বেহাত হচ্ছে রেলের জমি: উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

0
11

সারা দেশে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। একটি পরিসংখ্যান মতে, রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৩১ হাজার ৮৬০ একর। এসব জমির একটি বড় অংশ এরই মধ্যে বেদখল হয়ে গেছে। রেলওয়ে সূত্র বলছে, দখলদারদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সে কারণেই এসব জমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। বছর দুয়েক আগে রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, বেদখল হওয়া সব জমি উদ্ধার করা হবে। কিন্তু সোমবার ঢাকার একটি শীর্ষ দৈনিক প্রকাশিত দুটি খবরের একটিতে দেখা যাচ্ছে, পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরে রেলওয়ের জমি প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শর্ত সাপেক্ষে ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছে। কেউ কেউ এসব জমিতে অবৈধভাবে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছে। কেউ কেউ একতলা ভবন নির্মাণের পর দোতলার কাজ শুরুর অপেক্ষায়। প্রকাশিত আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের স্টেশন রোড এলাকায় বৃষ্টির পানি চলাচলের একমাত্র খালের মুখে আক্কেলপুর-শ্রীরামপুর সড়কের কালভার্টের মুখ ভরাট করে দিয়েছেন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রেলওয়ের জমি দখল করে নিয়েছেন। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন।
রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের অনুমোদন ছাড়া রেলের কোনো জায়গা লিজ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কোনো জায়গা বরাদ্দের ক্ষেত্রে আবেদনপত্র পাওয়ার পর সার্বিক যাচাই-বাছাই করে তা এক বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিবার এক বছর করে লিজের মেয়াদ বাড়াতে পারে। তবে সম্পত্তি বিভাগের মতামত ছাড়া রেলের অন্য কোনো বিভাগের জমি লিজের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার নেই। কিন্তু রেলেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জাল অনুমতিপত্র বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। শুধু পাবনার ভাঙ্গুড়া কিংবা জয়পুরহাটের আক্কেলপুর নয়, দেশের সর্বত্রই রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি বেদখল হয়ে গেছে। কোথাও পরিত্যক্ত জমিতে প্রভাবশালীরা বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করেছে, কোথাও নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন। আবার রেলের জমিতে বস্তি তৈরি করেও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব বস্তি অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। মাদক কারবারের আখড়া হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠছে অনেক জায়গা। রেলওয়ের অনেক জমিতে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কার্যালয়ও গড়ে তোলা হয়েছে। বছরের পর বছর বেদখল হয়ে আছে রেলওয়ের চার হাজার একরেরও বেশি জমি।
রেলওয়ের জমি উদ্ধারে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা আশা করব, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here