মামলা করেছে। এটি আগেই নিষ্পত্তি করা যেতো, কিন্তু তারা দেরি করেছেন। এখন আদালত তাকে দÐ দিয়েছেন। তারা আদালতের কাছে জামিন চাইতে পারেন, আদালত যদি তাদের জামিনে মুক্তি দেয়, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
তিনি বলেন, তাদের সাত দফার অধিকাংশ দাবি মেনে নিতে আমাদের নেত্রী সম্মত হয়েছেন। তবে তারা এমন কিছু নিয়ে এসেছেন, সেগুলো নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার একটা বাহানা।
ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্যের দলে ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হো সেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহ সিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধু রী, নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here